অক্টোবর ১৯, ২০০৪। মংগলবার
১৮/১০/০৪ তারিখের ভোরের কাগজে মহিউদ্দিন আহমদ লিখেছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেনসিয়াল বিতর্ক নিয়ে। বাংলাদেশের চ্যানেলেও সরাসরি প্রচারিত হয়েছে এই অনুষ্ঠান গুলি। সারা পৃথিবীর মানুষ দেখেছেন যাদের দেখার ইচ্ছা ছিলো।
আমার মনে হয় বাংলাদেশে এখন বিত্তবান বা মধ্যবিত্তেরও আয়ত্বের মধ্যে এসে গেছে অনেক আমেরিকান বিনোদন। যেমন সিনেমা। হলিউডের সব সিনেমা এখন স্টার প্লাস বা এইচ-বি-ও (হোম বক্স
অফিস) চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে এগুলি ছাড়াও ইন্ডিয়ান অনেক চ্যানেল। রাশিয়ান রেইন চ্যানেল নামে একটা সফ্ট পর্নোচ্যানেলও নাকি ভীষন চলছে সেখানে। এগুলি অবশ্য মহিউদ্দিন আহমদ লেখেননি। এগুলি আমার কথা।মহিউদ্দিন আহমদ
বলতে চেয়েছেন আমাদের নিজেদের চ্যানেল গুলিতে মার্কিন বিতর্কগুলো বাংলায় অনুবাদ করে
প্রচার করা হলে জনগণ বুঝতে পারতেন জবাবদিহিতা কাকে বলে। প্রেসিডেন্টকে সরাসরি কী কী
প্রশ্ন করা যায়, এবং কেমন তিনি সব প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য। খুবই ভালো প্রস্তাব সন্দেহ
নেই। কিন্তু আমার কথা হলো বাংলায় প্রচার করতে হবে কেন? যে প্রশ্ন গুলি করা হয়েছে তার
সাথে আমেরিকার জনগণের স্বার্থ আছে, আমাদের দেশের মানুষ যারা ইংরেজি বোঝেন না একেবারে,
তাদের কাছে আমেরিকানদের অভ্যন্তরীন ব্যাপার খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর যাদের ঘরে
ক্যাবল টিভি আছে এবং প্রেসিডেনসিয়াল ডিবেট মনযোগ দিয়ে দেখবেন তাঁরা ঠিকই জানেন জবাবদিহিতা
কেমন। কিন্তু আমাদের দেশে সেটার প্রয়োগ করবে? কেউ না।
ধরা যাক গত সংসদ নির্বাচনের আগে। জনগণের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন শেখ হাসিনা। খালেদা জিয়া সরাসরি ’না’ করে দিলেন এরকম একটা প্রস্তাব। তাতে তো মনে হচ্ছে খালেদা জিয়ার লাভই হয়েছে। আমেরিকার কেউ এরকম করলে? আরও আগে ফিরে যাই। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগে। শেখ হাসিনাকে সাংবাদিকরা অনেক প্রশ্ন করলেন, টিভিতে সরাসরি তা দেখানো হলো। কিন্তু একই অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার বদলে কথা বলতে এলেন বদরুদ্দোজা চৌধুরি। কৈ খালেদা জিয়াকে তো এ নিয়ে কেউ একটা প্রশ্ন করারও সাহস পাননি। দেশের মানুষ! জবাব দিতে যারা পারেন না বা মনে করেন তাদের সম্মান চলে যাবে তাতে, তারাই তো ক্ষমতায় আসে বারবার। আমরা আসলে এখনো রাজারানীর যুগে বাস করছি মনে মনে। রাজা আমাদের যা বলবেন, আমরা তা-ই মেনে নেবো। তিনি আমাদের দন্ডমুন্ডের মালিক।
বেশ কয়েকটা গল্প পড়ে ফেলেছি এই ক’দিনে।
বেশির ভাগই আই-পত্রিকা থেকে। সেখানে আরো শত শত গল্প আছে। পুরানো গল্প নয়, নতুন নতুন
গল্প যা গত কয়েক বছরে লেখা হয়েছে। আমি সময় পেলেই পড়ে ফেলবো আশা করছি।
লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প ‘‘জারুলের ছায়া’’। তুলি ভালোবেসে ফেলেছে রান্টুকে। সে অনেকদিন। যখন রান্টু ঝলমলে রেজাল্ট করে পাড়ার হিরো হয়েছে আর ধরতে গেলে পাড়ার স্কুলের উঁচুক্লাসে পড়া সব মেয়েদের কল্পনার চরিত্র হয়ে উঠেছে। তুলি রাজনৈতিক নেতা ধ্রুব ঘোষের মেয়ে। আর রান্টুর বাবা পুরসভার প্রধান হিসাব রক্ষক। পুরসভার চেয়ারম্যান ধ্রুব ঘোষের সাথে সম্পর্ক ভালোই ছিলো। কিন্তু রান্টুর বাবা সৎ। একদিন মরতে হলো তাঁকে। রান্টু জেনে যায় এর পেছনে কে। ক্রমে রান্টু সমাজবিরোধী মাস্তান হয়ে যায়। তুলি তারপরও ভালোবাসে রান্টুকে। রান্টু বারবার বলে তুলিকে চলে যেতে।
তারাপদ রায়ের মজার গল্প ‘‘রোগা হওয়ার গল্প’’। বেশ মজার। একটা প্রবাদ নাকি আছে ‘রোগা যদি হতে চাও মোটা হও তবে’। কেমন এটা? মোটা হতে গেলে খেতে হবে প্রচুর। খেতে খেতে খুব মোটা হলে আরো খেতে হবে। বেতনে কুলাবে না। ঘূষ খেতে হবে। আরো মোটা হলে। নড়তে চড়তে পারবে না। চাকরি গেলো। ব্যবসা গেলো। না নড়তে পারলে তো যাবেই। কিন্তু পেট তো মানবে না। ধার করবে। আরো মোটা হলে। এবার পাওনাদাররাতো আর তোমার মতো বসে থাকবে না। তারা তাগাদা দেবে। শেষে মারতে আসবে। তুমি প্রাণ বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করবে। নড়তে চাইবে, ছুটতে চাইবে, পালাতে চাইবে। প্রাণের ভয়ে মানুষ কুমিরের পিঠে চড়ে বসতে পারে। তুমিও পারবে। ভয়ে ছুটতে ছুটতেই তুমি রোগা হতে শুরু করবে। তবে এটা কিন্তু গল্প নয়। গল্প হলো তিনি প্রতিবছর আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় যান তাঁর ছেলের কাছে। যেহেতু তিনি মোটা সেহেতু ছেলে তাঁকে নিয়ে যায় একটা ডায়েটিশিয়ানের কাছে। মজার বর্ণনা আছে এখানে। তারা এই বাঙালি মোটাকে তাদের তুলনায় রোগা মনে করে আরো মোটা হওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।
রূপক চক্রবর্তীর গল্প ‘‘আগামীকালের জন্য’’। সুধাকান্ত এই গল্পের নায়ক। মধ্যতিরিশে এসে বেশ একা। মা বাবা মরেছে। আর কেউ নেই। এখন বাড়ি আছে। বাড়ির নীচের তলার ভাড়াটে পরমেশ বাবুর বৌ নমিতার সাথে সুধাকান্তের প্রেম নয়, শারীরিক সম্পর্ক আছে। পরমেশ বাবু জিওলজিক্যাল সার্ভের কারণে কেবল ট্যুর ট্যুর থাকে। সুধাকান্ত নস্টালজিক হয়ে পড়ে। ছেলেবেলার কথা স্কুলের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে মৌ’র কথা, মনে পড়ে কোন এক পল্লবীর কথা যাকে সে একদিন ভালোবেসেছিলো।
কাবেরী রায়চৌধুরী যে চমৎকার গল্প লেখেন তা আমি তাঁর আগের গল্পটা পড়েই বুঝেছিলাম। সে গল্পের নাম ছিলো শরীরী। এবারের গল্প ‘যে যেখানে দাঁড়িয়ে’। সহজ একটা প্লট। মনোময় লাহা বেশ গোছানো মানুষ। উচ্চপদে চাকরিজীবী। আর দুবছর পরে রিটায়ার করবেন। এর মধ্যে বাড়ি করেছেন। এক মাত্র মেয়ে টিটুকে মানুষ করেছেন। তার ভবিষ্যতের জন্য যথেষ্ট সঞ্চয়ও করে রেখেছেন। এবার প্ল্যান করেছেন রিটায়ারে গেলে স্ত্রী সুধাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন - না মেটা সব শখ মেটানোর জন্য।
প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে যেদিন, সেদিনের ঘটনায় এই গল্প। মনোময় গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন অফিসে যাওয়ার জন্য। না গেলেই নয়, কারণ দুপুরে একটা টেন্ডার খোলা হবে। তিনি কল্লোলের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন পাঁচ হাজার টাকা এই টেন্ডারটা পাইয়ে দেবেন বলে। তাঁর এই গোপন অসততার কথা বাড়িতে কেউ জানে না। সুধা অপেক্ষা করে আছে কয়েকদিনের মধ্যেই টিটু যে ছেলেকে পছন্দ করে তার কথা মনোময়কে বলবেন বলে। টিটো অপেক্ষা করে আছে সুখের ঘর বাঁধবে বলে। এদিকে কল্লোলের স্ত্রী মধুমিতা কল্লোলের সাথে সংসার করলেও সে কল্লোলকে ভালোবাসে না। সে ভালোবাসে কল্লোলের বন্ধু বিশ্বজিতকে। বিশ্বজিতও তার স্ত্রী অর্ণাকে ভালোবাসে না। কেবল ঘর করে। কল্লোল দুপুরে বের হবে টেন্ডারের কাজে। যত বৃষ্টিই হোক, যেতেই হবে। এই খুশিতে মধুমিতা ফোন করে বিশ্বজিতকে দুপুরে বাসায় চলে আসার জন্য। বিশ্বজিতের সাথে শরীর বিনিময় করার সুযোগ পাচ্ছে না সে অনেকদিন। ভেবেছে আজ মহা সুযোগ। দুপুর হয়। কল্লোলের জন্য ভাত বাড়া হয়। কল্লোল রেডি হয়ে টেন্ডার অফিসে ফোন করে মনোময়ের খোঁজে। খবরটা পায় তখন। মনোময় মারা গেছেন। বিশ্বজিত আসে কল্লোলের বাসায়। বিশ্বজিতের চোখে কামনার আগুন। মনে মনে মনোময়কে দায়ী করে সে। মধুমিতাও। কল্লোলও। এদিকে সুধাও, টিটোও। কেন মরলো মনোময়?
আনন্দবাজার পত্রিকার রবিবাসরীয় গল্প পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের ‘মায়ার বাঁধন’ খুব একটা ভালো লাগেনি আমার। উচ্চমার্গের গল্প আমার হজম হয়না। মানব নামে এক লোক সিনেমা বানায় বা এরকম কিছু। লেখক অনেক কিছুই জানেন এরকম একটা ভাব এখানে ফুটে উঠেছে।
জেইন অস্টিনের উপন্যাস প্রাইড এন্ড
প্রেজুডিস অবলম্বনে ইন্ডিয়ান ভার্সান ব্রাইড এন্ড প্রেজুডিস নিয়ে ভীষন হৈ চৈ হয়েছিলো
ছবিটা মুক্তির আগে। এখন সমালোচনা পড়ে মনে হচ্ছে খুব একটা ভালো হয়নি সিনেমাটা। ঐশ্বরিয়া
রায় নাকি খুব একটা ভালো অভিনয় করেননি। অবশ্য তাঁর মত রূপসী খুব কমই আছে এদিকে। হলিউডে
অবশ্য শুধু রূপ দিয়ে কিছু হয় না।
কলম্বাস, ওহাইও

No comments:
Post a Comment