Saturday 23 May 2020

ছিন্ন পাতার সাজাই তরণী - পর্ব ১৯

19

“তুই কি কালকে এসেছিলি?” - বাস থেকে নেমে কলেজে ঢোকার সময় ইন্দ্রাণী জিজ্ঞেস করলো।
“কাল কেন আসবো? হরতাল ছিল না?” – হাঁটতে হাঁটতে ক্যাজুয়েলি উত্তর দিলাম আমি।
“সেটাই তো কথা। কাল কিন্তু কলেজে ক্লাস হয়েছে। মনে হয় আমি আর তুই ছাড়া সবাই এসেছিলেন। ইভাও এসেছিল।”
“আধাবেলা হরতাল, তেমন জোরালো ছিল না তো। আমি আর অঞ্জন স্যার সকালে রিক্সা নিয়ে চলে এসেছিলাম। আর যাবার সময় তো গাড়ি দিয়েছিল।“ – পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে ইভা বললো।
আমি মনে মনে একটু শংকিত হয়ে পড়লাম। হরতালের কারণে আরেকটা ছুটি কাটা গেল। কিন্তু আমার যে আরো ছুটি দরকার। সেই ছুটি কি পাবো?
ভাইস-প্রিন্সিপালের রুমে হাজিরা খাতায় দস্তখত করতে গিয়ে দেখলাম গতকাল আমার দস্তখতের ঘরে লাল কালিতে ‘অ্যাবসেন্ট’ লিখে রাখা হয়েছে। হরতালে যে কলেজে আসতে হবে তা আমার মাথাতেও ছিল না। ইউনিভার্সিটি জীবনে হরতাল ধর্মঘট অবরোধের সাথে এত বেশি পরিচিত হয়েছি যে – ধরে নিয়েছিলাম এগুলোর কোন একটার নাম নিলেই ঘর থেকে আর বের হবার দরকার নেই। ভেবেছিলাম হরতালের ভেতর কেউই আসবেন না কলেজে। বিশেষ করে যাঁরা শহরে থাকেন তারা তো আসবেনই না। অথচ দেখা যাচ্ছে ভাইস প্রিন্সিপাল ম্যাডামও চলে এসেছেন চকবাজার থেকে। আমার আর কোন অজুহাত দেখানোর উপায় রইলো না।  আমাকে অবশ্য তিনি কিছু জিজ্ঞেস করলেন না আজ। দরখাস্ত দিয়ে ছুটি মনজুর করতে পারলে লাল কালির “অ্যাবসেন্ট” বদলাতে হবে। নইলে বেতন কাটা যাবে। সেটাই নিয়ম বলে জানিয়েছেন কাদের সাহেব। ভাইস-প্রিন্সিপালের রুম থেকে আসার সময় অফিস-রুমে ঢুকতেই গাউস সাহেব বললেন, “ছুটির অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম লাগবে স্যার?”
“জ্বি গাউস ভাই। আপনি কীভাবে বুঝলেন?”
গাউস সাহেব তাঁর ডেস্ক থেকে একটা ফর্ম আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে  হে হে করে হেসে বললেন, “এক্সপিরিয়েন্স আছে না স্যার।“
“আমার দুইটা ফর্ম লাগবে গাউস ভাই।“
“দুইটা ফর্ম কেন লাগবে?”
“আপনার এক্সপিরিয়েন্স কী বলে? কেন লাগবে?”
“হেহেহে বুঝতে পেরেছি।“
গাউস সাহেব কী বুঝতে পেরেছেন জানি না। আমাকে কেন আরো ছুটি নিতে হবে তা তাঁর এক্সপিরিয়েন্স থেকে জানার কথা নয়।
নতুন রুটিন কার্যকরী হওয়ার পর প্রতিদিন আমার ফার্স্ট পিরিয়ড থাকে ক্লাস সেভেনের সাথে। আমি তাদের ক্লাসটিচার। ফার্স্ট পিরিয়ডে তাদের নাম ডাকতে হয়। আজ তাদের হাজিরা খাতা খুঁজে পাচ্ছি না। আমার সিটের সামনে ডেস্কের উপর ছিল। গতকাল হয়তো কেউ নিয়ে গেছেন।
হাজিরা খাতা ছাড়াই ক্লাসে হাজির হলাম। আমি এখনো বুঝতে পারছি না এই ক্লাসের ছেলে-মেয়েরা আমাকে দেখলে এমন গম্ভীর হয়ে থাকে কেন। আমার পড়ানো সম্ভবত তাদের ভালো লাগছে না। অঞ্জন স্যার তো বললেন যে তাঁকে দেখলেই নাকি পুরো ক্লাস খুশিতে নেচে ওঠে। অঞ্জন স্যার তাঁর এমন খুশিতে-নেচে-ওঠা ক্লাসটা কেন আমাকে দিয়ে দিলেন জানি না।
“অ্যাটেনশান” – সুব্রত বেশ গম্ভীরভাবে ক্লাস মনিটরিং করে। খুবই কর্তব্যনিষ্ঠ বলে মনে হয় তাকে। ক্লাস মনিটর হয় মেধানুসারে। সুব্রত নাকি এপর্যন্ত কোন ক্লাসেই সেকেন্ড হয়নি। ফেরদৌসি আক্তার সেকেন্ড হয়েছে। ক্লাস সেভেনের দুটো সেকশান আছে। বেজোড় রোল নম্বরের শিক্ষার্থীরা এ সেকশানে, জোড় রোলনম্বর বি সেকশানে। তাদের দুটো সেকশানকে আপাতত এক সেকশানে রাখা হয়েছে টিচার কিংবা ক্লাসরুমের অভাবে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের আলাদা করে ফেলা হবে। তখন বি সেকশানের মনিটর হবে ফেরদৌসি আক্তার। এই মেয়েটা কিছুটা হাসিখুশি আছে।
“আজ আমরা কী পড়বো?”
“জ্যামিতি স্যার।“
সপ্তাহে দু’দিন পাটিগণিত, দু’দিন বীজগণিত আর একদিন জ্যামিতি – এভাবে ভাগ করে দিয়েছি। সে হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার – জ্যামিতি। ক্লাস সেভেনের জ্যামিতি কী রকম আজ প্রথম দেখছি।
“স্যার রোল কল করবেন না?” – সুব্রত প্রশ্ন করে। নিয়মানুবর্তিতার ব্যাপারে তার কোন ছাড় নেই।
“তোমাদের হাজিরা খাতা খুঁজে পাচ্ছি না। আমার ডেস্কে রেখেছিলাম পরশু। আজ নেই সেখানে।“
“স্যার, আমি খুঁজে নিয়ে আসি?” – সুব্রত বেশ আগ্রহ নিয়ে বললো। মনে হচ্ছে গোয়েন্দা-কাহিনি পড়তে পড়তে মনের ভেতর একটা গোয়েন্দা-গোয়েন্দা ভাব চলে এসেছে তার। বললাম, “যাও।“
সুব্রত দ্রুত বের হয়ে গেল। হাজিরা-খাতার জন্য অপেক্ষা না করে আমি জ্যামিতি সম্পর্কে আমার জ্ঞান জাহির করতে শুরু করলাম।
“জ্যামিতি কাকে বলে জানো?”
“জ্বি স্যার, জানি।“ – অনেকেই এক সাথে বলে উঠলো।
“কে কে জানো হাত ওঠাও।“
অনেকেই হাত ওঠালো। সেকেন্ড বেঞ্চের মাঝখানের লম্বা ছেলেটির নেমট্যাগ দেখে বললাম, “আবদুল আলীম, তুমি বল।“
“স্যার, জ্যা শব্দের অর্থ ভুমি, আর মিতি শব্দের অর্থ পরিমাপ। জ্যামিতি শব্দের অর্থ হলো ভূমির পরিমাপ।“
“স্যার আসি?” – দেখলাম সুব্রত দুটো হাজিরাখাতা হাতে নিয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে আছে।
“এসো। কোত্থেকে পেলে?”
“স্যার দিলরুবা ম্যাডামের ডেস্কে ছিল। তিনি কালকে আমাদের রোল কল করেছিলেন। তাই ওখানেই থাকবে এরকম ধারণা ছিল।“
অনেক বুদ্ধি তো সুব্রতর। যে ধারণা তার মাথায় এসেছে আমার মাথায় সে ধারণা কেন এলো না?
রোল কল করার পর আবদুল আলীমকে বললাম, “জ্যামিতি সম্পর্কে তুমি যেটা বললে সেটা তো জ্যামিতি শব্দের অর্থ। কিন্তু জ্যামিতি বলতে আসলে কী বোঝায়? জ্যামিতি আমাদের কেন পড়তে হবে?”
ক্লাসের ছেলে-মেয়েদের দেখে বুঝতে পারছি না তারা কিছু বুঝতে পারছে কি না। তাদের চিন্তাভাবনার ধরনটা বুঝতে না পারলে আমি তো তাদের বোঝাতে পারবো না, বরং তারা ক্লাসে বিরক্ত হবে, উৎসাহ পাবে না। গল্প বলবো নাকি? কিন্তু জ্যামিতি নিয়ে তো কোন গল্পটল্পও জানি না। আমার যে কী হবে! একটা ক্লাস যে ধরনের আনন্দময় হওয়ার কথা সেরকম হচ্ছে না বলে অস্বস্তি হচ্ছে।
কলেজের ক্লাসে এধরনের কোন অস্বস্তি হয় না। কলেজের ছেলে-মেয়েদের সাথে আমার বেশ বোঝাপড়া হয়ে গেছে। তাদের ক্লাসে গেলে তাদের সাথে একটা মানসিক যোগসূত্র তৈরি হয়। কিন্তু ক্লাস সেভেনের সাথে তা এখনো হচ্ছে না। অবশ্য মাত্র তিন দিন হলো তাদের ক্লাসে এসেছি।
একাদশ সি সেকশানের সাথে সেকেন্ড পিরিয়ড শেষ করার পর আবার ক্লাস সেভেনে। বৃহস্পতিবার চার ঘন্টার পর স্কুল সেকশানের ছুটি হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার তাদের থার্ড ও ফোর্থ পিরিয়ড রাখা হয়েছে এক্সট্রা-একাডেমিক কাজকর্মের জন্য। ক্লাসটিচারকেই সেই দুঘন্টা ম্যানেজ করতে হয়। থার্ড পিরিয়ডে ক্লাসে এসে আমি পড়লাম বিপদে। এক্সট্রা-কারিকুলাম এক্টিভিটিজ বলতে আমি ধরতে গেলে কিছুই জানি না।
“এই দুই পিরিয়ডে সাধারণত কী কী হয় আমাকে একটু বলো তো তোমরা।“
“লেখাপড়া ছাড়া আর যে কোন কিছু স্যার।“ – প্রায় সবাই চেঁচিয়ে উঠলো। সবাইকে বেশ খুশিখুশিও দেখাচ্ছে। এর কারণ কী? ক্লাসের মধ্যে কেমন যেন ইউরিয়া টাইপ গন্ধও আসছে।
“ক্লাসে কেমন যেন একটা দুর্গন্ধ আসছে না?”
“জ্বি স্যার, টয়লেট থেকে আসছে স্যার।“ – ফেরদৌসি আক্তার যেভাবে হাসতে হাসতে এই তথ্যটা দিলো তাতে মনে হচ্ছে – এই গন্ধটার কারণে তারা সবাই বেশ আনন্দে আছে। ফার্স্ট পিরিয়ডে এই গন্ধটা ছিল না – আর তখন ক্লাসের সবাই কেমন গম্ভীর হয়ে ছিল। এদের ক্লাসরুমের পাশেই ছেলেদের টয়লেট। মাত্র দুটো পিরিয়ড যেতে না যেতেই যেভাবে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে – সাত পিরিয়ড ক্লাস হলে এদের কী অবস্থা হবে এখানে? কিন্তু এরা এত হাসিখুশি কেন? ইউরিয়ার সাথে কি লাফিং গ্যাসের কোন সম্পর্ক আছে? রসায়নের ব্যাপার-স্যাপার আমি ঠিক বুঝি না। সুচরিত স্যারকে জিজ্ঞেস করতে হবে।
“এই দুই পিরিয়ডে কী কী করো তোমরা? আমি তো মাত্র এই সপ্তাহে এলাম। তার আগের সপ্তাহগুলোতে কী কী করেছিলে?”
“তখন তো স্যার আমাদের রমজানের ছুটি ছিল।“
“রমজানের আগে কী করেছিলে?”
“তখন তো স্যার স্পোর্টস আর কালচারালের জন্য কোন ক্লাস হয়নি।“
“তাহলে আজ এখন কী করবে?”
“গান করবো স্যার। ক্লাস সিক্সে আমরা গান করতাম।“
এদের ভেতরের আনন্দ দেখে ভালো লাগছে। সবগুলো ক্লাসই যদি এরকম প্রাণোচ্ছল হতো কত্তো ভালো হত।
“স্যার, আমি একটা গান গাইবো।“
“তুমি? নাম কী তোমার?”
“সিলভিয়া স্যার।“
“ঠিক আছে সিলভিয়া। তুমি গাও।“
গানের কিছুই আমি জানি না। অথচ এখানে আসার পর থেকে আমাকে বিভিন্নভাবে গানের কাছাকাছি আসতে হচ্ছে। আহা রে, আমি যদি একটু গান-টান গাইতে পারতাম। কিন্তু গুপি গাইন বাঘা বাইনের মত ভূতের রাজার বর ছাড়া আমার গান জানার আর কোন উপায় নেই। সিলভিয়া যে গানটা গাইলো সেটা কী গান ঠিক বুঝতে পারলাম না। গান শেষে তার বন্ধুদের মধ্যে কে কী বললো ঠিক খেয়াল করিনি, কিন্তু সিলভিয়া বেশ জোর দিয়ে বললো, “এটা একটা দেশাত্মবোধক গান ছিল। লাভ সং নয়।“
লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের কিছুটাও যে ক্লাসরুটিনের মধ্যে আছে – সেটা দেখে বেশ ভালো লাগলো। আমাদের সময়ে আমাদের স্কুলে আমরা এরকম কিছু পাইনি।
টিফিন পিরিয়ডে টিচার্স রুমে কীভাবে যেন রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়ে গেল। সাঈদ স্যার গতকালের হরতাল সম্পর্কে মত দিচ্ছেন। রমজানের ছুটির পর মার্চের ২০ তারিখ যেদিন কলেজে এলাম সেদিন মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচন ছিল। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি করে ক্ষমতাসীন বিএনপি প্রার্থীকে জেতানো হয়েছে এই অভিযোগে সারাদেশে আধাবেলা হরতাল ডেকেছিল আওয়ামী লিগ ও অন্যান্য জোট। সাঈদ স্যার বলছেন, “এই যে  জানুয়ারিতে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিএনপি হেরে গেল, মহিউদ্দিন চৌধুরি জিতলেন, হানিফ জিতলেন, তাতে তো বিএনপির ভালো লাগেনি। স্বাভাবিক, ক্ষমতায় থেকে এভাবে পরাজয় কেউ মানতে চায় না। তাই মাগুরা উপনির্বাচনে বিএনপিকে যেভাবেই হোক – জিততে হয়েছে।“
“আর কারচুপি করেছে বলেই আওয়ামি লিগ হরতাল ডেকেছে।“ – সুচরিত স্যার বললেন।
আমি রাজনৈতিক আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী নই। কিন্তু আমি এই হরতালের কারণে বেশ সংকটে পড়েছি। গতকাল হরতালের কারণে কলেজে আসতে পারিনি বলে একটা ছুটির দরখাস্ত প্রিন্সিপালের কাছ থেকে পাস করিয়ে নিতে হবে। আবার আগামী রবিবার ও সোমবার এই দু’দিনের ছুটিও আমার লাগবে। গাউস সাহেবের কাছ থেকে আনা ছুটির ফর্ম দুটো ফিল আপ করলাম। তারপর প্রিন্সিপালের রুমে সবুজ বাতি দেখে গলা বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “আসবো স্যার?”
“প্লিজ কাম ইন মিস্টার প্রদীপ। হোয়াট ক্যান আই ডু ফর ইউ?” – প্রিন্সিপাল স্যারের ইংরেজি শুনলে মনে হয় কোন আমেরিকান সাহেব কথা বলছেন।
আমি দরখাস্ত দুটো এগিয়ে দিয়ে বললাম, “স্যার আমাকে একটু ঢাকায় যেতে হবে জরুরি কাজে। দু’দিনের ছুটি লাগবে।“
“লুক মিস্টার প্রদীপ, ক্যাজুয়েল লিভ ইজ অ্যা প্রিভিলেজ, বাট নট ইওর রাইট।“
কথাগুলো বলার সময় প্রিন্সিপাল স্যার আমার দিকে না তাকিয়ে ভ্রু-কুঁচকে তাকিয়ে আছেন আমার ছুটির দরখাস্তের দিকে। তাঁর প্রশস্ত কপালে অনেকগুলো ভাঁজ পড়েছে। মনে হচ্ছে তিনি খুব বিরক্ত। আমি তাঁর ইংরেজি বাক্য মনে মনে বাংলায় অনুবাদ করতে চেষ্টা করলাম। তিনি যদি বাংলায় বাক্যটি বলতেন তাহলে বলতেন -  ‘দেখুন জনাব প্রদীপ, নৈমিত্তিক ছুটি হলো এক ধরনের সুবিধা, কিন্তু অধিকার নয়।‘ তার মানে কী? কলেজ দয়া করে আমাদের নৈমিত্তিক ছুটির সুবিধা দিচ্ছে, যেটাতে আমাদের অধিকার নেই! প্রিন্সিপাল স্যার বলছেন – ‘বাট নট ইওর রাইট’। এখানে ইওর বলতে কি আমাদের সবাইকে বোঝানো হচ্ছে, নাকি শুধুমাত্র আমাকে বোঝানো হচ্ছে? সবার জন্য এই সুবিধাটি আছে – কিন্তু আমার জন্য নেই! তা কীভাবে হবে? আমার জন্য কি আলাদা নিয়ম? হতেও পারে। ইতোমধ্যেই হয়তো আমি আমার রেকর্ড খারাপ করে ফেলেছি। রমজানের ছুটির পর কলেজ যেদিন অফিসিয়ালি খুলেছে – আমি সেদিন আসিনি। তারপর দু’দিন যেতে না যেতেই গতকালও আসিনি। কিন্তু আমার তো বছরে পনের দিনের ক্যাজুয়েল লিভ পাবার কথা। অন্য প্রতিষ্ঠানে নাকি বছরে ২০ দিন ক্যাজুয়েল লিভ পাওয়া যায়।
“এখানে লিখেছেন ব্যক্তিগত কাজে ছুটি লাগবে। ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড, আমি কি জানতে পারি ঢাকায় আপনার কী কাজ? অন্য কোথাও চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন না তো? চাকরিরত অবস্থায় অন্য জায়গায় ইন্টারভিউ দিতে হলে কিন্তু আপনাকে প্রপার চ্যানেলে দরখাস্ত করতে হয় – তা জানেন তো?”
“না স্যার, চাকরির দরখাস্ত নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটা টেলিগ্রাম এসেছে একটা স্কলারশিপের ব্যাপারে। টেলিগ্রামটা আমার হাতে এসে পৌঁছেছে গতকাল। কিন্তু আমার কাগজপত্র জমা দেয়ার লাস্ট ডেট ছিল ছয় দিন আগে। সে ব্যাপারে একটু খোঁজ নিতে চাচ্ছিলাম স্যার।“
“ও তাই নাকি? টেলিগ্রামটা আমাকে দেখানো যাবে?” – বুঝতে পারছি প্রিন্সিপাল স্যার এভিডেন্স দেখতে চাচ্ছেন। টেলিগ্রামের খামসহ কাগজটা আমার সাথে ছিল। এগিয়ে দিলাম। তিনি কাগজটা পড়ে বললেন, “কনগ্রেচুলেশান্‌স, ইউ হ্যাভ বিন সিলেক্টেড ফর স্কলারশিপ বাই আওয়ার মিনিস্ট্রি অব এডুকেশন। বাট, আপনার ফর্ম তো জমা দিতে বলেছে ১৮ মার্চের মধ্যে। আজ তো অলরেডি ২৪ মার্চ। এনিওয়ে, দেখুন চেষ্টা করে। আমি ছুটি দিয়ে দিচ্ছি আপনাকে।“
“থ্যাংক ইউ স্যার।“
“মিস্টার প্রদীপ, ভালো কিছু হলে আমি অন্তত আপনাকে আটকে রাখবো না।“ – হাসিমুখে বললেন প্রিন্সিপাল স্যার।

No comments:

Post a Comment

Latest Post

Memories of My Father - Part 6

  The habit of reading books was instilled in us from a young age, almost unknowingly. There was no specific encouragement or pressure for t...

Popular Posts