Sunday, 23 August 2026

পাঠকের দিনলিপি ৫-অক্টোবর-২০০৪

 


অক্টোবর ৫, ২০০৪

অক্টোবর মাস চলে এসেছে। পাঁচদিন চলেও গেলো। গতমাসের শেষ সপ্তাহটা সান্টা ফে তে কেটেছে। খুব কিছু পড়া হয়নি এই সময়।

ফিরে এসে সংবাদপত্রের কিছু কলাম পড়েছি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের পেপারগুলির ইন্টারনেট সংস্করণ এখানের সময়ে একদিন আগেই পেয়ে যাই।

আজকের ভোরের কাগজ পড়েছি গতকাল। এরকম।

৫/১০/০৪ তারিখের ভোরের কাগজে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম লিখেছেন আইনের শাসনের নামে অপশাসন চালালে ক্ষতিটা দেশেরই। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ভীষন খারাপ। এই নিয়ে শুভবুদ্ধির মানুষের মনও খারাপ। বাংলাদেশকে নিয়ে গৌরব করার কিছু নেই আর আজ।

৪/১০/০৪ তারিখের প্রথম আলোর আলপিন পড়লাম। নন্দলাল আর আমি যদি পিঠে তোর ওই কবিতা দু’টি আবার পড়ে ভালো লাগলো। নন্দলাল অনেক বার পড়া। কিন্তু আমি যদি পিঠে তোর ওই কবিতাটির কথা মনে পড়ছে না আগে কখন পড়েছিলাম। বড় সুন্দর মনকাড়া কবিতাঃ 

আমি যদি পিঠে তোর ওই, লাথি একটা মারিই রাগে;

-তোর তো আস্পর্ধা বড়, পিঠে যে তোর ব্যথা লাগে?

আমার পায়ে লাগল সেটা কিছুই বুঝি নয়কো বেটা?

নিজের জ্বালায় নিজে মরিস, নিজের কথাই ভাবিস আগে।


লাথি যদি না খাবি তো জন্মেছিলি কিসের জন্যে?

আমি যদি না মারি তো, মেরে সেটা যাবে অন্যে!

আমার লাথি খেয়ে কাঁদা, -ন্যাকামি নয়? শুয়োর গাধা!

দেখছি যে তোর পিঠের চামড়া ভরে গেছে জুতোর দাগে!


আমার সেটা অনুগ্রহ যদি লাথি মেরেই থাকি;

লাথি যদি না মারতাম তো না মারতেও পারতাম না কি?

লাথি খেয়ে ওরে চাষা! বরং রে তোর উচিত হাসা,

যে তোর কথাও মাঝে মাঝে, তবুও আমার মনে জাগে।


বরং উচিত আগে আমার পায়ে হাত তোর বুলিয়ে দেওয়া;

পরে ধীরে ধীরে নিজের পিঠের দাগটা মুছে নেওয়া!

পরে বলা ভক্তিভরে, -প্রভু! অনুগ্রহ করে

পৃষ্ঠে তো মেরেছো লাথি মারো দেখি পুরোভাগে!

-দেখি সেটা কেমন লাগে।

 

ভয়ংকর সাতদিন কলামে সত্যি খবর গুলি পরিবেশন করা হয়, অথচ কেমন লাগে! চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৭নম্বর ইউনিয়নের কৈলাইন তুলপাই গ্রামে এক নুরানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক তাজুল ইসলাম। ৭ থেকে ১০ বছরের বাচ্চাদের মারাত্মক রকমের শাস্তি দেন। মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যাবার অপরাধে লোহার রড গরম করে ৭ বছরের ছেলে ফারুক হোসেনকে শরীরের নানা স্থানে ছ্যাক দেন। একই রাতে মোস্তফা কামাল নামে ৬ বছরের এক ছেলেকেও। তাজুল ইসলামের কোন শাস্তি হয় না। বাংলাদেশের মাদ্রাসা গুলিতে কী হয় তা না জানার কথা নয় দেশচালকদের। আমাদের মতো দেশে মাদ্রাসা থেকে কী এমন সোনার খনি বেরুবে যে এই ব্যবস্থাটাকে সারজল দিয়ে তাজা করা হচ্ছে দিনে দিনে।

জাহাংগীর নগর ইউনিভার্সিটির ফিজিক্সের শিক্ষক ওবায়দুর রহমান নাকি বোরকা পরে আসেনি বলে এক ছাত্রীর পরীক্ষা নেননি। ক্লাসে ছাত্রীরা বোরকা পরে না এলে তিনি নাকি ক্লাস নেবেন না বলে হুমকি দিয়েছেন। ২০৪ নাম্বার কোর্সে তিনি নাকি আল্লাহর গুনগান সম্বলিত একটা এসাইনমেন্ট দিয়েছেন। হিন্দু ছাত্রছাত্রী আর কর্মচারীদের নাকি তিনি মুসলমান নামে ডাকেন।

এই যদি সত্যি হয়, তাহলে বুঝতে হচ্ছে এই লোকটা সুস্থ নন। আমি ওবায়দুর রহমান নামে একজনকে চিনতাম। আমি যখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদের জন্য ইন্টারভিউ দিতে যাই প্রথম বার, তখন তিনিও এসেছিলেন। খুব মেধাবী বলে শুনেছি। তিনি নিয়োগ পেয়েছিলেন। কিছুদিন চাকরিও করেছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে জাহাংগীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসেন। 

আমি যখন জাহাংগীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদের জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছি সেই মিটিং এ তিনিও এসেছিলেন পদোন্নতির কাজে। তাঁর সম্পর্কে যতটুকু শুনেছিলাম তাতে তো মনে হয়েছিলো তিনি মোটামোটি মানের প্রগতিশীল। এখন মনে হচ্ছে আমি যে ওবায়দুর রহমানকে চিনি এখানকার ঘটনার নায়ক তিনি নন। 

কিন্তু এই ওবায়দুর রহমান ফিজিক্স পড়ে আসলে কী শিখলেন? বাংলাদেশে যদিও পড়াশুনা থেকে কেউ কোন কিছু আসলে শিখে বলে মনে হয় না। এরকম জেনারালাইজেশান করা উচিত হচ্ছে না আমার। কিন্তু মনে হচ্চে বর্তমানের এই আমি ওবায়দুর রহমানকে এখানে পেলে এক হাত দেখে নিতাম। কতটা সাবধানী আচরণ আমার। বলছি এখানে মানে আমেরিকায় পেলে। বাংলাদেশে পেলে নয় কেন? কারণ আমার ঘাড়ের মুন্ডুটার প্রতি আমার কিছুটা মায়া এখনো আছে।

---------

কলম্বাস, ওহাইও


No comments:

Post a Comment

Latest Post

Ken Amos — My Teacher My Mentor

  For many people, another kind of student life begins after the formal years of schooling, college, and university degrees have come to an ...

Popular Posts