সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। ঝুমঝুম বৃষ্টি, রিমঝিম বৃষ্টি। টুপটাপ, আর ঝরঝর। মেলবোর্নে আজ গ্র্যান্ড ফাইনাল। ফুটবলের এই বিশাল আয়োজনের খাতিরে গতকাল সরকারি ছুটিও ভোগ করেছি। আকাশে মেঘমাখা রোদ ছিল। ছুটিটা ভোগই করেছি। ছুটি থাকলেই যে তা ভোগ করা যায় – তা নয়। কিন্তু কালকের ছুটিটা ভোগ করেছি কোনো ধরনের দুর্ভোগ ছাড়াই। ভেবেছিলাম আজ একটু বের হবো, রোদ মাখবো গায়ে। হলো না। আকাশ কাঁদতে বসেছে অভিমানী মেয়ের মতো – কখনো ফুলে ফুলে, কখনো
বৃষ্টির বেগে দুলে দুলে।শনিবারটা, শনিবারের
সকালটা ছিল আমাদের। ব্যস্ততার অজুহাত আমার চিরদিনই ছিল। সেখান থেকে কান ধরে টেনে এনে
আমার কানে টেলিফোন তুলে দিতো তার অদৃশ্য হাত শনিবার সকালে। কত কী যে কথা হতো আমাদের।
রানির দুঃশাসন, চাটুকার অমর্ত্যদের নির্লজ্জ রাজনৈতিক আস্ফালন থেকে শুরু করে বাজারহাট
পেরিয়ে ব্যক্তিগত ভালোলাগা মন্দলাগা সবকিছুর নিসংকোচ উজাড়। আমার এপাড়ে যদি বৃষ্টি হতো
– ভাদ্রের দাবদাহে ঘামতে ঘামতে সে বলতো, একটু বৃষ্টি রাখিস আমার জন্য। উচ্চস্বরে হেসে
উঠতাম আমি। যোগ দিতো সেও। বলতো – রাখিস না একটু।
কীভাবে? বৃষ্টি
কীভাবে রাখে? বৃষ্টি আঁকা যায়, রাখা যায় কী?
টুকটাক খেয়ালখুশি
ছবি আঁকতাম যখন, বৃষ্টি আঁকতাম। কাগজে-পেন্সিলে আমার বৃষ্টি ছিল উপর থেকে নিচের দিকে
তেরসা রেখার ধারা। হাতে পেন্সিল ধরতে শেখার পর থেকেই আঁকতে শুরু করেছে আমাদের অথৈ।
কীভাবে যেন শিখে গেছে সে কীভাবে দিতে হয় বৃষ্টির ফোঁটা। ছোট্ট হাতের মুঠোয় পেন্সিল
নিয়ে বললো, “ভাইয়া, তোমার বৃষ্টিতে তো পানি নেই। বৃষ্টির রেখার নিচে গোল করে দিতে হয়।“
বৃষ্টিরেখায় পানির বিন্দু আঁকতে আঁকতে পাঁচ বছরের অথৈ আমাকে শিখিয়েছিল কীভাবে বৃষ্টি
আঁকতে হয়। কিন্তু বৃষ্টি রাখতে হয় কীভাবে? অথৈ এখন অনেক বড় হয়েছে। আরো অনেক ভালো বৃষ্টি
আঁকে সে। কিন্তু সেও জানে না বৃষ্টি কীভাবে রাখে।
সেবার যখন এসেছিল,
আমার খোলা বারান্দায় বসেছিল কিছুটা সময়। কিন্তু দুরন্ত বাতাস, যখন তখন ঠান্ডা হাওয়ার
মাতামাতি, বেশিক্ষণ নেয়া যায় না। বারান্দাটা এখন ঢেকে দিয়েছি কাচের আচ্ছাদনে। ভেবেছিলাম
– আবার যখন আসবে, বৃষ্টি দেখবে বারান্দায় বসে। ঠান্ডা লাগাতে পারবে না হিমের হাওয়া।
বৃষ্টি আসে। বৃষ্টি দেখি। তার লাগানো গাছের সরু কান্ডে উঁকি দেয় নতুন পাতা। কিন্তু
সে আর আসে না। আর আসবে না কোনোদিন – মেনে নিতে পারি না। কানে ভাসে, একটু বৃষ্টি রাখিস
আমার জন্য। বুক ভেঙে যায়, কাশি আসে। হাসতে পারি না আর।

No comments:
Post a Comment