Friday 17 April 2020

জগদীশচন্দ্র বসু - পর্ব ১৬


বিজ্ঞান ও সাহিত্য

১৯১১ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য-সম্মিলনীর ময়মনসিংহ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন জগদীশচন্দ্র। মহারাজা কুমুদচন্দ্র সিংহ ছিলেন সম্মিলনীর অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি। মহারাজা জানালেন যে সবাই জগদীশচন্দ্রের বিজ্ঞান-গবেষণা এবং আবিষ্কারের কথা শুনতে চান। সাধারণ মানুষের জন্য বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের কথা বলার জন্য সাগ্রহে রাজি হয়ে গেলেন জগদীশচন্দ্র। তিনি ছিলেন মাতৃভাষা ও স্বদেশী ভাবধারার বিজ্ঞানচর্চার পথিকৃৎ। ১৮৯১ সাল থেকে তিনি বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ লিখতে শুরু করেন। মুকুল, দাসী, প্রবাসী, ভারতবর্ষ প্রভৃতি পত্রিকায় লিখেছেন। ১৯২১ সালে অব্যক্ত গ্রন্থে তাঁর বাংলা রচনাগুলো প্রকাশিত হয়েছে।
          সভার কয়েকদিন আগে কুমুদচন্দ্র সিংহ দেখলেন, সাধারণের যে বিপুল উৎসাহ দেখা যাচ্ছে জগদীশচন্দ্রের বক্তৃতা শোনার জন্য, তাতে মনে হচ্ছে সভাকক্ষে জায়গা দেয়া সম্ভব হবে নয়া। সেক্ষেত্রে সম্মিলনী পরিষদ বক্তৃতায় টিকেটের ব্যবস্থা করতে চান। জগদীশচন্দ্র এই প্রস্তাবে রাজি হলেন না। তিনি বললেন, ময়মনসিংহ জমিদারপ্রধান স্থান, টাকা হয়তো উঠতে পারে, কিন্তু শুধু বিত্তশালী লোকের জন্য বক্তৃতা দিতে তিনি প্রস্তুত নন। কোন প্রবেশমূল্য যেন ধার্য করা না হয়। দরকার হলে তিনি দু'দিন বক্তৃতা দেবেন।
          সেই অধিবেশনে জগদীশচন্দ্র যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন তা বিজ্ঞানের তো বটেই সাহিত্যের জন্যও একটি অমূল্য সম্পদ। "বিজ্ঞানে সাহিত্য" শিরোনামে পরে 'অব্যক্ত' বইতে সংযুক্ত হয়েছে তাঁর বক্তৃতা। সেদিন তিনি দেখিয়েছেন কবিতা ও বিজ্ঞানের মিল কোথায়:
            "বৈজ্ঞানিক ও কবি, উভয়েরই অনুভূতি অনির্বচনীয় একের সন্ধানে বাহির হইয়াছে। প্রভেদ এই, কবি পথের কথা ভাবেন না, বৈজ্ঞানিক পথটাকে উপেক্ষা করেন না। কবিকে সর্বদা আত্মহারা হইতে হয়, আত্মসংবরণ করা তাঁহার পক্ষে অসাধ্য।"
          এই বক্তৃতায় খুব প্রাঞ্জলভাবে সহজ বাংলায় তিনি তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা সম্পর্কে বলেছেন। অদৃশ্য আলোক, বৃক্ষজীবনের ইতিহাস, বৃক্ষের দৈনন্দিন ইতিহাস, গাছের লেখা ইত্যাদিতে তাঁর গবেষণার মূল সারসংক্ষেপ প্রকাশিত হয়েছে খুব সহজেই। তিনি বলেছেন:
            "নিরীহ গাছপালার নিকট হইতে বলপূর্বক সাক্ষ্য আদায় করিবার জন্য তাহাদের প্রতি অনেক নিষ্ঠুর আচরণ করিয়াছি। এই জন্য বিচিত্র প্রকারের চিম্‌টি উদ্ভাবন করিয়াছি - সোজাসুজি অথবা ঘূর্ণায়মান। সূঁচ দিয়া বিদ্ধ করিয়াছি এবং অ্যাসিড দিয়া পোড়াইয়াছি।"
          বলা যায় সাধারণের জন্য বাংলাভাষায় জনপ্রিয় বিজ্ঞান রচনার কাজটাও শুরু হয়েছিল জগদীশচন্দ্রের হাতেই। ভারতবর্ষের নবীন বিজ্ঞানীদের জন্যও পথনির্দেশ ছিল তাঁর বক্তৃতায়। 'ভারতে অনুসন্ধানে বাধা' প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন:
            "সর্বদা শুনিতে পাওয়া যায় যে, আমাদের দেশে যথোচিত উপকরণবিশিষ্ট পরীক্ষাগারের অভাবে অনুসন্ধান অসম্ভব। এ কথা যদিও অনেক পরিমাণে সত্য, কিন্তু ইহা সম্পূর্ণ সত্য নহে। যদি ইহাই সত্য হইত তাহা হইলে অন্য দেশে, যেখানে পরীক্ষাগার নির্মাণে কোটি মুদ্রা ব্যয়িত হইয়াছে, সে স্থান হইতে প্রতিদিন নতুন তত্ত্ব আবিষ্কৃত হইত। কিন্তু সেরূপ সংবাদ শোনা যাইতেছে না। আমাদের অনেক অসুবিধা আছে, অনেক প্রতিবন্ধক আছে সত্য, কিন্তু পরের ঐশ্বর্যে আমাদের ঈর্ষা করিয়া কী লাভ? অবসাদ ঘুচাও। দুর্বলতা পরিত্যাগ করো। মনে করো, আমরা যে অবস্থাতে পড়ি না কেন সে-ই আমাদের প্রকৃষ্ট অবস্থা। ভারতই আমাদের কর্মভূমি, এখানেই আমাদের কর্তব্য সমাধা করিতে হইবে। যে পৌরুষ হারাইয়াছে সে-ই বৃথা পরিতাপ করে।"
          বৈজ্ঞানিক গবেষণার সাধনা প্রসঙ্গে তাঁর বাস্তব উপলব্ধি:
            "নিরাসক্ত একাগ্রতা যেখানে নাই সেখানে বাহিরের আয়োজনও কোনো কাজে লাগে না। কেবলই বাহিরের দিকে যাহাদের মন ছুটিয়া যায়, সত্যকে লাভ করার চেয়ে দশজনের কাছে প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য যাহারা লালায়িত হইয়া উঠে, তাহারা সত্যের দর্শন পায় না। সত্যের প্রতি যাহাদের পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা নাই, ধৈর্যের সহিত তাহারা সমস্ত দুঃখ বহন করিতে পারে না; দ্রুতবেগে খ্যাতিলাভ করিবার লালসায় তাহারা লক্ষ্যভ্রষ্ট হইয়া যায়। এইরূপ চঞ্চলতা যাহাদের আছে, সিদ্ধির পথ তাহাদের জন্য নহে।"
            এর পাঁচ বছর পর ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ যখন নবীন ও প্রবীণের দলাদলিতে বিভক্ত, হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর পরে কে সভাপতি হবেন তা নিয়ে তুমুল ঝগড়া চলছিলো, তখন সভাপতি হিসেবে জগদীশচন্দ্রের নাম প্রস্তাব করা হলে সবাই স্বতস্ফূর্তভাবে সমর্থন করেন। জগদীশচন্দ্র সেই সময় সাহিত্য পরিষদের প্রচুর উন্নয়ন করেন। তাঁর প্রথম মাসিক অধিবেশনে তিনি যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন তাও বাংলা সাহিত্যের একটা উল্লেখযোগ্য সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়। "নবীন ও প্রবীণ" শিরোনামে সেই বক্তৃতা 'অব্যক্ত' বইতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সাংগঠনিক দলাদলি বিষয়ে তিনি বলেছেন:
          "আমি দেখিয়াছি, যে অনুষ্ঠানে কর্তৃত্ব শুধু ব্যক্তিবিশেষের উপর ন্যাস্ত হয়, যেখানে অপর-সকলে নিজেদের দায়িত্ব ঝাড়িয়া ফেলিয়া দর্শকরূপে হয় শুধু করতালি দেন, না হয় কেবল নিন্দাবাদ করেন, সেখানে কর্ম শুধু কর্তার ইচ্ছাতেই চলিতে থাকে। দেশের কল্যাণের জন্য যে শক্তি সাধারণে তাঁহার উপর অর্পণ করিয়াছিল, এমন এক দিন আসে, যখন সেই শক্তি সাধারণকে দলন করিবার জন্য ব্যবহৃত হয়। তখন দেশ বহু দূরে সরিয়া যায় এবং ব্যক্তিগত শক্তি উদ্দামভাবে চলিতে থাকে।"
          আজ এক শ' বছর পরেও তাঁর কথাগুলি প্রবলভাবে সত্যি।
          ১৯১১ সালে দিল্লীর দরবারে ইংল্যান্ডের রাজা পঞ্চম জর্জের অভিষেক উপলক্ষে জগদীশচন্দ্রকে সি-এস-আই (Companionship of the star of India) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯১২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি-এস-সি ডিগ্রি প্রদান করে।
          এসময় উদ্ভিদ-দেহে স্পন্দনের পরিমাপ আরো সূক্ষ্মভাবে নিরীক্ষণ করার জন্য জগদীশচন্দ্র উদ্ভাবন করেন 'রেজোন্যান্ট রেকর্ডার', 'অসিলেটিং রেকর্ডার' ইত্যাদি সব স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র।

রেজোন্যান্ট রেকর্ডার


 
রেজোন্যান্ট রেকর্ডার দিয়ে উদ্ভিদের পাতায় একটি লিভার এবং সুতো লাগিয়ে এক থেকে বিশ সেকেন্ডের ব্যবধানে উদ্ভিদের ভেতরের সাড়া একটি ধোঁয়ার কালি মাখানো কাচের প্লেটে একটি নির্দেশক কাঁটা দিয়ে রেকর্ড করা যায়। পাতার বোঁটায় কোন স্থানে সামান্য পরিমাণ বিদ্যুৎ-প্রবাহ প্রয়োগ করলে - কালি মাখানো প্লেটটি আস্তে আস্তে একদিক থেকে অন্যদিকে সরে যায় এবং যতক্ষণ পর্যন্ত পাতায় সাড়া কাজ করে ততক্ষণ গ্রাফ আঁকা হতে থাকে ছোট ছোট স্বয়ংক্রিয় বিন্দুর সাহায্যে। লজ্জাবতী লতার ক্ষেত্রে এই সাড়া খুব দ্রুত পাওয়া যায়।
          ইলেকট্রিক প্রোবের সাহায্যে উদ্ভিদের স্নায়ুতন্ত্রের অবস্থিতি নির্ণয় করেন জগদীশচন্দ্র। এই যন্ত্রে একটি সরু কাচের নলের এক মুখ সূক্ষ্মভাবে সুচালো করে তার মধ্যে অনুরূপ সূক্ষ্ম একটি প্লাটিনামের তার গেঁথে বসানো থাকে।

ইলেকট্রিক প্রোবের সাহায্যে স্নায়ুতন্ত্রের অবস্থিতি নির্ণয়। P- প্রোব, গ্যালভানোমিটার G-এর সাথে যুক্ত; S-মাইক্রোমিটার স্ক্রুর মাথা; I- প্রোবের গভীরতা নির্দেশক স্কেল।


 
প্লাটিনামের তারটি নলের মুখে এমনভাবে বসানো থাকে যে, সেটি উদ্ভিদের তন্তুর মধ্যে ঢুকালে কেবলমাত্র প্লাটিনামের মুখটির সঙ্গে তন্তুর বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপিত হতে পারে। গ্যালভানোমিটারের এক প্রান্ত প্রোবের তারের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং অন্য প্রান্ত উদ্ভিদের কোন নিষ্ক্রিয় অংশের সাথে যুক্ত করে দেয়া হয়। একটি মাইক্রোমিটারের সাহায্যে প্রোবটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
          এগুলোর সাহায্যে প্রাণিদেহের ন্যায় উদ্ভিদের দেহেও স্নায়ুতন্ত্রের সন্ধান পান জগদীশচন্দ্র। তিনি বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রকৃতির সঞ্চালন নিয়ে গবেষণা করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছেন  লজ্জাবতী (Mimosa pudien), ও বনচাঁড়াল (Desmodium gyruns)।
            বাইরের উত্তেজনা ছাড়াও কিছু কিছু উদ্ভিদ স্বতস্ফূর্তভাবে অঙ্গসঞ্চালন করে। ত্রিপত্রী বনচাঁড়ালের ছোট পাতাগুলি নিজে নিজে ক্রমাগত নড়তে থাকে। জগদীশচন্দ্র এই বনচাঁড়ালের স্বতস্ফূর্ত স্পন্দন পরীক্ষা করতে শুরু করলেন। উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপার জন্য তিনি 'প্ল্যান্ট ফাইটোগ্রাফ' নামে একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেন। এই যন্ত্রের সাহায্যে তিনি বনচাঁড়ালের পাতার গতি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে লিপিবদ্ধ করতে সক্ষম হন। এই ফাইটোগ্রাফ দিয়ে অতি ক্ষুদ্র (তিন থেকে পাঁচ মাইক্রোমিটার) পরিমাণ বৃদ্ধিও মাপা সম্ভব হয়েছে।


প্ল্যান্ট ফাইটোগ্রাফ। P-ইউ টিউবে বসানো পাতা, সিল্কের সুতা T-এর দ্বারা লিভার L-এর সাথে যুক্ত; S- কালি মাখানো কাচ; C- ঘড়ি

এই সংক্রান্ত গবেষণাপত্র "On an automatic method for the investigation of the velocity of transmission of excitation in mimosa" প্রকাশিত হয় ফিলজফিক্যাল ট্রান্সেকশানে ১৯১৩ সালে এবং অ্যানাল্‌স অব বোটানি জার্নালে প্রকাশিত হয় গবেষণাপত্র "Dirunal variation of moto-excitability in mimosa"। তাছাড়াও প্রকাশিত হয় তাঁর চতুর্থ গ্রন্থ: Researches on irritability of plants
          সেই সময় সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়স ছিল ৫৫ বছর। ১৯১৩ সালের নভেম্বরে ৫৫ বছর পূর্ণ হলে অবসরে চলে যাবার কথা জগদীশচন্দ্রের। কিন্তু তখনো তিনি গবেষণার মধ্যগগনে দৃপ্তমান। বাংলার শিক্ষাবিভাগের কর্মকর্তারা জানেন জগদীশচন্দ্রের মূল্য। তারা জগদীশচন্দ্রের চাকরির মেয়াদ আরো দু'বছর বাড়িয়ে দিলেন।
          জগদীশচন্দ্র চাচ্ছিলেন ইওরোপীয় ও মেরু অঞ্চলের উদ্ভিদের ওপর পরীক্ষা করতে। সেটা করার জন্য তাঁর দরকার পার্বত্য অঞ্চলের ঠান্ডা অঞ্চলে পরীক্ষাগার স্থাপন করার। তাছাড়া কলকাতার বাইরে একটা পরিচ্ছন্ন জায়গায় নিরিবিলি পরিবেশে একটা গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার ইচ্ছাও ছিল। সে উদ্দেশ্যে পাঁচ বছরের জন্য বার্ষিক চব্বিশ হাজার টাকা করে অনুদান মঞ্জুর করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করলেন জগদীশচন্দ্র। সরকার তিন বছরের জন্য বার্ষিক আঠারো হাজার টাকা করে মঞ্জুর করে এবং প্রতিশ্রুতি দেয় যে গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাপেক্ষে আরো দু'বছর বাড়ানো হবে অনুদান।
          ১৯১৩ সাল ছিল বাঙালি তো বটেই সমগ্র ভারতবর্ষের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য বছর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পান এবছর। রবীন্দ্রনাথের সাথে জগদীশচন্দ্রের বন্ধুত্বের শুরু থেকেই জগদীশের ইচ্ছা ছিল তাঁর কবি-বন্ধুটি একদিন বিশ্বজয় করবে। ১৩ বছর আগে ১৯০০ সালের নভেম্বরে জগদীশ লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথকে:
          "তুমি পল্লীগ্রামে লুক্কায়িত থাকিবে, আমি তাহা হইতে দিব না। তুমি তোমার কবিতাগুলি কেন এরূপ ভাষায় লিখ যাহাতে অন্য কোন ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব? কিন্তু তোমার গল্পগুলি আমি এদেশে প্রকাশ করিব।"
          সেই ডিসেম্বরে রবীন্দ্রনাথ উত্তর দিয়েছিলেন:
            "আমার রচনালক্ষ্মীকে তুমি জগৎ-সমক্ষে বাহির করিতে উদ্যত হইয়াছ - কিন্তু তাহার বাঙ্গলা-ভাষা বস্ত্রখানি টানিয়া লইলে দ্রৌপদীর মত সভাসমক্ষে তাহার অপমান হইবে না তো? সাহিত্যের ঐ বড় মুস্কিল, ভাষার অন্তঃপুরে আত্মীয়-পরিজনের কাছে সে যেভাবে প্রকাশমান, বাহিরে টানিয়া আনিতে গেলেই তাহার ভাবান্তর উপস্থিত হয়।"
          জগদীশচন্দ্র রবীন্দ্রনাথের গল্পের অনুবাদ করিয়ে নেয়ার কাজে হাত দিয়েছিলেন নিবেদিতাকে দিয়ে। কিন্তু পরে ব্যস্ততায় তা আর এগোয়নি। আর রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির কবিতাগুলি বিশ্বসভায় বেশ সেজেগুঁজেই বেরিয়েছিল - যার ফলশ্রুতি নোবেল পুরষ্কার।
            খুশি হয়ে রবীন্দ্রনাথকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখলেন জগদীশচন্দ্র:
            "পৃথিবীতে তোমাকে এতদিন জয়মাল্য ভূষিত না দেখিয়া বেদনা অনুভব করিয়াছি। আজ সেই দুঃখ দূর হইল। দেবতার এই করুণার জন্য কি করিয়া আমার কৃতজ্ঞতা জানাইব? চিরকাল শক্তিশালী হও, চিরকাল জয়যুক্ত হও। ধর্ম তোমার চির সহায় হউন।"
          নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তি উপলক্ষে শান্তিনিকেতনের আম্রকুঞ্জে বাংলা সাহিত্যানুরাগীদের পক্ষ থেকে রবীন্দ্রনাথকে সম্বর্ধনা দেয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছিলেন জগদীশচন্দ্র। তিনি সেদিন রবীন্দ্রনাথকে মাটির টবে বসানো একটি লজ্জাবতী লতা উপহার দিয়েছিলেন। 

No comments:

Post a Comment

Latest Post

Memories of My Father - Part 2

  In our childhood and even in our adulthood, there was no tradition of celebrating birthdays. We didn't even remember when anyone's...

Popular Posts