Wednesday, 9 September 2026

একজন হাসিখুশি মানুষ - মেহের আপা

 


মেহেরআপার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল প্রায় ত্রিশ বছর আগে শাহীন কলেজে যোগ দেয়ার পর। তখন বিমান বাহিনীর একটি বাসে আমরা শহর থেকে কলেজে যেতাম প্রতিদিন সকালে। মেহেরআপা বাসে উঠতেন দেওয়ানহাট থেকে। মুখে স্মিত হাসি লেগেই থাকতো। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢিলেঢালা নিয়ম এবং কাজ না করার সীমাহীন স্বাধীনতা থেকে হঠাৎ বিমান বাহিনীর ঝাঁ চকচকে বিধিনিষেধের ঘেরাটোপে ঢুকে আমার যখন হাঁসপাস লাগতো, তখনো দেখতাম মেহেরআপার মুখে হাসি লেগে আছে। তাঁর ব্যক্তিগত সুখদুঃখের কথা আমি জানি না, কিন্তু পেশাগত দায়িত্ব পালনের দিনগুলিতে আমি তাঁকে যতটুকু দেখেছি – আমার মনে হয়েছে এই মানুষটি আনন্দে থাকতে জানেন।

 সারাক্ষণ হাসিখুশি থাকেন বলেই কি তাঁর নাম হাসিম্যাডাম, নাকি আসলেই তাঁর ডাকনাম হাসি – জানতে চাইনি কখনো। আমাদের কমনরুম আলাদা ছিল বলে ক্লাসের ফাঁকে এক রুমে বসে কথাবার্তা বলার সুযোগ আমার তেমন হয়নি। কলেজের বাসে যাওয়া-আসায় প্রতিদিন দেখা হতো। কলেজের করিডোরে দেখা হতো ক্লাসে যাওয়া-আসার ফাঁকে। টুকটাক কথাবার্তা হতো পরীক্ষার সময় যখন একই রুমে দায়িত্ব পালন করতাম। 

যখন কলেজ ছেড়ে চলে আসি, আলাদা করে বিদায় নেয়া হয়নি মেহেরআপার কাছ থেকে। কিন্তু আজ মেহেরআপার চিরবিদায়ের কথা জেনে খুবই খারাপ লাগছে। তৃপ্তিদির পোস্ট করা ছবিতে দেখতে পেলাম রোগশয্যায় শুয়েও মেহেরআপার মুখ থেকে মুছে যায়নি হাসির রেখা। দুঃখকে হাসির তোড়ে এমন বুড়োআঙুল দেখানোর শক্তি মেহেরআপা কীভাবে অর্জন করেছিলেন – আজ তাঁকে সেই প্রশ্ন করার উপায় নেই। 

মেহেরআপা আজ আর নেই – কথাটার কোন অর্থ হয় না। তিনি আছেন তাঁর সহকর্মীদের স্মৃতিতে, কাজে, পরিচয়ে, এবং অগণিত শিক্ষার্থীদের বোধের ভেতর কোথাও না কোথাও – যাদের তিনি পড়িয়েছেন বছরের পর বছর।

২৩/০৬/২০২৩

No comments:

Post a Comment

Latest Post

একজন হাসিখুশি মানুষ - মেহের আপা

  মেহেরআপার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল প্রায় ত্রিশ বছর আগে শাহীন কলেজে যোগ দেয়ার পর। তখন বিমান বাহিনীর একটি বাসে আমরা শহর থেকে কলেজে যেতাম প্রতি...

Popular Posts