Sunday, 23 August 2026

পাঠকের দিনলিপি ৮-অক্টোবর-২০০৪

 



অক্টোবর ৮, ২০০৪

কী পড়লামের পাশাপাশি কী দেখলামও রাখা উচিত মনে হচ্ছে। কাল মাইকেল মূরের ফারেনহাইট নাইন ইলেভেন দেখলাম। মুভিস ১২ সিরিজের সিনেমা হলে গিয়ে। এখানে টিকেটের দাম খুব কম। মাত্র এক ডলার বুধ থেকে সোম যে কোনদিন সন্ধ্যা ছটার আগে। আর ছটার পরের শোয়ের টিকেটের দাম দেড় ডলার। আর মংগল বারের যে কোন শোয়ের টিকেটের দাম মাত্র পঞ্চাশ সেন্ট।

মাইকেল মূরের এই ডকুমেন্টারীটা ইতোমধ্যেই যথেষ্ট আলোচিত সমালোচিত হয়েছে। আর ব্যবসাও করেছে প্রচুর। আর কান চলচিত্র উৎসবে সেরা ছবির পুরস্কারও পেয়েছে। ছবিটা ভালো। প্রেসিডেন্ট বুশের পরিবারের সাথে বিন লাদেনের পরিবারের ঘনিষ্ঠতার অনেক তথ্যপ্রমাণ আছে এই ছবিতে। 

ছবিটা শুরু হয়েছে ২০০০ সালের নভেম্বর মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রচার দিয়ে। সেখানে দেখা যাচ্ছে ফ্লোরিডা স্টেটে আল গোর জিতেছেন বলে সবগুলি টেলিভিশন চ্যানেলেই প্রচার করা হয়ে যাবার পরে দেখা গেলো ফক্স নিউজ হঠাৎ করে প্রচার করছে বুশ জিতেছেন। 

আমার নিজের একটা ধারণা ছিলো ইলেক্টোরাল কলেজের নিয়ম অনুযায়ী বেশি সংখ্যক স্টেটে জিতে বুশ প্রয়োজনীয় ২৭১টি ইলেক্টোরাল ভোট পেয়ে পরে জিতেছেন। আর আল গোর মোট সংখ্যায় বেশি ভোট পেয়েও জিততে পারেননি কারণ ইলেক্টোরাল ভোট পেয়েছেন তিনি ১৮০ বা এরকম সংখ্যক। কিন্তু প্রশ্ন সেটা নয়। মূর দেখাচ্ছেন ফ্লোরিডায় নির্বাচনে কারচুপি করেই তিনি সেখানে জিতেছেন এবং ইলেক্টোরাল ভোটও বেশি পেয়েছেন সেভাবে। ফ্লোরিডাতে গোর জিতলে তিনিই প্রেসিডেন্ট হন। হয়নি।

সে যাই হোক। বুশ ক্ষমতায় আসার পরে দেখা গেলো ছুটি কাটাচ্ছেন এখানে ওখানে। সেপ্টেম্বর ১১ তারিখে যখন নিউইয়র্কে প্রথম বিমানটি ওয়ার্লড ট্রেডসেন্টারের একটি অংশে ঢুকে যায়, তখন বুশ মায়ামিতে একটা প্রাইমারি স্কুলে বাচ্চাদের সাথে বসে বই পড়ছেন। দ্বিতীয় বিমানটি আঘাত করার পরেও দেখা গেলো তিনি বসে আছেন আরো নয় মিনিট। তারপরেই জাম্প কাট। তিনি যে নিউ ইয়র্কে এসে সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন তার কিছুই দেখানো হলো না। দেখানো হলো বুশের উচ্চপদের লোকদের বিশেষ অনুমতিতে সৌদি আরবের অনেক নাগরিকসহ বিন লাদেনের পরিবারের সকল সদস্যদের নিরাপদে আমেরিকা থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হলো। দুইদিন পরে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাথে তিনি হোয়াইট হাউজে বসে খানাপিনা করলেন।

মূর দেখিয়েছেন কীভাবে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে সৌদি আরবের দূতাবাসকে ওয়াশিংটনে।

আফগানিস্তান আর ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যে অনেক মানুষের একটা বিরাট ব্যবসা তা মূর কাগজে কলমে ফুটেজ ব্যবহার করে দেখিয়ে দিয়েছেন।

ইরাকে পাঠানোর জন্য কীভাবে লোক সংগ্রহ করা হচ্ছে তা দেখলে অবাক হতে হয়। বেশির ভাগই স্কুল ড্রপ আউট, বা কালো গরীব মানুষের ছেলে মেয়েদের নানা রকম প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে যুদ্ধের জন্য। মূর নিজে ওয়াশিংটনে সিনেটরদের কাছে অনুরোধ করেছেন তাঁরা যেন তাঁদের ছেলে মেয়েদের ইরাকে পাঠান যুদ্ধ করার জন্য, দেশের সেবা করার জন্য। তাঁরা স্বাভাবিক ভাবেই মূরকে এড়িয়ে গেছেন।

[মূরের মত বাংলাদেশে কেউ যদি এরকম কোন ছবি বানায়, আর মন্ত্রীদের বলে তাদের ছেলেমেয়েদের পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে পড়াতে বা মিছিলে নিয়ে যেতে! আমাদের দেশের মানিক সাহার রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। আমার আশ্চর্য লাগে টিপু সুলতানের জন্য প্রথম আলো যা করেছিলো শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, এখন এই যে মানিক সাহা বা আরো যাদের মেরে ফেলা হচ্ছে, তাদের জন্য, তাদের পরিবারের জন্য এক স্তবক সম্পাদকীয়ই কি সব!]

মাইকেল মূর ডেমোক্রেটদের সমর্থন করেন সেটা ঠিক আছে, কিন্তু তা করতে গিয়ে তিনি নিজে কোন তথ্যের বিকৃতি ঘটাননি। কেবল বুশের ভালো কিছু থাকলে তা গোপন করেছেন। এবং তা করতেই হয় পলিটিক্যাল ডকুমেন্টারিতে।

আই-পত্রিকায় কাবেরী রায় চৌধুরীর গল্প পড়লাম ‘শরীরী’। চমৎকার গল্প। নিউজার্সিতে থাকেন বৃদ্ধ রমণীমোহন। কোলকাতায় ফিরেছেন ছুটি কাটাতে। কথা বলতে ভালোবাসেন। আর ভালোবাসেন যুবতী মেয়েদের সাথে গল্প করতে। নিজেকে তিনি স্মার্ট মনে করেন। আর মনে করেন তিনি সত্যিই রমণীমোহন। গল্পে দেখা যায় তিনি জবা নামের ত্রিশের এদিক ওদিক একজন মেয়ের সাথে কথা বলছেন। জবা স্মার্ট, সুন্দরী। রমণীমোহনের কথাগুলো ঠিক উপভোগ করতে না পারলেও জবা দেখতে চান রমণীমোহনের চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট বলে কিছু আছে কিনা আর থাকলে তা কেমন। রমণীমোহন মনে করেন মেয়েদের সাথে তাদের শরীর নিয়ে সরাসরি আলোচনা করলে মেয়েরা খুশি হয়। তিনি অবলীলায় জবাকে বলতে থাকেন জবার শরীরটা কেমন আকর্ষনীয়। জবাকে নিয়ে তিনি বেড়াতে যাবার প্রস্তাব দেন। জবা প্রশ্ন করলে রমণীমোহন বলেন মেয়েরা বেশি বুদ্ধিমত্তা দেখানে তাদের নাকি পুরুষ পুরুষ লাগে। পরের দিন জবার বদলে আসে জবার চিঠি নিয়ে একজন আর সাথে কিছু উপহার। কিছু বেতস লতা, দুইটি বেল, দুই কোয়া কমলা। তানপুরা পাঠাতে পারেনি বলে দুঃখপ্রকাশ করেছে চিঠিতে। এগুলির সাথেই তুলনা করেছিলেন জবার শরীরের নানা অংশ মিস্টার রমণীমোহন।

---------

কলম্বাস, ওহাইও

No comments:

Post a Comment

Latest Post

Ken Amos — My Teacher My Mentor

  For many people, another kind of student life begins after the formal years of schooling, college, and university degrees have come to an ...

Popular Posts