Showing posts with label বিসিএস পরীক্ষা. Show all posts
Showing posts with label বিসিএস পরীক্ষা. Show all posts

Saturday, 19 September 2026

সরকারি চাকরিতে উচ্চতার শর্ত

 



সম্প্রতি প্রকাশিত ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিটা পড়ে আবারো কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লাম। বিসিএস পরীক্ষার সাথে আমার একটি অদ্ভুত অন্যরকম অনুভূতির সম্পর্ক আছে। চিরায়ত ভালোবাসার সম্পর্কের মতো এখানে আমার না পাওয়ার বেদনা আছে, আবার পাওয়ার আনন্দও আছে।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস পরীক্ষার আয়োজনটা ব্যাপক এবং দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। বিজ্ঞপ্তি

Tuesday, 29 May 2018

বিসিএস-এর আরেকটি অধ্যায়


বাংলাদেশে ভালো কোন সিস্টেম তৈরি হতে দীর্ঘ সময় লাগলেও ভালো সিস্টেম ধ্বংস করে দিতে খুব বেশি সময় লাগে না। বিসিএস পরীক্ষার কথা বলছি। ‘ভালো সিস্টেম’ বলতে যা বোঝায় - বিসিএস পরীক্ষা ঠিক সেরকম ‘ভালো’ না হলেও একটা পর্যায় পর্যন্ত তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ২৭তম বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে যা ঘটলো এবং এখনো ঘটে চলেছে তাতে বিসিএস পরীক্ষার প্রতি আর আস্থা রাখা সম্ভব নয়। ভালো পরীক্ষা দিয়ে সম্পূর্ণ মেধার জোরে বিসিএস পাস করতে পারার নিশ্চয়তা এখন আর কেউ দিতে পারছে না। পরীক্ষা পদ্ধতির পুরোটাই এখন হয়ে পড়েছে অস্বচ্ছ গোলমেলে। অবশ্য এটাও ঠিক যে বাংলাদেশের সব সরকারী ব্যাপারের মত বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতিও কখনোই তেমন স্বচ্ছ ছিল না।

২৭তম বিসিএস পরীক্ষা চলাকালীন সময়েই লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যাবার ব্যাপারটা জানাজানি হয়। মৌখিক পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতির কথা জেনে যায় সবাই। সবকিছুর পরেও রেজাল্ট প্রকাশিত হয়। কিন্তু দুর্নীতির মাত্রা এতটাই বেশি ছিল এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোড় হঠাৎ এতটাই ঘুরে গেলো যে ২৭তম বিসিএস এর রেজাল্ট হজম করা সম্ভব হলো না। কিন্তু তাতে কী? আমাদের সিস্টেমের ফাঁকগুলো তাঁরা ভালো করেই জানেন - যারা ওগুলো তৈরি করেছেন। তাই যেখানে লিখিত পরীক্ষার খাতা পরিবর্তন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে - সেখানে পুরো পরীক্ষাটা বাতিল না করে শুধু মৌখিক পরীক্ষাটা বাতিল করা হলো।  আবার মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হলো। এবং তার পরের ইতিহাস সবাই জানেন।

এখন সারাদেশে ২৭তম বিসিএস সংশ্লিষ্টরা দু’ভাগে বিভক্ত। যারা শেষের বার পাশ করেছেন - তারা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন। আর যারা প্রথম বার পাশ করেছিলেন - কিন্ত দ্বিতীয়বার পাশ করতে পারেন নি তাঁরা দিশেহারা হয়ে কী করবেন বুঝতে পারছেন না। বস্তুবাদীরাও ‘ভাগ্য’কে মেনে নেয়ার কথা ভাবছেন। তাঁরা তাঁদের নিয়োগের দাবী আদায়ের জন্য আত্মঘাতী পর্যন্ত হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের বিভিন্ন রকম আশ্বাস দিয়ে শান্ত করা হয়। কিন্তু এখন পিএসসি’র চেয়ারম্যান সাফ জানিয়ে দিলেন যে তাঁদের ব্যাপারে পিএসসি’র করার কিছুই নেই। এর আগে উপদেষ্টা পরিষদে আলোচিত হয়েছে যে দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষা নেয়াটাই ভুল হয়েছিল। কিন্তু সে ভুল করার অনুমোদন এই উপদেষ্টা পরিষদই দিয়েছিল। এটা যেন চিরকালীন সত্য যে ক্ষমতাবানরা ভুল করবেন আর নির্দোষ ক্ষমতাহীন তার মাশুল গুণবেন।

এপর্যন্ত পড়ার পর মনে হতে পারে যে ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় যারা প্রথমবার পাশ করেছিলেন, কিন্তু দ্বিতীয়বার পাশ করতে পারেননি তাদের প্রতি আমার নীতিগত সমর্থন আছে। এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে আমাদের সমর্থন বা বিরোধীতা অনেকটাই ব্যক্তিগত ব্যাপার হয়ে গেছে। প্রথম আলো ২৭তম বিসিএস বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন ছাপানো শুরু করলে - নিয়োগ প্রাপ্তদের মধ্যে এ বিশ্বাস প্রবল হয় যে প্রথম আলোর কোন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার আপনজন এবার পাস করতে পারেন নি। তথ্যের সত্য-মিথ্যা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়ার সংস্কৃতি আমাদের মধ্যে এখনো নেই। তাই অনেকের মনে হতে পারে যে আমার কোন আপনজন এবার পাস করতে পারেনি বলেই আমার এ লেখা। আসলে তা নয়। ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার সাথে আমার ব্যক্তিগত কোন সম্পর্ক নেই। আমার সমর্থন বা বিরোধিতা ব্যক্তিগত কারণে নয়, নীতিগত কারণে।

আমি যারা দ্বিতীয়বার পাশ করতে না পেরে আন্দোলন করছেন তাদের সমর্থন করতে পারছি না কোন ভাবেই। কারণ দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সময়েই তাদের বোঝা উচিত ছিল যে তাঁরা হয় পাশ করবেন - নয় ফেল করবেন। রেজাল্ট যাই হোক মেনে নিতে হবে। এটাই নিয়ম। এবার যদি তারা পাশ করতেন - তাহলে তারা আন্দোলন করতেন না। এখানে নীতি কাজ করছে না - কাজ করছে নিজেদের ব্যক্তিগত পাশ বা ফেল। এখানে এখন যতই আদর্শের কথা বলা হোক না কেন - সেগুলো কাজ করেনি কখনো। এটা অবশ্যই স্বীকার করছি যে সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের করার কিছুই ছিল না কখনো। তারা সরকারী সিদ্ধান্তের পুতুল। এখনো তাই। একবার তাদের সামনে আশ্বাসের মুলো ঝুলানো হয় - আবার তা সরিয়ে নেয়া হয়। কাজে যুক্তি-নির্ভরতা কম বলেই আন্দোলন কারীরা একদিন আনুষ্ঠানিক ভাবে ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজনও করেছে। দুর্বল মানুষ অসহায় মুহূর্তে যুক্তি হারিয়ে ফেলে - এটাই স্বাভাবিক। তারা তাদের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন যতটুকু পারা যায়। কিন্তু তাদের এ পরিস্থিতির মুখে যারা ঠেলে দিলেন - তাদের অবস্থান কোথায়? যারা দুর্নীতি করে এই সিস্টেমের বারোটা বাজিয়েছেন সেই পিএসসি মেম্বারদের কারো শাস্তি হয়েছে বলে তো শুনিনি।

বলা হলো বিসিএস মৌখিক পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে - তাই আবার পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। যারা দুর্নীতি করেছেন - তারা তো কমিটি মেম্বার বা কোন না কোন ভাবে পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট। তারা কি কোন শাস্তি পেয়েছেন? তাদের নাম কি জনগণ জানে? যে মৌখিক পরীক্ষায় প্রথমবার দুর্নীতি হয়েছিল - দ্বিতীয়বার যে হয়নি তার গ্যারান্টি কী? যারা প্রথমবার দুর্নীতি করে মনোনীত হয়েছিল বলে শুনেছি - তারা কি দ্বিতীয়বারও মনোনীত হন নি? আসলে আইনের মারপ্যাঁচ দেখিয়ে - কথার ফানুস উড়িয়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশন যা খুশি তাই করেছেন ২৭তম বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে।

২৮তম বিসিএস এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২৮ নভেম্বর। বলা হচ্ছে ২০০৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের সব কার্যক্রম শেষ হবে। আমরাও আশা করছি সেরকম। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সে পরীক্ষাতেও যে দুর্নীতি হবে না - কারচুপি হবে না তার গ্যারান্টি কী? দুর্নীতি করার সব সুযোগ বহাল রেখে শুধু মাত্র আশা করলেই কি সব হয়ে গেলো? মৌখিক পরীক্ষা এখনো পাস-ফেল নির্ভর। লিখিত পরীক্ষায়  ১০০% নম্বর পাবার পরও কাউকে মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করানো সম্ভব। এবং তার জন্য ফেল করা পরীক্ষার্থীর আইনগত ভাবে কিছুই করার নেই। তিনি কিছুতেই প্রমাণ করতে পারবেন না যে তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করানো হয়েছে।

বিসিএস পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষা বিষয়ে আমি একাধিক বার লিখেছি মনের তাড়নায়। বলেছি মৌখিক পরীক্ষার অংশটুকু রেকর্ড করে রাখা দরকার। তাতে পরীক্ষার্থী এবং পরীক্ষক উভয়ের কথোপকথনেরই রেকর্ড থাকবে। সবচেয়ে ভালো হতো যদি মৌখিক পরীক্ষার ব্যবস্থা তুলে দেয়া হতো। কারণ মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর সার্বিক যোগ্যতা যাচাই করা অসম্ভব। যদি প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব বা সনদপত্র ইত্যাদি যাচাই করার জন্য সাক্ষাৎকার জরুরী হয়ে থাকে - তাহলে সেই সাক্ষাৎকারে কোন নম্বর থাকা উচিত নয়, পাস/ফেল থাকা উচিত নয়। তারপরও পিএসসি যদি মনে করে যে মৌখিক পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখতেই হবে - তাহলে অন্তঃত মৌখিক পরীক্ষায় আলাদা ভাবে পাশ করার ব্যবস্থাটুকু যেন তুলে নেয়া হয়। নইলে মৌখিক পরীক্ষার ফাঁদে ফেলে অপছন্দের কাউকে বাদ দেয়ার কাজ আগেও হয়েছে - ভবিষ্যতেও হবে।

বিসিএস মৌখিক পরীক্ষা সম্পর্কে আমার নিজের অভিজ্ঞতার কথা একটু বলতে হয় এখানে। ষোড়শ বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা ছিল সরকারী কলেজে প্রভাষক পদে নিয়োগের পরীক্ষা। পাস করবোই এরকম আত্মবিশ্বাস আমার ছিল। কারণ সে পরীক্ষায় প্রিলিমিনারী আর অনার্স ও মাস্টার্সে প্রাপ্ত নম্বর যোগ করার পর মৌখিক পরীক্ষায় পাস-ফেলের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। অনার্স ও মাস্টার্সে যে নম্বর পেয়েছিলাম এবং প্রিলিমিনারী পরীক্ষা যেমন দিয়েছিলাম - তাতে মৌখিক পরীক্ষায় শুধুমাত্র পাস মার্ক পেলেও আমার বিসিএস পাস করার কথা। কিন্তু সেরকম হয়নি। মৌখিক পরীক্ষায় আমাকে কী কী প্রশ্ন করা হয়েছে এবং কেমন হেনস্তা করা হয়েছে তা নাইবা বললাম। আমার মত আরো অনেকের এই অভিজ্ঞতা আছে। একথা সবাই জানেন যে যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তখন সে সরকারের লোক পি-এস-সির কমিটিগুলোতে থাকেন। যখনকার কথা বলছি তখন বিএনপি’র হাত ধরে জামায়াত ক্ষমতায়। মৌখিক পরীক্ষায় আমাকে সাবজেক্ট ভিত্তিক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার চেয়ে প্রশ্নকর্তাদের বেশি উৎসাহ দেখা গেলো আমার ধর্মীয় পরিচয় আর বিশ্বাস প্রসঙ্গে। আমার মা-বাবা হিন্দু এটা হয়তো গ্রহণযোগ্য ছিল তাঁদের কাছে। কারণ আমি নিজের ইচ্ছায় জন্মাইনি। কিন্তু নিজের যুক্তিতেই আমি নাস্তিক। উপাসনা ধর্মে আমার অবিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তার ধারণা আমার  কাছে অর্থহীন, অলৌকিক কোন কিছুর প্রতি প্রার্থনায় আমার বিশ্বাস নেই - এসব তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য। রেজাল্ট বেরোলে দেখা গেল আমি ফেল। ইউনিভার্সিটির পরীক্ষায় সেকেন্ড ক্লাস পেয়ে পাস করেও অনেকে বিসিএস পাস করে ফেললো, আর আমি ইউনিভার্সিটির পরীক্ষায় ফার্স্ট-সেকেন্ড হয়েও বিসিএস পাস করতে পারলাম না! ইউনিভার্সিটি আমার মত একটা গাধাকে ফার্স্ট ক্লাস দিলো কীভাবে? এরকম ব্যাপার অহরহ ঘটছে বাংলাদেশে। সুতরাং আবার চেষ্টা। ১৯৯৮ সালে ১৮তম বিসিএস-এর মৌখিক পরীক্ষা দিলাম। তখন আওয়ামী সরকারের প্রথমার্ধ। শুয়েপড়া শিক্ষাব্যবস্থাকে কিছুটা হলেও উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করার চেষ্টা করা হচ্ছিল তখন। মৌখিক পরীক্ষায় তখন ব্যক্তিগত বিষয়ে কোন প্রশ্ন করা হয়নি দেখে খুব ভালো লেগেছিল। সে বিসিএস পরীক্ষায় আমি বেশ ভালো ভাবেই পাস করেছিলাম। তবে সরকারী চাকরি আমার করা হয়নি - কারণ নিয়োগ পাবার আগেই আমি মেলবোর্নে চলে এসেছিলাম উচ্চতর শিক্ষা নেয়ার জন্য। এই হলো বিসিএস পরীক্ষার সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক।

বিসিএস পরীক্ষা আমাদের মত নিম্ন সামর্থ্যের মানুষের জন্যও মাঝে মাঝে আশার আলো দেখায়। সবাই না হলেও একটা বৃহত্তর অংশ এখনো মেধাকে সম্বল করেই প্রতিযোগিতায় নামেন। তাই ব্যবস্থায় কিছুটা গলদ থাকলেও পুরো ব্যবস্থার প্রতি এতটা অবিশ্বাস আগে কখনো ছিল না। কিন্তু এখন বিসিএস পরীক্ষা হয়ে গেছে একটা লটারির মত। পরীক্ষাতো ভালো হতেই হবে - তারপরও কখন কী হবে কেউ জানে না। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। শুধুমাত্র আই-ওয়াশ করা নয়। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার মত পরিবর্তন দরকার। সে ব্যাপারে আমার একান্ত নিজস্ব কিছু প্রস্তাব আছে। প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় যে নেগেটিভ মার্কিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবার থেকে - তাকে আমি স্বাগত জানাই। লিখিত পরীক্ষা যে রকম আছে সেভাবেই থাকতে পারে। মৌখিক পরীক্ষায় আলাদা ভাবে পাস করার বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়া হোক। পরীক্ষা কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধ করা হোক। পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রাপ্ত নম্বর প্রকাশ করা হোক। অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীরও জানার অধিকার আছে কোন বিষয়ে কত পেলেন। কোটা-ব্যবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ নীতি-মালা প্রকাশ করা হোক যাতে নিয়োগ প্রদানের বিষয়টি সবার কাছেই বোধগম্য হয়।

পুরো বিষয়টা নিয়ে যত সহজে লেখা যায়, প্রস্তাব করা যায় - তত সহজে কিন্তু প্রয়োগ করা যায় না। আমি আশা করি বিসিএস পরীক্ষায় আস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা দ্রুত করা হবে। ২৮তম বিসিএস পরীক্ষা হবে আস্থা ফিরিয়ে আনার পরীক্ষা। তারপর থেকে ব্যবস্থাটি আরো উন্নত থেকে উন্নততর হবে। কিন্তু কে জানে - হয়তো নতুন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার পেছনে হাঁটা শুরু হবে।


২৭ নভেম্বর ২০০৮
মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া

বিসিএস পরীক্ষা প্রসঙ্গে দুটো কথা


বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে যে জট লেগেছে তা যেন কিছুতেই ছাড়ানো যাচ্ছে না। ২৭ তম বিসিএস পরীক্ষায় ব্যাপক কারচুপি হয়েছে বলে প্রমাণিত হওয়ায় প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে আবার মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়েছে প্রায় বছর খানেক ধরে। এর মধ্যে ২৮তম বিসিএস পরীক্ষার আবেদন পত্র জমা নেয়া শেষ হয়েছে - তাও চার মাস হয়ে গেছে। ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার রেজাল্টের ব্যাপারে মামলা চলছিলো, তাই রেজাল্ট দেয়া যাচ্ছিলো না বলা হচ্ছিলো পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে। সে মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গেছে তাও প্রায় দু’মাস আগে। এখনো ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে না। ২৮তম বিসিএস পরীক্ষার কার্যক্রমও শুরু করা হচ্ছে না। দেশের লক্ষাধিক উচ্চশিক্ষিত কর্মপ্রার্থী অপেক্ষা করে আছেন - কখন বিসিএস পরীক্ষা হবে - কখন কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারবেন।

বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার করে কিছুটা আধুনিক করা হয়েছে বলা হচ্ছে। কিন্তু মূল সমস্যা রয়েই যাচ্ছে। বিসিএস পরীক্ষার প্রধান দুর্বলতা এর মৌখিক পরীক্ষা পদ্ধতি। যে পদ্ধতিতে মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে তা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে অনেক দিন আগেই। ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে নতুন করে মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। এই মৌখিক পরীক্ষাও যে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না তার প্রমাণ পাওয়া যাবে ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর। শুধুমাত্র ভাইভা-বোর্ডের সদস্য পরিবর্তন করলেই কি সব ঠিক হয়ে গেলো? বিসিএস পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষা এখনো পাস-ফেল নির্ধারণী পরীক্ষা। মৌখিক পরীক্ষার পাস-মার্ক না পেলে লিখিত পরীক্ষায় ফুল-মার্ক পেলেও প্রার্থী ফেল করবে। সে ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার মোট নাম্বার কত করা হলো তাতে তেমন কিছু যায় আসে না। একজন পরীক্ষার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করানো খুবই সহজ একটি কাজ, তেমনি সহজ পাস করানো। লিখিত বা মনস্তাত্ত্বিক বা শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষার রেকর্ড থাকে। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষায় শুধু প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর ছাড়া আর কোন রেকর্ড থাকে না। একজন পরীক্ষার্থীকে কী কী প্রশ্ন করা হলো - পরীক্ষার্থী কী উত্তর দিলেন - কোন কিছুরই কোন রেকর্ড থাকে না। সেক্ষেত্রে সকল পরীক্ষার্থীর প্রতি সমান আচরণ করার ব্যাপারটি রক্ষিত হয় না। সহকারী সার্জন হবার জন্য যে ডাক্তার পরীক্ষা দিতে এসেছেন - তাঁকে ফরাসী প্রেসিডেন্ট সারকোজির বান্ধবীর নাম না জানার অপরাধেও ফেল করানো সম্ভব। কারণ অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর পক্ষে প্রমাণ করার কোন উপায় নেই যে তাঁকে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করা হয়েছে। আবার সব প্রশ্নের উত্তর সঠিক ভাবে দেয়ার পরও যদি অন্য কোন কারণে (ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা, রাজনৈতিক আদর্শ ইত্যাদি) প্রার্থীকে ফেল করানো হয় - তাহলেও কারো কিছু বলার থাকে না। কারণ পরীক্ষার্থীর প্রশ্নোত্তরের কোন রেকর্ড থাকে না।

বিসিএস মৌখিক পরীক্ষাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার ব্যবস্থা না করে বার বার পরীক্ষা নিয়ে আসলে যা করা হচ্ছে তা হলো বই-এর টেক্সট ঠিক রেখে কভার বদলানোর মত। বিসিএস মৌখিক পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর রেকর্ড রাখার ব্যবস্থা করা যায় খুব সহজেই। প্রতিজন পরীক্ষার্থীর জন্য যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় বরাদ্ধ করা হয় এবং বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন-কাঠামো থাকে - তাহলে পরীক্ষার্থীর সাথে পরীক্ষকদের কথোপকথন টেপ করে রাখলেই হলো। আই-ই-এল-টি-এস পরীক্ষার স্পিকিং অংশ যেভাবে রেকর্ড করা হয় - সেভাবে রেকর্ড করার জন্য কোন উন্নত প্রযুক্তিরও দরকার নেই। যে কোন টেপ-রেকর্ডার, অডিও টেপ আর ব্যাটারি হলেই চলে। ২৮তম বিসিএস পরীক্ষার ফরম এর মূল্য বাবদ দুশ’ টাকা এবং ফরম জমা দেয়ার সময় পাঁচশ’ টাকা -  মোট সাতশ’টাকা করে নেয়া হয়েছে প্রতিজন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে। এর খুব সামান্য অংশ খরচ করলেই মৌখিক পরীক্ষার কথোপকথন রেকর্ড করা সম্ভব।

২২/১/০৮ তারিখে প্রকাশিত বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তির ১৯ নম্বর ধারায় প্রার্থীদের স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা সম্পর্কে বলা হচ্ছে কোন পুরুষ প্রার্থীর উচ্চতা পাঁচ ফুটের কম এবং কোন মহিলা প্রার্থীর উচ্চতা চার ফুট দশ ইঞ্চির কম হলে “তাঁরা কোন ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য শারীরিকভাবে যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না”। এই ধারাটি বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। তাছাড়া প্রযুক্তিগত উন্নতির এই যুগে শারীরিক উচ্চতা কোন কাজের জন্যই একটি পূর্বশর্ত হতে পারে না। একজন ছেলে বা মেয়ে যে কোন উচ্চতা নিয়েই যদি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে আসতে পারে - তাহলে সরকারি কাজের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবার তো কথা নয়। এখন অস্ট্রেলিয়া বা আমেরিকার মত দেশে সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্যও শারীরিক উচ্চতার বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়া হয়েছে। বিসিএস পরীক্ষায় শারীরিক উচ্চতার শর্তটি তুলে নেয়া উচিত।

2008
Melbourne

Tuesday, 24 April 2018

সরকারি কর্মকমিশনের প্রতি আবেদন

অনেক পুরনো একটি আবেদন।

১৯৯৭ সালের জানুয়ারি মাসে দৈনিক সংবাদ-এর চিঠিপত্র কলামে প্রকাশিত হয়েছিল। তারপর কেটে গেছে আরো বিশটি বিসিএস পরীক্ষা। এখনো মৌখিক পরীক্ষা বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।



Latest Post

Ken Amos — My Teacher My Mentor

  For many people, another kind of student life begins after the formal years of schooling, college, and university degrees have come to an ...

Popular Posts