০৭০১২০০৫
আবদুললাহ আবু সায়ীদের ‘‘ভালোবাসার সাম্পান’’ শেষ করলাম। কয়েকদিন একনাগাড়ে না হলেও নিয়মিত পড়েছি বইটা। ভালো লাগলো পঞ্চাশ ষাট আর সত্তর দশকের কবি সাহিত্যিকদের কথা। আবদুললাহ আবু সায়ীদ, আবদুল মান্নান সৈয়দ, মোহাম্মদ রফিক, নির্মলেন্দু গুণ, শহীদ কাদরী এঁদের কথা পড়ে বেশ লাগলো। কণ্ঠস্বর পত্রিকার কথাই এই বইয়ের বেশির ভাগ পৃষ্ঠা জুড়ে। বাংলাদেশের সাহিত্যে এঁদের অবদান অনেক। ভালো লেগেছে আবদুললাহ আবু সায়ীদের স্মৃতিচারণ মূলক এ বই।
এটাই আমার পড়া আবদুললাহ আবু সায়ীদের প্রথম বই।মঞ্জু সরকারের গল্প ‘‘নরকবাস’’। বানভাসী মানুষের সর্বনাশের সুযোগে সমাজের সুযোগপ্রাপ্ত মানুষেরা যে তাদের ঘরের অন্দর মহলেও হাত বাড়ায় তার গল্প। অসহায় মানুষগুলোর জন্য খারাপ লাগে।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ ‘‘তিন বাঙালির নেতৃত্ব’’। শেরে বাংলা, ভাসানী আর শেখ মুজিবের তুলনামূলক বিচার করে এ লেখা। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লেখা ব্যালেন্সড - যার মাঝে মাঝে অর্থ দাঁড়ায় সাবধানী - মোদ্দা কথায় রেখে ঢেকে কথা বলার মানুষ তিনি। ভলতেয়ার যেমন বলেছেন ‘আমরা শব্দ সৃষ্টি করি অপরাধ ঢাকবার জন্য’। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লেখাতেও মাঝে মাঝে পান্ডিত্যের চাপে হারিয়ে যায় মূল বক্তব্য।
জনকণ্ঠে আবদুল গাফফার চৌধুরী লিখেছেন শেখ হাসিনার সাথে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর
দেখা করার কথা। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী শেখ হাসিনার বাসায় গিয়েছিলেন ছেলের বিয়ের নিমন্ত্রণ
করতে। শেখ হাসিনা দেখা করেছেন ভদ্রতার খাতিরে। এটাই জোর দিয়ে বলেছেন আবদুল গাফফার চৌধুরী।
ঠিক আছে। কিন্তু তারেক জিয়া সজীব ওয়াজেদ জয়কে একটা শুভেচ্ছা পত্র পাঠিয়েছিলেন, তা গ্রহণ
না করার পক্ষে কেন তিনি কথা বললেন আমি জানি না। শত্রুকে সৌজন্য দেখানো উচিত নয় - এরকম
কোন কথা কি কোথাও লেখা আছে? আমাদের দেশে সরকার আর বিরোধী দলের প্রধানের মধ্যে সম্পর্কটা
রাজনীতির চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিগত শত্রুতায় এসে দাঁড়িয়েছে। কেউ কারো মুখ দেখতে চান না।
একজন সংসদে ভাষণ দিতে উঠলে অন্যজন বেরিয়ে যান। আবার দলীয় বুদ্ধিজীবীরা যার যার পক্ষে
সাফাই গাইতে থাকেন।
কলম্বাস, ওহাইও

No comments:
Post a Comment