সম্প্রতি প্রকাশিত
৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিটা পড়ে আবারো কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লাম। বিসিএস
পরীক্ষার সাথে আমার একটি অদ্ভুত অন্যরকম অনুভূতির সম্পর্ক আছে। চিরায়ত ভালোবাসার
সম্পর্কের মতো এখানে আমার না পাওয়ার বেদনা আছে, আবার পাওয়ার আনন্দও আছে।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস পরীক্ষার আয়োজনটা ব্যাপক এবং দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ থেকে শুরু করে দরখাস্ত জমা দেয়া, প্রিলিমিনারি, লিখিত, মনস্তাত্বিক, মৌখিক, পুলিশী তদন্ত, স্বাস্থ্য পরীক্ষা সব শেষ করে নিয়োগ পেতে পেতে এক বছরেরও বেশি সময় লেগে যায় অনেক সময়। এত দীর্ঘদিন ধরে আর কোন নিয়োগ পরীক্ষা আর কোথাও চলে বলে আমার মনে হয় না।তারপরও এই
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে অনেক মেধাবী তরুণ-তরুণীর জীবনের স্বপ্ন পূরণ হয়।
যদিও সেই স্বপ্ন-পূরণের শ্রেণিবিভাগ আছে। একই বিসিএস পরীক্ষায় পাস করে সবাই প্রায়
একই সময়ে কর্মজীবন শুরু করলেও ক্যাডারের ভিন্নতার কারণে এবং বাংলাদেশের সামাজিক ও
রাজনৈতিক জটিল সংস্কৃতির কারণে একজন সহকারী কমিশনার কাজে যোগ দিয়েই যতটুকু ক্ষমতার
অধিকারী হয়ে ওঠেন, একজন চিকিৎসক বা একজন অধ্যাপক তাঁদের কর্মজীবনের শেষেও সেরকম
ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি অর্জন করতে পারেন না।
সে যাই হোক। এই
ডিজিটাল যুগে আমরা অনেক আধুনিক হয়েছি, বিসিএস পরীক্ষা-পদ্ধতিও আধুনিক হয়েছে
নিঃসন্দেহে। বিজ্ঞপ্তির একেবারে শেষে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরের বাম পাশের
লাইন দুটোতে পরীক্ষার্থীদের যে উপদেশ দেয়া হয়েছে তা খুবই অর্হবহ- "পড়াশুনা
এবং জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করুন; চাকরির
ক্ষেত্রে কোনোরূপ তদ্বির প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।" নিয়োগের
ক্ষেত্রে সত্যি সত্যিই যদি একথা মানা হয় - তবে বলতে হবে স্বর্ণযুগ চলে এসেছে।
কিন্তু একটা কথা
বলতেই হয় যে - বিসিএস পরীক্ষায় দৈহিক উচ্চতার যে শর্ত দেয়া হয়েছে তা শুধু
অন্যায্যই নয়, অনেকের জন্যই অপমানজনক। একজন প্রশাসক, বা অধ্যাপক, বা চিকিৎসক, বা
যে কোন ক্যাডারেরই দৈহিক উচ্চতা কি কর্মদক্ষতার ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা রাখে? একজন
অত্যন্ত মেধাবী তরুণ যদি উচ্চতায় পাঁচ ফুটের কম হন, কিংবা একজন মেধাবী তরুণী উচ্চতায়
যদি চার ফুট দশ ইঞ্চির কম হন - বিসিএস প্রিলিমিনারি, লিখিত, মৌখিকসহ সবগুলো ধাপে
শীর্ষস্থান অধিকার করলেও শুধুমাত্র শারীরিক উচ্চতার কারণে (যেটাতে তার নিজের কোন
ভূমিকা নেই) তিনি নিয়োগ পাওয়ার অনুপযুক্ত ঘোষিত হবেন। এই শর্তটা যে কতটা
অপ্রয়োজনীয় এবং অনাধুনিক তা কি সরকারি কর্মকমিশনের আধুনিক কর্তাব্যক্তিদের কারো
মাথায় ঢোকে না?
4/7/2017

No comments:
Post a Comment