Wednesday, 26 August 2026

পাঠকের দিনলিপি ২৩-ডিসেম্বর-২০০৪

 


২৩/১২/২০০৪

প্রথম আলোর ২০০২ সালের ঈদসংখ্যাটা নিয়ে এসেছিলাম গতবার। পুরোটা পড়া হয়ে ওঠেনি সময়ের অভাবে। কিছু কিছু রচনা আগে পড়েছিলাম। যেমন হুমায়ূন আহমেদের ‘‘হরতন ইশকাপন’’। জাফর ইকবালের ‘‘সবুজ ভেলভেট’’, আনিসুল হকের ‘‘মা’’, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের  সাথে আনিসুজ্জামানের কথোপকথন, আসিফ নজরুলের ‘‘গণ আদালতের স্মৃতিঃ জাহানারা ইমামের চিঠি’’ এবং আরো কিছু টুকিটাকি। 

কাল বাথটাবে গলা ডুবিয়ে পড়ে ফেললাম সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘‘একজন মানুষ, সময় ও জীবনের সন্ধিক্ষণ’’। উপন্যাসটা নায়িকা প্রধান। নায়িকা ঢাকার মেয়ে মধ্য তিরিশের প্রশান্তি। বেড়াতে গেছেন ইন্দোনেশিয়ার বালিতে। সেখানের কথাই পুরো গল্প জুড়ে। 

এটা উপন্যাসের ছদ্মবেশ ধারণ না করে সরাসরি ভ্রমণ কাহিনী হলেই ভালো হতো। কিন্তু তা না হয়ে এখানে এসেছে ইন্দোনেশিয়ান শিল্পী তাতিয়ানের চরিত্র। তাতিয়ানের সাথে প্রশান্তির পরিচয় ট্যাক্সিতে। সেখান থেকেই তারা একসাথে কাটায় পরবর্তী চৌদ্দটা দিন। প্রশান্তির স্বামী অনুপমও বালিতে তখন। আলাদা ভাবে। অনুপম প্রশান্তিকে ফোন করলে প্রশান্তি বিরক্ত হয়। গল্পের উত্তেজনা বাড়াতেই কি অনুপমকেও বালিতে নিয়ে আসা একই সময়ে?  প্রশান্তির সাথে অনুপমের বিয়েটা কোনরকমে ঝুলে আছে। একটা মেয়ে আর একটা ছেলে আছে তাদের। ছেলেটা মানসিক প্রতিবন্ধী সেটা জানা যায়। কিন্তু প্রশান্তির সাথে কেন অনুপমের সম্পর্কটা তিক্ত তা জানা যায় না। একবার মাত্র উচ্চারিত হয় যে প্রশান্তি মনে করে বিয়ে মানে ‘‘বন্ধুত্ব, নিজেদেরকে নিজেদের মত করে সময় উপভোগের খানিকটুকু ছাড়, সন্তানের ভালোবাসা এবং জীবন যাপনের ধারাবাহিকতা’’। অনুপম এসবের কিছুই করেনি বলে আমাদের ধরে নিতে হয়। কিন্তু অনুপম প্রশান্তিকে একটুও স্বাধীনতা না দিলে প্রশান্তি একা একা ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণে কীভাবে আসতে পারে তা আমরা জানতে পারি না। 

প্রশান্তি ঢাকায় কী করেন তাও জানি না। মনে হয় সে চাকরি করে, বেশ স্মার্ট। কিন্তু সমস্যা হয়ে যায় যখন প্রশান্তি নামের একজন বাংলাদেশী মেয়ে কোন ধরনের জড়তা ছাড়াই তাতিয়ান নামে একজন মধ্য চল্লিশের ইন্দোনেশিয়ান শিল্পীর সাথে সময় কাটাতে থাকে পরিচয় হবার সাথে সাথেই। পরিচয়ও ঠিক না, সাক্ষাৎ হবার সাথে সাথে। প্রশান্তি যেভাবে পানি খাবার মতোই স্বাভাবিক ভাবে বীয়ার খাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে সে ঢাকাতেও এসবে অভ্যস্ত। 

উপন্যাসে বালির সমাজ জীবন না হলেও বালির ট্যুরিস্ট জীবন কিছুটা উঠে এসেছে। কারণ আমার ধারণা লেখক বালি ভ্রমণ করে এই লেখাটা লিখেছেন। একটা কাহিনীতো লাগবে। সেজন্য তাতিয়ানকে নিয়ে এসেছেন প্রশান্তির সাথে। বাংলাদেশের চরিত্রগুলোর নাম নির্বাচনে নতুনত্ব আছে। যেমন ‘প্রশান্তি, অনুপম, তাদের মেয়ে মেঘরাশি, ছেলে দীপ্তরাজ, প্রশান্তির বোন নৃকান্তি’। বোঝাই যায় লেখক এখানে নতুনত্ব আনতে চেয়েছেন। কিন্তু প্রশান্তির মধ্য দিয়ে তিনি কী বলতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয়।

 ইন্দোনেশিয়ার সমাজ ব্যবস্থা আমাদের চেয়ে একটুও উদার নয়। বালি ট্যুরিস্টদের জায়গা বলে সেখানে কারো ব্যাপারে কেউ মাথা ঘামায় না। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার মূল সমাজ ব্যবস্থার সাথে তা গুলিয়ে ফেললে তো আমাদের চলে না। রেস্টুরেন্টের খাবারের রেসিপি, বালির সমুদ্র সৈকত, হোটেল, কিছু ইতিহাস, সব মিলিয়ে  একটা নির্ভেজাল ভ্রমণ কাহিনী হতে পারতো এটা। কেন যে লেখক এটাকে উপন্যাস করতে গেলেন!

এনাম তালুকদারের ভ্রমণকাহিনী ‘‘অন্নপূর্ণার বন্ধুর পথে’’ পড়লাম। ভালোই। নেপালের পাহাড়ী রাস্তায় ট্র্যাকিং করার বর্ণনা। বেশ কিছু সাদাকালো আর রঙিন ছবিও আছে সাথে।

----

কলম্বাস, ওহাইও

No comments:

Post a Comment

Latest Post

Ken Amos — My Teacher My Mentor

  For many people, another kind of student life begins after the formal years of schooling, college, and university degrees have come to an ...

Popular Posts