Sunday, 23 August 2026

পাঠকের দিনলিপি ২২-সেপ্টেম্বর-২০০৪

 


সেপ্টেম্বর ২২, ২০০৪। বুধবার

মইনুল আহসান সাবেরের গল্প ‘‘আমাদের খঞ্জনপুর’’ পড়ে এতো ভালো লাগলো। এটাকে বড় গল্প বা ছোট উপন্যাস যে কোনটাই বলা যেতে পারে। কি চমৎকার প্রাণবন্ত লেখা। সরল উপস্থাপনা। নোমানের জবানীতে লেখা। রেবেকার প্রেমে পড়ে নোমান যখন তার বয়স ১৭। পাশাপাশি বাড়িতে থাকতো তারা। রেবেকা সুন্দরী, স্মার্ট

আর খুব কথা বলে মুখের উপর। ত্রিশ বছর আগের ঘটনা এসব। তাদের বিয়ে হয়নি। কিন্তু বন্ধুত্বটা রয়ে গেছে শেষ পর্যন্তও। একটানে পড়ে ফেলা যায় এই গল্প। এই গল্পটা পড়েছি  www.bangladeshinfo.com পাতা থেকে।

ভোরের কাগজে আবেদ খানের লেখা পড়লাম ‘‘আমরা আর যাবো কোথায়, আছিই তো’’। চট্টগ্রামের আবদুললাহ আল হারুনের কথা লিখেছেন। হারুন সাহেব মারা গেছেন কিছুদিন আগে। আওয়ামী লীগের এই নেতার ছোট ভাই নোমান বি-এন-পির মন্ত্রী এখন। নোমানও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এক পাঠক চিঠি লিখেছেন আবেদ খানকে কেন তার লেখায় এখন আশার চেয়ে হতাশা বেশি।

ভোরের কাগজের ২১ সেপ্টেম্বর সংখ্যায় জাপান থেকে মঞ্জুরুল হক লিখেছেন সমান্তরাল প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশে কোন তালেবান ইত্যাদি নেই বলেছেন আবারো খালেদা জিয়া। মঞ্জুরুল হক বলছেন এটা যে কতবড় মিথ্যা তা জানার জন্য  সামান্য কিছু কাজ করলেই হবে। ইসলাম লাগানো দলগুলিকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করে দিলেই বুঝতে পারা যাবে আছে কি নেই। মাদ্রাসায় অনুদান বন্ধ করে দিলেই বুঝতে পারা যাবে আসলে কী আছে। খালেদা জিয়া তো আর বোকা নন যে নিজের গদিটায় নিজেই লাথি মারবেন!

একই তারিখে মুনতাসির মামুন লিখেছেন বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তায়নের পথে। আমার প্রশ্ন হলো বাংলাদেশকে আসলেই কি তারা নিয়ে যাচ্ছে নাকি বাংলাদেশ নিজেই যাচ্ছে বা যাবার পথ করে নিচ্ছে। 

আই-পত্রিকায় নবনীতা দেবসেনের নোটবই পড়লাম ‘‘ফ্যামিলি স্টোরি’’। নিজের কথাই লেখেন তিনি। একদিন সকালে তাঁর বাসায় এল-জি থেকে একজন মেয়ে আসে সার্ভে করার জন্য। কম্পিউটার দেবে। এটা ওটা লেখাপড়া শিক্ষা আয় উপার্জন ইত্যাদি সব জানার পরে জানতে চায় স্বামীর কথা। যেই শুনেছে নবনীতা ডিভোর্সী সাথে সাথে সেই মেয়ে ইন্টারভিউ নেয়া বন্ধ করে দেয়। নবনীতার পি-এইচ-ডি ডিগ্রি বা বিশ হাজারের বেশি উপার্জন কোনটাই কোন কাজের থাকে না তখন যখন বাড়িতে তাঁর স্বামী থাকেন না। স্বামী না থাকলে নাকি তা ফ্যামিলি হয় না। মায়ে আর মেয়েতে ফ্যামিলি হবে না। সব থাকলেও না। নবনীতা লেখাটা শেষ করেছেন এই বলে,

Women's Commission শুনেছেন? গৃহিনী নয়, গৃহকর্তাই গৃহ।

সাপ্তাহিক পূর্ণিমায় একটা গল্প পড়লাম ‘‘অভিনয়’’। লেখকের নাম নেই। রানা আর কণার গল্প। রানা কণাকে ভালোবাসে। কিন্তু সেখানে খুব বেশি ঝড়ো হাওয়া নেই বলে বা রানা একটুও বুনো নয় বলে কণা রানার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। বিয়ে করে সুমনকে। সুমন উদ্দাম। সুমন বারণ মানে না। সুমন কণার উপর জোর খাটায় বলেই কণার সুমনকে ভালো লাগে। বিয়ের পরে রানার কাছে আসে একদিন কণা। সেদিনের কথায় এই গল্প। মনে হতে পারে কণা এখনো ভালোবাসে রানাকে। আসলে তা নয়। কণা দেখতে এসেছে রানার এখন কেমন লাগছে।

পূর্ণিমার প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ‘‘গোপন ক্যামেরা যা দেখে যা দেখে না’’। রোকেয়া হলের বাথরুমে ক্যামেরা বসিয়ে মেয়েদের স্নান করার দৃশ্য ধারণ করে তা নাকি বাজারে ছাড়া হয়েছে। এই নিয়ে বেশ কথা শোনা গেলেও কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি এখনো। পূর্ণিমা কিন্তু প্রচ্ছদে একটা ভিডিও ক্যামেরার এলসিডি স্ক্রিনে একট ছবি ছাপিয়েছে। তারা মনে হচ্ছে মডেল ব্যবহার করেছে। প্রতিবেদনে নুতন কিছু নেই। কেবল বলা হচ্ছে গোপন ক্যামেরায় দুর্নীতির ছবি ধরা পড়লে  ভালো হতো। গোপন ক্যামেরায় ধরতে হবে কেন। প্রকাশ্য ক্যামেরায় ধরা হওয়ার পরেই কিছু হচ্ছে না দুর্নীতিবাজদের।

গোলাম আযমের দিন কাটছে লেখালেখি করে। গোলাম আযম সম্পর্কে লিখেছেন স্টালিন সরকার। মনে হচ্ছে গোলাম আযম একজন মহান মনিষীর স্তরে পৌছে গেছেন বাংলাদেশে। তাঁর আত্মজীবনীর তিনটা খন্ড নাকি বের হয়ে গেছে এর মধ্যে। এবার দেশে গেলে খবর নিতে হবে। তাঁর ছয় ছেলের পাঁচজনই নাকি থাকেন বিদেশে। বাংলাদেশ থাকার জন্য উপযুক্ত নয় তা জেনে, নাকি বাংলাদেশকে যে ধ্বংস করে ফেলা হবে সে ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়েই।

আনন্দ বাজার পত্রিকায় তসলিমা নাসরিন লিখেছেন মৌলবাদের বাহিরে-অন্তরে। এই লেখার কথাগুলি তিনি আগে আরো অনেকবার লিখেছেন। তসলিমা এখন কোলকাতায় থাকেন।

১৯ সেপ্টেম্বরের ভোরের কাগজে মোহাম্মদ ফারুক আহমদ বর্তমান জোট সরকারের অংশীদার ইসলামপন্থীদের প্রতি কতিপয় প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছেন জোট সরকারের বেশির ভাগ কাজ যে ইসলাম সম্মত নয়, তাতে কেন তারা সাপোর্ট করছেন। আরে বাপু ফারুক আহমহ, আপনি তো আহাম্মক নন। জোট সরকারের ইসলামী বীররা কি আসল ইসলামের কিছু বুঝে না জানে না জানার দরকার মনে করে? তারা উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলতে পারে আর আমাকে আপনাকে মুরতাদ ঘোষণা করে দিতে পারে। যুক্তির কথা শোনাতে চাচ্ছেন তাদের? 

একই তারিখের ভোরের কাগজে মমতাজ উদ্দিন পাটোয়ারী লিখেছেন ছাত্রদলের গুরুদায়িত্ব পালন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ইচ্ছামতো পিটিয়েছে ছাত্রদের ছাত্রীদের। আর পিটাতে চেয়েছে শিক্ষকদের। আমাদের দেশের পাবলিকের টাকায় চলা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অবস্থা এখন কেমন তা আর বলার দরকার নেই। এই ব্যবস্থা বদলানোর কোন ব্যবস্থা আর কেউ নেবে বলেও আমি আশা করতে পারি না।

প্রথম আলোতে এম এম আকাশ লিখেছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রবনতাসমূহ। বি এন পি আর আওয়ামী লীগের বিশ্লেষণ। আর বামপন্থীদের? আমাদের দেশে এখনো কিছু মানুষ শুধুমাত্র রাজনীতি করেই আরামে কাটিয়ে দিতে পারে। রাজনীতিকদের আয়ের উৎস কী?

আনন্দবাজারের রবিবাসরীয় পাতায় সোনামন মুখোপাধ্যায়ের গল্প জীবন-যখন। ফুল্লরা আর তার স্বামী ব্রতীনের জীবন যাপন। ব্রতীন ব্যবসা করে ব্যস্ত। সারাক্ষন। প্রেম করার সময় থেকে সংসার করার সময় কত ভিন্ন। সমস্যায় পড়লে দেখা যায় ব্রতীন  সেভাবে ফিরে আসে ফুল্লরার কাছে। সমস্যা মিটে গেলে আবারো সেই ব্যস্ততা।

সৈয়দ মুজতবা আলী’র জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রথম আলোর সাহিত্য পাতায় লিখেছেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সম্পর্কে তারা নানা নাতি। স্মৃতি থেকে লিখেছেন অনেক কিছু। ভালো লাগলো। পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কেন বাংলা হওয়া উচিত সে সম্পর্কে ১৯৪৭ সালেই একটা প্রবন্ধ লিখেছিলেন সৈয়দ মুজতবা আলী। আমাদের ভাষা আন্দোলনে এটাও একটা বিরাট ভূমিকা হয়ে থাকবে। এই প্রবন্ধটা ছাপিয়ে বেশ ভালো কাজ করেছে প্রথম আলো। সৈয়দ মুজতবা আলীর জাতীয়তাবাদচিন্তা প্রসংগে লিখেছেন সৌমিত্র দেব।

রফিকুর রশিদের গল্প পড়লাম খোলস বদল। বেশ ভালো লাগলো। ছেলে কাবিল ছেলের বৌ তথা ভাগ্নি চামেলিকে অত্যাচার করে বলে ইউএনও’র কাছে নালিশ জানাতে আসে হাবিল উদ্দিন। ছেলে ইউ এন ও অফিসের পিওন। কিন্তু যখন ছেলে আর একটা মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তোলে আর চামেলি সত্যি সত্যি চায় মামলা করতে কাবিলের বিরুদ্ধে, তখন হাবিল পিছিয়ে যায়। সে চায় না ছেলের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে। কারণ ছেলেই যে রোজগার করে আনে।

আই-পত্রিকায় অমিতাভ রায়ের গল্প পড়লাম হরিয়ানা অথবা আর্জেন্টিনা। বৃদ্ধ সাংবাদিক সত্রাজিট সিংহরায় পৌত্র নভোনীলের পঁচিশতলার ফ্লাটে এসেছেন কিছুদিনের জন্য। ইন্ডিয়া আর ইউরোপ আমেরিকায় এখানে কোন পার্থক্য নেই। কিন্তু খবর পান ছয়জন মানুষকে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়েছে। কারণ তারা নাকি নীচু জাত আর মহিষ মেরে চামড়া চুরি করেছে।

আই-পত্রিকায় পুরানো একটা গল্প কিন্নর রায়ের স্বপ্নের আশে পাশে। মাথা মুন্ড কিছুই বুঝতে পারলাম না এই গল্পের। মানে আমার ভালো লাগেনি। হয়তো খুব উঁচুমানের গল্প যেখানে আমার বোধ পৌঁছায় না।

সুনীলের রবি ও সোম গল্পটা আগেও পড়েছিলাম। 


No comments:

Post a Comment

Latest Post

Ken Amos — My Teacher My Mentor

  For many people, another kind of student life begins after the formal years of schooling, college, and university degrees have come to an ...

Popular Posts