Saturday 23 May 2020

ছিন্ন পাতার সাজাই তরণী - পর্ব ১২

12

"স্যার, আমার মনে হয় ঠেলাগাড়ির প্রচলিত ডিজাইনে কিছু পরিবর্তন ঘটানো দরকার।" - বেশ গম্ভীরভাবে বললো আদেল। আমি তার দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছিলাম - তার এ কথায় কোন দ্বৈত অর্থ আছে কি না। ক্লাসে ঠেলাগাড়ির প্রসঙ্গ নিয়ে আসাটা কি ইচ্ছাকৃত? সবাই কি জেনে গেছে আমার ঠেলাগাড়ি টানার ব্যাপারটা? নাকি কাক ডাকিল, তাল পড়িল টাইপের কাকতালীয় ঘটনা?

গত তিন সপ্তাহ ধরে তাদের ভেক্টর বিশ্লেষণ বোঝাচ্ছি। ভেক্টর বিশ্লেষণ যে পদার্থবিজ্ঞানের শুধুমাত্র একটি অধ্যায় নয়, বরং যত দিকরাশি আছে তাদের সবগুলোতেই প্রযোজ্য তা বোঝানোর জন্য বিভিন্ন উদাহরণ দিচ্ছি। ক্রিকেট এখন বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কম বাজেটে ক্রিকেট পিচ তৈরি করা এবং ঠিক করার জন্য  ভারী লন রোলার ব্যবহার করা হচ্ছে। এই লন রোলার ঠেলার চেয়ে টানা সহজ - বলের ভেক্টর বিশ্লেষণের একটি উদাহরণ। ট্রলি, ঠেলাগাড়ি যে কোন কিছুর ক্ষেত্রেই বলের ভেক্টর বিশ্লেষণ একইভাবে কাজ করে, সবই ঠেলার চেয়ে টানা সহজ।

আদেলের প্রশ্নটা যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক, তার সাথে আমার ঠেলাগাড়ি টানার সম্পর্ক আছে ভাবার কোন কারণ নেই। কিন্তু স্টুডেন্টদের কোন বিশ্বাস নেই। তাদের ভেতর টিচারদের নামে কোন কিছু একবার প্রচারিত হয়ে গেলে - তা বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে। চট্টগ্রাম কলেজে আমাদের সময় গণিত বিভাগে দু'জন আনোয়ার হোসেন স্যার ছিলেন - একজন কিছুটা প্রবীণ, অন্যজন নবীন। প্রবীণ আনোয়ার হোসেন স্যার যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্বর্ণপদক লাভ করেছিলেন সেই খবরে ছাত্রদের বিন্দুমাত্র উৎসাহ ছিল না। তাদের উৎসাহ ছিল তাঁর ক্লাসে হঠাৎ 'ময়নার বাপ' বলে ডেকে ওঠায়। আনোয়ার হোসেন স্যারের মেয়ের নাম ময়না ছিল কি না তা আমরা কেউ জানতাম না। শুধু জানতাম স্যারের নাম 'ময়নার বাপ'। নবীন আনোয়ার হোসেন স্যারের নাম ছিল আরো অস্বস্তিকর। ছাত্ররা তাঁকে ডাকত 'দুলাভাই' বলে। সব ছাত্র কীভাবে স্যারের স্ত্রীর ভাই হয়ে গিয়েছিল তা কেউ জানত না।

এখানেও শুরু থেকে আমাকে সাবধানে থাকতে হবে। কোন কারণে যদি ছাত্ররা ঠেলাগাড়ির সাথে আমার নাম জুড়ে দেয়, তাহলে আমার নাম হয়ে যাবে 'ঠেলাগাড়ি স্যার', সেখান থেকে 'ঠেলা স্যার', তারপর 'ঠ্যালা ছার'। তাই নিশ্চিত হওয়ার জন্য ক্লাসের অন্য সবার দিকে তাকালাম। তাদের সবার মুখ হাসিহাসি। দেখে মনে হচ্ছে সবাই এক একজন দরবেশ টাইপের মানুষ।

আদেলকে জিজ্ঞেস করলাম, "কী ধরনের পরিবর্তন তুমি করতে চাও?"
"স্যার, ঠেলাগাড়ির সামনের দিকে টানার অংশটাকে আরো অনেক বড় করা দরকার যেন দু'জন মিলে টানতে পারে। তাহলে পেছনে ঠেলার বদলে সামনে থেকে টানতে পারবে। তাতে অনেক শক্তি বেঁচে যাবে।"

আদেল সম্প্রতি জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য কলেজ টিমে মনোনয়ন পেয়েছে। তাই তার কথাবার্তায় কিছুটা আরোপিত গার্ম্ভীর্য দেখা যাচ্ছে, ভাবভঙ্গিতে বিচক্ষণতার ছাপ। উচ্চারণে অতিরিক্ত সতর্কতার কারণে প্রত্যেকটি শব্দে আলাদাভাবে জোর দিচ্ছে।

"ভেরি গুড আদেল। খুব ভালো আইডিয়া।"
"কিন্তু স্যার, ঠেলাগাড়ি ঠেলা বা টানা যাই হোক - ব্যাপারটা তো অমানবিক।" - খুব সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললো গুলশান। মনে হচ্ছে মানবতার প্রশ্নে সে আপোষহীন। তার পাশে বসে জান্নাতুল সমর্থনসূচক মাথা নাড়ছে। এই দু'জনকে সবসময় পাশাপাশি বসতে দেখি। হয়তো বেস্ট ফ্রেন্ডস। জিজ্ঞেস করলাম, "অমানবিক বলছো কেন?"
"এই যন্ত্রের যুগেও সেই আদিম কালের মত মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা হাঁটতে হাঁটতে ঠেলাগাড়ি টানবে এটা কেমন কথা স্যার?"
"হ্যাঁ, সেভাবে দেখলে হয়তো অমানবিক। আমরা এখানে বিজ্ঞানের অংশটা আলোচনা করছি। মানবিকতার প্রশ্ন যদি বলো, তাহলে ব্যাপারটাতে মানবিকতা বা অমানবিকতার  চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অর্থনীতি। আমাদের দেশে শ্রমিকের শ্রমের দাম কম বলেই ঠেলাগাড়ি ব্যবহার করছে মানুষ। একটা মিনি-ট্রাকের যে খরচ, তারচেয়ে অনেক কম খরচে মানুষ ঠেলাগাড়ি ভাড়া করতে পারে। দেখবে আস্তে আস্তে এসব উঠে যাবে। ইন্ডিয়াতে এখনো হাতে টানা রিকশা আছে। আমাদের দেশে তা কবেই উঠে গেছে। ঠেলাগাড়িও একসময় উঠে যাবে। ঠেলাগাড়ি যারা চালায় তারা বুঝে কী কষ্ট তাদের করতে হয়।"
"জ্বি স্যার। অনেক কষ্ট স্যার।" - থার্ড বেঞ্চের যে ছেলেটা কথাগুলো বললো তার দিকে তাকাতেই মনে পড়লো সেদিন ঠেলাগাড়ির সাথে আসার সময় তাকেই আমি দেখেছিলাম শুলক বহরের রাস্তার মুখে। তার চেহারার সাথে বাংলা সিনেমার ভিলেন বাবরের চেহারার মিল আছে। তার নাম দেয়া যাক বাবর। মনে হচ্ছে বাবর তার ক্লাসের বন্ধুদের বলেছে সবকিছু। সে কারণেই কি আজ ঠেলাগাড়ি প্রসঙ্গে এত কথা হচ্ছে?

"স্যার আসি?"
আমি হ্যাঁ না কিছু বলার আগেই পিয়ন ইদ্রিস ক্লাসে ঢুকে একটা ভাঁজ করা কাগজ আমার হাতে দিয়ে চলে গেলেন। সেখানে লেখা আছে, "ক্লাসের পর আমার সাথে একটু দেখা করো। কথা আছে তোমার সঙ্গে।"

আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। কে দিলো এটা? কোন নাম লেখা নেই, তারিখ নেই। গোটা গোটা অক্ষরে পরিষ্কার হাতের লেখা। এই হাতের লেখার সাথে তো আমার পরিচয় নেই যে দেখেই চিনতে পারবো। এটা নিশ্চয় ইদ্রিসের হাতের লেখা নয়। কিন্তু এখন তো ক্লাসের পর আগে ইদ্রিসের সাথেই দেখা করতে হবে।

ক্লাসের চল্লিশ মিনিট সময় দ্রুত শেষ হয়ে গেলো। টিচার্স রুমে এখন টিচারের সংখ্যা আরো বেড়েছে। আমার সহপাঠী আবুল হোসেন খান জয়েন করেছে ফিজিক্সের ডেমোনেস্ট্রেটর হিসেবে। বায়োলজিতে জয়েন করেছেন আমাদের পরের ব্যাচের আলী হায়দার। তাঁদের মাস্টার্সের রেজাল্টও হয়নি এখনো। আমার সামনের টেবিলে আবুল হোসেন, আর আমার টেবিলে আমার পাশেই বসছেন আলী হায়দার। প্রায় সাড়ে ছ'ফুট লম্বা সুদর্শন আলী হায়দারকে প্রথম দেখে আমি ভেবেছিলাম বিমান বাহিনীর কোন অফিসার। কলেজে সিভিল ড্রেসেও অনেক অফিসার আসেন। এসেই তাঁরা প্রিন্সিপালের রুমে গিয়ে ঢোকেন, আর প্রিন্সিপাল তাঁদের সাথে কথা বলার সময় প্রত্যেক বাক্যে অনেকবার করে 'স্যার স্যার' করতে থাকেন। কিন্তু আলী হায়দার প্রিন্সিপালের অফিসে না গিয়ে আমাদের অফিসে বসে আছেন  দেখে একটু অবাক হয়েছিলাম। তখন সাঈদ স্যার পরিচয় করিয়ে দিলেন তাঁর সাথে। আরো অবাক হলাম যখন জানলাম আলী হায়দার সিলেটে বড় হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে পারেন।

থার্ড পিরিয়ডটা অফ আছে। ইদ্রিসকে খুঁজে বের করতে হবে। জানতে হবে কে দেখা করতে বলেছেন আমাকে। কিন্তু ইদ্রিসকে কোথায় খুঁজবো? কলেজে স্যার-ম্যাডামদের বসার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা আছে। পিয়নদের জন্য সেরকম নির্দিষ্ট কোন জায়গা মনে হয় নেই। তাদেরকে সারাক্ষণই এখানে ওখানে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা যায়। এখনো বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেলো মিজানকে। জিজ্ঞেস করলাম, "মিজানভাই, ইদ্রিসভাই কোথায় আছেন জানেন?"
"ইদ্‌রিস ছার লেভেটরিতে।" - মিজানের চটপট উত্তর। ল্যাবরেটরি আর লেভেটরি যে এক জিনিস নয় তা মিজানকে বলতে গিয়েও আর বললাম না। যখন তখন জ্ঞান বিতরণ করেন বলে শিক্ষকদের এমনিতেই যথেষ্ট বদনাম আছে। সেটা আরো বাড়ানোর দরকার নেই।

ফিজিক্সের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টের দায়িত্বও পালন করেন ইদ্রিস। এখন নিশ্চয় প্র্যাকটিকেল ক্লাসে ব্যস্ত। আমার এখনো ফিজিক্স ল্যাব দেখা হয়নি। সুপাল স্যার বলেছেন ল্যাবগুলো নাকি হ্যাঙ্গারের দোতলায়। তবে জানুয়ারিতে এখানে চলে আসবে। এদিকে এই একতলা বিল্ডিং-এর সাথে লাগানো আরেকটি দোতলা বিল্ডিং আছে। সেখানকার দোতলায় ল্যাবরেটরি স্থানান্তরিত হবে। কিন্তু সেটা তো হবে আরো অনেক পরে। হ্যাঙ্গারে এখনো যাওয়া হয়নি। একবার ঘুরে আসা যায়। তাতে হ্যাঙ্গারও দেখা হয়, ল্যাবও দেখা হয়। কিন্তু একটু পরেই আরেকটা ক্লাস আছে। হ্যাঙ্গার খুঁজে বের করে যদি যথাসময়ে ফিরে আসতে না পারি ঝামেলা হবে। ইদ্রিসকে জিজ্ঞেস না করেই কি বের করা যায় না লেখাটা কার?

কলেজে আমাকে তুমি করে বলেন মাত্র কয়েকজন মানুষ। অঞ্জন স্যার, নাসির স্যার, মহিউদ্দিন স্যার, আর আবুল হোসেন। ক্লাস থেকে আসার পর এঁদের সবার সাথেই আমার দেখা হয়েছে। তাঁরা কেউ কিছু বলেননি। তবে কি ম্যাডামদের মধ্যে কেউ? ম্যাডামদের মধ্যে একমাত্র আয়শা ম্যাডামই আমাকে তুমি করে বলেন। প্রথম দেখাতেই তিনি বলে দিয়েছেন, 'তুমি আমার ডিপার্টমেন্টের ছোট ভাই, তোমাকে আপনি করে বলতে পারবো না। ঠিক আছে?' আমার এত ভালো লেগেছে তাঁর কথাগুলো। কিন্তু আমি যে অনেক খুশি হয়েছি তা তাঁকে বলতে পারিনি। উচ্ছ্বাস ব্যাপারটা আমার ঠিক আসে না। আমি শুধু বলেছি, 'ঠিক আছে।' আমি নিশ্চিত হয়ে গেলাম যে এটা আয়শা ম্যাডামের লেখা। তিনি আমার ডিপার্টমেন্টের হেড। ফিজিক্সেরই কোন ব্যাপার নিয়ে কথা বলার জন্য দেখা করতে বলেছেন। তাঁর সাথে দেখা করতে হবে।

ম্যাডামদের কমনরুমটা ভাইস-প্রিন্সিপালের অফিসের পরে। আমাদের টিচার্স রুম থেকে বের হয়ে বারান্দার বাম দিকে হেঁটে গিয়ে একেবারে শেষ প্রান্তে। ওটা আগে সম্ভবত কোন ক্লাসরুম ছিল। সেই রুমে আমি এপর্যন্ত মাত্র একবার গিয়েছিলাম - রিফাৎ আরা ম্যাডামকে বিতর্কের লেখা জমা দিতে। পারতপক্ষে আমি ওদিকে যাই না। প্রত্যেকদিন সকালে ভাইস-প্রিন্সিপালের রুমে গিয়ে উপস্থিতি-বইতে স্বাক্ষর করে সোজা এদিকে চলে আসি। এখন আয়েশা ম্যাডামের সাথে দেখা করতে সেখানে যেতে কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছে। থার্ড পিরিয়ড চলছে। স্কুল সেকশানের ক্লাস নেই বলে ম্যাডামদের রুমে এখন অনেক ম্যাডাম। আয়শা ম্যাডামের টেবিল কোন্‌টা জানি না। কাকে জিজ্ঞেস করবো সেটাও বুঝতে পারছি না। ম্যাডামদের সবার সাথে পরিচয়ও হয়নি আমার। বারান্দা দিয়ে হয়তো সবসময়েই অনেক মানুষ আসা-যাওয়া করে। তাই ম্যাডামরা কেউ এদিকে তাকাচ্ছেনও না। রুমের ভেতর অনেক হৈ চৈ করে কথাবার্তা চলছে। দরজার কাছেই রিফাৎ আরা ম্যাডামের টেবিল। সেখানে অনেক খাতাপত্র আছে, কিন্তু ম্যাডাম নেই। হয়তো ক্লাসে গেছেন। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেও কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছে। আয়শা ম্যাডামও হয়তো ক্লাসে গেছেন। মনে পড়লো প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস চলছে।  টিফিন ছুটিতে দেখা করতে হবে। লম্বা লম্বা পা ফেলে দ্রুত ফিরে এলাম নিজের টেবিলে।

কাশেম স্যার পান চিবুতে চিবুতে বার্ষিক পরীক্ষার খাতা কাটছেন। আমার দিকে তাকিয়ে হাসলেন একটু। জিজ্ঞেস করলাম, "কোন্‌ ক্লাসের খাতা দাদাভাই?"

এই মানুষটা এত আন্তরিক যে এ ক'দিনের মধ্যেই আমাদের সবার দাদাভাই হয়ে গেছেন। কাশেম স্যার গলা উপরের দিকে তুলে একটু মাথা ঝাঁকিয়ে মুখে অদ্ভুত একটা শব্দ করে পানের রস সামলে কোনরকমে উত্তর দিলেন, "ক্লাস সেভেনের খাতা। আর কইয়েন না ভাই, পোলাপাইন সবগুলা ডামিস ডামিস।"

"স্যার" - দেখলাম ইলেভেন ক্লাসের একজন ছাত্র দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে।
"কী ব্যাপার, কিছু বলবে?"
"একটু কথা ছিল স্যার।"
"বল"
"একটু বাইরে আসেন না স্যার।" - ছেলেটা বেশ কাঁচুমাচু হয়ে বলছে।
বারান্দায় এলাম। দেখি বি সেকশানের সেই বাবরও সেখানে দাঁড়ানো।
"কী ব্যাপার? তোমাদের ক্লাস নেই এখন?"
"এখন স্যার ম্যাথস ক্লাস হচ্ছে। আমরা স্যার ম্যাথ নিইনি।"
"কী নিয়েছো তাহলে?"
"পরিসংখ্যান নিয়েছি স্যার।"
"তো কী ব্যাপার? আমার কাছে কী চাও?"
"প্রাইভেট পড়তে চাই স্যার।"
"আমি তো প্রাইভেট পড়াবো না ঠিক করেছি।"
"কেন স্যার, প্লিজ পড়ান না স্যার। আমরা স্যার আট-নয় জনের একটা ব্যাচ আছি। সপ্তাহে তিন দিন পড়ালে হবে স্যার। আপনার বাসায় গিয়ে পড়ে আসবো।"
"আমার বাসা কোথায়, কত দূরে তোমরা জানো?"
বাবর বেশ খুশি হয়ে উত্তর দিলো, "জানি স্যার। আমি স্যার আপনার বাসা চিনি।"
বলে কি ছেলেটা? আমার ভাই-বোনেরাও এখনো আমার বাসা চেনে না, আর এই ছেলেটা বাসা চিনে ফেললো?"
জিজ্ঞেস করলাম, "কীভাবে?"
"সেদিন স্যার আপনার ঠেলাগাড়ি ফলো করতে করতে আপনার বাসা চিনে এসেছি।" শার্লক হোম্‌সের মতো ভাব করে উত্তর দিলো বাবর।
"তুমি কি বাসার গলি পর্যন্ত গিয়েছিলে, না গলির ভেতরেও ঢুকেছিলে?"
"গলি পর্যন্ত স্যার।"

এ তো সাংঘাতিক ছেলে। সেদিন যে সে আমাকে ফলো করেছে সেটা একটুও টের পাইনি।
"শোন, তোমাদের প্রাইভেট পড়তে হবে না। অন্তত আমার সাবজেক্ট প্রাইভেট পড়তে হবে না। আমার ক্লাসগুলি সব ঠিকমত করবে। কিছু না বুঝলে ক্লাসে প্রশ্ন করবে। আমি বুঝিয়ে দেবো। যা পড়ানোর আমি ক্লাসেই পড়াবো। আমার বাসায় গিয়ে কাউকে পড়তে হবে না। ক্লাসে যা পড়াবো, তা তুমি নিজের বাসায় গিয়ে আবার একটু পড়ে নেবে। তাহলেই হয়ে যাবে।"
"স্যার প্রাইভেট পড়লে তো নোট পাওয়া যাবে। সাজেশানস পাওয়া যাবে।"
"দেখো, আমি ওসব নোট-টোট এর ধারেকাছেও নেই। পদার্থবিজ্ঞানের বড় বড় বইগুলি যাঁরা লিখেছেন, তাঁরা অনেক যত্ন করেই ওগুলি লিখেছেন। আমি যদি নোট তৈরি করি, তা ক্লাসে সবাইকে দিয়ে দেবো। তার জন্য পয়সা খরচ করতে হবে না। যেগুলি তোমাদের কঠিন লাগছে, সেগুলিকে আমি যথাসম্ভব সহজ করে বোঝানোর চেষ্টা করছি। এর পরেও যদি তোমরা প্রাইভেট পড়তে চাও, যাঁরা প্রাইভেট পড়ান, তাঁদের কাছে গিয়ে স্বচ্ছন্দে পড়তে পারো, তাতে আমার কোন আপত্তি নেই।"

বাবর আর তার বন্ধু কিছুটা মন খারাপ করে চলে গেলো। প্রাইভেট না পড়ানোর সিদ্ধান্তটা আমি হঠাৎ নিইনি, অনেক ভেবেচিন্তেই নিয়েছি। আমি দেখেছি স্টুডেন্টরা দলবেঁধে এক টিচারের পর আরেক টিচারের কাছে গিয়ে প্রাইভেট পড়ে, কিন্তু নিয়মিত ক্লাস করে না। আবার অনেক টিচার ব্যাচের পর ব্যাচ প্রাইভেট পড়ান, অথচ নিজে যে কাজের জন্য বেতন নেন - সেই ক্লাসে পড়ানোর কাজটা ঠিকমতো করেন না। কারণ যাঁরা ব্যাচের পর ব্যাচ প্রাইভেট পড়ান - মোদ্দা কথা হচ্ছে টাকার জন্যই তাঁরা পড়ান। শুরুতে যতই মহৎ উদ্দেশ্য থাকুক - একবার টাকা আসতে শুরু করলে ব্যাপারটা পুরোপুরি ব্যবসায়িক হয়ে পড়ে। মানুষের টাকার দরকার নিশ্চয় আছে। কিন্তু এই দরকারের তো কোন শেষ নেই। আমার বন্ধুদের অনেকে বিভিন্ন কলেজে জয়েন করেই ব্যাচের পর ব্যাচ প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেছে। তাদের টাকা-পয়সার হয়তো অনেক দরকার আছে। আমার অতটা দরকার নেই। কলেজ থেকে আমি মাসে প্রায় চার হাজার টাকা বেতন পাই। চাকরি পাওয়ার আগে দেড় হাজার টাকায় আমার এক মাস চলে যেতো। এখন চার হাজারে চলবে না? চাকরি পাওয়ার আগে একটি টিউশনি করতাম। চাকরি পাবার পর সেটাও ছেড়ে দিয়েছি। সেই সময়টা আমি এখন পাবলিক লাইব্রেরিতে কাটাই।

ফোর্থ পিরিয়ড শেষ করে এসে দেখি টিচার্স রুম জমজমাট। নিয়তিদি ইতোমধ্যেই সিঙাড়া রেখে গেছেন টেবিলের উপর। স্পিকার সাঈদ স্যার বেশ আনন্দ-উত্তেজনা নিয়ে খান সাহেবের কীর্তির বর্ণনা দিচ্ছেন, আর আবুল হোসেন খান মিটিমিটি হাসছে।

"প্রদীপ, আপনার দোস্ত খান সাহেব যে ম্যাজিক জানেন সেটা কি আপনি জানতেন?"
খান অনেক কিছুই জানে সেটা জানি। কিন্তু ম্যাজিকও যে জানে তা তো জানতাম না।
"কী ধরনের ম্যাজিক স্যার?"
"শাহীন কলেজের ইতিহাসে খান সাহেবই মনে হয় প্রথম টিচার যিনি জয়েন করার এক সপ্তাহের মধ্যেই বেসের ভেতর কোয়ার্টার পেয়েছেন। তিনি যেখানেই হাত দিচ্ছেন - ম্যাজিকের মত কাজ হচ্ছে।"

সত্যিই তাই। খান সাহেব কলেজে জয়েন করার কয়েক দিনের মধ্যেই এখানকার পুরো সিস্টেম কীভাবে কাজ করে তা জেনে ফেলেছে। সে হাসতে হাসতে বললো, "ম্যাজিক জানলে তো আর কথা ছিল না। তেলটাও জায়গা মতো দিতে জানি না। অনেকক্ষণ ধরে তেল দেয়ার পর দেখা যায় নিজের তেলে নিজেই আছাড় খেয়ে পড়ি। হাহাহা।"

হাসতে হাসতেই সিঙাড়া শেষ করলাম। নিয়তিদি চা নিয়ে এলে জিজ্ঞেস করলাম, "আয়শা ম্যাডাম কি তাঁর টেবিলে আছেন?"
"আছে স্যার।"

আমি রুম থেকে দ্রুত বের হয়ে ম্যাডামদের অফিসের দিকে রওনা দিলাম। প্রচন্ড হৈ চৈ হচ্ছে ম্যাডামদের রুমের ভেতর। মনে হচ্ছে সবাই এক সাথে কথা বলছেন। দেখলাম রিফাৎ আরা ম্যাডাম এত হৈ চৈ-এর মধ্যেও নিজের টেবিলে মাথা নিচু করে কিছু লিখছেন। হয়তো বিতর্কের স্ক্রিপ্ট। তাঁর কাছেই আরেকটি টেবিলে নাসরীন ম্যাডাম চায়ের কাপ হাতে নিয়ে তাকিয়ে আছেন রিফাৎ আরা ম্যাডামের দিকে। সম্ভবত বিতর্কের পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা চলছে। দেয়ালের পাশে আয়শা ম্যাডামকে একটু করে দেখা যাচ্ছে। তাঁর টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে চার-পাঁচজন ছাত্রী। সম্ভবত সেকেন্ড ইয়ারের। এখন কী করি? এ অবস্থায় ম্যাডামদের রুমে ঢোকা অসম্ভব। আবার আয়শা ম্যাডামের সাথে দেখা না করলেও সমস্যা। তিনি পিয়নকে দিয়ে নোট পাঠিয়েছেন দেখা করার জন্য। রুমের সামনে বারান্দার পিলারের কাছে দাঁড়িয়ে রইলাম।

ডিসেম্বরের সকাল এগারোটার মিষ্টি রোদ কলেজ চত্বরের সবুজ ঘাসের উপর উজ্জ্বল রঙের মত লেপ্টে আছে। ওদিকের বারান্দা থেকে ঘাসের চত্বরে নামার কয়েক ধাপ সিঁড়ি। সেখানে উজ্জ্বল রোদ। আর সেই রোদে পিঠ বিছিয়ে শুয়ে আছে একটি গুইসাপ। এত দূর থেকে দেখেও কেমন যেন শিউরে উঠলাম।

"আপনি এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?"

হঠাৎ এ রকম প্রশ্নে  হকচকিয়ে পেছন ফিরে তাকালাম। কী উত্তর দেবো বুঝতে পারছি না। মুখ দিয়ে অলমোস্ট বেরিয়ে আসছিল, "কেন, এখানে দাঁড়ানো কি নিষেধ?" কিন্তু মুখে ব্রেক কষলাম। প্রশ্নটি যিনি করেছেন -  আগুনরঙা শাড়ীর তন্বী তরুণী - তাঁকে আমি চিনি। পূর্ণিমা ভৌমিক, কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টে নতুন জয়েন করেছেন। কিন্তু তিনি মনে হয় আমাকে চেনেন না। বহিরাগত ভেবেছেন বলেই হয়তো এমন রাগত স্বর। 

বললাম, "আমার নাম প্রদীপ। আমি এখানকার টিচার।"
"আমি আপনাকে চিনি। আমি জানতে চাচ্ছি আপনি এখানে কার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন?"
"ওহ্‌, আয়শা ম্যাডামের জন্য। তিনি মনে হয় ব্যস্ত আছেন। আমি পরে আসবো।" বলেই হাঁটতে শুরু করলাম। দেখলাম ওদিক থেকে আসছেন হোসনে আরা ম্যাডাম। তাঁর হাতে একটা পলিথিনের শপিং ব্যাগ। সেখানে সোয়েটার টাইপের কিছু দেখা যাচ্ছে। হোসনে আরা ম্যাডামের মধ্যে একটা প্রখর কমান্ডিং পার্সোনালিটি আছে। আমার মনে হয় প্রিন্সিপালেরও সাহস হবে না তাঁর কথার উপর কোন কথা বলার।

"কী খবর প্রদীপ? আপনার সাথে তো আমার কথাই হলো না এখনো। সুচরিতের সাথে কথা হয়েছে কয়েকবার। কিন্তু আপনার সাথে হয়নি।"
"জ্বি ম্যাডাম, ভালো।" - বলেই মনে হলো এটা কী বললাম? আমার সাথে কথা হয়নি এই ব্যাপারটা ভালো?
"আপনার সাথে আমার ছেলের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়নি। বুঝ্‌ছেন প্রদীপ, কলেজের সবচেয়ে দুষ্ট ছেলেটা - আমার।"

কথাগুলো বলার সময় ম্যাডামের উজ্জ্বল মুখ উজ্জ্বলতর হয়ে উঠলো।
"অ্যাই কামরুজ্জামান" - ম্যাডাম পিটি স্যারকে ডাকলেন। পিটি স্যার টিচার্স রুমের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রায় দৌঁড়ে এলেন ম্যাডামের কাছে।
"জ্বি ম্যাডাম।"
"পাপ্পু একটু আগে তোমার সাথে ছিল না? একটু ডেকে দিবা?"
"দিচ্ছি ম্যাডাম।" - কামরুজ্জামান স্যার দ্রুত অদৃশ্য হয়ে গেলেন। আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বারান্দা দিয়ে দৌড়ে এসে হঠাৎ থেমে মিলিটারি কায়দায় দুই পা জড়ো করে সোজা হয়ে দাঁড়ালো একজন ছাত্র। দাঁড়িয়েই দুইপায়ের গোড়ালি উঁচু করে কাঁধ ঝাঁকিয়ে 'অ্যাটেনশান' হয়ে গেলো। এই তাহলে পাপ্পু।
"প্রদীপ, ও হলো পাপ্পু। আমার ছেলে। কলেজের প্রিফেক্ট।" - হোসনে আরা ম্যাডাম বললেন।
পাপ্পুকে বললাম, "সহজ হও পাপ্পু। এরকম মিলিটারির মত শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছো কেন?"
পাপ্পু সহজ হলো। লিকলিকে শরীর তার। তার কলেজ ইউনিফর্মের শার্টের কাঁধে বিমান বাহিনীর অফিসারদের মত বিভিন্ন রঙের স্ট্রাইপ দেয়া। সারা কলেজের ক্যাপ্টেন পাপ্পু। তার মধ্যে যে লিডারশিপ আছে তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। পাপ্পুর কথা আমি আগেই শুনেছি, আজ দেখা হলো। কলেজ বিতর্কের টিমে সে হবে দলনেতা।
"তোমাদের বিতর্কের প্রস্তুতি কেমন চলছে?"
"জ্বি স্যার ভালো। রিফাৎ আরা ম্যাডাম বলছিলেন আপনাকে স্ক্রিপ্টের টিমে পেলে আরো ভালো হতো।"
আমি এ প্রসঙ্গে আর কোন কথা বললাম না। পাপ্পু বললো, "স্যার, আপনি আমাদের কোন ক্লাস নেবেন না?"
"নেবে না কেন? অবশ্যই নেবে। আমি প্রিন্সিপাল স্যারকে বলবো।" - হোসনে আরা ম্যাডামের কথা শুনে মনে হচ্ছে তিনি এখনই প্রিন্সিপালের রুমে ঢুকে যাবেন। ওদিক থেকে আয়শা ম্যাডামকে আসতে দেখে কিছুটা ভরসা পেলাম। তাঁর পেছনে ছাত্রীদের দলটাও আছে।
"প্রদীপ, তোমার কি এখন ক্লাস আছে?"
"না ম্যাডাম।"
"তাহলে আসো তো আমার সঙ্গে একটু। অ্যাই নাসরিন, কোহিনুর, পাপ্পু, তোমরা ল্যাবে যাও। আমি প্রদীপকে নিয়ে আসছি।"
পাপ্পুসহ ছাত্রীরা প্রায় দৌড়ে চলে গেল। আয়শা ম্যাডাম বললেন, "সেকেন্ড ইয়ারের প্র্যাকটিক্যাল বাকি আছে অনেকগুলা। তুমি কি তাদের লাইটের এক্সপেরিমেন্টগুলা করে দিতে পারবে?"
"যন্ত্রপাতি কি সবকিছু আছে?"
"যন্ত্রপাতি আছে। তুমি একটু দেখো তো।"

কলেজ বিল্ডিং থেকে বের হয়ে সামনের রাস্তা পার হয়েই হ্যাঙ্গার। দেখলাম দুপাশে দুটো দোতলা বিল্ডিং। দুটো বিল্ডিং-এর ছাদ থেকে আরো অনেক উপরে স্টিলের স্ট্রাকচার দিয়ে টিনের ছাদ। দুটো ছোট আকারের যুদ্ধবিমান রাখা আছে সেখানে। এটাই হ্যাঙ্গার। বিল্ডিং এর সাদা দেয়ালে বড় বড় অক্ষরে লেখা আছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেনেডির বাণী: Ask not what your country can do for you, ask what you can do for your country. মনে মনে বললাম, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যাপারে আমার কিছু করার সুযোগ থাকলে আমি করবো।

হ্যাঙ্গারের দোতলায় ফিজিক্স ল্যাবটা অনেক বড়, কিন্তু আলো খুব কম। আয়শা ম্যাডাম জানালেন এই ল্যাব খুব শীঘ্রই স্থানান্তরিত হবে। নতুন জায়গায় লাইটের সমস্যা হবে না। আপাতত আমি যেন লাইটের এক্সপেরিমেন্টগুলো দেখি। সেকেন্ড ইয়ারের দশ বারোজন শিক্ষার্থী আছে ল্যাবে। আমাকে তাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে আয়শা ম্যাডাম চলে গেলেন। এদের মধ্যে শুধু পাপ্পুর সাথেই আমার সরাসরি কথা হয়েছে। বাকিদের সাথে এখনো কোন কথাবার্তা হয়নি। কোন ধরনের ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় না গিয়ে সরাসরি ফিজিক্স দিয়ে শুরু করলাম আলাপচারিতা। তারা প্র্যাকটিক্যাল বই দেখে দেখে প্র্যাকটিক্যাল করার চেষ্টা করে। বইতে কতগুলো ডাটা দেয়া থাকে। তারা সেগুলোরই পুনরুৎপাদন করার চেষ্টা করে। এই টেকনিক কিন্তু সবসময় কাজ করে না। তাদের কিছু বেসিক জিনিস দেখিয়ে দেয়ার পরেই দেখলাম তাদের উৎসাহ অনেক বেড়ে গেল। আমারও বেশ ভালোই লাগলো।

ছুটির সময় হয়ে এলো। যন্ত্রপাতি ঠিক করে ল্যাবে তালা লাগানোর দায়িত্ব ইদ্রিসের। কিন্তু ইদ্রিসের দেখা নেই কোথাও। পাপ্পুকে বললাম, "ইদ্রিসভাই আসা পর্যন্ত তোমরা থাকো। আমি যাচ্ছি।"

হ্যাঙ্গারের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় দেখলাম ইদ্রিস আসছেন ছুটতে ছুটতে। বেচারাকে আসলেই অনেক বেশি কাজ করতে হয়। আমি কলেজের বারান্দায় মিজানকে পায়চারি করতে দেখি, কাসেমকে পায়চারি করতে দেখি, কিন্তু ইদ্রিসকে দেখি না।

সিঁড়ির নিচের ধাপে দাঁড়িয়ে কথা হলো ইদ্রিসের সঙ্গে। "ইদ্রিসভাই, আপনি এসে গেছেন? যন্ত্রপাতি সব ঠিকঠাক আছে কি না দেখে নিয়েন।"
"ঠিক আছে স্যার।"
সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত উঠে যাচ্ছিলেন ইদ্রিস। হঠাৎ থেমে ডাক দিলেন, "স্যার।"
"জ্বি"
"স্যার, আপনার সাথে কি তাঁর দেখা হয়েছিল?"
"হ্যাঁ, আয়শা ম্যাডাম তো একটু আগেই গেলেন এখান থেকে।"
"আয়শা ম্যাডামের কথা বলছি না স্যার। আপনাকে যিনি দেখা করতে বলছিলেন।"
"ওটা আয়শা ম্যাডাম দেননি?"
"না স্যার।"
আমার হার্টবিট হঠাৎ বেড়ে গেল।

No comments:

Post a Comment

Latest Post

Memories of My Father - Part 2

  In our childhood and even in our adulthood, there was no tradition of celebrating birthdays. We didn't even remember when anyone's...

Popular Posts