Sunday, 23 August 2026

পাঠকের দিনলিপি ১৫-সেপ্টেম্বর-২০০৪

 


সেপ্টেম্বর ১৫, ২০০৪। বুধবার

কাল রাতে বেশ কিছুক্ষণ পড়েছি নানারকম সংবাদপত্র আর তার কলাম।

আজকের প্রথম আলোতে আবদুল কাইয়ুম লিখেছেন তাঁর সপ্তাহের হালচাল কলামে সেন্টিগ্রেড আট-একুশ নামে লিখেছেন মাইকেল ম্যুরের ফারেনহাইট নাইন ইলেভেন নিয়ে। এই সিনেমাটি এখনো দেখা হয়নি আমার। আবদুল কাইয়ুম ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাকে মেরে ফেলার চেষ্টা নিয়ে। বাংলাদেশে গোয়েন্দারা কী

করছেন। লেখাটা ভালো। প্রথম আলোতে এখন আর জোরালো কোন লেখা খুব একটা বের হয় না।

ওয়াশিংটন থেকে আরশাদ মাহমুদ লিখেছেন নির্বাচনে টাকার খেলা নামে বুশ আর কেরির নির্বাচন প্রসংগে। আমার মনে হয়, আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ যেভাবে মাথা ঘামায় তার চেয়ে অনেক কম মাথা ঘামায় আমেরিকার মানুষ। তারা জানে তাদের শাসন করে কোন মানুষ বা দল নয়, তারা আইন দ্বারা শাসিত।

প্রথম আলোর আলপিন মাঝে মাঝে বেশ ভালো হয়। ১৩ সেপ্টেম্বরের আলপিন পড়ে বেশ মজা লাগলো।

১৪ সেপ্টেম্বরের জনকণ্ঠের সম্পাদকীয়তে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রদলের তান্ডব প্রসংগে। উপসম্পাদকীয় পড়লাম ওয়াহিদুল হকের। তাঁর লেখার কিছু কিছু অংশ ভালো লাগে।

১৪ সেপ্টেম্বরের প্রথম আলোর সম্পাদকীয় বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক বিষয়ে। বাংলাদেশ হঠাৎ ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষেপে গেছে। মনে হচ্ছে জোট সরকার নিজেদের সমস্যা থেকে জনগণের চোখ অন্যদিকে সরিয়ে দেয়ার একটা চেষ্টা করে দেখছে। আমাদের দেশের মানুষকে ভারত বিদ্বেষী করে তোলার ফল ভোগ করে এই দলগুলি। কিন্তু ভারতের তাতে কিছু যায় আসে কি? আর কিছুদিনের মধ্যেই ভারত হবে পৃথিবীর প্রথম সারির শক্তিশালী দেশগুলির একটি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশ এই ভারত। 

আমাদের দেশে প্রচুর ভালো ভালো মানুষ আছে। কিন্তু জানি না আমাদের ভালোর দরকার আছে কিনা। আনিসুল হক লিখেছেন ‘‘ আসুন আমরা একটা স্বপ্ন দেখি’’। ২০৩৪ সালের মধ্যে তিনি বাংলাদেশ উন্নত হয়ে যাবার স্বপ্ন দেখার কথা বলছেন। এটা অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু আমাদের কোন প্ল্যান আছে কি? যারা আমেরিকা যাবার স্বপ্নে ডিভি লটারির ফরম পূরন করে তাদেরও একটা পরিকল্পনা থাকে। অথচ আমাদের দেশের সরকারের সেরকম কোন প্ল্যান নেই। থাকলে এই তেত্রিশ বছর পরেও কোন উন্নতি নেই কেন দেশের? এখনকার অবস্থা কি স্বাধীনতার আগের চেয়ে ভালো? 

‘‘গ্রেনেড হামলার তদন্ত ভাবনা’’ নামে মুহাম্মদ ইহাহ্‌ইয়া আখতার লিখেছেন খোলা কলমে। চিটাগং ইউনিভার্সিটির এই প্রফেসর মনে হয় বি এন পি বা জামাত সাপোর্টার।

 এ সপ্তাহের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পড়া হলো সাপ্তাহিক ২০০০ এর গোলাম মোর্তোজার নেয়া আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সাক্ষাৎকার। এই মানুষটার স্বপ্ন দেখা আর স্বপ্নের পেছনের যুক্তি গুলি ভালো লাগে খুব।

‘‘পতাকা রাষ্ট্রের একটি প্রতীক মাত্র। রাষ্ট্রের পূর্ণ শক্তি পতাকার মধ্যে থাকে না। পতাকার শক্তি তখনই বাড়ে যখন রাষ্ট্রের শক্তি বাড়ে। ’’

‘‘আমাদের ছোটবেলাটা কেটেছে অত্যন্ত সুশীল, সুন্দর ভাবে। সুস্থ মূল্যবোধকে সংগে নিয়ে বড় হয়েছি। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে সেটা ব্রিটিশ আমলের পদানত জাতির মেরুদন্ডহীন মূল্যবোধ।’’

‘‘ভালো সময় বলে কোন সময় নেই। কোনো সময়ই সু-সময় নয়। প্রত্যেকটা সময়ের মধ্যেই অনেক শুন্যতা থাকে। অনেক নীচতা থাকে, পাপ থাকে। সে যুগের মানুষকে সেই পাপ এবং পচনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়।’’

‘‘ আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো সম্পূর্ণভাবে গণতন্ত্র বর্জিত। ঐ রাজনীতির মধ্যে যাওয়া যে কোন মানুষের পক্ষে কঠিন। বিবেকের কথা, মনুষ্যত্বের কথা, আদর্শের কথা বলা সেখানে সম্ভব নয়। হয় সেই দলের কর্তৃপক্ষের দাসত্ব করতে হবে, না হলে ফিরে আসতে হবে।’’

‘‘আমাদের অবস্থা অনেকটা হবুচন্দ্র রাজা আর গবুচন্দ্র মন্ত্রীর মতো। হবুচন্দ্র রাজার কাজই ছিলো প্রতিদিন সকালে উঠে একটি করে সমস্যা সৃষ্টি করা। আর সারা জাতির কাজ ছিলো সেই সমস্যার সমাধান করা, আর তার পায়ে ধরে কান্নাকাটি করে বলা, আমাদের মেরে ফেল।’’

‘‘আমি একটি বিরাট দালান বানিয়ে ফেলতে পারি হঠাৎ লটারিতে টাকা পেয়ে। একটা প্রাসাদ বানাতে পারি। কিন্তু সেখানে থাকার জন্য যে হূদয় দরকার সেই হূদয়টা পাওয়া তো মুশকিল। আমরা একটা রাষ্ট্র পেয়ে গেছি, সরকার পেয়েছি, জাতি পেয়েছি। কিন্তু সেই সরকারের যোগ্য হতে হবে তো আমাদের।’’

‘‘বাঙালি প্রতিভাবান মানুষরা একেবারে ধর্ম চিন্তার বিরুদ্ধে গিয়ে তাদের সমস্ত কাজ করছে। রাজা রামমোহন রায় ছিলেন ধর্ম চিন্তার বিরুদ্ধে। বিদ্যাসাগর ছিলেন সনাতন হিন্দু চিন্তার বিরুদ্ধে। মাইকেল তো ধর্মই ত্যাগ করলেন।’’

‘‘আমার কোন হতাশা নেই। হতাশ হওয়ার শক্তিই নেই। আমি হতাশ হতে রাজি নই এই জন্য যে হতাশ হওয়া অলাভজনক। আশা লাভজনক। এই যে আমরা সভ্যতার নীচে বসে আছি এর এক ইঞ্চিও হতাশা দিয়ে তৈরি নয়। ’’

আবদুললাহ আবু সায়ীদের এই কথাগুলি থেকেই অনেক আশায় বুক বাঁধা যায়।

সাপ্তাহিক ২০০০ এর আরেকটা সংখ্যার প্রচ্ছদ কাহিনী তদন্ত তদন্ত খেলা।

মাসুদা ভাট্টির একটা গল্প পড়লাম যুগান্তরের সাহিত্য সাময়িকীতে। ‘‘স্বপ্ন রবীন্দ্রনাথ ম্যাগনোলিয়া’’। মাসুদা ভাট্টি গল্পের পরীক্ষানিরীক্ষা করছেন মনে হচ্ছে। এই শিল্পীদের চোখে নারী শরীর আর মদ ছাড়া যেন গল্পই হয় না।

আবদুল গাফফার চৌধুরির লেখা থেকে জানা গেলো যুগান্তরের সম্পাদক হচ্ছেন এ বি এম মুসা।

ভোরের কাগজে রণজিত বিশ্বাসের রম্য রচনা ভালো লাগে। এবার লিখেছেন একটি শয়তান অন্যটি শয়তানের ডিম।

ভোরের কাগজে হিলাল ফয়েজির কলাম ভালো লাগে। ট্রানস্পারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বিষয়ে লিখেছেন তার স্বচ্ছতা চাই। ২০০১ সালে নির্বাচনের ঠিক আগেই বাংলাদেশকে বিশ্বের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ বলে রিপোর্ট প্রকাশ দিয়েই শুরু

হিলাল ফয়েজি আরেকটি লেখায় লিখেছেন শফিক রেহমানের ডেমোক্রেসি ওয়াচ বিষয়ে। শফিক রেহমান সুবিধাবাদী মানুষ। আদর্শ বলতে কিছু তাঁর আর অবশিষ্ট আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু টিকে থাকতে কোন অসুবিধাই হবে না এদের।

---------------

কলম্বাস, ওহাইও

No comments:

Post a Comment

Latest Post

পাঠকের দিনলিপি ৬-অক্টোবর-২০০৪

  অক্টোবর ৬, ২০০৪। বুধবার আজ বাংলাদেশের আগামীকালের সংবাদপত্রগুলি পড়লাম। বাংলাদেশের যখন রাত দুইটা তখন পেপারগুলির ইন্টারনেট সংস্করণ তৈরি হয়ে...

Popular Posts