Tuesday, 8 September 2026

সত্যিকারের জেমস বন্ড

 


ইয়ান ফ্লেমিং-এর জেমস বন্ড সিরিজের বইগুলি আমরা অনেকেই পড়েছি। মূল বইগুলি পড়ার চেয়েও জেমস বন্ড সিরিজের সিনেমাগুলি এত বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে জেমস বন্ড বললেই আমরা একজন দুর্ধর্ষ ব্রিটিশ স্পাইয়ের মুখ মনে করি – শন কনারি, টিমুথি ডালটন, রজার মুর, পিটার্স ব্রসন্যান, কিংবা ড্যানিয়েল ক্রেইগ – যার যাঁকে পছন্দ। কিন্তু আমরা হয়তো অনেকেই জানি না –

জেমস বন্ড নামে আদৌ কেউ ছিলেন কি না, কিংবা ইয়ান ফ্লেমিং এই নামটি কীভাবে পেয়েছিলেন।

জেমস বন্ড নামে সত্যিকারের যে মানুষটি, তিনি ছিলেন একজন আমেরিকান পক্ষীবিজ্ঞানী (ornithologist)। বহু বছর ধরে তিনি গবেষণা করেছেন ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের অসংখ্য পাখি নিয়ে। ফিলাডেলফিয়ার একাডেমি অব ন্যাচারাল সায়েন্সের তত্ত্বাবধায়ক (curator) ছিলেন তিনি। প্রায় শতাধিক ক্যারিবিয়ান দ্বীপ তিনি ভ্রমণ করেছেন, দিনের পর দিন গোয়েন্দাগিরি করেছেন পাখিদের ওপর। তাঁর বিখ্যাত বই Birds of the West Indies প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৩৬ সালে। এই বইটি দেখেই বইয়ের লেখকের নামটি মনে গেঁথে গিয়েছিল ইয়ান ফ্লেমিং-এর। ইয়ান ফ্লেমিং নিজেও খুব পক্ষীপ্রেমিক ছিলেন। বাস্তবের পক্ষীবিদ জেমস বন্ড নামটি ইয়ান ফ্লেমিং-এর দুর্ধর্ষ স্পাই হিসেবে থ্রিলার সাহিত্যে জায়গা করে নেয়।

পক্ষীবিদ জেমস বন্ড জন্মেছিলেন ১৯০০ সালের ৪ জানুয়ারি। বেঁচেছিলেন ১৯৮৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তিনি তাঁর নামের জনপ্রিয়তা উপভোগ করে গেছেন প্রায় তিন যুগ – ১৯৫৩ সালে জেমস বন্ড সিরিজের প্রথম বই ক্যাসিনো রয়্যাল প্রকাশিত হবার পর থেকে ১৯৮৯ সালের মুভি লাইসেন্স টু কিল পর্যন্ত।


No comments:

Post a Comment

Latest Post

চিকিৎসাবিজ্ঞানে যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা

  ধীরে ধীরে চোখের আলো নিভে আসছিলো রিস হিবার্টের। পৃথিবীর আলো দেখার আশা ছেড়েই দিতে হয়েছিল তাঁকে। দু’বছর আগেও বেশ সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন তিনি। ...

Popular Posts