চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের সাম্প্রতিক বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠানের ছবিতে প্রাণোচ্ছল সতীর্থদের দেখে বড়ই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছি। চিরতরুণ প্রফেসর মিয়াজী ও প্রফেসর চক্রবর্তীকে দেখে মনে পড়ছে - আজ থেকে প্রায় সাড়ে ছাব্বিশ বছর আগে ১৯৯১ সালের ১৭ নভেম্বর আমরা মইনুল হক মিয়াজীদের ব্যাচকে ডিপার্টমেন্টে বরণ করেছিলাম। আমরা তখন অনার্স পাস করে মাস্টার্সের ক্লাস শুরু করেছি কোন রকমে। বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে তখন দায়িত্ব শেষ করেছেন প্রফেসর সৈয়দ
রশীদুন্নবী স্যার। নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন প্রফেসর আবদুস সোবহান ভুঁইয়া স্যার। চেয়ারম্যান বরণ ও বিদায় এবং শিক্ষার্থী বরণ ও বিদায় একই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে করার পরিকল্পনা করা হলো। আমাদের ক্লাসের প্রেমাংকর, হাফিজ, মিজান, শাকিল এবং আরো কয়েকজনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও রিহার্সাল শুরু হলো। আমার ওপর দায়িত্ব পড়লো অনুষ্ঠান উপস্থাপনার।আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম। গাণিতিক ও ভৌত পদার্থবিজ্ঞান গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক জামাল নজরুল ইসলামকে নবীণ বন্ধুদের সামনে পরিচয় করিয়ে দিতে পেরে আমার কী যে আনন্দ হয়েছিল। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রিহার্সাল করতে গিয়ে বেশ মজার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। সেকেন্ড ইয়ারের একজন ছাত্রীকে মনোনীত করা হয়েছিল আমার সহ-উপস্থাপক হিসেবে। তার নাম আমার এখনো মনে আছে, কিন্তু বলব না।
প্রথম দিন সে রিহার্সালে এলো। আমাদের পরিকল্পনা ছিল গান, কবিতা ইত্যাদির ফাঁকে ফাঁকে আমরা দু'জন পূর্ণেন্দু পত্রীর কথোপথন থেকে আবৃত্তি করবো। শুভঙ্কর ও নন্দিনীর রোমান্টিক কথোপকথনে সে এতটাই নার্ভাস হয়ে গেল যে দ্বিতীয়দিন সে আর এলো না। তার বন্ধুদের কাছ থেকে জানা গেলো যে সে হল থেকে বাসায় চলে গেছে। সেই যে গেলো - সে ক্যাম্পাসে ফিরে এসেছিল আমাদের অনুষ্ঠানের পর।
আমার
বন্ধুরা আমাকে মারতে বাকি রেখেছিল - কারণ তাদের মতে নন্দিনী হিসেবে সে ঠিকই ছিল -
কিন্তু শুভংকর হিসেবে আমি ছিলাম পুরোটাই 'শুভংকরের ফাঁকি'। পরের এক সপ্তাহ ধরে
নন্দিনী খোঁজা শুরু হলো। শুরুতে সবাই রাজি হয়, কিন্তু যেই শোনে যে আমিই শুভঙ্কর,
মুহূর্তেই উধাও হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আমাদের, বিশেষ করে আমাকে বাঁচিয়েছিল আমাদের
বন্ধু আইরিন। মিলিটারি অফিসারের বউ হবার সুবাদে তার নিজেরও কিছুটা মিলিটারি মেজাজ।
কিন্তু রাগ করার মত কিছু না ঘটলে সে একেবারে মাটির মানুষ। আমাদের অনুষ্ঠানটা ভালো
হয়েছিল। এখনো যেন কানে বাজে -
"তোমার বন্ধু কে? দীর্ঘশ্বাস?
আমারও তাই।
আমার শূন্যতা গণনাহীন।
তোমারও তাই? "


No comments:
Post a Comment