Tuesday 31 August 2021

ভাইরাস কীভাবে দেখা যায়

 


সারা পৃথিবীর মানুষ এখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে ভীত। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত এই এক বছর আট মাসের মধ্যে বিশ্বব্যাপী একুশ কোটি সতের লক্ষের বেশি মানুষ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হয়েছে। পঁয়তাল্লিশ লক্ষের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে করোনায়।[1] এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য কত ধরনের চেষ্টা করতে হচ্ছে - মানুষের দৈনন্দিন স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ করতে হচ্ছে, সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করতে হচ্ছে, শহর গ্রাম জনপদ লকডাউন করতে হচ্ছে। অনেক মানুষ এখনো বুঝতে পারছে না ভাইরাস আসলে কীভাবে সংক্রমিত হতে পারে। অনেকে এত মৃত্যুর পরেও সচেতন নন। খালি চোখে ভাইরাস দেখা গেলে এই সমস্যা হতো না। অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হচ্ছে বলেই এত সমস্যা হচ্ছে।

ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষের যুদ্ধ নতুন নয়। ১৮৮৯-৯০ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে প্রায় দশ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল।[2] ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছিল প্রায় ৫০ কোটি মানুষ, যার মধ্যে প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।[3] ১৯৫৬-৫৮ সালে চীনে আরেক ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রকোপ ঘটে। প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল সেই সময়।[4] ১৯৬৮ সালে হংকং-এ উদ্ভুত হয় আরেক ধরনের ফ্লু ভাইরাস। সেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ।[5] ১৯৭৬ সালে প্রথম বারের মত এইচ-আই-ভি এইডস ভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। পরবর্তী বছরগুলোতে এপর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কোটির বেশি মানুষ মারা গেছে এইডস-এ আক্রান্ত হয়ে।[6]

১৯৬৫ সালের দিকে প্রথম বারের মত করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। বর্তমানের নভেল করোনা ভাইরাসসহ সাত ধরনের হিউম্যান করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে - যা মানুষের শরীরে বিস্তারলাভ করে। এদের মধ্যে আছে মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা মার্স-করোনা ভাইরাস, সিভিয়ার একিউট রেসিপিরেটরি সিনড্রোম বা সার্স-করোনা ভাইরাস, এবং বর্তমান সার্স-করোনা ভাইরাস-২ বা SARS-CoV-2[7] এই ভাইরাসগুলোর আকৃতি অনেকটা মুকুটের মতো। মুকুটের গ্রিক প্রতিশব্দ হচ্ছে করোনা। সেখান থেকেই এদের নাম হয়েছে করোনা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই ভাইরাসগুলো কীভাবে দেখা যায়?

বিজ্ঞানীরা ভাইরাসের গঠন সংক্রান্ত গবেষণা শুরু করেছেন উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে। অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে তুলনামূলকভাবে বড় আকারের ভাইরাস দেখতে পাওয়া যায় -  যেমন গুটিবসন্তের ভাইরাস ভ্যারিওলা।[8]

কিন্তু যেসব ভাইরাসের আকার আরো ছোট - অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে সেগুলি দেখা যায় না। সেগুলো দেখার জন্য ব্যবহার করা হলো এক্স-রে। ১৮৯৫ সালে পদার্থবিজ্ঞানী রন্টগেন এক্স-রে আবিষ্কার করার পর পদার্থবিজ্ঞানের পাশাপাশি জীববিজ্ঞানেও অনেক নতুন পথ খুলে যায়। কোয়ান্টাম মেকানিক্স এবং বোরের পারমাণবিক তত্ত্ব কাজে লাগিয়ে ১৯১২ সালে পদার্থবিজ্ঞানী ম্যাক্স ফন লাউ আবিষ্কার করেন যে এক্স-রে'র তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কোন ক্রিস্টালের ভেতরের পরমাণুগুলোর মধ্যবর্তী দৈর্ঘ্যের সাথে তুলনীয়। অর্থাৎ কোন ক্রিস্টালে এক্স-রে প্রয়োগ করলে সেই এক্স-রে বিচ্ছুরিত হয়। শুরু হলো এক্স-রে ডিফ্রাকশান পদ্ধতি। এই আবিষ্কারের জন্য ১৯১৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান ম্যাক্স ফন লাউ।

পরের বছর এক্স-রে ডিফ্রাকশান ব্যবহার করে ক্রিস্টালের গঠন বিশ্লেষণ করার পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন অস্ট্রেলিয়ান পদার্থবিজ্ঞানী স্যার উইলিয়াম হেনরি ব্র্যাগ ও তাঁর ছেলে লরেন্স ব্র্যাগ। এই আবিষ্কারের জন্য ১৯১৫ সালের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন এই পিতা-পুত্র। এক্স-রের বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে ক্রিস্টালের গঠন বিশ্লেষণ করা যায় যে পদ্ধতিতে সেই পদ্ধতিতে জীববিজ্ঞানের অনেককিছুর গাঠনিক বিশ্লেষণ ও আকার-আকৃতি নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে।

১৯৩৪ সালে আইরিশ পদার্থবিজ্ঞানী জন বার্নেল এবং তাঁর ছাত্রী ডরোথি হজকিন মলিকিউলার বায়োলজিতে এক্স-রে ডিফ্রাকশান প্রয়োগ করে পেপসিনের গঠন বিশ্লেষণ করেন।

বার্নেল ও হজকিনের এক্স-রে ডিফ্রাকশান পদ্ধতি স্ট্রাকচারাল বায়োলজি-র বিকাশে বিশাল ভূমিকা রাখে। এক্স-রে ডিফ্রাকশান পদ্ধতিতে সরাসরি প্রোটিন বা অন্য কোন জৈব পদার্থের অভ্যন্তরীণ ছবি তোলা হয় না, কিন্তু জৈব পদার্থের আণবিক বিন্যাস থেকে বিচ্ছুরিত হয়ে আসা এক্স-রে সিগনালগুলোকে একত্রিত করে পুরো বিন্যাসটি পুনর্গঠন করা হয়। কম্পিউটার প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে এক্স-রে ডিফ্রাকশান পদ্ধতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। এই পদ্ধতিতে জৈব যৌগ বিশ্লেষণ খুব সহজ হয়ে গেছে।

১৯৩৩ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী আর্নস্ট রুশকা এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ম্যাক্স নল ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ উদ্ভাবন করেন। সাধারণ মাইক্রোস্কোপে আলোর মাধ্যমে বিবর্ধন ঘটানো হয়। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে আলোর কণা ফোটনের পরিবর্তে ইলেকট্রন ব্যবহার করা হয়। ইলেকট্রনও আলোর মত কণা এবং তরঙ্গ উভয় ধর্মই প্রদর্শন করে। ইলেকট্রনের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে প্রায় এক হাজার গুণ ছোট। তার মানে হলো স্বাভাবিক মাইক্রোস্কোপে যত ছোট বস্তু দেখা সম্ভব, ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে তার চেয়েও এক হাজার গুণ ছোট বস্তু দেখা সম্ভব।

ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ উদ্ভাবিত হবার পর থেকে জীববিজ্ঞানে অণুজীব, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ইত্যাদির গঠন নির্ণয় করা অনেকটাই সহজ হয়ে গেল। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপেরও অনেক উন্নতি হয়েছে।

ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপকে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা যায় - স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ ও ট্রান্সমিশান ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ। স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে পদার্থের উপর ইলেকট্রন প্রয়োগ করা হয়। ইলেকট্রন ও পদার্থের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ায় সেকেন্ডারি ইলেকট্রন নির্গত হয়। সেই সেকেন্ডারি ইলেকট্রন শনাক্ত করা হয় সংযুক্ত ডিটেক্টরে। সেই ইলেকট্রনগুলোর শক্তি বিশ্লেষণ করে পিক্সেল টু পিক্সেল ডাটা সংগ্রহ করা হয় এবং সেখান থেকে পদার্থের পুরো চিত্র পাওয়া যায়। অন্যদিকে ট্রান্সমিশান ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে ইলেকট্রনগুলো পদার্থের ভেতর দিয়ে ট্রান্সমিট করে গিয়ে ডিটেক্টরে পৌঁছায়। ট্রান্সমিশানের সময় তার শক্তির যে পরিবর্তন হয় - সেই তথ্য থেকে পিক্সেল টু পিক্সেল ডাটা তৈরি হয়ে পুরো ছবি পাওয়া যায়।

ট্রান্সমিশান ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের ক্ষমতা যতই ভালো হোক না কেন, সেখানে কিছুটা সমস্যা থেকে যায়। সমস্যা হলো ইলেকট্রনের শক্তি অনেক বেশি হওয়াতে পদার্থের ভেতর দিয়ে ইলেকট্রন যাওয়ার সময় রেডিয়েশানের কারণে পদার্থের সূক্ষ্ম গঠনের কিছু পরিবর্তন হয়ে যায়। 

এই পরিবর্তন রোধ করার জন্য ট্রান্সমিশান ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পদার্থ দেখার জন্য বিজ্ঞানীরা একটি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন - যার নাম ক্রায়োজেনিক ট্রান্সমিশান ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপি। এই পদ্ধতিতে যে নমুনার ছবি তোলা হবে সেই নমুনাকে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় (ক্রায়োজেনিক তাপমাত্রা) ঠান্ডা করা হয়। ফলে এর ভেতর দিয়ে ইলেকট্রন যাবার সময় রেডিয়েশানের ক্ষতি হয় না। এই পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য ২০১৭ সালে রসায়নে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন জার্মানির জীবপদার্থবিজ্ঞানী জ্যাকুস ডুবোশেট ও ইয়োকিম ফ্রাঙ্ক এবং স্কটিশ জীবপদার্থবিজ্ঞানী রিচার্ড হেনডারসন।

বর্তমান করোনা ভাইরাসের আকার ও আকৃতিও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে ক্রায়োজেনিক ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপির সাহায্যে।

ভাইরাসগুলোকে পূর্ণাঙগ জীব বলা যাবে না। অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়াও নয় তারা। ভাইরাস নিজে নিজে বেঁচে থাকতে পারে না। বেঁচে থাকার জন্য একটা পোষকশরীর লাগে তাদের। ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও অনেক ছোট আকারের হতে পারে ভাইরাস।

সবচেয়ে ছোট অণুজীবের সাইজ কত? জীব হতে হলে প্রাণ থাকতে হবে এবং সেই প্রাণের প্রাথমিক উপাদান হলো ডিএনএ, আর-এন-এ, এম-আর-এন-এ, রাইবোজোম এবং অন্যান্য সব প্রাণরাসায়নিক উপাদান। এই সবগুলো উপাদান কার্যকরভাবে থাকতে হবে এই অণুজীবের শরীরে। তাহলে এগুলো সব থাকার জন্য কমপক্ষে কতটুকু জায়গার দরকার? পরীক্ষা করে দেখা গেছে সবচেয়ে ছোট ব্যাকটেরিয়ার সাইজ ০.২ মাইক্রোমিটার। অর্থাৎ এক মিটারের পঞ্চাশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ। তার মানে ৫০ লক্ষ ব্যাকটেরিয়া পাশাপাশি রাখলে এক মিটার লম্বা হবে। কিন্তু এক বর্গ মিটার জায়গায় থাকতে পারবে ২৫ হাজার কোটি ব্যাকটেরিয়া। আর ভাইরাসের সাইজ এর চেয়েও এক হাজার গুণ ছোট। তার মানে এক বর্গ মিটার জায়গায় ২৫০০ কোটি কোটি ভাইরাস থাকতে পারবে। বোঝাই যাচ্ছে কী পরিমাণ অদৃশ্য শক্তির সাথে আমাদের যুদ্ধ করতে হচ্ছে।

গত জানুয়ারিতে করোনা ভাইরাসের জিনোম প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই জিনোম পরীক্ষা করে এমন কোন জিন খুঁজে পাননি - যেটা তার কাঠামো রক্ষার দায়িত্ব পালন করে। যদি এরকম কিছু পাওয়া যেতো তাহলে এই ভাইরাস ধ্বংস করারও একটা পদ্ধতি হাতে আসতো। এখন পরীক্ষাগারে প্রাণিকোষের উপর এই ভাইরাসের সংযোগ ঘটিয়ে পরীক্ষা করে দেখছেন কীভাবে প্রাণিকোষের প্রোটিন ভাইরাস পার্টিক্যালে পরিণত হয়।

করোনা ভাইরাস কি তাপমাত্রার উঠানামার সাথে কার্যকরিতা হারায়, কিংবা অধিক সক্রিয় হয়? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর আমরা জানি না। পদার্থবিজ্ঞানীরা এই ভাইরাসের উপর তাপমাত্রার প্রভাব পরীক্ষা করে দেখতে শুরু করেছেন। এই পরীক্ষা করার জন্য ভাইরাসের মডেল তৈরি করা হচ্ছে গবেষণাগারে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস যেভাবে ছড়ায় সেভাবেই ছড়ায় করোনা ভাইরাস। তাপমাত্রার প্রভাবে ভাইরাসের গঠন যদি বদলে যায় তাহলে এর কার্যকারিতা কমে যাবে। এখন হাঁচি কাশির সাথে যে তরল ড্রপ্লেট বের হয় সেটাই গাঠনিক আকার। বিভিন্ন তাপে তা কীভাবে পরিবর্তিত হয় তাই দেখতে চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।

এই ভাইরাস প্রতিরোধের টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে। এখন টিকা দেয়া হচ্ছে। এপর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৫২৬ কোটির বেশি টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে।[9] বিশ্ব হয়তো কখনোই করোনামুক্ত হবে না, কিন্তু করোনা প্রতিরোধে সক্ষম হবে পৃথিবীর মানুষ।

 



[1] COVID-19 Dashboard by the centre for Systems Science and Engineering (CSSE) at Johns Hopkins University (JHU). Cited 31/8/2021.

[2] Kempińska-Mirosławska, B., & Woźniak-Kosek, A. (2013). The influenza epidemic of 1889-90 in selected European cities--a picture based on the reports of two Poznań daily newspapers from the second half of the nineteenth century. Medical science monitor : international medical journal of experimental and clinical research19, 1131–1141. https://doi.org/10.12659/MSM.889469

[3] Centers for Disease Control and Prevention, https://www.cdc.gov/flu/pandemic-resources/1918-pandemic-h1n1.html, cited on 31/8/2021

[4] Centers for Disease Control and Prevention, https://www.cdc.gov/flu/pandemic-resources/1957-1958-pandemic.html, cited on 31/8/2021.

[5] Centers for Disease Control and Prevention, https://www.cdc.gov/flu/pandemic-resources/1968-pandemic.html, cited on 31/8/2021.

[6] Global HIV & AIDS statistics – Fact Sheet, UNAIDS, https://www.unaids.org/en/resources/fact-sheet, cited on 31/8/2021.

[7] Origins of the SARS-CoV-2 virus, World Health Organization, https://www.who.int/health-topics/coronavirus/origins-of-the-virus, cited 31/8/2021.

[8] Institute of Medicine (US) Committee on the Assessment of Future Scientific Needs for Live Variola Virus. Assessment of Future Scientific Needs for Live Variola Virus. Washington (DC): National Academies Press (US); 1999. 2, Variola Virus and Other Orthopoxviruses. Available from: https://www.ncbi.nlm.nih.gov/books/NBK230917/ cited on 31/8/2021

[9] COVID-19 Dashboard by the centre for Systems Science and Engineering (CSSE) at Johns Hopkins University (JHU). Cited 31/8/2021.


Monday 30 August 2021

রাদারফোর্ডের জীবনকাল

 



আর্নেস্ট রাদারফোর্ডকে বলা যায় পরীক্ষণ পদার্থবিজ্ঞানের রাজা। বেতারতরঙ্গ সম্প্রচার ও সংগ্রহের একদম প্রথমদিকের গবেষণা শুরু হয়েছিল যাদের হাত দিয়ে রাদারফোর্ড তাদেরই একজন। হেনরিখ হার্টজ বেতার তরঙ্গ গবেষণার প্রথম গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিলেন ১৮৮৭ সালে। রাদারফোর্ড বেতারতরঙ্গ প্রেরক (ট্রান্সমিটার) এবং গ্রাহকযন্ত্র (রিসিভার) উদ্ভাবন করেছিলেন ১৮৯৩ সালে। ১৮৯৫ সালে এক্স-রে আবিষ্কৃত হবার পর তিনি তেজস্ক্রিয় বিকিরণের গবেষণায় মনোযোগী হন। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ইলেকট্রন আবিষ্কারে। রাদারফোর্ড আবিষ্কার করেন আলফা, বিটা এবং গামা রেডিয়েশান। পরমাণুর প্রোটন এবং নিউক্লিয়াস রাদারফোর্ডেরই আবিষ্কার। পরমাণুর নিউট্রনও আবিষ্কৃত হয় তাঁর তত্ত্বাবধানে তাঁর ছাত্র চ্যাডউইকের হাতে। আপাদমস্তক পদার্থবিজ্ঞানী রাদারফোর্ড তাঁর আলফা ও বিটা বিকিরণের গবেষণার জন্য নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন রসায়নে। তিনি মনে করতেন রসায়নে তাঁর দক্ষতা খুব বেশি নেই। তাই রসায়নে নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার পর তিনি নিজে খুব অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। নিলস বোরের পরমাণুর কোয়ান্টাম মডেল আবিষ্কৃত হয়েছে রাদারফোর্ডের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। পরবর্তীতে রাদারফোর্ডের ছাত্রদের মধ্যে ১১ জন পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন।

রাদারফোর্ডের জীবনের কিছু মাইলফলক নিচে তালিকাবদ্ধ করা হলো:

  • ·       ১৮৭১  ৩০ আগস্ট:  নিউজিল্যান্ডের নেলসন রাজ্যের স্প্রিং গ্রোভে (বর্তমানে ব্রাইটওয়াটার) রাদারফোর্ডের জন্ম।
  • ·       ১৮৭৭: তাদের পরিবার স্প্রিং গ্রোভ থেকে ফক্সহিল সাবার্বে চলে যায়।
  • ·       ১৮৭৭ – ১৮৮৩: ফক্সহিল প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া।
  • ·       ১৮৮৩: আবার বাসস্থান পরিবর্তন। মার্লবরো সাউন্ডস-এর হেভলকে চলে যান তাঁরা।
  • ·       ১৮৮৩ – ১৮৮৬: হেভলক স্কুলে লেখাপড়া।
  • ·       ১৮৮৩: ছোটভাই পারসি হুপিং কাশিতে মারা যায়।
  • ·       ১৮৮৬:  বড় দুইভাই হারবার্ট ও চার্লস মার্লবরো সাউন্ডস-এর পানিতে ডুবে মারা যায়।
  • ·       ১৮৮৭: মার্লবরো স্কলারশিপ নিয়ে নেলসন কলেজে ভর্তি হলেন।
  • ·       ১৮৮৭ – ১৮৮৯: নেলসন কলেজে পড়াশোনা।
  • ·       ১৮৮৯: ইউনিভার্সিটি অব নিউজিল্যান্ডের জুনিয়র স্কলারশিপ অর্জন।
  • ·       ১৮৯০ – ১৮৯৪: ইউনিভার্সিটি অব নিউজিল্যান্ডের কেন্টারবারি কলেজে লেখাপড়া।
  • ·       ১৮৯২: ফিলোসফিক্যাল ইন্সটিটিউট অব কেন্টারবারি-তে যোগদান। (বর্তমানে রয়েল সোসাইটি অব নিউজিল্যান্ডের কেন্টারবারি শাখা)।
  • ·       ১৮৯২: বিএ ডিগ্রি অর্জন।
  • ·       ১৮৯৩: প্রথম মৌলিক গবেষণা। উচ্চকম্পাঙ্কে লোহার চৌম্বকীকরণসংক্রান্ত পরীক্ষা। সেকেন্ডের এক লক্ষ ভাগের এক ভাগ সময়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক সার্কিটের সুইচ অন করার একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন তিনি।
  • ·       ১৮৯৩: এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ডাবল ফার্স্ট ক্লাস অনার্স লাভ করেন তিনি – গণিত ও গাণিতিক পদার্থবিজ্ঞানে এবং ভৌতবিজ্ঞানে।
  • ·       ১৮৯৪: রসায়ন ও ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন। উচ্চকম্পাঙ্কের তড়িৎচুম্বক তরঙ্গের পরীক্ষার আরো সম্প্রসারণ। একটি ম্যাগনেটিক ডিটেক্টর উদ্ভাবন করেন যা দিয়ে খুবই স্বল্প মাত্রার বিদ্যুৎ-ও শনাক্ত করা যায়।
  • ·       ১৮৯৪: প্রথম গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়।
  • ·       ১৮৯৫: ‘এক্সিবিশান স্কলারশিপ ১৮৫১’ অর্জন করেন। এই স্কলারশিপ নিয়ে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
  • ·       ১৮৯৫ – ১৮৯৮: কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাভেন্ডিশ ল্যাবরেটরিতে গবেষণা।
  • ·       ১৮৯৫: উচ্চকম্পাঙ্কে পদার্থের ডায়ইলেকট্রিক ধর্মাবলী পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ করেন। কম্পাঙ্ক মাপার জন্য নিজের উদ্ভাবিত ডিটেক্টর ব্যবহার করেন।
  • ·       ১৮৯৬: জানুয়ারি মাসে রন্টগেন এক্স-রে আবিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ফেব্রুয়ারি মাসে রাদারফোর্ড তাঁর উদ্ভাবিত ডিটেক্টর দিয়ে তখনো পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে দূর থেকে বেতারতরঙ্গ শনাক্ত করতে সক্ষম হন। মার্চ মাসে হেনরি বেকোয়ারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। এপ্রিল মাসে স্যার জে জে থমসন গ্যাসের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ-প্রবাহ চালনা করার পরীক্ষণে যোগ দেয়ার জন্য রাদারফোর্ডকে আহ্বান করেন।
  • ·       ১৮৯৭: জে জে থমসন ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন।
  • ·       ১৮৯৮: রাদারফোর্ড আলফা ও বিটা তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
  • ·       ১৮৯৮ – ১৯০৭: রাদারফোর্ড কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা ও গবেষণা করেন।
  • ·       ১৮৯৯: তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ফলে তেজস্ক্রিয় মৌলের যে ভৌত পরিবর্তন হয় তা আবিষ্কার করেন রাদারফোর্ড।
  • ·       ১৮৯৯: একটি তেজস্ক্রিয় গ্যাস আবিষ্কার করেন রাদারফোর্ড। পরবর্তীতে এই গ্যাসের নাম রাখা হয় র‍্যাডন।
  • ·       ১৯০০: ক্রাইস্টচার্চের মেরি জর্জিনা নিউটনের সাথে বিয়ে হয় আর্নেস্ট রাদারফোর্ডের।
  • ·       ১৯০০: রয়েল সোসাইটি অব কানাডার ফেলোশিপ অর্জন।
  • ·       ১৯০১: ইউনিভার্সিটি অব নিউজিল্যান্ড থেকে ডিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
  • ·       ১৯০১: কন্যা এইলিনের জন্ম।
  • ·       ১৯০২: তেজস্ক্রিয়তার ফলে পরমাণুর স্তরে কী ধরনের পরিবর্তন হয় তা আবিষ্কার করেন।
  • ·       ১৯০৩: রয়েল সোসাইটি অব লন্ডনের ফেলোশিপ অর্জন।
  • ·       ১৯০৪: রামফোর্ড মেডেল অর্জন।
  • ·       ১৯০৫: তেজস্ক্রিয়তার সূত্র প্রয়োগ করে ভুতত্ত্ববিদ ও পদার্থবিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে পৃথিবীর বয়স হিসেব করেন।
  • ·       ১৯০৭ – ১৯১৯: ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা ও গবেষণা।
  • ·       ১৯০৮: রাদারফোর্ড-গেইগার ডিটেক্টর আবিষ্কার করেন।
  • ·       ১৯০৮: রসায়নে নোবেল পুরষ্কার অর্জন করেন।
  • ·       ১৯১০: প্রথম গাড়ি কেনেন।
  • ·       ১৯১০: বোন অ্যালিসের মৃত্যু।
  • ·       ১৯১১: পরমাণুর রাদারফোর্ড মডেল আবিষ্কার করেন।
  • ·       ১৯১৪: ব্রিটিশরাজের নাইটহুড অর্জন করেন।
  • ·       ১৯১৪ – ১৯১৮: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
  • ·       ১৯১৫ – ১৯১৭: সাবমেরিন শনাক্তকরণে অ্যাকস্টিক মেথড প্রয়োগ করেন।
  • ·       ১৯১৬: রাদারফোর্ড ও উইলিয়াম ব্র্যাগ সাবমেরিনের শব্দ শনাক্ত করার যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের প্যাটেন্ট লাভ করেন।
  • ·       ১৯১৭: সাবমেরিন প্রতিরোধক কৌশল আমেরিকানদের কাছে ব্যাখ্যা করার জন্য প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন রাদারফোর্ড।
  • ·       ১৯১৭: নাইট্রোজেনকে হাইড্রোজেনে রূপান্তরের পদ্ধতি আবিষ্কার করে পৃথিবীর প্রথম সফল আলকেমিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
  • ·        ১৯১৯ – ১৯৩৭: ক্যাভেন্ডিশ ল্যাবের পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।
  • ·       ১৯১৯: নিউজিল্যান্ড ইন্সটিটিউটের প্রথম ফেলোশিপ অর্জন করেন। [এই ইন্সটিটিউট পরবর্তীতে রয়েল সোসাইটি অব নিউজিল্যান্ডে রূপান্তরিত হয়।]
  • ·       ১৯২০: নিউট্রনের অস্তিত্বের পূর্বাভাস দেন।
  • ·       ১৯২২: রাশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সের করেস্পন্ডিং মেম্বার মনোনীত হন।
  • ·       ১৯২৫: রাশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সের সম্মানিত সদস্য মনোনীত হন।
  • ·       ১৯২৫ – ১৯৩০: রয়েল সোসাইটি অব লন্ডনের প্রেসিডেন্ট।
  • ·       ১৯২৫: ব্রিটিশ সরকারের অর্ডার অব মেরিট অর্জন করেন।
  • ·       ১৯২৮: রাদারফোর্ডের বাবার মৃত্যু।
  • ·       ১৯২৯ – ১৯৩৭:  ডিপার্টমেন্ট অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ এর এডভাইজরি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।
  • ·       ১৯৩০: কন্যা এইলিনের মৃত্যু।
  • ·       ১৯৩১: লর্ড রাদারফোর্ড অব নেলসন – নিউজিল্যান্ড সরকারের খেতাব অর্জন।
  • ·       ১৯৩১ – ১৯৩৩: ইন্সটিটিউট অব ফিজিক্সের প্রেসিডেন্ট।
  • ·       ১৯৩২: রাদারফোর্ডের ছাত্র জেমস চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
  • ·       ১৯৩৩ – ১৯৩৭: অ্যাকাডেমিক অ্যাসিস্ট্যান্স কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট।
  • ·       ১৯৩৪: রাদারফোর্ড এবং তাঁর ছাত্র ওলিফ্যান্ট ট্রিটিয়াম ও হিলিয়াম আবিষ্কার করেন।
  • ·       ১৯৩৫: রাদারফোর্ডের মায়ের মৃত্যু।
  • ·       ১৯৩৭: ১৯ অক্টোবর রাদারফোর্ডের মৃত্যু। ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবিতে নিউটন ও লর্ড কেলভিনের সমাধির পাশেই সমাধিস্থ করা হয় রাদারফোর্ডকে। 


Sunday 29 August 2021

সংবাদ পাঠপ্রতিক্রিয়া - ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৪

 


আমি তখন ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পোস্টডক করছিলাম। আমেরিকার জীবন খুব একটা ভালো লাগছিলো না। বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলি তখন সবেমাত্র অনলাইনে আসা শুরু করেছে। সেগুলিই খুটিয়ে খুটিয়ে পড়তাম দেশের খবর জানার জন্য। মাতৃভূমির বাইরে অন্য যে কোন দেশেই যাই না কেন, থাকি না কেন - দেশ থেকে খুব বেশি দূরে যাবার উপায় থাকে না। সেই সময়ের প্রতিক্রিয়াগুলি খুঁজে পেলাম অনেকদিন পর। 

৩ সেপ্টেম্বর ২০০৪

গত সপ্তাহে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সভায় গ্রেনেড হামলা হয়েছে। এ নিয়ে বেশ রাজনীতি হচ্ছে এখন বাংলাদেশে। সংবাদপত্র পড়লাম। গতকালের প্রথম আলো পড়লাম। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এখন তদন্তে গেছে বাংলাদেশে। 

১৯৯৫ সালের ২৩ আগস্ট দিনাজপুরের কোতোয়ালি থানার গোলাপবাগ রামনগর গ্রামের এমাজউদ্দিনের কিশোরী কন্যা ইয়াসমিন আক্তার ঢাকা থেকে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাবার সময় দিনাজপুরের দশমাইল নামক স্থানে বাস থেকে নামার পরে পুলিশের এএসআই মইনুল হক, কনস্টেবল আবদুস সাত্তার ও ভ্যানচালক অমৃতলাল বর্মন এগিয়ে আসে। বাড়িতে পৌঁছে দেবে বলে গাড়িতে তোলে ইয়াসমিনকে। তিনজনে মিলে তাকে ধর্ষণ করার পর খুন করে। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট তারিখে এই তিনজনের ফাঁসির আদেশ হয়। গত পরশু এই তিনজনের মধ্যে দুইজনের ফাঁসি হয়ে গেছে। অমৃতলাল এখনো বেঁচে আছে। সে নাকি প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমার আবেদন করেছে। 

আমাদের দেশের খবরগুলি একজন সুস্থ মানুষকে পড়তে দিলে সে অসুস্থ হয়ে যাবে। আমরা হজম করছি কীভাবে? অনেক সময় দেখা যায় খাবার খেতে খেতেও পড়ছি এইসমস্ত খবর। খাদ্যের স্বাদও বদলে যাচ্ছে না। আমরা কি সুস্থ আছি? জীবাণুর আক্রমণ রেগুলার হতে হতে আমাদের সহ্যশক্তি বেড়ে গেছে। এই সহনশীল মানুষ কারা? আমরা যারা ভদ্রলোক নামক কিছু ক্লীব আছি - যারা ভালো ভালো কথা বলতে চেষ্টা করি, কিন্তু সমস্ত অন্যায় সহ্য করি। আমাদের এরকম সহনশীলতার কোন দরকার ছিল কি? 

প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠার আরেকটি ছোট খবর এরকম: জাহাঙ্গীর নগর ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের জঙ্গলে এক গৃহবধূকে দেলোয়ার হোসেন ও লিটন মিয়া নামে দুইজন পুরুষ ধর্ষণ করার পর স্পাইনাল কর্ড কেটে দেয়, পায়ের রগ কেটে দেয়, গলা কেটে দেয়। গৃহবধূটি মরে না গিয়ে শরীরে পচন নিয়েও অপেক্ষা করেছে সাহায্যের। পুলিশ এসেছে। কারা ধর্ষণ করেছে জানা গেছে। কিন্তু তাদের কিছু হয়নি এখনো। ঐ পুরুষেরা তাদের পুরুষ শরীর নিয়ে পুরুষত্ব জাহির করে চলেছে। আমি নিজেও পুরুষ। আমার কিন্তু একটুও লজ্জা হচ্ছে না এজন্য। আমি কি সুস্থ আছি?

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া গ্রামে বখাটে যুবকদের অত্যাচারে স্কুলশিক্ষিকা সেলিনা আক্তার আত্মহত্যা করেছেন। বখাটেরা আনন্দে আছে। তাদের পুরুষত্বের অস্ত্রে শান দিচ্ছে অন্য কোন সেলিনাকে টার্গেট করার জন্য। হোক না শিক্ষিকা, হোক না মন্ত্রী, মেয়ে তো! আমাদের দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দুই পার্টির দুই প্রধান হলেন মহিলা, নারী। তারপরও আমাদের দেশে নারীর উপর এত অত্যাচার কেন? 

সেলিনার আত্মহত্যা বিষয়ে সম্পাদকীয় লিখেছে প্রথম আলো। এরকম ঘটনায় প্রথম আলোতে আমিও একবার চিঠি লিখেছিলাম। এখন আর লিখি না। কারণ? কারণ মনে হচ্ছে আমি নিজেকে জাহির করার জন্যই লিখেছিলাম। কোন সামাজিক পরিবর্তনের আশায় নয়। কারণ পত্রিকায় চিঠি লিখে সামাজিক পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হলে সমাজ কত আগেই সোজা হয়ে যেতো। 

আমি নিজেও কত কিছু মেনে নিতে বাধ্য হই। আমার যে কোন ক্ষমতা নেই তা আমি জানি। সেলিনার উপর আমার রাগ হচ্ছে। রাগ হচ্ছে সিমির উপরও। রাগ আছে রহিমার উপরও। কারণ - মরেই যাবে সিদ্ধান্ত যখন নিয়েছো, মেরেও তো মরতে পারতে। তাতে অন্তত কিছু কুকুর তো কমতো। সরি, কুকুর বলা ঠিক হয়নি। কুকুরের সম্মান তাদের প্রাপ্য নয়। কুকুররা টিজ করে না। কুকুরের সাধ্য নেই কোন কুকুরিকে ধর্ষণ করার। পারস্পরিক সম্মতিতেই পশুদের শারীরিক সম্পর্ক হয় বলে আমার ধারণা। 


 


Saturday 28 August 2021

সি-টি স্ক্যানিং-এর উদ্ভাবক গডফ্রে হাউন্সফিল্ড

 



বিংশ শতাব্দীর পদার্থবিজ্ঞানের যে উদ্ভাবনগুলি রোগনির্ণয় ও চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে কম্পিউটেড টমোগ্রাফি বা সি-টি (Computed Tomography) তাদের অন্যতম। ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে ব্রিটিশ ইন্সটিটিউট অব রেডিওলজির বার্ষিক সম্মেলনে ব্রিটিশ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার গডফ্রে হাউন্সফিল্ড সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতিতে ত্রিমাত্রিক এক্স-রে ইমেজ তৈরি করার প্রক্রিয়া উদ্ভাবনের ঘোষণা দেন। তিনি তাঁর উদ্ভাবিত পদ্ধতির নাম দিয়েছিলেন ‘কম্পিউটারাইজড অ্যাক্সিয়েল ট্রান্সভার্স স্ক্যানিং’ বা ক্যাট (CAT) স্ক্যানিং। সিটি স্ক্যানিং আবিষ্কারের জন্য ১৯৭৯ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন গডফ্রে হাউন্সফিল্ড। আফ্রিকান আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী অ্যালান কোরম্যাকও এই আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন হাউন্সফিল্ডের সাথে।

ইংল্যান্ডের নটিংহামশায়ারের নিউআর্কে ১৯১৯ সালের ২৮ আগস্ট গডফ্রে হাউন্সফিল্ডের জন্ম। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তাঁর বাবা একটি ফার্ম কেনেন যেখানে পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট গডফ্রে’র শৈশব কাটে প্রাকৃতিক মুক্ত পরিবেশে। সবার ছোট হওয়াতে অনেকটাই স্বাধীনতা পেয়েছিলেন নিজের খেয়ালে যা খুশি করার। 

শৈশব থেকেই যন্ত্রপাতির প্রতি ভীষণ আগ্রহ জন্মে গডফ্রের। ফার্মে চাষবাসের জন্য অনেক রকমের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ছিল। একেবারে গ্রামীণ পরিবেশে বড় হওয়ার কারণে শহুরে বিনোদনের ছিঁটেফোঁটাও সেখানে ছিল না। ফলে হাতে সময় ছিল প্রচুর। সেই সময়টা গডফ্রে কাজে লাগাতেন নানারকমের যন্ত্রপাতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। এজন্য একটা ল্যাবও তৈরি করে নিয়েছিলেন তিনি। গ্রামের স্কুলেই পড়াশোনা তাঁর। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে নিউআর্ক ম্যাগনাস গ্রামার স্কুলে পড়ার সময় তিনি  বৈদ্যুতিক রেকর্ড প্লেয়ার তৈরি করেন ফার্মে তার নিজের ল্যাবরেটরিতে বসে। 

স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে লন্ডনের গিল্ডস কলেজে ভর্তি হলেন রেডিও কমিউনিকেশান নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে গডফ্রে রয়েল এয়ারফোর্সে যোগ দেন। ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত তিনি এয়ারফোর্সে কাজ করতে করতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা করেন। ক্রেনওয়েল রাডার স্কুলে রাডার মেকানিক্স শিখেন তিনি। এরপর সেই স্কুলেই পড়ান কিছুদিন। ১৯৪৫ সালে তাঁকে রয়েল এয়ারফোর্সের সার্টিফিকেট অব মেরিট দেয়া হয়। ১৯৪৬ সালে যুদ্ধশেষে তিনি এয়ারফোর্স ছেড়ে দেন। 

এরপর তিনি ভর্তি হন লন্ডনের ফ্যারাডে হাউজ ইলেকট্রক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। ১৯৫১ সালে তিনি ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। 

পাস করার সাথে সাথেই হাউন্সফেল্ড ইংল্যান্ডের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড মিউজিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (ই-এম-আই গ্রুপ) গ্রুপে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেন। এই এক কোম্পানিতেই তিনি তাঁর কর্মজীবন শেষ করেন। ১৯৭২ সালে তিনি কোম্পানির মেডিক্যাল সিস্টেম ডিভিশানের হেড হন, ১৯৭৬ সালে চিফ স্টাফ সায়েন্টিস্ট, ১৯৭৭ সালে কোম্পানির সেন্ট্রাল রিসার্চ ল্যাবরেটরির সিনিয়র স্টাফ সায়েন্টিস্ট নিযুক্ত হন। ১৯৮৬ থেকে ২০০৪-এ মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি কোম্পানির পরামর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 




ইএমআই ল্যাবে হাউন্সফিল্ড প্রথমে কাজ করেন রাডার সিস্টেম নিয়ে। এরপর কাজ শুরু করেন কম্পিউটার ডিজাইন নিয়ে। সেই ১৯৫০ এর দশকে কম্পিউটার প্রযুক্তি মাত্র শুরু হচ্ছিলো। হাউন্সফিল্ডের নেতৃত্বে সেই ১৯৫৮ সালে ইংল্যান্ডের প্রথম ট্রানজিস্টর কম্পিউটার EMIDEC 1100 তৈরি হয়। কম্পিউটার ডাটা স্টোরেজ সিস্টেমের উপর প্রচুর গবেষণা করেন হাউন্সফিল্ড। 

১৯৬৭ সালে কম্পিউটারের অটোম্যাটিক প্যাটার্ন রিকগনিশান সংক্রান্ত গবেষণা করার সময় সর্বপ্রথম কম্পিউটেড টমোগ্রাফির প্রথম ধারণা আসে তাঁর মনে। কম্পিউটার আঁকা ছবির বিভিন্ন দিক যদি শনাক্ত করতে পারে, তাহলে এক্স-রের মাধ্যমে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যের গতিপথও শনাক্ত করতে পারবে। সেই ধারণা থেকেই কাজ শুরু করেন তিনি। 

তাঁর আগেও অনেকে এরকম কিছু কাজ করেছিলেন। হাউন্সফিল্ডের উদ্ভাবনের পঞ্চাশ বছরেরও বেশি আগে ১৯১৭ সালে অস্ট্রিয়ান গণিতবিদ ইয়োহান র‍্যাডন (Johann Radon) প্রমাণ করেন যে দ্বিমাত্রিক বা ত্রিমাত্রিক কোন বস্তুর অসীম সংখ্যক প্রজেকশান (বা ফালি) থেকে গাণিতিকভাবে বস্তুটিকে পুনর্নির্মাণ (reconstruction) করা যায়। 

পদার্থবিজ্ঞানীদের অনেকেই নিজের নিজের ক্ষেত্রে এই পুনর্নির্মাণের প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন বছরের পর বছর। অস্ট্রেলিয়ান পদার্থবিজ্ঞানী রোনাল্ড ব্রেসওয়েল বেতার-জ্যোতির্বিজ্ঞানে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে ১৯৫৬ সালে একটি সৌরম্যাপ তৈরি করেছিলেন। আমেরিকান নিউরোলজিস্ট উইলিয়াম হেনরি ওলডেনডর্ফ ১৯৬১ সালে নরম টিস্যুর ত্রিমাত্রিক ইমেজিং-এর মডেল তৈরি করেছিলেন। 

১৯৬৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভুত আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী অ্যালান কোরম্যাক টমোগ্রাফির তত্ত্ব এবং ইমেজিইং-এর জন্য দরকারি গাণিতিক পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। কোরম্যাকের এই তত্ত্ব এবং গাণিতিক পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে গডফ্রে হাউন্সফিল্ড উদ্ভাবন করেন কম্পিউটেড টমোগ্রাফি।

এক্স-রের মাধ্যমে মানুষের শরীরের ভেতরের যেসব ছবি তোলা হয়, সেগুলি সব দ্বিমাত্রিক। তাতে শরীরের ত্রিমাত্রিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের একটা সামগ্রিক দ্বিমাত্রিক চিত্র পাওয়া যায়, তবে তা সম্পূর্ণ চিত্র নয়। যেমন একজন রোগীর ফুসফুসের এক্স-রে দেখে ডাক্তার বুঝতে পারেন সেখানে কোন অস্বাভাবিকতা রয়েছে কি না। কিন্তু ফুসফুসের ঠিক কোন্‌ গভীরতায় অস্বাভাবিকতা আছে, তা একটিমাত্র চিত্র থেকে বোঝা যায় না। যেমন একটা বইয়ের শুধুমাত্র প্রচ্ছদের ছবি দেখে বোঝার উপায় নেই বইটি কত মোটা। 


সিটি স্ক্যানার


হাউন্সফিল্ড যে পদ্ধতিতে এক্স-রে চিত্র তৈরি করলেন তা প্রচলিত এক্স-রে চিত্রের চেয়ে ভিন্ন। প্রচলিত পদ্ধতিতে রোগীর একটি এক্স-রে তৈরির জন্য একদিক থেকে এক্স-রে প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু সি-টিতে রোগীর চারদিক থেকে এক্স-রে প্রয়োগ করে অনেকগুলি ছবি একসাথে তুলে, সেই ছবিগুলি থেকে কম্পিউটারের মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করা হয়। কম্পিউটার প্রযুক্তির উন্নতির সাথে এই প্রযুক্তি সরাসরি যুক্ত। তাই এই প্রযুক্তির নাম কম্পিউটেড টমোগ্রাফি। 

গ্রিক শব্দ ‘টমোস’ অর্থ স্লাইস বা ফালি। টমোগ্রাফি শব্দটা ব্যবহৃত হয়েছে সেই অর্থে – যেখানে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে এক্স-রে’র মাধ্যমে ফালি ফালি করে দেখা হয়। তারপর সবগুলি ফালির ছবি এক সাথে জোড়া দিয়ে ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটিতে খুবই উচ্চমাত্রার জটিল গাণিতিক সমীকরণ ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটারের সফ্‌টওয়ার খুব সহজেই এই জটিল গণিতের সমাধান করতে পারে। কম্পিউটারের মাধ্যমে সবকিছু করা হয় বলে এই পদ্ধতির বেশ কয়েকটি নাম আছে। যেমন কম্পিউটারাইজড অ্যাক্সিয়েল টমোগ্রাফি বা ক্যাট, কম্পিউটারাইজড টমোগ্রাফি, কিংবা কম্পিউটেড টমোগ্রাফি। বর্তমানে সার্বিকভাবে কম্পিউটেড টমোগ্রাফি বা সি-টি নামটাই ব্যবহৃত হয়।

১৯৭২ সাল থেকে হাউন্সফিল্ডের নেতৃত্বে ই-এম-আই কোম্পানি সিটি মেশিনের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। সেই বছরই হাউন্সফিল্ডকে যুক্তরাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং-এ সর্বোচ্চ পুরষ্কার ম্যাকরবার্ট পুরষ্কার দেয়া হয়। ১৯৭৫ সালে তিনি রয়েল সোসাইটির ফেলো মনোনীত হন। ১৯৭৯ সালে নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার পর ১৯৮১ সালে তাঁকে ব্রিটিশ সরকার নাইটহুড প্রদান করে। 

স্যার গডফ্রে কোনদিন বিয়ে করেননি। ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়। 

তথ্যসূত্র:
1. www.nobelprize.org
2. প্রদীপ দেব, চিকিৎসাবিজ্ঞানে পদার্থবিজ্ঞান, প্রথমা প্রকাশন (প্রকাশিতব্য)

স্বপ্নলোকের চাবি - পর্ব ৩৫

 


স্বপ্নলোকের চাবি – ৩৫

‘এটা কিন্তু ভিসিআর না, ভিসিপি। ভিসিআর আর ভিসিপির পার্থক্য জান তো?” – যন্ত্রপাতি সেট করতে করতে আজমভাই প্রশ্নটা সম্ভবত আমাকেই করেছেন। কিন্তু এই যন্ত্রটা সম্পর্কে আমার তেমন কোন ধারণা নেই। আমি আজমভাইয়ের দিক থেকে চোখ সরিয়ে মুকিতভাইয়ের দিকে উদ্দেশ্যহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। মুকিতভাই আমার দিকে না তাকিয়ে তাঁর রুমে আগত অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত। মুকিতভাইয়ের রুমমেট তৌহিদভাই ফ্রেঞ্চকাট দাড়ির ফাঁকে মুখটা হাসি হাসি করে রাখলেও মনে হচ্ছে তিনি বেশ বিরক্ত এসব ব্যাপারে। তাঁর খাটেও ঠেসাঠেসি করে বসে আছে অনেকে। দোতলার প্রায় সবাই এসে জড়ো হয়েছে রাতজেগে হিন্দি সিনেমা দেখার জন্য। সিনেমার নাম রাখওয়ালা। 

ভিডিওক্যাসেট আর প্লেয়ার দুটোই আজমভাইয়ের। তিনি আমাদের দু’ব্যাচ সিনিয়র, কেমিস্ট্রির। এবার মাস্টার্স পরীক্ষা দেবেন। এ বিল্ডিং-এ এসেছেন বছরখানেক হলো। খুব হাসিখুশি মানুষ। যখনই দেখা হয় – দেখি মুখে হাসি আর সিগারেট দুটোই লেগে আছে। এখনো তাই। হাতে তুড়ি মেরে সিগারেটের ছাই ফেলছেন মুকিতভাইয়ের পরিষ্কার মেঝেতে। 

“এটা কিন্তু অনিল কাপুর আর শাবানা আজমীর নতুন সিনেমা। ফুল কালার। কিন্তু এই ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট টিভিতে কোন কালার দেখা যাবে না। হিন্দি সিনেমার আসল মজাই তো কালার।“ – আজমভাই সিনেমা শুরু হবার সাথে সাথেই আমাদের সতর্ক করে দিলেন। 

সবাই যেভাবে হা করে সাদা-কালো টিভির দিকে তাকিয়ে অনিল কাপুরের মারপিট দেখছে, কালার হলে কী অবস্থা হতো কে জানে। হিন্দি সংলাপ হুবহু না বুঝলেও সিনেমার দৃশ্য দেখে ঘটনা বুঝতে সমস্যা হবার কথা নয়। কিন্তু আজমভাই আমাদের বুঝতে যেন কোন অসুবিধা না হয় সেদিকে কড়া নজর রাখছেন। প্রতিটি সংলাপের আঞ্চলিক অনুবাদ করতে লাগলেন। অভিনেতা অভিনেত্রীদের নাম বলছেন, তাদের জামা-কাপড়ের রঙ বলে দিচ্ছেন। 

এত তথ্য কি সহ্য হয়! মানুষ কোনকিছু জানলেই তা জানানোর জন্য এত ব্যস্ত হয়ে পড়ে কেন জানি না। জ্ঞান কি এতটাই বায়বীয় যে মুখ খুললেই তা সিগারেটের ধোঁয়ার মতো বের হয়ে আসতে হবে? 

আজমভাইয়ের বকবকানির মধ্যেই সবাই সিনেমায় বুঁদ হয়ে আছে। আমাদের সিনেমাহলে ভারতীয় সিনেমা দেখাতে দেয়া হয় না বলেই হয়তো এসব সিনেমার প্রতি এত আকর্ষণ সবার। শুধু সিনেমাহলে নয়, আমাদের টেলিভিশন, রেডিও কোথাও ভারতীয় সিনেমা, নাটক, গান কিছুই প্রচারিত হয় না। আমাদের দেশীয় সিনেমা, নাটক, গানকে প্রতিযোগিতাহীনভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেবার জন্যই হয়তো এই নীতি। আবার এই নীতিও কি সবার জন্য প্রযোজ্য? বিডিআর সিনেমাহলে, শাহীন সিনেমাহলে ভারতীয় সিনেমা চলে কীভাবে? এখন তো শহরের অলিতে গলিতে ভিডিও-লাইব্রেরিভর্তি ভারতীয় সিনেমা। মানুষের ঘরে ঘরে ভিসিআর, ভিসিপি। যেভাবে হিন্দি গিলছে সবাই – কিছুদিনের মধ্যেই সবাই হিন্দি-বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠবে, আজমভাইয়ের অনুবাদের আর দরকার হবে না। 

সিনেমার কাহিনি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠতে শুরু করেছে। সাংবাদিক শাবানা আজমী পাগল হয়ে গেছে। আজমভাই এর মধ্যেই আরো কয়েকটা সিগারেট ধ্বংস করে মুকিতভাইয়ের রুমের মেঝের একটা অংশ ছাইদানি বানিয়ে ফেলেছেন। আর ভালো লাগছে না, রুম থেকে বের হয়ে এলাম। নিচে নামার জন্য সিঁড়ির দরজা খুলতেই দেখলাম নিচের তলার দুজন শিবিরনেতা দাঁড়িয়ে আছে। এরাও কি সিনেমা দেখতে ইচ্ছুক? দরজা বন্ধ ছিল বলেই হয়তো দোতলায় ঢুকতে পারেনি। 

“এত রাতে এসব কি শুরু করেছেন আপনারা? আমরা তো ঘুমাতে পারছি না।“ – না ঘুমাতে পারার ক্ষোভ আমার উপর ঝাড়লেন একজন। অন্যজনের গায়ে চাদর জড়ানো। অন্ধকারে তার মুখ দেখা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে আমার পরিচিত কেউ নয়। তার চাদরের ভেতর বোমা-টোমাও থাকতে পারে। আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম। 

বললাম, “আজমভাই সিনেমা দেখাচ্ছেন। আপনারা আজমভাইয়ের সাথে কথা বলেন। আসেন।“ 

আবার মুকিতভাইয়ের রুমে এলাম। আমার পেছনে দুজন ক্রুদ্ধ শিবিরকর্মী। 

“আজমভাই, ইনারা আপনার সাথে কথা বলতে এসেছেন।“ – বলে আমি রুমের ভেতর ঢুকে নিরাপদ জায়গা হিসেবে তৌহিদভাইয়ের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। ফতেয়াবাদ গার্লস স্কুলের মৌলভীসাহেবকে নিশ্চয় তারা কিছু বলবে না। 

আজমভাই সিনেমা পজ দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছে?”

“সিনেমা বন্ধ করেন। আমরা ঘুমাতে পারছি না।“ 

“ওহ্‌ সরি, শব্দ নিচে যাচ্ছে! আমরা তো দরজা-জানালা বন্ধ করে সিনেমা দেখছি। সাউন্ড তো নিচে যাবার কথা নয়। আমরা সাউন্ড আরো কমিয়ে দিচ্ছি। আপনারাও দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন।“ – আজমভাই সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে আবার সিনেমা চালু করলেন। ধারাবিবরণীও শুরু করতে যাবেন – তখনই শিবিরনেতা রাগতস্বরে বললেন, “সিনেমা বন্ধ করতে বললাম। মুসলমান হয়ে এসব হারাম কাজ করতে লজ্জা করে না?”

আজমভাইয়ের মুখ থেকে হাসি উধাও হয়ে গেল, সিগারেট নেমে গেল। ভিসিপির পজ বাটন টিপে হিন্দি সিনেমার নায়কের মতো গম্ভীরভাবে বললেন, “কী বললেন আপনি? আমরা হারাম কাজ করছি? আমার মুখ খোলাবেন না। হল পাহারা দেবার নাম দিয়ে আপনাদের নেতারা যে সারারাত বসে বসে ব্লু ফিল্ম দেখে তা সবাই জানে। মানুষ ধরে ধরে জবাই করে দেন আপনারা – সেটা খুব হালাল, না?”

“আপনি বাজে কথা বল্তেছেন।“

“বাজে কথা আপনি শুরু করছেন। ভালো ব্যবহার করলে আপনারা মাথায় উঠে যান। গায়ের জোরে ইমানদার হওয়া যায় না। “ 

আমরা সবাই স্তব্ধ হয়ে দেখছি হিন্দি সিনেমার চেয়েও নাটকীয় এই দৃশ্য। হলে থাকলে আজমভাইয়ের সাহস হতো না এভাবে কথা বলার।

শিবিরদ্বয় বুঝতে পারলো যে ভুল মানুষের সাথে ভুল জায়গায় লাগতে এসেছে। তারা আর কথা না বাড়িয়ে চলে গেল। আজমভাই আরেকটি সিগারেট ধরিয়ে সিনেমা চালু করলেন। দেখলাম তৌহিদভাইয়ের খাটের নিচ থেকে আস্তে আস্তে হামাগুড়ি দিয়ে বের হচ্ছে একজন। এই ছেলেটাকে তো শিবিরের কর্মী বলেই জানি। ছেলেটা তাদের নেতাকে রুমে ঢুকতে দেখে কখন যে খাটের নিচে ঢুকে গেছে জানি না। এবার তো আরো ভয়ের কথা। এই ছেলে কি ভেজাল শিবির, নাকি স্পাই? 

আমাদের ক্যাম্পাসে শুধু নয়, সারা দেশেই প্রচন্ড ভয় পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন। এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মসূচীগুলি যতই বেগবান হচ্ছে – এরশাদও নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে গোলাগুলি হচ্ছে। একদল আরেকদলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলার চেষ্টা চলছে। ডাকসু নির্বাচনে জয়লাভ করলেও ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ বিনাবাধায় কোন কর্মসূচী দিতে পারছে না। আর আমাদের ইউনিভার্সিটিতে সেই যে একদিন বিরাট সমাবেশ হয়েছিল – তারপর থেকে কথায় কথায় অবরোধ ডাকতে শুরু করেছে ছাত্রশিবির। 

আর যখন তখন এত হরতাল হচ্ছে যে কী কারণে কে হরতাল ডাকছে ঠিকমতো বুঝতেও পারছি না। নভেম্বরের ১৩ তারিখ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল হলো। কারা ডেকেছে? এমইএস কলেজের শিক্ষার্থীরা। দাবি কী? তাদের কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষার সেন্টার দিতে হবে। এরকম করতে করতে হরতাল ব্যাপারটাই এখন গুরুত্বহীন হাস্যকর ব্যাপারে পরিণত হয়ে গেছে। এরশাদও বুঝে গেছেন যে এসব ধর্মঘট হরতালে তার কিছুই হবে না। 

আসলেই তার কিছু হচ্ছে না। সবাই জানে এরশাদ ভন্ডামি করেন সবকিছু নিয়ে। ধর্ম নিয়ে যেসব ভন্ডামি শুরু করেছেন তা সবাই জানার পরেও তাকে কেউ ভন্ড বলে না। জামায়াত-শিবিরও না। এই যে তিনি প্রতি শুক্রবার দেশের কোথাও না কোথাও মসজিদে গিয়ে দাবি করেন যে ঠিক আগের রাতে স্বপ্ন দেখে তিনি সেখানে নামাজ পড়তে গেছেন। অথচ তাঁর নিরাপত্তাবাহিনী অনেকদিন আগে থেকেই সেই মসজিদ এবং আশেপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। 

বাংলাদেশের ধর্মভীরু মানুষদের ধর্মের দোহাই দিয়ে চুপ করিয়ে রাখা যায় এটা এরশাদ বেশ ভালোভাবেই জানেন। তাই তিনি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম কায়েম করেছেন। ভবিষ্যতে যেদলই ক্ষমতায় আসুক রাষ্ট্রধর্মে হাত দিতে পারবে না। 

কোন ক্ষমতাশালীরই সুবিধাবাদী চাটুকারের অভাব ঘটেনি কোনদিন। এরশাদেরও চাটুকারের অভাব নেই। তাঁর ভাইস-প্রেসিডেন্ট মওদুদ আহমেদ আর প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরকে দেখলেই বোঝা যায়। কাজী জাফর সম্প্রতি ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরি করার জন্য ১০০ বিঘা জমি দান করেছেন। একশ বিঘা জমি তিনি কোথায় পেলেন, কোথায় দান করলেন, ক্যান্সার হাসপাতাল কোথায় হচ্ছে, আদৌ হবে কি না – এসব কেউ জানে না। শুধু ফলাও করে প্রচার হচ্ছে মন্ত্রীমাহাত্ম্য। 

সম্রাট নিরো নাকি পাঁচ হাজার নাইট এবং সৈন্যসামন্ত নিয়ে যেতেন মিউজিক্যাল কনসার্ট করার জন্য, সঙ্গীতজ্ঞ হবার জন্য। আমাদের প্রেসিডেন্ট এরশাদ কবি হতে চেয়েছেন তাতে আর আশ্চর্য কী! এরশাদের লেখা কবিতা – নতুন বাংলাদেশ গড়বো মোরা, নতুন করে আজ শপথ নিলাম – এখন গান হয়ে বিটিভিতে প্রতিদিন কয়েকবার করে বাজে। এখনো চক্ষুলজ্জা কিছুটা আছে হয়তো, নইলে এটাকে জাতীয় সঙ্গীত ঘোষণা করে ফেলতেন। এরশাদ নভেম্বরের মাঝামাঝি দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কবিতা সম্মেলন করছেন বঙ্গভবনে। আমাদের তেলবাজ কবিরা রাজকবি হবার প্রত্যাশায় তাঁর কবিতার তৈলাক্ত প্রশস্তি রচনায় ব্যস্ত। এরশাদই সম্ভবত একমাত্র কবি - যার কবিতা বাংলাদেশের সবগুলি সংবাদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়। ক্ষমতা চলে যাবার পর দেখা যাবে কটা কবিতা বের হয় তার মগজ থেকে আর কোথায় তা প্রকাশিত হয়। 

আমাদের ক্লাস চলার গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে গেছে। হরতাল অবরোধ না থাকলে ক্যাম্পাসে যাচ্ছি। ক্লাস হলে করছি, প্র্যাকটিক্যালগুলি করার চেষ্টা করছি। আমাদের আগের ব্যাচের পরীক্ষা হয়ে গেছে। শোনা যাচ্ছে আমাদের পরীক্ষারও ডেট দিয়ে দেবে শীঘ্র। তবে চাকসু নির্বাচনের তোড়জোড় চলছে। শিবিরের বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে পারবে এটা এখন অনেকটাই দুরাশা। কিন্তু এর মধ্যেও কিছু কিছু বিপ্লবীর দেখা পাচ্ছি যারা কিছুতেই হতাশ হয় না। 

ক্যাম্পাসে অনেকদিন পর ক্যাফেটরিয়ার সামনে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল মাসুমভাইয়ের সাথে। অদ্ভুত মানুষ এই মাসুমভাই। চিটাগং কলেজে কেমিস্ট্রি অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। সোহরাওয়ার্দী হোস্টেলে উঠেছিলেন। সেখানে বেশিরভাগ সিটই ছিল শিবিরের দখলে। মাসুমভাই যে রুমে সিট পেয়েছিলেন সেই রুমের বাকি তিনজনই ছিল শিবিরের কর্মী। তারা স্বাভাবিক নিয়মেই মাসুমভাইকে দ্বীনের দাওয়াত দিতে চেয়েছিল। আর মাসুমভাই তাদের তিনজনকে মার্ক্স-লেনিনের দাওয়াত দিয়েছেন। ফলে যা হবার তাই হলো। একদিন মাসুমভাইকে আধমরা অবস্থায় উদ্ধার করা হলো কলেজের ড্রেন থেকে। সুস্থ হতে অনেকদিন সময় লেগেছিল তার। দুটো দাঁত গেছে, হাতের আঙুল গেছে। এখন তাঁর মুখে দাড়িগোঁফ দেখে ভাবলাম হয়তো আরো অনেক পরিচিত মার্ক্সবাদীর মতো তিনিও শিবিরে যোগ দিয়েছেন। 

“কী খবর মাসুমভাই, আপনাকে তো চেনা যাচ্ছে না?”

মাসুমভাই আসাদুজ্জামান নুরের মতো ঘাড় বাঁকিয়ে হেসে বললেন, “মুখে কাটাদাগ আর উপরের পাটির ভাঙাদাঁত ঢাকতেই এই ব্যবস্থা।“ 

কিছুক্ষণ কথা বলার পরেই বুঝলাম মাসুমভাই কচ্ছপ টাইপের মানুষ। মার্ক্স-লেনিন কামড়ে ধরেছেন, ছাড়ানোর উপায় নেই। ভেতরে ভেতরে মাসুমভাইদের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। এই নিরব কর্মীরা চাকসু নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন ইতোমধ্যে। 

ক্যাফেটরিয়ার সামনে কয়েকজন মোবাইল সিগারেটবিক্রেতা আছে। প্রদীপ নাথ তাদের চেনে। তারা সিগারেটের প্যাকেট কোথায় রাখে কে জানে, চাইলেই বের করে দেয়। আমি মাসুমভাইয়ের সাথে কথা বলছি দেখে প্রদীপ নাথ গাছের নিচে দাঁড়িয়ে সিগারেট শেষ করলো। মাসুমভাইকে বিদায় দিয়ে ফ্যাকাল্টির দিকে যাবো – এমন সময় “অ্যাই প্রদীপ, শোন” – শুনে আমরা দুই প্রদীপই ফিরে তাকালাম। 

ক্যাফেটরিয়ার বারান্দায় দাঁড়িয়ে শবনম ডাকছে। কাকে ডাকছে এখনো বুঝতে পারছি না। দু’জনই এগিয়ে গেলাম। 

“কাকে ডাকছো? আমাকে না একে?”

“তোমাদের দু’জনকেই।“ 

শবনম সাধারণত কথাবার্তা খুব একটা বলে না। আজ এত সিরিয়াস হয়ে আমাদের দু’জনকেই ডাকছে এক সাথে! ঘণ্টাখানেক আগে ক্লাসের ভেতর বসে থাকতে থাকতে হেড়ে গলায় দুজনে গান ধরেছিলাম সেটা কি শবনম শুনতে পেয়েছে? সে তখন কোথায় ছিল তো খেয়াল করিনি। কিন্তু “ও শবনম, তোমারি মতন, একটি বউ মোর আছে প্রয়োজন” – গানটা তো একটা সিনেমার গান – সে কি মাইন্ড করলো নাকি? 

প্রদীপ নাথ আগবাড়িয়ে বললো, “আমার কিন্তু কোন দোষ নেই, সব এর দোষ।“ 

“কিসের দোষ? কিসের কথা বলছো তোমরা?” 

“তুমি কেন ডেকেছ?”

“তোমাদের মধ্যে কার ভাইয়ের বিয়ে হচ্ছে?”

হঠাৎ এখানে ভাইয়ের বিয়ে আসছে কোত্থেকে? আমার ভাইয়ের তো বিয়ে হচ্ছে না। প্রদীপ নাথের বড় দুই ভাইয়ের তো বিয়ে হয়ে গেছে। 

“আমার ভাইয়ের হচ্ছে না।“ – আমি তাড়াতাড়ি বললাম।

“আমার ভাইয়েরও হচ্ছে না।“ – প্রদীপ নাথও ডানে-বামে মাথা নেড়ে বললো। 

“হচ্ছে হচ্ছে, তোমরা জানো না মনে হয়।“

“কেন বলতো?”

“আরে আমাদের কলোনির এক দিদির সাথে একজনের বিয়ের কথাবার্তা হচ্ছে – যার ভাইয়ের নাম প্রদীপ – যে আমাদের ক্লাসে পড়ে।“

“তারপর?” 

“আমাদের ক্লাসে তো তোমরা দুজনই প্রদীপ। আর কোন প্রদীপ আছে?” 

“চিটাগং কলেজে আমাদের ব্যাচে ফিজিক্সে আরেকজন প্রদীপ নাথ আছে। সম্ভবত তার কথা বলেছে।“

“আরে না, ইউনিভার্সিটিতে।“

“তোমাদের কলোনি মানে কোথায়?”

“ফরেস্ট কলোনি”

বুঝতে পারলাম। আমার দাদার বিয়ের কথাবার্তা চলছে বলে শুনেছি আমি। বিবাহ সম্পর্কে আমার মতামত গতানুগতিকতার বাইরে যায় বলে আমাকে পারিবারিক বিবাহ-কমিটিতে রাখা হয়নি। তাই আমি বিস্তারিত কিছু জানি না। তবে শুনেছি ফরেস্ট কলোনির কোন এক বাসায় আমার বাবা কয়েকবার গেছেন। এখন তো দেখছি তারা আমার ব্যাপারেও তদন্ত চালাচ্ছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দেখা তো অবশ্যই দরকার। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে পুরো পরিবারের পুলিশ ভেরিফিকেশান দরকার হয়। বিবাহের ক্ষেত্রে তো আরো বেশি তথ্যযাচাই হওয়া দরকার। এখন আমার যাচাইকারী অফিসার শবনম। 

“তুমি কী রিপোর্ট দিলে?”

“না, আঙ্কেলটা জানতে চাইলেন তো – আমার ক্লাসে প্রদীপ নামে কেউ আছে কি না? আমি বললাম দু’জন প্রদীপ আছে। একজন ফর্সা, অন্যজন কালো। উনি বলেছেন – কালোটাই হবে। কারণ ওই পরিবার কালো পরিবার।“

“আর কিছু জানতে চায়নি?”

“না, তেমন কিছু না। স্বভাব-টভাব কেমন, সিগারেট খাও কি না এসব আর কি।“

“সিগারেটের ব্যাপারে তুমি কী বলেছ?” – প্রদীপ নাথ কৌতূহলে ফেটে পড়ছে।

“বলেছি মাঝে মাঝে খেতে দেখেছি।“ – শবনমের সরল স্বীকারোক্তি।

আমি আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “তুমি আমাকে সিগারেট খেতে কখন দেখেছো?” 

“দেখিনি? একটু আগেও তো দেখলাম। তোমরা দুজনই যে চেইনস্মোকার সেটা সবাই জানে। আমি তো অনেক কমিয়ে বলেছি।“ 

আমি হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না। প্রদীপ নাথের লাফিং ডিজিজ শুরু হয়ে গেছে। সে হাসতে হাসতে ফ্যাকাল্টির দিকে হাঁটতে হাঁটতে বললো, “তোকে সে সিগারেট খেতে দেখলো কীভাবে?”  

Wednesday 25 August 2021

পরিবেশ এবং আমাদের দায়


সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আমরা অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখতে পাচ্ছি। ক’দিন আগেই ইওরোপে ভয়ংকর বন্যা হয়ে গেল – যেখানে গত এক শ’ বছরেও এরকম বন্যা হয়নি কখনো। আমেরিকা, চীন, ভারত, বাংলাদেশ সবখানেই বন্যা হচ্ছে, সাইক্লোন, টাইফুন ইত্যাদির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে, প্রকৃতি ক্রমশ বিরূপ হয়ে যাচ্ছে তা আমরা সবাই বুঝতে পারছি। এর দায় কার? একি শুধুই প্রাকৃতিক? নাকি মানুষ দায়ী এর জন্য? 

মানুষের দেশ আছে। প্রকৃতির কোন দেশ নেই। প্রকৃতি তার আপন গতিতে এগিয়ে চলে। মানচিত্রের লাল-কালো দাগগুলি তার চেনা নয়। নদীর স্রোত, বাতাসের গতি কিংবা দেশান্তরী পাখি কোন কাঁটাতারের বেড়া মানে না, কোন দেশের সীমান্তের পরোয়া করে না। মানচিত্রের দাগগুলি পৃথিবীর স্থলভাগকে বহু আঁকাবাঁকা খন্ডাংশে বিভক্ত করতে পারে। কিন্তু বিশাল জলরাশি অথবা বায়ুমন্ডল উন্মুক্তই রয়ে যায়। এই উন্মুক্ত পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেকের। 

প্রকৃতি ধ্বংসকারী মানুষ অনেক সময় এসব বিষয়কে নিজেদের সার্বভৌম বিষয় বলে আড়াল করতে চায়। কিন্তু বিষয়টা সবার, আমাদের এক পৃথিবীর, সাড়ে সাতশ কোটি মানুষের এক পরিবারের। 

পরিবেশের কিছু তত্ত্বীয় ব্যাপার-স্যাপার আছে। পরিবেশ ব্যাপারটা অনেক বড়। আমাদের শরীরের বাইরের যে কোনকিছুই পরিবেশের অংশ। আমাদের জীবদ্দশায় যা কিছু আমাদের প্রভাবিত করতে পারে – তার সবকিছুই কোন না কোনভাবে পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত। সুনির্দিষ্টভাবে পরিবেশ – পানি, বাতাস, মাটি এবং এই পৃথিবীতে বসবাসকারী সব উদ্ভিদ, প্রাণি, জীবাণু এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কেই নির্দেশ করে। 

প্রধানত জীবজগৎ, জড়জগৎ আর শক্তি – এই তিনের সমন্বয়ে পরিবেশের সৃষ্টি। পরিবেশের কিছু কিছু উপাদান আপাতভাবে অসীম। যেমন – সূর্যের আলো, বাতাসের প্রবাহ, সমুদ্রের স্রোত ইত্যাদি। প্রকৃতির কিছু কিছু উপাদান নবায়নযোগ্য – যেমন বিশুদ্ধ বাতাস, বিশুদ্ধ পানি, মাটির উর্বরতা, উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল। আবার কিছু কিছু উপাদান সীমিত – কিন্তু নবায়নযোগ্য নয়। যেমন – জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল, গ্যাস), খনিজ ধাতু, অন্যান্য খনিজ রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি। ব্যবহারের ধরনের উপর নির্ভর করে পরিবেশের এসব উপদানের স্থায়ীত্ব কতদিন এবং কতটুকু নবায়নযোগ্য থাকবে। 

পৃথিবী প্রতিমুহূর্তেই পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তন একটি প্রাকৃতিক ধারা, যার গতিও প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত। কিন্তু প্রয়োজন, ক্ষমতা ও লোভ বাড়ার সাথে সাথে পরিবর্তনের ধারাকে উচ্চগতিতে ত্বরান্বিত করেছে মানুষ।পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব ঘটেছে আজ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগে। তখনকার সরল এককোষী প্রাণী জৈববিবর্তনের ধারায় জটিল থেকে জটিলতর হতে হতে মাত্র তিরিশ-চল্লিশ হাজার বছর আগে মানব  জাতির আবির্ভাব হয়। 

জৈববিবর্তনের সাথে সাথে প্রকৃতির পরিবেশেরও বিবর্তন ঘটে। প্রকৃতি আপন খেয়ালেই এই বিবর্তনের হাত ধরে চলেছে হাজার হাজার বছর। বিবর্তনের পাতা উল্টালে দেখা যায় মানুষের আবির্ভাবের পর হঠাৎ করে যেন মহাকালের ঘড়ির মিনিটের কাঁটা সেকেন্ডের কাঁটার গতি পেয়ে গেল। পরিবেশ পরিবর্তনে একটা প্রচন্ড গতির সঞ্চার হলো। কালের ধারায় আজ থেকে দশ-বারো হাজার বছর আগে কঠিন মাটির বুক চিরে মানুষ ঘটালো কৃষিবিপ্লব। 

প্রাকৃতিক বিবর্তনের ঘড়ির কাঁটা হঠাৎ করে যেন মিনিটের কাঁটার গতি পেয়ে গেল শিল্প বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। আর তা ঘটলো মাত্র দুই আড়াই শতাব্দী আগে। হাজার বছর ধরে খরা, বন্যা, ভূমিকম্প যতো না ক্ষতি করলো, বিগত এক শতাব্দীতে তার চেয়ে কয়েকগুণ ক্ষতি করলো মানুষের মতভেদ – যুদ্ধের রূপে। প্রকৃতির স্বাভাবিকতাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে আমরা আমাদের পরিবেশকে করে তুলেছি বিপর্যস্ত। ফলে প্রকৃতি আমাদের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত এবং অনাকাঙ্খিত আচরণ করছে। ঘন ঘন সাইক্লোন, ঘূণিঝড়, টাইফুন, জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছে প্রতিদিন কোন না কোন জনপদ পৃথিবীর কোথাও না কোথাও। 

প্রকৃতির বৈরি আচরণের জন্য বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নিমায়কের কথা বলে থাকেন। প্রধান কারণ হিসেবে গ্রিন হাইজ এফেক্টের ফলে ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং ওজোন স্তরের ভারসাম্যহীনতাকেই দায়ি করা হয়। বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তর আমাদেরকে  সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে, পৃথিবীর উপরিভাগের তাপমাত্রার সমতা রক্ষা করে। এই ওজোন স্তরের ক্ষতি হলে আমাদের পৃথিবীতে দেখা যায় নানা বিপর্যয়। কিন্তু এই বিপর্যয় ঘটেই চলেছে প্রতিনিয়ত। ওজোন স্তরের ক্ষতির পেছনে অনেকগুলি কারণ আছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীতে সৃষ্ট কিছু গ্যাস ওজোন স্তর ধ্বংসের জন্য দায়ি। 

কার্বন ডাই অক্সাইড (জীবজন্তুর শ্বাস প্রশ্বাস থেকে) – ৪৯%
মিথেন (বদ্ধ জলাভূমি, স্যাঁতস্যাঁতে জলাভূমি, ধানক্ষেত, জীবজন্তুর বর্জ্য থেকে) – ১৮%
ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (রেফ্রিজারেটর, প্লাস্টিক শিল্প ইত্যাদি) – ১৪%
নাইট্রাস অক্সাইড, যানবাহনের ধোঁয়া – ৬%
অন্যান্য গ্যাস উৎপাদনকারী কারখানা থেকে – ১৩%

উনবিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকেই, অর্থাৎ শিল্পবিপ্লবের সূচনা পর্ব থেকেই বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের স্তর ক্রমশ বাড়ছে তো বাড়ছেই। একদিকে শিল্পকারখানা বৃদ্ধি ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাড়ছে, অন্যদিকে বনসম্পদ ধ্বংস করার ফলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। আমরা বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করি। গাছপালা সালোক-সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার সময় এই এই কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বাতাসে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়। এভাবে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু ক্রমাগত গাছ কাটার ফলে, বনাঞ্চল উজাড় করে ফেলার ফলে প্রতিদিন যে পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরিত হয়, সে পরিমাণ শোষিত হতে পারছে না। উনিশ শতকে যেখানে বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ছিল ২৮০ থেকে ২৯০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন), বিশ শতকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫০-এ; ২০৫০ সাল নাগাদ এই বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ৫০০ থেকে ৭০০ পিপিএম-এ। 

বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে কী সমস্যা হয়? স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, মিথেন, ক্লোরোফ্লুরোকার্বন ইত্যাদি গ্যাস বায়ুমন্ডলের নিচের স্তরের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়। সূর্যের আলো যখন পৃথিবীতে আসে, তাপ তৈরি হয়, সেই তাপ বায়ুমন্ডলের নিচের স্তরে আটকে পড়ে। ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যেতে থাকে। প্রতিদিন সূর্য থেকে প্রায় পাঁচ শ টেরাওয়াট ক্ষমতার তাপশক্তি পৃথিবীতে আসে। তারমধ্যে শতকরা ৩০ ভাগ সরাসরি প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায়। বাকি ৭০% পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র ও ভূ-পৃষ্ঠ শোষণ করে এবং বিকিরণের মাধ্যমে কিছুটা ছেড়ে দেয়। কার্বন-ডাই-অক্সাইডসহ অন্যান্য গ্যাসের বৃদ্ধির ফলে এই তাপীয় বিকিরণ বাধাগ্রস্ত হয়। তাতে পৃথিবীপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকে। এই তাপমাত্রা বাড়ার ফলে পৃথিবীর ইকোসিস্টেম ক্রমশ বদলে যেতে থাকে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাবে। ফলে নিচুজমিগুলি ক্রমশ জলাজমিতে পরিণত হবে। 

এর কুফল ভোগ করতে হবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের আরো অনেক উপকুলীয় অঞ্চলকে। উপকুলীয় অঞ্চলে ঘনবসতির ফলে পরিবেশদূষণও বেশি হয়। প্রাকৃতিক সম্পদ, বনায়ন ধ্বংস করার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য মোট ভূমির কমপক্ষে ২৫% সংরক্ষিত বনভূমি থাকার দরকার। বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ ১০% এরও কম। ফলে আমাদের ভোগান্তির পরিমাণ হবে অনেক বেশি। 

এসব সমস্যা বিশ্বজনীন হলেও আমাদের নিজেদের দায়িত্ব অস্বীকার করা যায় না। যার যার উৎস থেকে দূষণ যদি বন্ধ করা যায়, নিদেনপক্ষে কমানোও যদি যায় – তাহলেও অনেক কাজ হয়। পরিবেশ দূষণের উপাদান যদি কম ব্যবহার করা যায়, কিংবা বিকল্প উপাদান ব্যবহার করা যায় – যা কম দূষণকারী, তাতেও অনেক কাজ হয়। 

পরিবেশকে আমাদের অনুকূলে ফিরিয়ে আনতে হলে গ্রিনহাউজ গ্যাসগুলির জমে ওঠার গতি রুখতে হবে। সেজন্যে আমাদের গাছ লাগাতে হবে অনেক বেশি। গাছ-কাটা বন্ধ করতে হবে। বর্জ্য নিষ্কাষণ ও ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন দরকার। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে হবে। এসব ব্যাপারে নাগরিকসচেতনতার পাশাপাশি সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার দরকার হয়। 

আন্তর্জাতিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে, প্রযুক্তির দিক থেকে উন্নতদেশগুলি যদি তাদের সবচেয়ে বড় এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত – যুদ্ধবন্ধের সিদ্ধান্ত যদি নেয়, পরিবেশ দূষণ অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে। পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য সমষ্টিগত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন এবং তা এখন আজই। 

আমাদের একটাই পৃথিবী। আমাদের সকলের জন্যে এবং সকলের যত্নেই তার পরিবেশ থাকতে পারে দূষণমুক্ত, সুন্দর। তারপরেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্ধ হয়ে যাবে - তা নয়। কিন্তু আমাদের দায় তো কমবে। 

Latest Post

Hendrik Lorentz: Einstein's Mentor

  Speaking about Professor Hendrik Lorentz, Einstein unhesitatingly said, "He meant more to me personally than anybody else I have met ...

Popular Posts