অস্ট্রেলিয়ায় আমার প্রথম তিন বছর ধরে বাংলাদেশে কথা বলার একমাত্র মাধ্যম ছিল পাবলিক টেলিফোন। টেলেস্ট্রার প্রি-পেইড কলিং-কার্ড কিনতাম সপ্তাহে একবার। দশ ডলারের কার্ডে ছয় মিনিট কথা বলা যেতো। এই ছয় মিনিট কথা বলার পর পুরো এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতো পরবর্তী ছয় মিনিটের জন্য। দশ ডলার উপার্জন করার জন্য সেই সময় আমাকে দুই ঘন্টা কায়িক শ্রম দিতে হতো।
প্রতি শুক্রবার কাজ শেষ করে রাত বারোটায় কার্লটনের একটা টেলিফোন বুথে যখন ঢুকতাম সারা সপ্তাহের ক্লান্তি দূর হয়ে যেতো। এই পাবলিক ফোনগুলো যে আমার কত বড় বন্ধু ছিল!এই ফোনগুলো এখন
আস্তে আস্তে উধাও হয়ে যাচ্ছে। ১৯৯০ সালে প্রায় আশি হাজার পাবলিক ফোন ছিল
অস্ট্রেলিয়ায়। ২০০৭ সালে সেই সংখ্যা এসে দাঁড়ায় পঞ্চাশ হাজারে। আর এখন আছে পঁচিশ
হাজারেরও কম। অস্ট্রেলিয়ান প্রডাক্টিভিটি কমিশন এই টেলিফোনবুথগুলো উঠিয়ে দেয়ার
সুপারিশ করেছে। এই মোবাইল ইন্টারনেট আর আপাত ফ্রি-কমিউনিকেশানের যুগে হোম-ফোনও
যেখানে উঠে যাচ্ছে সেখানে এই ফোনের বাক্সগুলো যে উধাও হয়ে যাবে - সেটাই তো
স্বাভাবিক। সময়ের টানে সময় তো বদলাবেই - তবুও কেন যে মন কেমন করে!
2/7/2017

No comments:
Post a Comment