আমাদের ডাক্তারদের নিয়ে গর্ব করার মতো অসংখ্য
ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে বাংলাদেশে। কিন্তু ডাক্তারদের সমালোচনা করার ব্যাপারে আমরা
যতটা উৎসাহী, প্রশংসা করার ব্যাপারে ততটাই কৃপণ। আর ডাক্তারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
জানানো তো মনে হয় আমাদের সংস্কৃতিতেই নেই।
গতকাল (১/৮/২০১৭) বাংলাদেশের সার্জারির ইতিহাসে আরেকটি মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে আমাদের ডাক্তারদের হাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে। দশ মাস বয়সী জোড়া লাগানো যমজ শিশু তোফা ও
তহুরাকে সাফল্যের সাথে আলাদা করেছেন বাংলাদেশের সরকারি ডাক্তাররা। দীর্ঘ সাত ঘন্টার জটিল অস্ত্রোপচার করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ষোল জন চিকিৎসক।তোফা ও তহুরার জন্ম হয়েছে জোড়া লাগানো অবস্থায়।
এধরনের যমজরা ডাক্তারি পরিভাষায় কনজয়েন্ড টুইন্স (Conjoined
twins) নামে পরিচিত। প্রাকৃতিকভাবে প্রায় পঞ্চাশ হাজার যমজ সন্তানের মধ্যে
এক জোড়া যমজের এরকম হবার সম্ভাবনা থাকে। মায়ের শরীরে ভ্রুণাবস্থায় আংশিক কোষ
বিভাজনের কারণে দুটো আলাদা শরীরের কোন একটা অংশ সংযুক্ত অবস্থায় থেকে যায়। ফলে
দুটো শরীরে দুটো জীবনের জন্ম হয় ঠিকই - কিন্তু কোন কোন অংশ একত্রে জোড়া লাগানো
থাকার কারণে তাদের জীবন-যাপন অনেক বেশি কষ্টকর হয়ে ওঠে। শরীরের কোন্ জায়গায় জোড়া
লাগানো আছে তার ভিত্তিতে কনজয়েন্ড টুইনদের বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। তোফা ও তহুরা
সংযুক্ত ছিল পেলভিক এরিয়াতে অর্থাৎ কোমরের কাছে। এ ধরনের সংযুক্তির নাম
পাইগোপ্যাগাস (Pygopagus)। তোফা ও
তহুরার শরীরের অন্যান্য সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আলাদা আলাদা থাকলেও মেরুদন্ডের কিছু অংশ
এবং পায়খানার রাস্তা ছিল সংযুক্ত। এরকম সংযুক্তিকে সাফল্যের সাথে আলাদা করা ভীষণ
জটিল কাজ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ ধরনের অপারেশনে দু'জনের মধ্যে যে কোন এক জনের
মৃত্যু হতে পারে। তোফা ও তহুরাকে নতুন জীবন দান করেছেন আমাদের ডাক্তারেরা। এঁদের
জন্য গর্ব হবে না তো কাদের জন্য হবে?
আপনাদের চেষ্টা ও সাফল্যের জন্য অভিনন্দন। আমরা
কৃতজ্ঞ আপনাদের কাছে।
উপরের অংশটি লিখেছিলাম ২/৮/২০১৭ তারিখে। এরপর নয় বছর কেটে গেছে। তোফা এবং তোহরার বয়স এখন দশ।
![]() |
| মায়ের কোলে তোফা ও তহুরা (ছবি: প্রথম আলো) |
তোফা প্রচুর কথা বলে, তহুরা বেশ চুপচাপ। তোফা স্কুলে যাচ্ছে, হাসিখুশি ফুটফুটে শিশু। কিন্তু তহুরার শারীরিক সমস্যা আছে অনেক। তার কিডনিতে সমস্যা আছে। প্রশ্রাবের সমস্যাও আছে। তাদের বাবা রাজু মিয়াকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বাগানের মালির চাকরি দেয়া হয়েছে।


No comments:
Post a Comment