"তোমার হাতে একটা বই এঁকে দিই?"
বইমেলায় প্রবেশপথের যান্ত্রিক তল্লাশি পার হয়ে ইট বিছানো পথে মাত্র কয়েক পা এগিয়েছি। ঠিক তখনই এই প্রশ্ন। দাঁড়াতে হলো। প্রশ্নকর্তার উস্কোখুস্কো চুল, মুখে খোঁচাখোঁচা দাড়ি, নিঃশ্বাসে কড়া তামাকের গন্ধ। একটু আগেই হয়তো সিগারেট টেনেছেন। আমি কিছু বলার আগেই তিনি বাম হাতে
অথৈর হাত টেনে নিয়ে ডান হাতে রঙের কলম দিয়ে দ্রুত আঁকতে শুরু করেছেন। অথৈর হাতে এলোমেলো রঙিন রেখার আঁকিবুকি দেখে বিস্মিত হবার আগেই আমার হাতে টান পড়লো। দেখলাম আরেকজন শিল্পী আমার হাতে মোটা কলম দিয়ে লিখতে শুরু করেছেন - ক খ গ ঘ। শিল্পীদের প্রতি আমার বিশেষ শ্রদ্ধা আছে। তাঁদের তুলির এক একটি টানে জীবন্ত হয়ে ওঠে আনন্দ বিরহ প্রেম ভালবাসা মুখের হাসি চোখের জল সবকিছু কত সহজে। আমাদের বইমেলায় এহেন সৃষ্টির কারিগররা ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সবার হাতে হাতে লিখে দিচ্ছেন আমাদের প্রাণের বর্ণমালা - এত আনন্দ কোথায় রাখি! বলতে
চাইলাম, "অনেক ধন্যবাদ আপনাদের। আপনারা মহৎ কাজ করছেন ...।" কিন্তু শিল্পীদের
মহত্ব সম্পর্কে আমার উচ্চতম ধারণার একটা লাইনও আমাকে বলতে না দিয়ে শিল্পী বললেন,
"কিছু টাকা দ্যান"। এর জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।
"কিছু টাকা দেন" - বাক্যটা পৃথিবীর সবচেয়ে
বড় শিল্পীর মুখ থেকে বের হলেও তাতে সৌন্দর্যের লেশমাত্র থাকে না।
আমার
ভাগনি একটা একশ' টাকার নোট বের করতেই তা ছো মেরে কেড়ে নিয়ে নিঃশ্বাসে তামাকের বিষ
ছড়িয়ে শিল্পী বললেন, "দুই জনকে ম্যাচিং ম্যাচিং করে দিলে ভাল হয়।"
"ম্যাচিং
ম্যাচিং মানে কী?"
"মানে
আরো একশ ট্যাকা দ্যান।"
মনটা
খুব খারাপ হয়ে গেল। জোর করে হাত ধরে হাতে কিছু আঁকিবুকি করে টাকা আদায় করাটা কি
খুব শিল্পসম্মত কাজ?
24.2.2018

No comments:
Post a Comment