সোফিয়া লরেন অস্কার পেয়েছিলেন ১৯৬২ সালের দিকে। টু ওম্যান ছবিতে অভিনয়ের জন্য। ‘টু ওম্যান’ ছবিটা দেখলাম সম্প্রতি। বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ইটালির একজন মহিলা তার কিশোরী মেয়েকে নিয়ে এখান থেকে ওখানে ছুটে বেড়ায় বাঁচার জন্য। যুদ্ধের সময়টা অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য ভাবে ধারণ করা হয়েছে এই ছবিতে।
এই ছবির পরিচালকের আরেকটি পৃথিবী বিখ্যাত ছবি ‘বাইসাইকেল থিফ’।
মিরা নায়ারের ছবি ‘মনসুন ওয়েডিং’ দেখলাম। ভারতীয় প্রেক্ষাপটে যে সব ছবি বিদেশে বসে বানানো হয়েছে প্রায় সবগুলোই একই রকম। তবে মিরা নায়ারের এর আগের ছবি ‘মিসিসিপি মসালা’ আর ‘সালাম বোম্বে’ একটু ভিন্ন ধরনের ছিলো।
হলিউডের পরিচালকদের মধ্যে অলিভার স্টোন একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। অস্কার পেয়েছেন কয়েকবার। ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে বেশ কয়েকটা ছবি বানিয়েছেন। জন এফ কেনেডিকে নিয়ে ছবি করেছেন। সম্প্রতি ছবি বানিয়েছেন আলেকজান্ডার দি গ্রেটকে নিয়ে ‘আলেকজান্ডার’। ছবিটা অস্কার নমিনেশন পায়নি যদিও - বিশাল বাজেটের ছবি। ছবির টাকা জোগানোর জন্য অলিভার স্টোন কানাডার নাগরিকত্ব নিয়েছেন। ছবিটা ২০০৪ সালে তৈরি হলেও - অনেক বেশি টেকনিক্যাল সুবিধা পেলেও মনে হয়েছে ষাটের দশকে তৈরি স্পার্টাকাসের মত মুনসিয়ানা দেখাতে পারেননি স্টোন। অবশ্য স্ট্যানলি কুব্রিক আর স্টোন এক নন। আলেকজান্ডার নিয়ে অনেক গবেষণা করেছেন স্টোন। আলেকজান্ডারকে গ্রেট হিসেবে প্রচার করা হলেও তিনি কিন্তু অন্যসব ক্ষমতালোভী রাজাদের চেয়ে কোন অংশেই ভালো ছিলেন না। তিনি খুন করেছেন সৈনিকদের মধ্যে যারা তার কথা শোনেনি। বেশ কয়েকটি বিয়ে করেছিলেন - যদিও তাঁর মধ্যে সমকামীতারও একটা ব্যাপার ছিলো।
ছবিতে অসহ্য লেগেছে কিছু কিছু দৃশ্য। আলেকজান্ডারের মা সারাক্ষণ হাতে বা পায়ে বা গলায় সাপ পেঁচিয়ে রাখেন -এটা অসহ্য। টকটকে লাল রঙের ঝাপসা পর্দায় অনেকক্ষণ ধরে তীর ধনুকের যুদ্ধ চলার কোন দরকার ছিলো না। ১৭৯ মিনিটের ছবিটাকে সহজেই ১৩০ বা ১৪০ মিনিটে নিয়ে আসা যেতো। [মনে হচ্ছে আমি অলিভার স্টোনের চেয়েও বিশেষজ্ঞ হয়ে গেছি। সুযোগ পেলে মনে হয় আমি আইনস্টাইনেরও ভুল ধরবো!]
-----কলম্বাস, ওহাইও

No comments:
Post a Comment