Tuesday 23 June 2020

মেঘনাদ সাহা - পর্ব ২৩



ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশান ফর দি কাল্টিভেশান অব সায়েন্স (IACS)

ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার ১৮৭৬ সালে লন্ডনের রয়েল ইনস্টিটিউশন এবং ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশান ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স এর আদলে গড়ে তুলেছিলেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশান ফর দি কাল্টিভেশান অব সায়েন্স (IACS)[1] বিদেশি শাসকদের অর্থানুকুল্যে নয়, শুধু দেশবাসীর দরাজ অনুদানেই তিনি গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান  যেখানে গবেষণা করার জন্য লাগবে না কোন ডিগ্রির তকমা, শুধু বিজ্ঞান ভালবাসাই হবে যোগ্যতা।

          কলকাতার বউ বাজারে অ্যাসোসিয়েশানের যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ ল্যাবোরেটরি থাকা সত্ত্বেও ১৯০৭ সালে সি ভি রামনের আগে আর কেউ সেখানে গবেষণা করার কোন উৎসাহ দেখাননি। রামন এই অ্যাসোসিয়েশানের ল্যাবে গবেষণা করেই আবিষ্কার করেছিলেন রামন ইফেক্ট। এখানে কাজ করেই তিনি নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন। মেঘনাদ সাহা কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেছেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে অধ্যাপনা করেছেন। সেই সময়েও রামন অ্যাসোসিয়েশানে গবেষণা করছিলেন। কিন্তু মেঘনাদ সাহা তখন অ্যাসোসিয়েশানের  প্রতি তেমন কোন আগ্রহ দেখাননি। অ্যাসোসিয়েশানের প্রতি মেঘনাদ সাহার প্রথম আগ্রহ দেখা যায় ১৯৩২ সালে যখন প্রফেসর রামন কলকাতা থেকে ব্যাঙ্গালোরে চলে যাবার সময় অ্যাসোসিয়েশানে 'মহেন্দ্রলাল সরকার অধ্যাপক' পদ সৃষ্টি করেন। প্রফেসর সাহা তখন এলাহাবাদ থেকে কলকাতায় চলে আসার চেষ্টা করছিলেন। তিনি 'মহেন্দ্রলাল সরকার অধ্যাপক' পদের ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু স্যার রামন তাঁকে পদটি না দিয়ে কৃষ্ণানকে দিয়েছিলেন। ফলে প্রফেসর সাহার একটা জেদ চেপে গিয়েছিল তারপর।

          ১৯৩৮ সালে কলকাতায় ফিরে আসার পর তিনি অ্যাসোসিয়েশানে সময় দিতে শুরু করলেন। ১৯৪৪ সালে তিনি অ্যাসোসিয়েশানের অবৈতনিক সম্পাদক এবং ১৯৪৬ সালে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে প্রফেসর সাহা অ্যাসোসিয়েশানকে বউ বাজার থেকে আরো বড় কোন জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গিয়ে আরো অনেক নতুন গবেষণা-প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত নিলেন। নতুন জায়গায় স্থানান্তরের জন্য বিরাট অংকের টাকার দরকার।

          পশ্চিম বঙ্গ সরকারের কাছ থেকে একটা বড় অঙ্কের অনুদান পাওয়া গেলো। সেই টাকায় যাদবপুরে দশ একর জমি কিনে সেখানে নতুন করে গড়ে তোলা হলো IACS

 

সেপ্টেম্বর ১৯৪৮। যাদবপুরে IACS এর নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়


১৯৫০ সালে প্রফেসর সাহার বয়স যখন ৫৭ বছর তখন IACS এর নিয়মানুযায়ী সভাপতির পদ থেকে অবসর নেন তিনি। সেই সময় ডিপার্টমেন্ট অব সায়েন্টিফিক রিসার্চের পরিচালক শান্তিস্বরূপ ভাটনগর প্রস্তাব করেন যে IACS-এর একজন ডিরেক্টর থাকা দরকার। ডিরেক্টরের পদ সৃষ্টি করা হলো এবং সেই পদে প্রফেসর সাহাকে নিয়োগ করা হলো। ১৯৫৬ সালে মৃত্যু পর্যন্ত প্রফেসর সাহা IACS এর ডিরেক্টর ছিলেন।



[1] IACS সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমার "চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন", মীরা প্রকাশন, ঢাকা, ২০১৭।

No comments:

Post a Comment

Latest Post

নিউক্লিয়ার শক্তির আবিষ্কার ও ম্যানহ্যাটন প্রকল্প

  “পারমাণবিক বোমার ভয়ানক বিধ্বংসী ক্ষমতা জানা সত্ত্বেও আপনি কেন বোমা তৈরিতে সহযোগিতা করেছিলেন?” ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বরে জাপানের ‘কাইজো’ ম্য...

Popular Posts