অক্টোবর ১০, ২০০৪
কয়েকদিন পরে পেপার পড়লাম আজ। সময়ের অভাবে ভালো করে পড়া সম্ভব হয়নি তেমন কিছু। তবে কয়েকটা প্রবন্ধ পড়েছি। যুগান্তরের পাতায় আবদুল গাফফার চৌধুরির লেখা পড়লাম। তিনি এবার আমেরিকার নির্বাচন প্রসংগে লিখেছেন। আমার মনে হলো কিছুটা বাড়িয়ে লিখেছেন তিনি। বিশেষ করে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি প্রসংগে যেভাবে জামা কাপড় জূতা মোজা খোলার কথা লিখেছেন তা কিন্তু এখানে আমি এত এয়ারপোর্টে গেলাম আসলাম, কখনো তো দেখলাম না।
ভোরের কাগজের মহিউদ্দিন আহমেদের কলামে সাব্বাস, বাংলাদেশের মেয়েরা ফুটবলও খেলছে লেখাটা দারুণ ভালো লেগেছে। আমাদের দেশের মেয়েরা এতদিন বাস্কেট বল, বেডমিন্টন, ভলিবল ইত্যাদি খেলেছে, এবার ফুটবল খেলতে শুরু করেছে। ইসলাম ধর্মের কিছু ব্যবসায়ীর কাছে এতে খুব গাত্রপীড়া দেখা দিচ্ছে। মহিউদ্দিন আহমেদ লিখছেন মওলানা মান্নানের চার ছেলে আর এক জামাইয়ের কারো দাড়ি নেই। কেউই ইসলামী পোশাক পরে না, সবাই পরে নাসারাদের লেবাস, মানে কোট পেন্ট। এরাই কিন্তু মেয়েদের ফুটবল খেলার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে।
আফগানিস্তানে নির্বাচন হয়ে গেলো। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন মহিলা প্রার্থীও ছিলেন। মাসুদা জালাল। আফগানিস্তানে তালেবানরা যে কী করে রেখেছিলো সে দেশের মেয়েদের আর প্রগতিবাদীদের। জর্জ বুশকে আর কিছু না হলেও শুধু এটার জন্যই ধন্যবাদ দেয়া যায়।
প্রথম আলোর আলপিন পড়লাম। সৌরভ সাখাওয়াতের গজাল আর সুমন্ত আসলামের কষ্ট, তুই বৃষ্টি হতে পারতিস, ভালো লাগলো।
আনন্দ বাজারের রবিবাসরীয়তে অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় একটা প্রেমের গল্প লিখে ফেলেছেন। মিস্ড কল। একজন বিজ্ঞাপন চিত্র নির্মাতার বিজ্ঞাপন নাকি সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছে। তার বিজ্ঞাপন চিত্রের মডেল হবার জন্য সবাই প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্য একজন তাকে কেবল মিস্ড কল দিয়ে যাচ্ছে। এই লোক তা ধরতে পারছে না। শেষে দেখা গেলো তার হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকা। গল্পটা কিন্তু একদম কাঁচা রয়ে গেছে। বিপ্লব বাবু তা কি জানেন?
সামনে দুর্গাপুজা। আনন্দবাজারে আধুনিক দুর্গাপ্রশস্তি রচনা করেছেন মল্লিকা সেনগুপ্তা। অনেক বড় এই লেখাটা। কিন্তু বেশ ভালো। অংশবিশেষ এখানে লিখে রাখছি।
আমার দুর্গা
পাহাড়ের মেয়ে উমাপার্বতী গিরি
দার্জিলিঙের শীতে সে ধরায় বিড়ি
মদ খেয়ে খেয়ে বরটা ভেগেছে নীচে
কাজের আশায় গেছে মুম্বাই বিচে
আর সে ফেরে না, চিঠিও লেখে না তাকে
উমা তাই একা নিজের পায়েই থাকে
স্কোয়াশ ফলায় নিজেই নিজের টংকা
স্বয়ংসিদ্ধা সে জয় করেছে শংকা।
যা দেবী সর্ব ভূতেষু গিন্নিরূপেণ
সংস্থিতা
যা দেবী সর্ব ভূতেষু লিঙ্গসাম্যে
সংস্থিতা
যা দেবী সর্ব ভূতেষু কন্যাভ্রূণে
সংস্থিতা
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো
নমঃ^
রেলস্টেশনের বগিতে মেয়েটি কী রোগা!
ঘুমিয়েছিল তা জানত কেবল দারোগা
অবসরমতো বলাৎকারের জন্য
গেলেন দারোগা, লোকেরা ভাবল অন্য
ধর্ষণ শেষে দারোগা হাওয়াস মেটাল
পাড়ার মেয়েরা দারোগাকে ঝাঁটা পেটাল
দিনকাল সব এমন হয়েছে বাব্বা
মেয়েরা আইন হাতে নেয় মারহাব্বা!
যা দেবী সর্ব ভূতেষু আন্দোলনে সংস্থিতা
যা দেবী সর্ব ভূতেষু বিশ্বায়নে সংস্থিতা
যা দেবী সর্ব ভূতেষু ধর্ষিতাতে সংস্থিতা
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো
নমঃ^
*****
আবাহন শ্লোক
জাগো দেবী যশোমতী দুর্গতিনাশিনী
জাগো দেবী শক্তিরূপা স্বাধীনচারিণী^
জাগো দেবী জলে স্থলে শহরে জঙ্গলে
যেখানে যেখানে বৌ অগ্নিকান্ডে জ্বলে^
জাগো দেবী রান্নাঘরে, জেনানা ফাটকে
জাগো দেবী শিল্পঘরে, কবিতা নাটকে^
জাগো দেবী বিলকিস বানুর দুর্দিনে
জাগো দেবী গুজরাতে কুতুবুদ্দিনে^
কেওন ঝড়ের মৃত বিশপের মেয়ে
যদি ফিরে আসে দেবী জাগো গান গেয়ে^
একুশ শতকে এই বাংলার ঘরে
এসো দেবী শীতবর্ষা অনাবৃষ্টি ঝড়ে^
জাগো জাগো শস্যদেবী, তোমার বাঁ হাতে
আমলাশোলের থালা ভরে দাও ভাতে^
আমাদের ঘরে ঘরে হেতাল পারেখ
ধর্ষণ না ঘটে যেন আবার আরেক^
ঝাঁটা ও ডান্ডা নিয়ে যে সব কন্যায়
আদালতে ঢুকে পড়ে ধর্ষক পেটায়
হাতা ও খুন্তি হাতে যে সব মায়েরা
লড়াই জীবনপণ চলে মুশায়েরা^
জাগো মা জাগো মা আজও অসুরদলনী
আজ বলো সেই কথা যে কথা বলোনি^
জাগাও তোমার যত কন্যাদেরও মা!
জাগো সাধারণ মেয়ে দেবীর উপমা^
****
কন্যা শ্লোক
আমার দুর্গা পথে প্রান্তরে ইস্কুল
ঘরে থাকে
আমার দুর্গা বিপদে আপদে আমাকে মা
বলে ডাকে
আমার দুর্গা আত্মরক্ষা, শরীর পুড়বে,
মন না
আমার দুর্গা নারীগর্ভের রক্তমাংসের
কন্যা
আমার দুর্গা গোলগাল মেয়ে, আমার দুর্গা
তন্নী
আমার দুর্গা কখনও ঘরোয়া, কখনো আগুন
বহ্নি
আমার দুর্গা মেধা পাটকর, তিস্তা
শীতলবাদেরা
আমার দুর্গা মোম হয়ে জ্বালে অমাবস্যার
আঁধেরা
আমার দুর্গা মণিপুর জুড়ে নগ্ন মিছিলে
হাঁটে
আমার দুর্গা কাস্তে হাতুড়ি আউশ ধানের
মাঠে^
কলম্বাস, ওহাইও

No comments:
Post a Comment