Thursday, 7 June 2018

আলো হাতে অভিজিৎ রায়




অভিজিৎ রায়ের লেখা আমি প্রথম পড়ি সাপ্তাহিক যায় যায় দিনে। শফিক রেহমানের সাপ্তাহিক যায় যায় দিন বাংলাদেশে এক সময় বেশ জনপ্রিয় ছিল। অভিজিৎ রায়ের লেখাটির শিরোনাম মনে নেই, তবে বিষয়বস্তু মনে আছে। বাংলা সাহিত্যে যৌনতা প্রকাশের মনোবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ বা এরকম কিছু। লেখাটি এতটাই আধুনিক এবং অন্যরকম ছিল যে অভিজিৎ রায় নামক লেখকের অন্য লেখার খোঁজ করতে শুরু করি।

টেকনোলজিতে আমি খুঁড়িয়ে চলা মানুষ। ইন্টারনেটে যে তিনি বিপুল কর্মযজ্ঞ শুরু করে দিয়েছেন তা জানতেও পারিনি সেই সময়। ২০০৫ সালের শেষের দিকে আজিজ সুপার মার্কেটের বইয়ের দোকান থেকে পেয়ে গেলাম 'আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী'বইটা পড়ে মনে হলো অভিজিৎ রায় সত্যিই আলো হাতে বের হয়ে পড়েছেন আমরা যারা মনের কোণের অন্ধকারে ঈশ্বরের-ইচ্ছা-ছাড়া-গাছের-একটা-পাতাও-নড়ে-না জাতীয় অন্ধ-বিশ্বাসে ভর করে বেঁচে আছি তাদের চোখ খুলে দিতে। বইটি পড়তে পড়তে মুগ্ধ হয়ে ভাবতে বসলাম - এভাবেও বিজ্ঞান লেখা যায়? এত গভীর অথচ একটুও ভার লাগে না। এত জটিল বিষয় অথচ কত স্বচ্ছন্দ। বাংলায় বিজ্ঞান রচনায় একটা নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন অভিজিৎ রায় তাঁর প্রথম প্রকাশিত বইয়ের মাধ্যমে।

'আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী'র মলাট-তথ্য থেকে জানতে পারি মুক্তমনা ওয়েবসাইট সম্পর্কে। মুক্তমনা ততদিনে পাঁচ বছর পার করে ফেলেছে। মুক্তমনা শব্দটি এতটাই জুৎসই এবং জোরালো ছিল আমার কাছে যে মুক্তমনার নিয়মিত পাঠক হয়ে উঠতে আমার বেশিদিন সময় লাগেনি। মুক্তমনার যে ব্যাপারটি আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছিল তা হলো সত্যিকারের মুক্তভাবে আলোচনার একটা প্লাটফর্ম। গভীর বিশ্লেষণ আর যুক্তির চর্চা চলছে সেখানে।

বাংলাদেশের গ্রামে প্রায় গর্তজীবী হয়ে বেড়ে উঠেছি আমি। সেখানে নিত্যদিন দেখেছি পেশির জোরের জয়। পেশির জোর বেশি না থাকলে নিদেন পক্ষে গলার জোর। বাংলাদেশে সবকিছুই বড় বেশি ব্যক্তিনির্ভর। বস্তুনিষ্ঠতার ঠাঁই সেখানে নেই বললেই চলে। এ ব্যাপারে অনেকের মতো আমারো অনেক ব্যক্তিগত তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে।

বাংলাদেশে আমার পুরো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেটেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের শাসনে তলোয়ারের ভয়ে মুখে কুলুপ এঁটে। একটা ঘটনার কথা বলা যাক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলামের সেমিনার 'কোরান তেলাওয়াত' ছাড়া শুরু হওয়ায় ভীষণ ক্ষুব্ধ হয় ছাত্রশিবির। তাদের সাথে যোগ দেয় বিভাগের অনেক মৌলবাদী ইসলামী-পদার্থবিজ্ঞানী। কিন্তু বিভাগীয় সভাপতি বললেন, "বিজ্ঞানের সেমিনার কি কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান? আকিকা কিংবা জানাজা? জানাজায় গিয়ে আমি বিগ ব্যাং ও ব্ল্যাক হোলের তত্ত্ব আলোচনা করতে শুরু করলে ভালো লাগবে? বৈজ্ঞানিক সেমিনারে ধর্ম টেনে এনো না।" ছাত্র শিবির বললো, "তোমাকে টেনে ব্ল্যাক হোলে ঢুকিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করছি ব্যাটা নাস্তিক।" কার্যত তাই হলো। ছাত্রশিবির ওই প্রফেসরের দিনরাত্রি যন্ত্রণাময় করে তুললো। বাসায় তালা লাগিয়ে দিয়ে মাইক লাগিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে দিনের পর দিন। তবুও সান্ত্বনা যে প্রাণে মেরে ফেলেনি স্যারকে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসন চুপচাপ মজা দেখেছে সেদিন। সেই প্রফেসরের তত্ত্বাবধানে স্নাতকোত্তর গবেষণা করার কারণে আমাকেও সইতে হয়েছে অনেক দুর্ভোগ। সেটা অন্য প্রসঙ্গ।

প্রবীর ঘোষের 'অলৌকিক নয় লৌকিক' এবং অন্যান্য বই পড়ে খুব মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির কাজকর্ম দেখে একটা প্রশ্ন প্রায়ই মনে হতো - তারা ভারতে বসে হিন্দুধর্মের কুসংস্কার ও শোষণ এবং প্রতারণার বিরুদ্ধে যেরকম প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছেন সাংগঠনিকভাবে - বাংলাদেশে তা কতটুকু সম্ভব? অসম্ভব বলেই মনে হতো আমার। বাংলাদেশে তখন কেউই যে যুক্তিবাদের পক্ষে লিখছেন না তা কিন্তু নয়। আহমদ শরীফ এবং হুমায়ূন আজাদের লেখাগুলো যথেষ্ট উদ্দীপনাময়। কিন্তু তাঁদের লেখায় আবেগ একটু বেশি বলে মনে হয়েছে আমার। একেবারে নিরাবেগ হয়ে যুক্তির কথা বলা খুব সহজ কাজ নয়। কিন্তু সেটা পাবার জন্যই মনের মধ্যে প্রচন্ড একটা তৃষ্ণা কাজ করছিল সব সময়।

মুক্তমনার ফোরামে খোলামেলা আলোচনা চলতে দেখে এবং আলোচনার ধরন দেখে মনে হলো এটার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম এতদিন। মুক্তমনায় দেখলাম যুক্তির আলোয় মনের আঁধার কেটে যাচ্ছে। যে মানুষটি মুক্তমনা দাঁড় করিয়েছেন এবং বিশাল বিশাল প্রবন্ধ লিখে চলেছেন তিনি অভিজিৎ রায়। আমি অভিজিৎ রায়ের লেখা এবং কাজ ভালোবেসে ফেললাম। মুক্তমনার প্রতি নিজের ভালোলাগার কথা জানিয়ে দুই পৃষ্ঠা লিখেও ফেললাম। লিখে ই-মেইল করে দিলাম মুক্তমনার ঠিকানায়। এক দিনের মধ্যেই আমি একটা ই-মেইল পেলাম স্বয়ং অভিজিৎ রায়ের কাছ থেকে। মুক্তমনায় নিয়মিত লেখার ব্যাপারে উৎসাহ জাগানিয়া উদার ই-মেইল।

অভিজিৎ রায়ের মতো এত শক্তিশালী লেখক এবং প্রভাবশালী সম্পাদকের কাছ থেকে আমি এতটা উদারতা আশা করিনি। কারণ আমি মনে করতাম যিনি যত বেশি শক্তিশালী লেখক তিনি তত বেশি অহংকারী এবং তিনি তত বেশি ধরা-ছোঁয়ার-বাইরে। বাংলাদেশের লেখকদের মধ্যে সৈয়দ শামসুল হক আর হুমায়ূন আজাদকে দেখেছি তীক্ষ্ণ ভাষায় ব্যক্তিগত ঝগড়া করে জানান দিতে যে কে কত বড়। হুমায়ূন আজাদের লেখা এবং কথায় এত বেশি আমি-আমি-আমি-আমি থাকতো যে মাঝে মাঝে বেশ অস্বস্তিই লাগতো। আমি-কেন-ঈশ্বরে-বিশ্বাস-করি-না খ্যাত প্রবীর ঘোষেরও সব বইতে দেখেছি তাঁর নিজের প্রশংসা, নিজের কৃতিত্বের কথা। বড় বাঙালি লেখকরা অন্য বাঙালি লেখকের বেশি প্রশংসা কখনোই করবেন না এটাই নিয়ম বলে মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু উজ্জ্বল ব্যতিক্রম দেখলাম অভিজিৎ রায়ের ক্ষেত্রে। এই মানুষটা যেন প্রশংসার সাগর। কারো লেখা একটু ভালো লাগলেই প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠেন। অথচ নিজের ব্যাপারে অসম্ভব বিনয়ী।

২০০৫ সাল থেকে ২০১৫- এই দশ বছরে অভিজিৎ রায় আটটি বই লিখেছেন এবং দুটো বই সম্পাদনা করেছেন। এই বইগুলোর প্রত্যেকটাই একেকটা নতুন মাইলফলক। তাঁর সর্বশেষ বিজ্ঞান বই "শূন্য থেকে মহাবিশ্ব" বাংলা ভাষায় আধুনিক বিজ্ঞানের বইয়ের জগতে অনন্য সংযোজন। এই বইটা তিনি লিখে শেষ করেন ২০১৩ সালে। প্রকাশককে পাঠানোর আগে বইটির পান্ডুলিপি আমাকে পড়তে দিয়েছিলেন। এটা ছিল আমার কাছে পরম সম্মানের বিষয়। শুদ্ধস্বর ২০১৩ সালে বইটির পান্ডুলিপি জমা নিয়েও ২০১৪ সালের বইমেলায় প্রকাশ করেনি। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি বইমেলায় বইটি প্রকাশিত হয়। এই মেলাই ছিল অভিজিৎ রায়ের শেষ বইমেলা।

২০০৬ সাল থেকে অভিজিৎ রায়ের লেখার নিয়মিত পাঠক আমি। লেখক অভিজিৎ রায় বাংলাদেশের মুক্তমনা আন্দোলনের পথিকৃৎ। বাংলার তরুণ সমাজে অভিজিৎ রায়ের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। মুক্তমনা ব্লগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অভিজিৎ রায় ছিলেন মুখর। যে কোন সামাজিক রাজনৈতিক আন্তর্জাতিক মানবিক সমস্যায় সোচ্চার একটি নাম - অভিজিৎ রায়। ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই অভিজিৎ রায়ের সাথে পরিচয় এবং বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু ব্যক্তি অভিজিতের সাথে আমার পরিচয় তেমন ছিল না। দেখা হয়নি কোনদিন। টেলিফোনেও কথা হয়নি। কিন্তু আমার লেখার ব্যাপারে সবসময়েই উৎসাহ দিয়েছেন তিনি। 

উপমহাদেশের ১১জন পদার্থবিজ্ঞানী বইয়ের একটা ভূমিকা লিখে দিতে অনুরোধ করেছিলাম। বলেছিলাম, "সময় করে আমার বইয়ের একটা ভূমিকা লিখে দেবেন?"

তিনি বলেছিলেন, "লিখে দেবো না মানে? আমার বাবা লিখে দেবে।" 

তিনি সত্যিই তাঁর বাবা অজয় রায়কে দিয়ে আমার বইয়ের ভূমিকা লিখিয়ে নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়। শুদ্ধস্বর আমার পান্ডুলিপি জমা নিয়েও যখন বছর দেড়েক প্রকাশের ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নিচ্ছিলেন না তখন অভিজিৎ টুটুল ভাইকে বলেছিলেন, "দরকার হলে আমার বইয়ের কাজ বন্ধ রেখে হলেও প্রদীপের বইটা ধরেন।" এতটা উদারতা অভিজিৎ রায়ের পক্ষেই সম্ভব। 


২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারির পর মুক্তমনার পৃথিবী বদলে যায়। আমূল বদলে যায়। যে বইয়ের মাধ্যমে  লেখার মাধ্যমে লেখক অভিজিৎ রায় সমাজ পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছিলেন, সেই বইমেলাতে অভিজিৎ রায়কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে চুপচাপ ভীড়ের মধ্যে মিশে যায় খুনিরা। বইমেলায় আলো ছিল। বইমেলায় ভীড় ছিল। বইমেলায় সহস্র মানুষ ছিল। সেই মানুষের হাতে মোবাইল ছিল। মোবাইল বের করে ছবি তোলার ইচ্ছে ছিল, সময় ছিল। কিন্তু খুনিকে ধরার সাহস ছিল না কারো। রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত অভিজিৎ রায় ও বন্যা আহমেদকে সাহায্য করার জন্য হাত ছিল না কারো।

তারপরের কাহিনি সবার জানা। কত রকমের আস্ফালন। কত রকমের চরিত্র-হনন। মাস পেরোতেই খুন হয়ে যান আশিকুর রহমান। তারপর অনন্ত বিজয়। তারপর নিলয় নীল। তারপর ...। 

রাষ্ট্র চুপ করে আছে। না, ঠিক চুপ করে নেই - বলছে নাস্তিকরা শাস্তি পাবে। কত রকমের রাষ্ট্রীয় ধারা আছে এখন নাস্তিকদের ধরার জন্য। ধরার পরে ধারায় ফেলে দিলেই হলো। এভাবে কতদিন চলবে জানি না। আশা করি না, তবুও একদিন হয়তো বিচার হবে। পৃথিবী বদলাবে একদিন। অভিজিৎ রায় স্টারডাস্ট হয়ে গেছেন - আগে পরে আমরা সবাই তাই হবো। সেটাই তো মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ। 

কিন্তু অভিজিৎ রায় আলো জ্বালিয়ে দিয়ে গেছেন। তাঁর হাতের আলো থেকে জ্বলে উঠছে আরো অজস্র আলো। এই আলো কাটবে কোন্‌ চাপাতিতে? বাঁধবে কোন্‌ ধারায়?

Wednesday, 6 June 2018

বিয়ের ভোজ ও অন্যান্য


রবীন্দ্রনাথ যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞগল্পটি লিখেছিলেন আজ থেকে প্রায় ১২০ বছর আগে। কিন্তু যতবারই পড়ি মনে হয় গল্পটি এখনো সাম্প্রতিক, মনে হয় আমাদের সমাজ এবং সমাজের মানুষ একশ বছরেও বদলায়নি খুব একটা। 

গল্পটি শুরু হয়েছে এভাবে- এক সময় যজ্ঞেশ্বরের অবস্থা ভালোই ছিল। এখন প্রাচীন ভাঙা কোঠাবাড়িটাকে সাপ-ব্যাঙ-বাদুড়ের হস্তে সমর্পণ করিয়া খোড়ো ঘরে ভগবদ্‌গীতা লইয়া কালযাপন করিতেছেন। যজ্ঞেশ্বরের মেয়ের বিয়ের জন্য পাত্র খোঁজা হচ্ছিল। নিজের অর্থনৈতিক অবস্থার কথা যজ্ঞেশ্বর জানেন। তাই ধনীর ঘরে তার মেয়ের বিয়ে হবে এমন আশা করেন নি। কিন্তু কমলাকে দেখে পছন্দ করে ফেলে জমিদার গৌরসুন্দর চৌধুরির ছেলে বিভূতিভূষণ। অশিক্ষিত জমিদার শিক্ষিত ছেলের মতের বিরুদ্ধে যেতে পারলেন না, দায়ে পড়িয়া মত দিলেন, কিন্তু মনে মনে যজ্ঞেশ্বরের প্রতি অত্যন্ত রাগ করিলেন। দুপক্ষে কথাবার্তা শুরু হলো। কিন্তু বিয়ে কোথায় হবে তা নিয়ে মহা হৈ চৈ।। জমিদার ছেলের বিয়েতে ধুমধাম করতে চান, কিন্তু গরীব যজ্ঞেশ্বরের সামর্থ্য কোথায় যে ধুমধাম করবে? তারপরও পুত্রের জেদের কারণে কন্যার বাড়িতেই যখন বিয়ের অনুষ্ঠান হবে ঠিক হলো গৌরসুন্দর এং তাঁহার দলবল কন্যাকর্তার উপর আরও চটিয়া গেলেন। সকলেই স্থির করিলেন, স্পর্ধিত দরিদ্রকে অপদস্থ করিতে হইবে। বরযাত্রী যাহা জোটানো হইল তাহা পল্টনবিশেষ। বিয়ের দুদিন থেকে প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টি শুরু হলো। বরযাত্রীগণ ভিজিয়া, কাদা মাখিয়া, বিধিবিড়ম্বনার প্রতিশোধ কন্যাকর্তার উপর তুলিবে বলিয়া মনে মনে স্থির করিয়া রাখিল। হতভাগ্য যজ্ঞেশ্বরকে এই অসাময়িক বৃষ্টির জন্য জবাবদিহি করিতে হইবে। প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টিতে যজ্ঞেশ্বরের সমস্ত আয়োজন নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু বরযাত্রীরা তা বুঝবেন কেন? তারা যজ্ঞেশ্বরের দুর্গতিতে মনে মনে খুশি হলেন, এবং প্রকাশ্যে রেগে গিয়ে মহা হাঙ্গামা শুরু করলেন। যজ্ঞেশ্বরের প্রতিবেশীরা যজ্ঞেশ্বরের বিপদে এগিয়ে এসে প্রচুর ছানার ব্যবস্থা করলেন। কিন্তু বরযাত্রীরা তাতে সন্তুষ্ট হলেন না। যজ্ঞেশ্বর যেমন-যেমন পাতে ছানা দিয়া যাইতে লাগিলেন তৎক্ষণাৎ বরযাত্রীগণ তাহা কাঁধ ডিঙাইয়া পশ্চাতে কাদার মধ্যে টপ্‌টপ্‌ করিয়া ফেলিয়া দিতে লাগিল। উপায়বিহীন যজ্ঞেশ্বরের চক্ষু জলে ভাসিয়া গেল। বারম্বার সকলের কাছে জোড়হাত করিতে লাগিলেন; কহিলেন, আমি অতি ক্ষুদ্র ব্যক্তি, আপনাদের নির্যাতনের যোগ্য নই। একজন শুষ্কহাস্য হাসিয়া উত্তর করিল, মেয়ের বাপ তো বটেন, সে অপরাধ যায় কোথায়
          
গত একশ বছরেরও আমাদের সামাজিক অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়েছে কি? মেয়ের বাপ হওয়ার অপরাধে এখনো অনেককেই কত রকম গঞ্জনা সহ্য করতে হয় মেয়ের বিয়ের ভোজের আয়োজন করতে গিয়ে। যজ্ঞেশ্বর মেয়ের বর গৌরসুন্দরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামলেছিলেন সেদিন। কিন্তু এখনকার বেশির ভাগ বর ভোজের আয়োজনে একটু এদিক-ওদিক হলেই বর্বরের মত আচরণ করেন। প্রথম আলোতে প্রকাশিত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ঘটনাটি পড়ে দেখুন:



 এরকম ঘটনা নতুন নয়। নানারূপে নানাভাবে বাংলাদেশ ও ভারতে অহরহ ঘটছে এমন ঘটনা। অনেক জায়গায় কন্যাপক্ষকে অপদস্ত করার জন্য পেশাদার খাদক নিয়ে যাওয়া হয়। যাদের সাথে আত্মীয়তা হতে যাচ্ছে তাদেরকে অপদস্থ করতে পারলে যেন অফুরন্ত আনন্দ পাওয়া যায়।
          
আজকাল অনেকেই যৌতুক-প্রথার বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছেন। এটা ভালো দিক। কিন্তু যেখানে কোন দাবী-দাওয়া নেই - সেখানেও দেখা যায় কয়েক শত বরযাত্রীর ভোজের আয়োজন করতে গিয়ে নাস্তানাবুদ হচ্ছেন কন্যাপক্ষ। বরপক্ষকেও বৌ-ভাত নামে ভোজের আয়োজন করতে হয়। তবে সে আয়োজনে স্বাধীনতা থাকে। অন্যপক্ষের মনোরঞ্জন বাধ্যতামূলক নয় বলে বরপক্ষকে খুব বেশি মানসিক চাপে থাকতে হয় না।
          
বিয়েতে এরকম বিশাল ভোজের আয়োজন করাটা কি আসলেই খুব দরকার? এক বেলার ভোজের আয়োজনে কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়। যার পুরোটাই একেবারে বাজে খরচ। আমাদের মত গরীব দেশেও যাদের সামর্থ্য আছে তারা এত বেশি খরচ করে ভোজ দেন যে অবাক লাগে। চট্টগ্রামে একাধিক বিয়ের ভোজ হয়েছে স্টেডিয়ামে। শতাধিক বাস ভাড়া করে লোক নিয়ে আসা হয়েছে একবেলা খাওয়ার জন্য। সেখানে একবেলায় যা খরচ হয়েছে তা দিয়ে কয়েকটি স্কুল তৈরি করা যায়।
          
বাংলাদেশে অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন নামে একটা আইন আছে বলে শুনেছি। এই আইন অনুযায়ী একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি মানুষকে খাওয়ানো যাবে না। যারা ভোজের আয়োজনে বাধ্য হন তাদেরকে এই অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও করতে হয় - মানে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতে হয়।
          
বিয়েতে এলাহী-ভোজ বাদ দিয়ে বিকল্প কিছু কি ভাবা যায় না?

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া।

Monday, 4 June 2018

প্রসঙ্গ: আবুল বাজানদার


কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার ব্যাপারে আমাদের মত কৃপণ আর কোন দেশে আছে কি না আমি জানি না। যদি কেউ আমাদের দুঃসময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, আমাদের উপকার করে্ন - আমরা শুরুতে কেঁদেকেটে চিৎকার করে তাঁর গুণগান করি। তারপর যখন তাঁর কাছ থেকে উপকার নেয়াটা আমাদের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় – তখন আমরা আস্তে আস্তে বদলে যেতে থাকি। কৃতজ্ঞতার ভার আমরা সইতে পারি না। এই ভার কমানোর জন্য আমরা গভীর মনোযোগে উপকারীর উপকারের পেছনে কী উদ্দেশ্য আছে তা বের করার চেষ্টা করি। তেমন কোনকিছু খুঁজে না পেলে যে কোন ছুতোয় তাঁর বদনাম করতে শুরু করি।

বাংলাদেশের ডাক্তারদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের আচরণের ব্যাপারটা ভেবে দেখুন। ডাক্তাররা দিনরাত পরিশ্রম করে চিকিৎসা দিয়ে রোগীদের মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। আর রোগী সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে ডাক্তারদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করতে শুরু করেন। রোগী যত বলেন, রোগীর আত্মীয়স্বজন বলেন তার দশগুণ। সুস্থ থাকার জন্য ডাক্তাররা রোগীকে যেভাবে জীবন-যাপন করতে বলেন, যেভাবে ওষুধ খেতে বলেন তা সেভাবে না মেনে – ডাক্তারের ওপর ডাক্তারি করতে করতে যখন অসুখের ডালপালা গজিয়ে ফেলেন – আবার ডাক্তারের কাছে গিয়ে কান্নাকাটি করেন। আর ‘কসাই’ ডাক্তাররা আবার সেই রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে ভালো করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

ডাক্তারদের ব্যাপারে কতটুকু অকৃতজ্ঞ হওয়া যায় তার সাম্প্রতিক উদাহরণ আবুল বাজানদার – যাঁকে বৃক্ষমানব নামে চেনেন বাংলাদেশের মানুষ। আবুল বাজানদার Epidermodysplasia verruciformis (EV) বা Tree syndrome-এ আক্রান্ত হয়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। আবুল বাজানদারের দুই হাতের ত্বকে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়ে গাছের ঝোপের মতো হয়ে গিয়েছিল  সারা পৃথিবীতে বিরল এই রোগের এখনো কোন সুনির্দিষ্ট নিরাময়ের ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি।



চিকিৎসার আগে আবুল বাজানদার



ডাক্তার সামন্তলাল সেন এবং তাঁর ইউনিটের একদল বাংলাদেশি ডাক্তার গত আড়াই বছর ধরে অবিরাম চিকিৎসা দিয়েছেন আবুল বাজানদারকে। হাতে-পায়ে ২৪টি অস্ত্রোপচার করে তাঁকে প্রায় সুস্থ করে তুলেছিলেন আমাদের ডাক্তাররা। এই রোগ জিনেটিক কিনা পরীক্ষা করার জন্য তার রক্ত ও অন্যান্য উপাদান দেশের বাইরে পাঠিয়ে পরীক্ষা করে আনিয়েছেন ডাক্তাররা। হাসপাতালে শুধুমাত্র আবুল বাজানদারের চিকিৎসার কাজে ব্যবহারের জন্য আলাদা যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করেছেন। আবুল বাজানদারের চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়ে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। বাংলাদেশের চিকিৎসকদের প্রশংসা করা হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন মেডিক্যাল নিউজে। 


অনেকগুলো অপারেশন ও সমন্বিত চিকিৎসার পর আবুল বাজানদার 


অথচ আমরা কী দেখলাম? আমরা দেখলাম আবুল বাজানদার হাসপাতাল থেকে কাউকে কিছু না বলে চলে গেলেন। অর্থাৎ পালিয়ে গেলেন। তাঁকে কেউ বেঁধে রাখেননি হাসপাতালে। কিন্তু তিনি চলে গিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের লোকদের বলতে শুরু করলেন – হাসপাতালে তাঁর সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন ডাক্তাররা। বিবিসি বাংলায় আবুল বাজানদারের বলা কথা শুনলাম। সেখানে আবুল বাজানদার বললেন যে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের জন্য প্রতিদিন হাসপাতাল থেকে খাবার দেয়া হতো। আড়াই বছর ধরে চলেছে সেরকম। কিন্তু চারজনের খাবার নাকি আর দেয়া হবে না বলা হয়েছে তাকে। তাই তিনি চলে গেছেন।

হাসপাতালে রোগী ছাড়া আর কাউকে খাবার দেয়ার নিয়ম নেই। ডাক্তার সামন্তলাল সেন নিজের পকেট থেকে পয়সা দিয়ে গত আড়াই বছর ধরে আবুল বাজানদারের স্ত্রী ও সন্তানদের তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। হাসপাতালের মোটা চালের ভাত আবুল বাজানদার খেতে পারতেন না – তাই তাদের জন্য ডাক্তারদের ক্যান্টিন থেকে খাবার কিনে এনে দেয়া হতো। আবুল বাজানদার তাঁর থাকার ক্যাবিন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন ক্যাবিনে এসি ছিল না – তাই তাঁর কষ্ট হয়েছে।

আমাদের ডাক্তাররা তাঁর জন্য যা যা করেছেন – আমি জানি না আর কোনদেশে কোন রোগীর জন্য ডাক্তাররা ব্যক্তিগতভাবে তেমন কিছু করেন কি না। উন্নত দেশে শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে আয়কর দিতে হয় মোট আয়ের কমপক্ষে তিন থেকে চার পারসেন্ট। জনগণের দেয়া সেই টাকায় চিকিৎসার বাজেট হয়। একজন স্পেশালিস্টের প্রতি পনেরো মিনিটের ফি হলো কমপক্ষে আড়াইশ ডলার। আর আমাদের দেশের স্পেশালিস্টরা যে রোগীকে এবং রোগীর পরিবারকে নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে মুখে খাবার পর্যন্ত তুলে দেন – সেই রোগী হাসপাতাল ছেড়ে গিয়ে সেই ডাক্তারদের বদনাম করেন।

এতকিছুর পরেও আশ্চর্যের ব্যাপার হলো এই – এই আবুল বাজানদার যখন আবার এসে হাসপাতালে ভর্তি হবেন – আমাদের ডাক্তাররা সবকিছু ভুলে গিয়ে চিকিৎসার হাত বাড়িয়ে দেবেন পরম মমতায় কসাই না হলে কি এমন করতেন!!


চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে  আবুল বাজানদারের অভিযোগ সম্পর্কে চিকিৎসকদের বক্তব্য পড়ুন এখানে:
http://www.banglatribune.com/others/news/330359/



Sunday, 3 June 2018

আমরা কি সুস্থ আছি?

২০১১ সালের ঘটনা। কিন্তু ঘটে চলেছে প্রতিবছর বাংলাদেশের কোথাও না কোথাও...


মারি হালামারি হালাপুলিশ কইছে মারি হালাইবার লাইতোরা মারছ্ না কা? (মেরে ফেলমেরে ফেলপুলিশ বলেছে মেরে ফেলার জন্যমারিস না কেন?) লোকজনের জটলা থেকে কেউ একজন এভাবে বলছেন, আর কিছু লোক কিশোর মিলনকে রাস্তার ওপর ফেলে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারছেএকজন লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি পেটাচ্ছে একপর্যায়ে এক যুবক ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেমিলনের মৃত্যু নিশ্চিত হলে পুলিশ তার লাশ গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়

গত ২৭ জুলাই সকালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ঘটে এই অকল্পনীয় ঘটনাভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ১৬ বছরের কিশোরটিকে পুলিশের গাড়ি থেকে একজন নামিয়ে জনতার হাতে ছেড়ে দিচ্ছেতারপর শুরু হয় কথিত গণপিটুনিঅবিশ্বাস্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটে পুলিশের উপস্থিতিতে
কোম্পানীগঞ্জে ওই দিন ডাকাত সন্দেহে পৃথক স্থানে ছয়জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ দাবি করেছিলএর মধ্যে টেকেরবাজার মোড়ে মারা হয় তিনজনকেতাঁদেরই একজন এই কিশোর শামছুদ্দিন মিলনমিলনকে মারা হয় সকাল সাড়ে ১০টার দিকেআর বাকি দুজনকে মারা হয়েছিল ভোরবেলায় -

প্রথম আলোর প্রথম পাতার এই খবরটি পড়ে অনেক প্রশ্নের ভীড়ে একটি সোজা-সাপ্টা প্রশ্ন এসে ধাক্কা মারে মাথার ভেতর- এরকম পৈশাচিক উল্লাসে মানুষকে পিটিয়ে মারে যেসব মানুষ তাঁরা কি মানসিক ভাবে সুস্থ আছেন?

ঘটনাটি ঘটার দশদিন পর খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই মোবাইল ফোনের ভিডিওতে হত্যা-দৃশ্যটি ধারণ করেছেন। কোম্পানিগঞ্জের অনেকের মুঠোফোনে এই দৃশ্য দেখেছেন এবং এখনো দেখছেন অনেকেই। ষোল বছরের কিশোর মিলনের অপরাধ কী তা কেউ জানেন না। সে চট্টগ্রামের একটা কোম্পানিতে কাজ করে। ছুটি নিয়ে বাড়ি এসেছিল পারিবারিক কাজে। ঘটনার দিন চৌদ্দ হাজার টাকা নিয়ে উপজেলা সদরে যাচ্ছিল জমি নিবন্ধনের কাজে। যাবার পথে চরকাঁকড়া বেপারী উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ুয়া খালাতো বোনের সাথে কথা বলার জন্য বিদ্যালয়ের মসজিদের পুকুরঘাটে বসে অপেক্ষা করছিল সে। এটাই কি অপরাধ? ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জামাল উদ্দিন মিলনের খালাতো বোনকে স্কুল থেকে ডেকে এনে মিলনের পরিচয় নিশ্চিত করেন। এবং এরপর উপস্থিত লোকজন মিলে মিলনকে চড় থাপ্পড় দিয়ে তার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। তারপর মিলনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। আর পুলিশ ভ্যান থেকে নামিয়ে জনতার হাত দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলার ব্যবস্থা করে মিলনের লাশ ভ্যানে তুলে চলে যায় বাংলাদেশের বীর পুলিশ বাহিনী।

যে মানুষগুলো মিলনকেমারি হালামারি হালাপুলিশ কইছে মারি হালাইবার লাইতোরা মারছ্ না কা?  বলতে বলতে বিপুল উৎসাহে পিটিয়ে মেরে ফেললো - তাঁরা সবাই নিশ্চয় এরপর স্বাভাবিক ভাবে যার যার কাজে গেছেন, বাসায় ফিরে ভাত খেয়েছেন, ঘুমিয়েছেন, মিলনের বয়সী কোন ভাই বা ছেলে থাকলে তার সাথে আদর করে কথা বলেছেন, মোবাইল ফোনে ধারণ করা হত্যা-দৃশ্যে নিজেদের ভূমিকা উপভোগ করেছেন গর্ব-ভরে। পিটিয়ে মানুষ মেরে ফেলাটা কত সহজ এখন আমাদের দেশে। পুলিশের বড় কর্তা বলেছেন মিলন অপরাধী কি না, তা এই মুহূর্তে বলা যাবে না। আমরা সব বিষয় খতিয়ে দেখছিসব বিষয় খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে ঘোষণা দেবেন মিলন সাধুবেশে চোর অতিশয়। যেন তাতেই আমরা পেয়ে যাই মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অধিকার।

এখানে যে ভয়াবহ মানসিক ব্যাধিতে আমরা ক্রমশ আক্রান্ত হচ্ছি তা কি কেউ খেয়াল করে দেখছেন না? আমরা খুন-খারাবী সহ্য করতে করতে নিজেরাই একেকজন খুনি হয়ে উঠছি ক্রমশ। যারা ভীষণ অপরাধী - বড় বড় আইন তাদের সুরক্ষা দেয় - আর আমরা আম-জনতা নিজেদের বঞ্চনার ক্রোধ অন্ধ হয়ে ঢালি নিজেদেরই কোন মিলন-এর ওপর। কীভাবে বলি যে আমরা সুস্থ আছি?

Friday, 1 June 2018

ভয়াবহ ধর্ষণ-তত্ত্ব

২০০৫ সালে সাপ্তাহিক মৃদুভাষণে প্রকাশিত একটি লেখার প্রতিক্রিয়া হিসেবে লিখেছিলাম এই লেখা। লেখাটি এখনো প্রাসঙ্গিক।



Latest Post

সিনেমাখোরের দিনলিপি ৩-ফেব্রুয়ারি-২০০৫

  সোফিয়া লরেন অস্কার পেয়েছিলেন ১৯৬২ সালের   দিকে। টু ওম্যান ছবিতে অভিনয়ের জন্য। ‘টু ওম্যান’ ছবিটা দেখলাম সম্প্রতি। বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ...

Popular Posts