Showing posts with label বাংলাদেশ. Show all posts
Showing posts with label বাংলাদেশ. Show all posts

Monday, 14 September 2026

বাংলাদেশি ডাক্তার সমাচার ১: তোফা ও তহুরা

 


আমাদের ডাক্তারদের নিয়ে গর্ব করার মতো অসংখ্য ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে বাংলাদেশে। কিন্তু ডাক্তারদের সমালোচনা করার ব্যাপারে আমরা যতটা উৎসাহী, প্রশংসা করার ব্যাপারে ততটাই কৃপণ। আর ডাক্তারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো তো মনে হয় আমাদের সংস্কৃতিতেই নেই।

গতকাল (১/৮/২০১৭) বাংলাদেশের সার্জারির ইতিহাসে আরেকটি মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে আমাদের ডাক্তারদের হাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে। দশ মাস বয়সী জোড়া লাগানো যমজ শিশু তোফা ও

Wednesday, 9 September 2026

দীপু সানার মৃত্যুর জন্য আসলে কে দায়ী?

 


ঢাকা শহরের বড়লোকরা যখন বড় বড় বাড়ি বানান কত লক্ষ কোটি টাকা খরচ করেন, পাল্লা দিয়ে জেল্লা বাড়ান দালান কোঠার। কিন্তু লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ যারা তাঁদের নির্মাণাধীন ইমারতের পাশ দিয়ে, নিচে দিয়ে হেঁটে যান – তাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য সামান্য কয়েকটি টাকা খরচ করে নিরাপদ বেষ্টনির ব্যবস্থা করেন না। 

Tuesday, 8 September 2026

আলমাস দিনারের দিন শেষ

 


চট্টগ্রাম শহরের সিনেমাহলগুলি যখন একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, তখনো কোনোরকমে টিম টিম করে জ্বলছিল আলমাস ও দিনার সিনেমার বাতিগুলি। কোভিডের সময়েও হয়তো ক্ষীণ আশা ছিল – মহামারী শেষে আবার বাজবে বেল, উঠবে পর্দা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। এবার গিয়ে দেখলাম কফিনের শেষ পেরেক মারা হয়ে গেছে। ভবনের বাইরে যেখানে সাঁটা থাকতো বিশাল পোস্টার, নিয়ন আলোয়

Tuesday, 25 August 2026

পাঠকের দিনলিপি ১১-ডিসেম্বর-২০০৪

 


১১/১২/২০০৪

ভোরের কাগজে গণিতবিদ রামানুজন আয়েঙ্গারকে নিয়ে বেশ কিছু রচনা প্রকাশিত হয়েছে। এর কয়েকটা অনুবাদ, আর একটা হলো মোটামুটি জীবনীমূলক। আসিফ নামে একজন এখন বাংলাদেশে নাকি পেশাদার বিজ্ঞান বক্তা। তাঁর বক্তৃতা শোনার চেষ্টা করতে হবে বাংলাদেশে গেলে। রামানুজন ক্ষণজন্মা গণিতবিদ। উচ্চতর গণিতে তাঁর বিরাট প্রতিভা দেখা যায়। কিন্তু সঠিক কোন নিয়মে ফেলা যায়নি তাঁর সব পদ্ধতিকে। ফাইনম্যান রামানুজনকে বলেছেন ব্যতিক্রম। ব্যতিক্রম কিন্তু নিয়ম নয়।

পাঠকের দিনলিপি ৬-ডিসেম্বর-২০০৪

 


৬/১২/২০০৪

ইত্তেফাকের ঈদসংখ্যা শেষ করলাম। ইন্টারনেটে সংখ্যাটি ১৪১ পৃষ্ঠা। সবগুলো পৃষ্ঠা পড়া হয়ে ওঠেনি। প্রবন্ধগুলোতে জাস্ট চোখ বুলিয়েছি। একজনের পক্ষে সবকিছু পড়তে হলে অনেক কাজ বাদ দিতে হবে। ডঃ আশরাফ সিদ্দীকীর ‘‘ছেলেবেলায় দেখা গ্রাম-বাংলাঃ আনন্দ উৎসব’’ ভালো লেগেছে। গ্রামীণ সংস্কৃতির একটা সময়কে তুলে আনা হয়েছে এ প্রবন্ধে।

আল মাহমুদের গল্প ‘ভেতরের মানুষ’। তরুণ সাংবাদিক কথাশিল্পী আমজাদ একদিন হঠাৎ বেরিয়ে পড়ে

পাঠকের দিনলিপি ২৭-নভেম্বর-২০০৪

 


নভেম্বর ২৭, ২০০৪

তসলিমা নাসরিনের সমস্যাটা কোথায় তা আমি বুঝতে পারছি না। তিনি ডাক্তার, মেধাবী লেখক আর পুরুষবিদ্বেষী। ঠিক আবার সেরকমও নন। এটা নিয়ে চিন্তা করার মতো কোন কিছু ঘটেনি আমার। কিন্তু তিনি কিছু উলটাপালটা কথা বলেন লেখেন মাঝে মাঝে ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে চায়। পশ্চিম বাংলার শারদীয় সংবাদ প্রতিদিনে তিনি একটা প্রবন্ধ লিখেছেন ‘বাঙালি পুরুষ’। লেখাটির বেশির ভাগ কথাই বিতর্কিত। যাকে বলে সাবজেক্টিভ। তসলিমা অব্‌কেক্টিভিটির কথা বলেন, কিন্তু নিজে বড় বেশি সাবজেক্টিভ কথা

Sunday, 23 August 2026

পাঠকের দিনলিপি ২২-সেপ্টেম্বর-২০০৪

 


সেপ্টেম্বর ২২, ২০০৪। বুধবার

মইনুল আহসান সাবেরের গল্প ‘‘আমাদের খঞ্জনপুর’’ পড়ে এতো ভালো লাগলো। এটাকে বড় গল্প বা ছোট উপন্যাস যে কোনটাই বলা যেতে পারে। কি চমৎকার প্রাণবন্ত লেখা। সরল উপস্থাপনা। নোমানের জবানীতে লেখা। রেবেকার প্রেমে পড়ে নোমান যখন তার বয়স ১৭। পাশাপাশি বাড়িতে থাকতো তারা। রেবেকা সুন্দরী, স্মার্ট

Wednesday, 15 July 2026

অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল ফিজিক্স অলিম্পিয়াড ২০২৬

 


কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত ৫৬তম  ইন্টারন্যাশনাল ফিজিক্স অলিম্পিয়াড ২০২৬-এ বাংলাদেশ থেকে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা দারুণ ফল করেছে। নটরডেম কলেজের ফাহিম ফারবিন সিলভার মেডেল অর্জন করেছে। রংপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের নাফিস সাদিক ও সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আদিত্য রহমান অর্জন করেছে ব্রোঞ্জ মেডেল, আর ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের সামিউল ইসলাম অর্জন করেছে সম্মানজনক স্বীকৃতি। এদের সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন।

Sunday, 13 June 2021

দুর্নীতির রীতিনীতি



 "প্রদীপ, তুমি কি আমার একটা কাজ করতে পারবে?"

"জ্বি স্যার, পারবো।"

"কী কাজ না জেনেই কীভাবে বললে যে পারবে?"

"সরি স্যার, চেষ্টা করবো। কী কাজ স্যার?"

"--- এই দোকানে গিয়ে আমার জন্য ছয় ইঞ্চি লম্বা একটি স্ক্রু-ড্রাইভার কিনে নিয়ে আসবে। এই কাগজে স্ক্রু-ড্রাইভারের ডেসক্রিপশান দেয়া আছে। সব মিলিয়ে নেবে।" 

"স্যার ঐ দোকান থেকেই কি কিনতে হবে?"

"হ্যাঁ"

"যদি ঐ দোকানে না থাকে? অন্য দোকান থেকে আনবো স্যার?"

"না। ক্যাশ মেমো নিয়ে আসবে।"

কাগজ আর পঞ্চাশটি টাকা নিয়ে প্রামাণিক স্যারের রুম থেকে বেরিয়ে এলাম। 

যে সময়ের কথা বলছি সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রামাণিক স্যারকে মন থেকে পছন্দ করতেন এমন মানুষ খুব বেশি ছিল বলে মনে হয় না। স্যারের মত কাঠখোট্টা চাঁছাছোলা সত্যবাদী অধ্যাপক বাংলাদেশে আমি খুব একটা দেখিনি। যারা সবসময় সত্য কথা বলেন তাদেরকে সবসময় পছন্দ করা কঠিন কাজ। আমরা সত্যবাদীদের ততক্ষণ পছন্দ করি, যতক্ষণ সেই সত্যবাদিতা আমাদের পক্ষে যায়। 

তখন সবে অনার্স পাস করেছি। মাথার ভেতর যুক্তিবাদের ভূত বাসা বাঁধতে শুরু করেছে। তাই "কঠিনেরে ভালোবাসিলাম, সে কভু করে না বঞ্চনা" - নীতি অবলম্বন করে প্রামাণিক স্যারের কাছে গবেষণার প্রথম পাঠ শুরু করেছি। 

স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক্সের দোকানে গিয়ে নির্দিষ্ট স্ক্রু-ড্রাইভারটা কিনে নিয়ে এলাম। দাম নিলো নয় টাকা। ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে স্যারের হাতে স্ক্রু-ড্রাইভার, ক্যাশ মেমো আর ৪১ টাকা ফেরত দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "স্ক্রু-ড্রাইভারের রহস্য কী স্যার?"

স্যার খুবই মন খারাপ করে উত্তর দিলেন, "একটা সামান্য ফ্যাক্টচেক করলাম।" আর কিছু জানা গেলো না স্যারের কাছ থেকে। 

কিছুদিন পরে ব্যাপারটা জানলাম অন্য সোর্স থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিগুলোতে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করার জন্য যে ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি টেন্ডার পেয়েছে তারা একটা ছয় ইঞ্চি স্ক্রু-ড্রাইভারের দাম ধরেছে ৪৫ টাকা। ঐ কোম্পানির দোকান থেকেই যা আমি কিনেছি নয় টাকা দিয়ে। স্যার পারচেজ কমিটিতে ছিলেন বলেই এই ফ্যাক্টচেকের ব্যবস্থা। স্যারের পক্ষে অন্যান্য আইটেমের ফ্যাক্টচেক করা সম্ভব হয়েছিল কি না জানি না। তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন, স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেছিলেন। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। স্যারকে কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। কয়েক হাজার ৯ টাকার স্ক্রু-ড্রাইভার ৪৫ টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে আমাদের বিদ্যাদান করার জন্য। এভাবেই ইংরেজিতে যাকে বলে -  we were screwed. 

আজ এত বছর পরেও দেখি একই অবস্থা। সামিয়ানার রঙ বদলেছে, কিন্তু ভেতরে সব একই জিনিস। এখন সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার বই সাড়ে পঁচাশি হাজার টাকায় কেনা হচ্ছে। এত বেশি দাম দিয়ে কেনা বই পড়ে আমরা যে কী পরিমাণ জ্ঞানী হবো! আচ্ছা, এত জ্ঞান আমরা রাখবো কোথায়?

৩১ আগস্ট ২০১৯

কপিরাইট এবং নীতিবোধ

 কপিরাইট এবং নীতিবোধ

আমরা জানতাম মাসুদ রানা সিরিজের সব বই কাজী আনোয়ার হোসেনের লেখা। কুয়াশা সিরিজের লেখকও তিনি। বিদ্যুৎ মিত্র নামে যেসব বই প্রকাশিত হয় তাঁর প্রকাশনী থেকে - সেই বিদ্যুৎ মিত্রও তাঁর ছদ্মনাম বলে জানতাম। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে মাসুদ রানা সিরিজের ২৬০টি বই এবং কুয়াশা সিরিজের ৫০টি বইয়ের প্রকৃত লেখক শেখ আবদুল হাকিম। একজন পাঠক হিসেবে আমি নিজেকে খুবই প্রতারিত মনে করছি। যে কোন লেখকের একটা আত্মমর্যাদা থাকে। জেনেশুনে কোন লেখকই অন্যের নামে নিজের লেখা প্রকাশ করতে দেন না, এবং অন্যের লেখাও নিজের নামে চালান না বলে বিশ্বাস ছিল। কিন্তু সে বিশ্বাস এখন আর রাখা যাচ্ছে না। 

মাসুদ রানা সিরিজের বইগুলি প্রকাশিত হচ্ছে প্রায় ৫০ বছর আগে থেকে। কপিরাইট অফিস থেকে জানা যাচ্ছে শেখ আবদুল হাকিম তাঁর লেখা বই কাজী আনোয়ার হোসেনের নামে প্রকাশ করার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছিলেন টাকার বিনিময়ে। একজনের লেখা অন্যজনের নামে প্রকাশিত হওয়াটা যে নীতিগতভাবে ঠিক নয় তিনি সেই পয়েন্ট থেকে অভিযোগ করেননি। তিনি এত বছর পরে অভিযোগ করেছেন চুক্তিমত টাকা-পয়সা পাননি বলেই। 

অন্যের লেখা নিজের নামে চালিয়ে দেয়ার প্রবণতা দিনদিন বাড়ছে। সামাজিক মাধ্যমে একজনের লেখা অন্যজন কপি পেস্ট করে 'সংগৃহীত' বলে চালাচ্ছেন। বাংলাদেশে কপিরাইটের অবস্থা খুবই নাজুক। অন্যদেশের প্রকাশনা শিল্পে কপিরাইটের যে নীতিগত স্বচ্ছতা এবং দৃঢ়তা দেখা যায়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্য যে আমাদের দেশে তা প্রায়ই অনুপস্থিত। বিদেশে প্রকাশিত বই থেকে অনেককিছুই আমরা কোন ধরনের অনুমতি ছাড়াই প্রকাশ করে ফেলছি, অনেক সময় কোন ধরনের উৎসও উল্লেখ করছি না।  বিদেশী বইয়ের অনুবাদের ব্যাপারেও আমরা লেখক বা প্রকাশকের কোন অনুমতি নেয়ার তোয়াক্কা করছি না। তৎকালিন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বাংলায় অনুদিত হয়ে প্রকাশিত বইগুলি এখন বাংলাদেশের প্রকাশকেরা যেভাবে খুশি সেভাবে প্রকাশ করছেন। অনেক সময় প্রকাশকরা সেই বইগুলির লেখক হিসেবে বাংলাদেশের অন্য কোন লেখকের নাম বসিয়ে দিচ্ছেন। যার নাম বসাচ্ছেন তিনি হয়তো জানেনই না। ভারতীয় প্রতিষ্ঠিত লেখকদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছেন যে বাংলাদেশে তাঁদের নাম দিয়ে অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে যেগুলি আসলে তাঁরা লিখেননি। কোন দেশের প্রকাশনার মান দেখেই বোঝা যায় - সেই দেশের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্যের কী অবস্থা। 

আমাদের সতের কোটি মানুষের বিশাল দেশে আমাদের প্রকাশনা জগত নিয়ে আমরা গৌরব করতে পারবো কখন? কখনো পারবো কি?

১৬ জুন ২০২০

খিঁচুড়ি প্রশিক্ষণ

 


এরকম উন্নতির খবর দেখতেও ভালো লাগে। স্কুল-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিস্কুট এবং খিঁচুড়ি কীভাবে বিতরণ করা যায় তা দেখার জন্য ৫০০ সরকারি কর্মকর্তা বিদেশ ভ্রমণ করবেন। এর জন্য বাজেট চাওয়া হয়েছে মাত্র ৫ কোটি টাকা। মাথাপিছু ১ লক্ষ টাকা দিয়ে কি বিদেশ-ভ্রমণ হয়? তাছাড়া এত জটিল একটা ব্যাপার শেখার জন্য কত দীর্ঘ সাধনা এবং প্রশিক্ষণের দরকার হয়। বিস্কুট আর খিঁচুড়ি বিতরণে দক্ষতা অর্জন কি চাট্টিখানি কথা নাকি? তাছাড়া বাংলাদেশ কি অস্ট্রেলিয়ার মত দরিদ্র দেশ নাকি যে সব ধরনের বিদেশ-ভ্রমণ বন্ধ করে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে?

১৬/৯/২০২১





সংবাদ লিংক



Thursday, 6 September 2018

বইয়ের দাম




"বইমেলার ছবি দেখেছো?"

"দেখলাম তো। সেজেগুঁজে একেবারে নতুন সাদা-কালো বর্ণমালা শাড়ি পরে। পার্লারে গিয়েছিলে নাকি মেলায় যাবার আগে?"

"যাবো না? একুশে ফেব্রুয়ারিতে বইমেলায় যাবো - ভূতের মতো যাবো নাকি? একুশের ফ্যাশান ফলো করতে হবে না?"

"কী বই কিনলে?"

"কিনবো কীভাবে? তোমার বইগুলোর যা দাম! দুই তিনশ' টাকার নিচে কোন বইই নেই। কেনার উপায় আছে?"

"তবে কী করলে?"

"ঘুরলাম। কিছু সেল্‌ফি তুললাম। আর পিৎজা-হাটে গিয়েছিলাম।"

"বইমেলায় পিৎজা-হাট?"

"আরে না। বেইলি রোডে। বন্ধুদের সাথে গিয়েছিলাম।"

"দাম কেমন ওখানে?"

"খুব একটা বেশি না, চলে। আমরা চারজনে খেয়েছি তো - তেইশ শ পঞ্চাশ টাকায় হয়ে গেছে।"

"দুই হাজার তিন শ পঞ্চাশ টাকা!"

"আসলে দুই হাজার তিন শ টাকা। পঞ্চাশ টাকা টিপ্‌স দিয়েছি। ওয়েটারটা খুব কিউট ছিল। হা হা হা।"

সে হাসে। এরকম হাসিখুশি তরুণ-তরুণীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে এতে আমার খুশি হবার কথা। কিন্তু পারছি না। কোথাও একটা যন্ত্রণা হচ্ছে।

সৈয়দ মুজতবা আলী আজ থেকে ৬৫ বছর আগে 'বই কেনা' প্রবন্ধটিতে লিখেছিলেন:

বাঙালির "মুখে ঐ এক কথা 'অত কাঁচা পয়হা কোথায়, বাওয়া, যে বই কিনব?'
কথাটার মধ্যে একটুখানি সত্য - কনিষ্ঠাপরিমাণ - লুকনো রয়েছে। সেইটুকু এই যে, বই কিনতে পয়সা লাগে - ব্যস্‌। এর বেশি আর কিছু নয়।
            বইয়ের দাম যদি আরো কমানো যায়, তবে আরো অনেক বেশি বই বিক্রি হবে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তাই যদি প্রকাশককে বলা হয়, 'বইয়ের দাম কমাও', তবে সে বলে 'বই যথেষ্ট পরিমাণে বিক্রি না হলে বইয়ের দাম কমাবো কি করে?'
            'কেন মশাই, সংখ্যার দিক দিয়ে দেখতে গেলে বাঙলা পৃথিবীর ছয় অথবা সাত নম্বরের ভাষা। এই ধরুন ফরাসি ভাষা। এ ভাষায় বাঙলার তুলনায় ঢের কম লোক কথা কয়। অথচ যুদ্ধের পূর্বে বারো আনা, চৌদ্দ আনা, জোর পাঁচ সিকে দিয়ে যে-কোন ভাল বই কেনা যেত। আপনারা পারেন না কেন?'
            'আজ্ঞে, ফরাসি প্রকাশক নির্ভয়ে যে-কোন ভালো বই এক ঝটকায় বিশ হাজার ছাপাতে পারে। আমাদের নাভিশ্বাস ওঠে দু'হাজার ছাপাতে গেলেই, বেশি ছাপিয়ে দেউলে হব নাকি?'
            তাই এই অচ্ছেদ্য চক্র। বই সস্তা নয় বলে লোকে বই কেনে না, আর লোকে বই কেনে না বলে বই সস্তা করা যায় না।
............
বাঙালির মতো "এরকম অদ্ভুত সংমিশ্রণ আমি ভূ-ভারতের কোথাও দেখিনি। জ্ঞানতৃষ্ণা তার প্রবল, কিন্তু কেনার বেলা সে অবলা। আবার কোনো কোনো বেশরম বলে, 'বাঙালির পয়সার অভাব' বটে? কোথায় দাঁড়িয়ে বলছে লোকটা এ-কথা? ফুটবল মাঠের সামনে দাঁড়িয়ে, না সিনেমার টিকিট কাটার 'কিউ' থেকে?"
......

৬৫ বছরে একটুও কি বদলেছে আমাদের বই কেনার অভ্যাস? বদলেছে নিশ্চয়। এখন আমরা ফুটবল খেলি না, খেলা দেখিও না। আর সিনেমা হলগুলোর বেশিরভাগ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আমরা ক্রিকেট দেখি। আর ফাস্ট ফুড খাই আর সোশাল মিডিয়া করি।

এই ৬৫ বছরে সবকিছুর দাম বেড়েছে, মানুষের বেতনও বেড়েছে, ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছেসোনার দাম বেড়েছে, জমির দাম বেড়েছে। এখন অবশ্য সেগুলো সবাই কিনতে পারেন না। কিন্তু সবাই যেগুলো কিনতে পারেন, যেমন চাল - দাম বেড়েছে প্রায় তিরিশ গুণ, মাছের দাম বেড়েছে প্রায় দুইশ' গুণ। সেই তুলনায় বইয়ের দাম বেড়েছে খুব বেশি হলে বিশ গুণ। কিন্তু সবাই দোষ দেয় শুধু বইয়ের দামের। 

বাংলাদেশে যে বড় পিৎজা তিন হাজার টাকা দাম দিয়ে কিনে খাবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে মানুষ, সেই পিৎজা অস্ট্রেলিয়ায় দশ ডলার মানে ছয় শ টাকায় পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়ায় একটি দুইশ' পৃষ্ঠার বইয়ের দাম কমপক্ষে বিশ ডলার অর্থাৎ বারো শ টাকাআর বাংলাদেশে একটা দুই শ পৃষ্টার বইয়ের দাম সবচেয়ে বেশি হলে তিন শ টাকা। অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ গুণ দাম দিয়ে পিৎজা খাবার মানুষ আছে বাংলাদেশে অথচ চার ভাগের এক ভাগ দাম দিয়ে বই কেনার মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না।


এর মাঝেও অনেক ব্যতিক্রমী মানুষ আছেন যারা বই কেনেন। মূলত তাঁদের জন্যই বই-প্রকাশকেরা এখনো বইয়ের মেলা করতে সাহস পান।

"ভেবে-চিন্তে অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা করে বই কেনে সংসারী লোক। পাঁড় পাঠক বই কেনে প্রথমটায় দাঁতমুখ খিঁচিয়ে, তারপর চেখে চেখে সুখ করে করে, এবং সর্বশেষে সে কেনে ক্ষ্যাপার মত, এবং চুর হয়ে থাকে তার মধ্যিখানে। এই একমাত্র ব্যসন, একমাত্র নেশা যার দরুন সকালবেলা চোখের সামনে সারে সার গোলাপী হাতি দেখতে হয় না, লিভার পচে পটল তুলতে হয় না।"

Sunday, 19 August 2018

যেন ভুলে না যাই: মৌলবাদীদের হুমকি



বিজ্ঞানী সত্যেন বসুর নাম আইনস্টাইনের নামের সাথে সমান সম্মানে উচ্চারিত হয় পৃথিবীজুড়ে বোস-আইনস্টাইন থিওরি নিয়ে গবেষণা হচ্ছে পৃথিবীর সবগুলি বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থের মৌলিক কণা 'বোসন' পরিচিত হয়েছে সত্যেন বোসের নামে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন সত্যেন বসু এই সত্যেন বসুর নামে অ্যাকাডেমিক ভবনের নাম রাখতে পেরে আমরা নিজেরাই গৌরবান্বিত হয়েছি  অথচ মৌলবাদীদের চোখে সত্যেন বসু অস্পৃশ্য হিন্দু ছাড়া আর কিছুই নয় সুতরাং তাদের দাবি হলো সত্যেন বসুর নাম রাখা চলবে না এখানে


সিলেটের শাহজালাল ইউনিভার্সিটির ছাত্রীদের হলের নাম জাহানারা ইমামের নামে রাখার সিদ্ধান্ত হবার পরে মৌলবাদীরা সেখানে পরিকল্পিতভাবে একটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছে। ১৯৯৯ সালের নভেম্বর মাসে লিখেছিলাম সে প্রসঙ্গে। 


















Friday, 13 July 2018

এ আঁধার কাটবেই


২০০২ সালের ২৩ জুলাই গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে ভিসি আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরির আদেশে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্বে পুলিশ ঢুকে বেধড়ক পিটিয়েছে ছাত্রীদের। পরের দিন ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদমুখর হলে তাদের উপর আবার হামলা করা হয়। শিক্ষকরাও বাদ যাননি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সেই সময়ের প্রতিক্রিয়া। 





ভিসি আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরি








Monday, 9 July 2018

প্রাপক: ড. মুহাম্মদ ইউনূস




শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভিনের সন্তান সুমন জাহিদ মারা গেছেন ১৪ জুন ২০১৮। আমরা এখনো নিশ্চিত নই তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে। তিনি কি আত্মহত্যা করেছেন, না কি তাঁকে হত্যা করা হয়েছে আমরা জানি না। চির-প্রতিবাদী সুমন জাহিদ জীবনে প্রতিবাদ করেছেন, লড়াই করেছেন কত ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে। ২০০৭ সালে ডক্টর ইউনূস যখন রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন - সেই সময়ের কিছু ঘটনা ধরা রয়েছে এই পুরনো লেখায় - যেখানে আছে সুমন জাহিদের প্রসঙ্গ।



প্রাপক: ড. মুহাম্মদ ইউনূস
প্রদীপ দেব



স্যার,

বাংলাদেশের সকল নাগরিকের প্রতি দুটো খোলা চিঠি লিখে আপনি নাগরিক শক্তি নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির খোলনলচে পালটে দিয়ে একটি সম্পুর্ণ নতুন ধারার রাজনীতি প্রবর্তনের লক্ষ্যেই আপনার এই প্রয়াস। আপনার এই মহান প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই।

আপনার নোবেল পুরস্কার পাবার সাথে সাথে সারা বাংলাদেশ একাত্ম হয়ে আপনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে, আনন্দে গর্বে এভারেস্ট শৃঙ্গে উঠে গেছে, সমস্ত রাজনৈতিক সামাজিক অর্থনৈতিক বিভেদ ভুলে গিয়ে নোবেল জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে। কিন্তু আপনি নিশ্চয় খেয়াল করেছেন মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সে উচ্ছ্বাস বিভক্ত হয়ে গেছে। কারণ নোবেল বিজয়ী ডঃ ইউনূস সবার কাছে সমান গ্রহণযোগ্য হলেও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ডঃ ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতা সবার কাছে সমান নয়।

১১/০২/২০০৭ তারিখে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের প্রতি আপনি চিঠি লিখে আপনার রাজনৈতিক দল গঠন করার পক্ষে বিপক্ষে মতামত চেয়েছেন। আপনি লিখেছেন, আপনার কাছে আমি এই চিঠিটি লিখছি এর জবাবে আপনার কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে একটি চিঠি পাওয়ার আশায়। আপনার মতো মানুষকে ব্যক্তিগত চিঠি লেখার সুযোগ পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। কয়েক লক্ষ মানুষ সে মহান সু্যোগ গ্রহণ করে আপনাকে চিঠি লিখেছেন, ইমেইল করেছেন ও এসএমএস পাঠিয়েছেন। এর সবগুলো আপনি নিজেই পড়েছেন এরকম অবাস্তব চিন্তা করা উচিত নয়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় হলে তা আপনার কর্মীরা নিশ্চয় আপনাকে দেখিয়ে থাকবেন।

১৪/০২/২০০৭ তারিখের দৈনিক সংবাদে শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের সন্তান সুমন জাহিদের একটি চিঠি প্রকাশিত হয়েছে। আপনাকে লেখা এ খোলা চিঠিটি আমার কাছে মনে হয়েছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এতে আপনার যোগাযোগের ঠিকানাকে মারাত্মক ভুল বলা হয়েছে। 

সুমন জাহিদ লিখেছেন, আপনার পাঠানো খোলা চিঠি যা ১১-২-২০০৭ইং সব দৈনিক পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার করেছে, সেখানে ঠিকানায় মারাত্মক ভুল আছে। আপনারা প্রচার করেছেন যোগাযোগের ঠিকানা:

ড. মুহাম্মদ ইউনূস
হাল মারস
৬/ডি, ৬৬ আউটার সার্কুলার রোড
মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

অথচ আউটার সার্কুলার রোড নামে ঢাকা সিটি করপোরেশন-এর নথিতে এখন আর কোন সড় কের নাম উল্লেখ নেই (এই নামে কোন রোড নেই)। পুরনোটা ছিল ৬৬, বড় মগবাজার। গত ২০-৩-২০০২ইং তারিখে সিটি করপোরেশনের এক আদেশ (২১১১/প্রঃবিঃ/৪০০) বলে মৌচাক মোড় হতে মগবাজার পর্যন্ত রাস্তাটিতে এবং এর উভয় পার্শ্ব শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক নামে নামকরণ করা হয় এবং সেই সঙ্গে উভয় পাশের সব হোল্ডিং নম্বরও পরিবর্তন হয়। আপনাদের বর্তমান হোল্ডিং নং- ৫, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক। এই ভুলটা সম্ভবত অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়ে থাকতে পারে। তবে এর সংশোধনটা অতি জরুরি। ১৩-১২-২০০৬ইং দৈনিক প্রথম আলো নারীমঞ্চ পাতা পড়লেই এ ব্যাপারে আপনার সব তথ্য পাবেন। আশা করি স্বাধীনতা যুদ্ধে একজন শহীদের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করবেন। 

আশা করেছিলাম এ ব্যাপারটি আপনার নজরে আসবে। কিন্তু আপনার পরের চিঠিতেও (২২/২/২০০৭) যখন আপনি আপনার পুরনো ঠিকানাই ব্যবহার করেছেন বুঝতে পেরেছি সুমন জাহিদ সহ আমরা যে ব্যাপারটি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি আপনার কাছে তা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে কি সুমন জাহিদের দেয়া তথ্য সঠিক নয়?

২২/২/২০০৭ তারিখে নাগরিকের প্রতি আপনি আপনার রাজনৈতিক দল গঠন করার ঘোষণা দিয়ে যে চিঠিটি লিখেছেন সে প্রসঙ্গে আমার কিছু কথা আছে। যাঁরা আপনাকে রাজনীতিতে যোগদান করা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছেন তাঁদের আপনি বলেছেন, আল্লাহই মানুষকে সম্মান দেন। সম্মান নিতে হলে তাঁকেই নিতে হবে। আপনার এরকম যুক্তি মুক্তচিন্তার পরিপন্থি। যে কলুষিত রাজনীতিকে বিশুদ্ধ করার ইচ্ছায় আপনি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করছেন সে কলুষিত রাজনৈতিক দলগুলোর বেশির ভাগ দূষিত নেতাই কথায় কথায় আল্লাহর নাম নেন। নিজেদের ব্যর্থতার দায় অলৌকিক সৃষ্টিকর্তার ওপর চাপিয়ে দেয়া অতি পুরনো পদ্ধতি। সে পদ্ধতি আপনাকে মানায় না।

প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে আপনি লিখেছেন, আপনারা যে যে দেশে আছেন সেখানে সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে তুলুন। আপনাদের কর্মস্থলে কিংবা বাড়িতে কার্যালয় স্থাপন করুন। যোগাযোগ কেন্দ্র স্থাপন করুন। ইন্টারনেটে যোগাযোগ, মতবিনিময়ের এবং মত প্রচারের যত ব্যবস্থা আছে তার সদ্ব্যাবহার করুন। দেশে আপনার নিজের গ্রামে বা শহরে সমর্থক গোষ্ঠী সৃষ্টির জন্য উদ্যোগ নিন। সম্ভব হলে একবার সপ্তাহ বা দুসপ্তাহের জন্য দেশে এসে ঘুরে যান। নিজের এলাকায় গিয়ে সংগঠন সৃষ্টি করে দিয়ে আসুন। তাদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার নিশ্চয়তা দিন। নিজের এলাকার সৎ ও যোগ্য প্রার্থী চিহ্নিত করে তাদের সঙ্গে আলাপ করে তাদের নাগরিক শক্তিতে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করুন। আমাদের সঙ্গে ই-মেইলে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখুন এবং আপনাদের কাজের বর্ণনা দিন। আমাদের প্রতি পদে পদে পরামর্শ দিন। সম্ভব হলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় পর্যন্ত চাকরি কিংবা ব্যবসা যে কাজেই থাকুন না কেন, ছুটি নিয়ে দেশে চলে আসুন। আপনার নিজের হাতেই দেশের নতুন রাজনীতি গড়ার গৌরব অর্জন করার এখনই সুযোগ। বোঝা যাচ্ছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মত আপনিও প্রবাসীদের কাজে লাগাতে চাচ্ছেন ঠিকই কিন্তু তাদের ভোটাধিকার প্রশ্নে আপনারও মাথাব্যথা নেই। ভোট দিতে হলে প্রবাসীদের দেশে গিয়ে ভোটার হতে হবে, ভোট দিতে হবে। আপনি লিখেছেন কর্মস্থলে আপনার রাজনৈতিক দলের কার্যালয় স্থাপন করার জন্য। কাজটি কতটুকু সমর্থনযোগ্য?

আপনার দলের হয়ে কাজ করার জন্য দীর্ঘ ছুটি নিয়ে দেশে চলে যেতে আহবান করেছেন প্রবাসী কর্মজীবীদের। রাজনীতি করার জন্য ছুটি চাইলেই কি দিয়ে দেবেন কর্তৃপক্ষ? যাঁরা দেশের ভেতরেও এলাকার বাইরে কর্মরত আছেন তাঁদের উদ্দেশ্যেও আপনি লিখেছেন, সম্ভব হলে কর্মক্ষেত্র থেকে কয়েক মাস দীর্ঘ বিরতি নিয়ে বাড়ি চলে যান। দেশে বা বিদেশে কোথাও কি সম্ভব এটা? আজ গ্রামীণ ব্যাংকের কোন কর্মকর্তা যদি বলেন যে রাজনৈতিক কাজের জন্য দীর্ঘ ছূটি চাই দেয়া হবে তাঁকে? নাগরিক শক্তির কাজে হয়তো দেয়া হতে পারে। কিন্তু তিনি যদি হয়ে থাকেন আওয়ামি লিগের বা বিএনপির সমর্থক?

এখানেই নোবেল বিজয়ী আর রাজনীতিবিদের পার্থক্য। রাজনীতি করতে গেলে যে অনেক ওজনহীন কথা বলতে হয়, বলা হয়ে যায় তা তো আমরা আপনার দল গঠন প্রক্রিয়া শুরু হতে না হতেই দেখতে পাচ্ছি। আমরা এখনো জানিনা আপনার আদর্শের সাথে অন্যান্য দলের আদর্শের পার্থক্য কোথায়। সব দলেই ভালো ভালো আদর্শের কথা থাকে। সে কথা কেউ রাখেনা। আপনি আপনার কথা রাখবেন এ আশা আমাদের।

একটা ছোট্ট প্রশ্ন আমাদের মনে জেগেছে। তা হলো ২১শে ফেব্রুয়ারি দেশে থেকেও আপনি শহীদ মিনারে যাননি। কেন? 


০২ মার্চ, ২০০৭।
ব্রিসবেন, অস্ট্রেলিয়া।

Saturday, 7 July 2018

সংস্কার! সংস্কার!!


বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা এখন চমৎকার সব সাফল্য দেখাচ্ছেন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে। আবার একই সাথে আমাদের পুরুষ ক্রিকেট দল খুব একটা সাফল্য দেখাতে পারছেন না। যে কোন খেলাতেই এরকম হতে পারে। কিন্তু আমাদের উচ্ছ্বাস সবকিছুতেই বেশি। আমরা খুব আড়ম্বর করে বাড়াবাড়ি করতে পছন্দ করি। সেটা আমরা দশ বছর আগেও করেছি, এখনও করছি। এগুলো আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে এ লেখাটি লিখেছিলাম ২০০৭ সালে।











Sunday, 1 July 2018

পঞ্চমবার চ্যাম্পিয়ন



২০০১ সালে যখন বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান দখল করলো, তখন সারাদেশে ভূমিকম্পের মতো অবস্থা হয়ে গেলো। তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, সুতরাং দায়িত্ব এড়ানো তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। কিন্তু নেতারা দায়িত্বহীনের মতো মন্তব্য করলেন ইচ্ছেমতো। দুর্নীতি কমানোর কোন ব্যবস্থা নিলেন না। বিএনপিসহ সব বিরোধী দল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টকে তুরুপের তাসের মতো ব্যবহার করলো সরকারের বিরুদ্ধে।

এরপর নির্বাচন হলো। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে গেলো। ২০০২ সালের দুর্নীতির রিপোর্টে বাংলাদেশ আবারো শীর্ষস্থান দখল করলো। এবার বিএনপি ক্ষমতায়। তবুও দোষ গেলো আওয়ামী লীগের ঘাড়ে। কারণ ২০০১ সালের অর্ধেকেরও বেশি সময় তারা ক্ষমতায় ছিলো। ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার কড়া কড়া কথা বললেন, যতটা দুর্নীতির বিরুদ্ধে, তার চেয়ে অনেক বেশি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। অনেক অনেক সম্পাদকীয় উপসম্পাদকীয় লেখা হলো সংবাদপত্রগুলিতে। কিন্তু দুর্নীতিবাজদের গায়ে আঁচড়ও লাগলো না।

২০০৩ সালে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ আবারো চ্যাম্পিয়ন হলো। এবারও আওয়ামী লীগ দায়ী? অবিশ্বাস্য হলেও সেরকমই বলা হলো। এমন সব মন্তব্য বের হলো রাষ্ট্রের উঁচু পর্যায়ের নেতাদের মুখ থেকে, শুনে মনে হলো ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ঘুষ খেয়েই দুর্নীতির রিপোর্ট তৈরি করেছে। আরো মজার ব্যাপার হলো বাংলাদেশের মন্ত্রীরা ইওরোপ আমেরিকার দুর্নীতি নিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করে গলা ফাটিয়ে ফেললেন। সাথে অবশ্য আওয়ামী লীগের কান মলে দিতে ভুলে গেলেন না। দুর্নীতিবাজদের এবারো কিছু করা হলো না। অনেক বুদ্ধিজীবীই লিখলেন – বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত নয়, তারা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না ইত্যাদি। রিপোর্টে কিন্তু বলা আছে ঠিক কোন্‌ কোন্‌ প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিগ্রস্ত। সেখানে কিন্তু কোনভাবেই সাধারণ মানুষকে ঢালাওভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত বলা হয়নি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোন বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে আবেগাক্রান্ত করে ছেড়ে দেয়া হলো ব্যাপারটা।

২০০৪ সালের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে দেখা গেলো বাংলাদেশ আবারো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। টানা চতুর্থবারের মতো দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান দখল করেছে আমার প্রিয় বাংলাদেশ। আমরা কি তবে দুর্নীতির সেরা আসনটি পাকাপাকি ভাবেই পেয়ে গেলাম?

বাংলাদেশে মূলত দুইটি রাজনৈতিক দল আছে। একটা আওয়ামী লীগ, অন্যটি হলো অ্যান্টি-আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের পান থেকে চুন খসলেও যেরকম ঝড় ওঠে, সারাদেশ  দুর্নীতি আর  সন্ত্রাসের দায়ের কোপে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার পরেও সেরকম কোন ঝড়ের চিহ্ন নেই। কারণটা কি ভয়? নাকি আসলেই খুব সুখে আছে বাংলাদেশের মানুষ??

২০০৫ সালের রিপোর্টেও বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এবার অবশ্য আফ্রিকান দেশ চাদও সঙ্গী হয়েছে। 


Latest Post

বাংলাদেশি ডাক্তার সমাচার ১: তোফা ও তহুরা

  আমাদের ডাক্তারদের নিয়ে গর্ব করার মতো অসংখ্য ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে বাংলাদেশে। কিন্তু ডাক্তারদের সমালোচনা করার ব্যাপারে আমরা যতটা উৎসাহী, প্রশ...

Popular Posts