রামায়ণের রচয়িতা মহর্ষি বাল্মিকীর কাহিনি আমরা অনেকেই জানি। তিনি একসময় ভয়ানক দস্যু ছিলেন। তখন তাঁর নাম ছিল রত্নাকর। জনগণের ধন লুঠ করাই ছিল রত্নাকরের কাজ। সাধারণ জনগণ দস্যুদের সবযুগেই ভয় পায়। তখনো পেতো, এখনো পায়। দস্যুর দস্যুবৃত্তির বিরুদ্ধে কখনোই তারা মুখ খোলে না। একবার এক ঋষি সাহস করে দস্যু রত্নাকরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন – “তুমি জনগণের কষ্টার্জিত ধন লুন্ঠন করছো কেন? সৎভাবেও তো বেঁচে থাকা যায়।“
“সৎভাবে বেঁচে থাকা যায়। কিন্তু সমাজে দাপট দেখানো যায় না।
এই যে আমার বৌ চকচকে সোনায় নিজেকে মুড়ে চকচক করে সমাজে চক্কর দেয়, আমার ছেলে আট ঘোড়ার
রথে চড়ে হাওয়া খায় আর ফূর্তি করে – সৎভাবে কাজ করলে তা কি কখনো করতে পারতো? আপনি নিজে
তো ঋষি মানুষ। সৎভাবে থেকে কী পেয়েছেন আপনি? পয়সার অভাবে বিয়ে পর্যন্ত করতে পারেননি।“
ঋষি জানেন আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে রত্নাকরের কথাগুলি সত্য।
সত্যেরও কী দুর্দশা! দস্যুরা যে কথাগুলি সত্য বলে সমাজে চালায় – সেগুলিই সত্য বলে প্রতিষ্ঠা
পায়। তবুও জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার ডাকাতির টাকায় তোমার স্ত্রীপুত্র যেরকম ফূর্তি করছে,
তোমার পাপের দায়ভারও তারা সেভাবে ভোগ করবে তো? তোমার পাপের ভাগ তারা নেবে?”
“কেন নেবে না? টাকার ভাগ নিলে পাপের ভাগ কেন নেবে না?” রত্নাকরের
পরিষ্কার যুক্তি।
তারপর যা ঘটেছে তাও আমরা জানি। ঋষি রত্নাকরকে তাঁর স্ত্রীপুত্রের
কাছে পাঠিয়েছিলেন জেনে আসতে তারা তাঁর পাপের ভাগ নেবে কি না। তারা পরিষ্কার জানিয়ে
দিয়েছিল যে রত্নাকরের অবৈধ উপার্জনের ভাগ তারা ভোগ করলেও – পাপের ভার তারা কেন নেবে?
তারা তো রত্নাকরকে ডাকাতি করতে বলেনি।
অভিমানে রত্নাকর ডাকাতি ছেড়ে ঋষি হয়ে গিয়েছিলেন।
এযুগের রত্নাকরদের বউ-ছেলে-মেয়েদের কী রমরমে অবস্থা তা তো
দেখতেই পাচ্ছি। এযুগের রত্নাকররা চাপে পড়লে নিজের বউ-ছেলে-মেয়েকে অন্যের বলে চালিয়ে
দেবে, তবুও ঋষি হবার মতো ভুল কাজ ভুলেও করবে না।

No comments:
Post a Comment