Sunday, 23 August 2026

পাঠকের দিনলিপি ১৫-অক্টোবর-২০০৪

 




অক্টোবর ১৫, ২০০৪

অক্টোবরের ৮ তারিখে ভোরের কাগজে সাদ’উল্লাহ লিখেছেন ঈলা তালাক বিষয়ে। কোরানে হিল্লা বিবাহের মতো ঈলা তালাকের কথা বলা আছে যা হলো ঠিক তালাক না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা। কোন কারণে স্বামী যদি স্ত্রীর উপর অসন্তুষ্ট হন তাহলে তিনি স্ত্রীর সাথে মেলামেশা বন্ধ করে দিতে পারেন একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এই ব্যবস্থায় তিনি স্ত্রীকে পূর্ণ তালাক দেবেন কি দেবেন না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিন মাস সময়ের ভেতরে সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে ঈলা তালাক সত্যিকারের তালাকে পরিণত হবে। নারীর

নিজের কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা এখানেও নেই। নারী শরীর নিয়ে অনেক সূরা আছে কোরানে। ঋতুমতী হলে নারীকে অপবিত্র ঘোষণা করা হয়েছে কোরানেও। হবে নাই বা কেন। কোরান তো এর আগের কোন ধর্মগ্রন্থের বাইরে যায়নি খুব একটা। কেবল কয়েকটি ব্যাপার ছাড়া।

২০০৪ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন অস্ট্রিয়ার এলফ্রিয়েডে ইয়েলিনেক। নারীবাদী কমিউনিস্ট এই লেখিকাকে নিয়ে প্রতিবেদন বেরিয়েছে দেশের সব কাগজের সাহিত্য সাময়িকীতে। সাহিত্য নিয়ে যতটা মাতামাতি করা হয়, বিজ্ঞান নিয়ে সেরকম হয় না আমাদের দেশে। কারণ আমাদের দেশে বিজ্ঞান লেখকের খুব অভাব। আমি নিজে কিছু লিখবো মনে করেছিলাম। কিন্তু আমি নিজেও তো সাহিত্যে যত সময় দিচ্ছি বিজ্ঞান লেখায় সেরকম দিচ্ছি না তো।

আজকের কাগজের সাহিত্য পাতার নাম সুবর্ণরেখা। বেরোয় প্রতি বৃহস্পতিবার। যুগান্তর, জনকণ্ঠ, ভোরের কাগজ আর প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকী বেরোয় শুক্রবার। আজকের কাগজে ইয়েলিনেকের একটা সাক্ষাৎকার ছাপানো হয়েছে রফিক উম মুনীর চৌধুরীর অনুবাদে। রফিক চৌধুরী নিজের কথায় বলছেন ট্রেন্ড অনুযায়ী মনে হচ্ছে একদিন আমাদের তসলিমা নাসরিনও নোবেল পুরষ্কার পেয়ে যেতে পারেন। কারণ ইয়েলিনেকের সাথে তসলিমার অনেক কিছুর মিল আছে। প্রায় অপরিচিত এই লেখিকা রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যাবেন তাই-ই স্বাভাবিক।

জীবনানন্দ দাসের কবিতার উপর লম্বা একটা লেখা আছে। আমি পড়িনি, কারণ এধরনের লেখা আমি হজম করতে পারি না।

লতিফা নাজির লিখেছেন এ সপ্তাহের গল্প আজকের কাগজে। গল্পের নাম ঢেউ। ও লেভেলের ছাত্রী লিসা বাবা মায়ের সাথে কক্সবাজার গেলো জীবনের প্রথম বার। সেখানে মির্জা নামে মা মেহেরিনের এক দূরসম্পর্কের ভাই তাদের দেখাশোনা করলো। আরামে রাখলো হোটেলে। গাড়ি দিয়ে সাহায্য করলো। কয়েকদিন বীচে গেলো। সাগরে স্নান করলো। মেহেরিন অসুস্থ হয়ে পড়লো। লিসা মির্জার সাথে সাগরে গেলো। স্রোতের টানে ভেসে যাচ্ছিলো। মির্জা বাঁচালেন তাকে। হোটেলে পৌঁছে দেয়ার পরে মেহেরিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন ঢাকায় ফিরে যাবেন। এই হলো গল্প। লেখিকা ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন এখানে? মির্জা তো খারাপ মানুষ নন। লিসার মনেও কোন ধরনের প্রশ্নের জন্ম হয়নি। এধরনের একটা গল্প পড়েছিলাম অনেকবছর আগে সানন্দায়। সেখানে মায়ের বন্ধুর সাথে মেয়ের হাসাহাসি খুনসুটি মায়ের ভালো লাগেনি। এখানেও সেরকম কিছু একটা দেখাতে চেয়েছেন লতিফা নাজির। কিন্তু পরিষ্কার হয়নি এর পেছনের যুক্তিটা।

-------

কলম্বাস, ওহাইও

No comments:

Post a Comment

Latest Post

Ken Amos — My Teacher My Mentor

  For many people, another kind of student life begins after the formal years of schooling, college, and university degrees have come to an ...

Popular Posts