Showing posts with label সত্যজিৎ রায়. Show all posts
Showing posts with label সত্যজিৎ রায়. Show all posts

Wednesday, 6 May 2026

প্রিয় সত্যজিৎ রায়

 


সত্যজিৎ রায়কে আজীবন সম্মাননা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্কার পুরষ্কার কমিটি ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরেই টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিল। কথা ছিল ১৯৯২ সালের ৩০ মার্চে লস আঞ্জেলেসে গিয়ে অস্কার পুরষ্কারের অনুষ্ঠানে গিয়ে পুরষ্কার গ্রহণ করবেন সত্যজিৎ রায়। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে তাঁর শরীর এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে তাঁর পক্ষে সশরীরে গিয়ে পুরষ্কার গ্রহণ করা সম্ভব হবে না জানিয়ে দেয়া হলো।

Sunday, 26 April 2026

সন্দীপ রায়ের বাবা সত্যজিৎ রায়

 


সত্যজিৎ রায়ের জীবনদর্শনের নির্যাস সত্যজিৎ রায় নিজেই দিয়ে গেছেন তাঁর শেষ চলচ্চিত্র আগন্তুক-এ। ব্যক্তি মানুষের জীবদ্দশায় জীবনদর্শন বদলাতে পারে অনেকবার। আমরা অনেক বিখ্যাত মানুষের ভেতরই দেখেছি এরকম ঘটতে। যৌবনে নিখুঁত যুক্তিবাদী বার্ধ্যক্যে এসে অলৌকিক ধর্মের পায়ে আছড়ে পড়েছেন এরকম অহরহ দেখা যায়। মুক্তিযোদ্ধা রাজাকারে রূপান্তরিত হতেও দেখেছি অনেক। তাই একজন মানুষের সামগ্রিক জীবনদর্শন তাঁর জীবন শেষ হয়ে যাবার পরেই ঠিকমতো বিশ্লেষণ করা যায়।

Sunday, 7 May 2023

সত্যজিৎ রায়ের "মোল্লা নাসীরুদ্দীনের গল্প" - পাঠ

 সত্যজিৎ রায় মোল্লা নাসীরুদ্দীনের গল্পগুলি লিখেছিলেন শিশুদের জন্য। সেন্স অব হিউমার - সূক্ষ্ম হাস্যরসবোধ থাকলে এই অণুগল্পগুলির রস আস্বাদন করা সহজ এবং অনেক বেশি আনন্দদায়ক। গল্পগুলি পড়ার সময় অনেক আনন্দ পেয়েছি। 




Sunday, 30 May 2021

সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা - সীমাবদ্ধ

 



কথাশিল্পী শংকর তাঁর উপন্যাস থেকে চলচিত্র তৈরির ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন  এভাবে - গল্প হলো লেখকের কাছে নিজের কন্যার মতো। আর সেই গল্প যখন সিনেমার জন্য দিয়ে দেয়া হয় - তখন মূলত কন্যাসম্প্রদান করা হয়। কন্যার বিয়ের পর যেমন পিতার আর তেমন কিছু করার থাকে না, তেমনি গল্প থেকে সিনেমা হলে সেখানে পরিচালকের উপর কাহিনিকারের তেমন কিছু বলার থাকে না। সত্যজিৎ রায় শংকর এর উপন্যাস থেকে দুইটি সিনেমা তৈরি করেছেন। জন অরণ্য এবং সীমাবদ্ধ। দুটি সিনেমার কোনটির কাহিনিতেই তেমন কোন পরিবর্তন তিনি করেননি। সত্যজিৎ রায় সবসময় এমন কাহিনিই বাছাই করেন যেন কাহিনির খুব বেশি পরিবর্তন না করতে হয়। 

একটি বিদেশী কোম্পানির ফ্যান সেকশানের সেল্‌স চিফ শ্যামলেন্দু। খুব ধীরে ধীরে খুব ছোট অবস্থা থেকে কোম্পানির অনেক উঁচু লেভেলে উঠেছেন শ্যামলেন্দু। উঁচু পদে উঠতে যত কষ্ট করতে হয়, ধরে রাখতে আরো বেশি কষ্ট করতে হয়। এখানে কষ্ট মানে শারীরিক পরিশ্রম নয়। এখানে কষ্ট মানে কৌশল, অফিসের রাজনীতি আর প্রয়োজনে অন্যায় করার মানসিকতা। শ্যামলেন্দু ঠিক তাই করে - যতটা করতে হয় উপরে উঠার জন্য। মালিকের স্বার্থ দেখার জন্য কারখানায় গন্ডগোল লাগিয়ে দেয়। তার পুরষ্কারও পায় সে। কোম্পানির ডিরেক্টর হয়। কিন্তু নিজের কাছে নিজে ছোট হয়ে যায়। নিজের শ্যালিকার কাছে সে মুখ দেখাতে পারে না। কারণ আদর্শবান শ্যালিকা সব জেনে যায়। 

সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা মানে বাস্তব চরিত্রের দৃশ্যায়ন। একটুও বাহুল্য নেই কোথাও, আবার ডিটেল্‌স এর এক ফোঁটা কমতি নেই কোথাও। কী চমৎকার অভিনয় বরুন চন্দ, শর্মিলা ঠাকুরসহ সবার। 


ইউটিউব থেকে সিনেমাটি দেখতে পারেন লিংকে। 





Sunday, 2 May 2021

সত্যজিৎ রায় - ১



১৯২১ সালের ২ মে সত্যজিৎ রায়ের জন্ম। আজ তাঁর জন্মশতবার্ষিকী।

কিছু কিছু মানুষ থাকেন – যাঁরা নিজেদের কাজের মধ্য দিয়ে একাই একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে ওঠেন। তখন তাঁদের নামের সাথে অন্য কোন বিশেষণ যোগ করতে হয় না। আইনস্টাইন বললে যেমন আর কিছুর দরকার হয় না, চার্লি চ্যাপলিনেরও যেমন দরকার নেই আলাদা কোন পরিচয়ের, তেমনি আমাদের সত্যজিৎ রায় – একাই একটি প্রতিষ্ঠান। মানুষ যখন বড় হতে হতে সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যান, তখন স্বভাবতই তিনি একা হয়ে যান। অনেকসময় তাঁর প্রশ্রয়ে নানাধরনের স্তাবকেরা ঘিরে রাখে তাঁর চারপাশ। তখন তিনি ক্রমশ অস্বাভাবিক হয়ে পড়েন। তাঁদের চিন্তার বৈকল্যও দেখা দিতে শুরু করে একটা সময়ের পর। তিনি যখন জানেন – যে কোনো ব্যাপারে তাঁর কথাই শেষ কথা – তখন তিনি এলোমেলো বকতে শুরু করেন। আমাদের দেশের অনেক বড় বড় বুদ্ধিজীবীর ক্ষেত্রেও আমরা দেখেছি সেরকম ঘটতে।  কিন্তু সত্যজিৎ রায়ের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি তাঁর বয়স যত বেড়েছে – তাঁর মস্তিষ্ক আরো পরিষ্কার হয়েছে, যুক্তি হয়েছে আরো ধারালো। কিন্তু তাঁর বিনয়ে এতটুকু ভাঁটা পড়েনি, আচরণ বদলায়নি একটুও। যতদিন পর্যন্ত তাঁর শরীর ঠিক ছিল – ততদিন তিনি সবসময় নিজে টেলিফোন রিসিভ করেছেন, নিজে দরজা খুলে অভ্যর্থনা করেছেন তাঁর সাক্ষাৎপ্রার্থীদের। মানুষ সত্যজিৎ রায়ের এই দিকটি আমাকে ভীষণ টানে।

           

নব্বই বছর বাঁচলে আশি বছর পর্যন্ত ছবি তৈরি করতে চেয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়। তিনি নব্বই বছর বাঁচেননি, ১৯৯২ সালে মাত্র ৭০ বছর বয়সে তাঁর জীবনাবসান হয়। তিনি শিল্প, সংগীত, সাহিত্য, চিত্রকলা ইত্যাদি যেসব বিষয়ে কাজ করেছেন – প্রত্যেকটি বিষয়েই সোনা ফলিয়েছেন। তাঁর কোনো সিনেমার কোথাও কোনো অতি-নাটকীয়তা নেই। তাঁর চরিত্রগুলির জন্য যে সব সংলাপ তিনি নিয়েছেন – তার কোনটাকেই মনে হয়নি অবাস্তব, কিংবা অসংলগ্ন। ভারতীয় চলচিত্রের বেশিরভাগই যেখানে মোটা দাগে চড়াসুরে অতিনাটকীয়তায় ভরপুর, সেখানে এতটা জীবনসমৃদ্ধ ছায়াছবি তিনি কীভাবে তৈরি করে গিয়েছেন একের পর এক? তিনি জানতেন চলচিত্রের বোদ্ধা দর্শক বলতে যাদের বোঝায় – তাঁদের সংখ্যা আমাদের দেশে খুব বেশি নেই। তাঁর সময়ে – যখন মোবাইল ফোন, কিংবা ইন্টারনেটের জন্মও হয়নি – বোদ্ধা দর্শকের সংখ্যা ছিল আরো কম। কীভাবে তিনি নিজেকে স্থির রেখেছিলেন হুল্লোড়ের প্রভোলন থেকে, বাণিজ্যিক ছবির প্রযোজকদের হাতছানি থেকে? তাঁর সিনেমা কি দুর্বোধ্য ছিল? তাঁর কোন সিনেমাই দুর্বোধ্য নয়। তিনি খুব ভালো করে জানতেন ফিচার ফিল্মে দুর্বোধ্যতার কোন স্থান নেই। তার সিনেমায় বাস্তব মানবিকতাই প্রাধান্য পেয়েছে বার বার।

 

সত্যজিৎ রায়ের হাত দিয়ে তৈরি হয়েছে প্রফেসর শংকু আর ফেলুদার মতো পাঠকপ্রিয় চরিত্র। এঁদের গল্প ছাড়াও তিনি আরো শতাধিক গল্প লিখেছেন। প্রত্যেকটি গল্পই স্বতন্ত্র। প্রেমের গল্প বলতে যা বোঝায় – সেরকম রোমান্টিক ভালোবাসার কোন গল্প তিনি লিখেননি। কোন উপন্যাসও লিখেননি। কারণ তাঁর প্রধান ভালোবাসা ছিল সিনেমা। উপন্যাসের প্লট মাথায় এলে তিনি সরাসরি চিত্রনাট্যই তৈরি করে ফেলেছেন। তাঁর সিনেমার ভিলেনরাও রক্তমাংসের মানুষ। দাঁত খিঁচানো ভয়ংকর অঙ্গভঙ্গি করা ভিলেন তিনি তৈরি করেননি। কিন্তু ইনার ভিলেনি, মনের ভেতরের নৃশংসতার ব্যাপারটা তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলিতে বাস্তবভাবেই আছে।

 

সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে চর্চা চলবে আরো অনেক যুগ। তাঁর সৃষ্টির বিশ্লেষণ হবে বিভিন্ন আঙ্গিকে। আমাদের বাংলাদেশে তাঁর জীবদ্দশাতে তাঁর সিনেমা দেখার অবাধ সুযোগ ছিল না। পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলিতে ভারতীয় বাংলা সিনেমা দেখানো হতো। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের চলচিত্রকে প্রতিযোগিতাহীনভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশে ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়। তাতে কতটুকু লাভ হয়েছে তা আজ আমরা সবাই দেখতে পাচ্ছি। বিশ্বমানের সিনেমার সাথে আমাদের সিনেমা কতটুকু পাল্লা দিতে পারছে, কিংবা পাশাপাশি দাঁড়াতেও পারছে কি না – তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু আমরা বঞ্চিত হয়েছি ভালো সিনেমা দেখার সুযোগ থেকে। এখন ইন্টারনেট ও বিশ্বায়নের যুগে আমরা বিশ্বের সব সিনেমাই এখন সহজে দেখতে পারি। কিন্তু যে মিডিয়ায় আমরা সত্যজিতের সিনেমা দেখছি – সত্যজিৎ সেধরনের ছোট পর্দার জন্য তৈরি করেননি তাঁর সিনেমাগুলি। ফলে ছোট পর্দায় তাঁর সিনেমার অনেক ডিটেল্‌স আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। সেটুকু বাদ দিয়েও যেটুকু আমাদের মননে ঢোকে – তাতেই আমরা ঋদ্ধ হই। আমরা গৌরব করে বলি – সত্যজিৎ রায় – আমাদেরই তো লোক, আমাদের ভাষাতেই তো তিনি কথা বলেন। তিনিই তো লিখেছেন আমাদের সবার জন্য –

“সে যে সুরের ভাষা, ছন্দের ভাষা,

প্রাণের ভাষা, আনন্দের ভাষা,

ভাষা এমন কথা বলে

বোঝে রে সকলে

উঁচা নিচা ছোট বড় সবাই।

মোরা সেই ভাষাতেই করি গান।

মহারাজা – তোমারে সেলাম।।“

 

মহারাজা – জন্মশতবার্ষিকীতে তোমারে সেলাম।


Latest Post

এলিয়েনের সম্ভাবনা ও বিজ্ঞান

  পৃথিবীর বাইরে অন্য কোনো গ্রহ বা উপগ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ এখনো নিশ্চিতভাবে পাওয়া না গেলেও, অনেকেই বিশ্বাস করেন যে ভিন গ্রহেও প্রাণ...

Popular Posts