আমার মা ছিলেন নিরক্ষর, বাবার পড়ালেখা চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত। লেখাপড়া করতে পারেননি বলে লেখাপড়ার প্রতি প্রচন্ড ভালোবাসা ছিল বাবার। তাই নিজের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করানোটাই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য। আমাকে অক্ষরজ্ঞান দেবার যোগ্যতা ছিল না মায়ের, বাবার ছিল না সময়। আমার হাতেখড়ি আমার দিদি ও দাদার হাতে। তাদের হাত ধরে তাদের খাতাতেই আমার আঁকিবুঁকির
শুরু। তাদের গলায় গলা মিলিয়ে আমার অ আ ক খ। অক্ষর আর শব্দ নিয়ে খেলতে খেলতেই কীভাবে যেন পড়তে শিখে গেছি। বড় দুই ভাই-বোনের সুবাদে আমার বইয়ের অভাব হয়নি কখনো। বইয়ের প্রতি ভালোবাসার কারণে বাবা বইয়ের দোকান দিয়েছিলেন। স্কুলের পাঠ্যবই বিক্রি করতেন তিনি। আর আমি সেই সব বই নাড়াচাড়া করতে শুরু করেছিলাম স্কুলে যাবার অনেক আগে থেকেই। আমার দিদি তখন সবে কলেজে ভর্তি হয়েছে, আমি ক্লাস ফোরে। ছুটিতে বাড়ি আসার সময় সে আমার জন্য নিয়ে এসেছিল "রাজকন্যে সবিতা"। স্কুলের পাঠ্যবইয়ের বাইরে আমার প্রথম গল্পের বই "রাজকন্যে সবিতা"। সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত সেই ঝকঝকে রঙিন রাজকন্যে সবিতা আমি যে কত শতবার পড়েছি তার হিসেব নেই। এই এতবছর পরেও সেই বইটা আমার প্রিয় বইগুলোর একটি।
No comments:
Post a Comment