Sunday, 8 March 2026

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সারাবিশ্বের মোট নারী শিক্ষার্থী ও পুরুষ শিক্ষার্থীর অনুপাতের একটি পরিসংখ্যান নিচের গ্রাফে দেয়া আছে। ১৯৭০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত ৫৫ বছরের অনুপাত খেয়াল করলে দেখতে পাবেন ১৯৭৫ সাল থেকে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে ক্রমশ বাড়ছে, এবং ২০১৫ সাল থেকে শুরু করে গত দশ বছরে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মোট নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা, মোট পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বের জনবহুল দেশগুলিতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নারীকে প্রতি পদে পদে পুরুষদের হীনতার শিকার হতে হয় বিভিন্নভাবে। তবুও নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে – এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব নারীদেরই।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী:পুরুষ শিক্ষার্থীর অনুপাত


কেউ কেউ – তাদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত পুরুষরাও আছেন – প্রশ্ন তোলেন নারীরা নারী হবার সুবাদে বিশেষ কোনো সুবিধা পাচ্ছেন কিনা এবং সেই সুবিধার কারণেই তাঁরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষদের থেকে এগিয়ে যাচ্ছেন কি না। এসব বালখিল্য প্রশ্নের উত্তর দেয়ার দরকার নেই। কেবল বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অতীত ইতিহাস একটু ঘুরে আসলেই প্রমাণ পাওয়া যাবে – নারীদের প্রতি তাদের আচরণ কেমন ছিল।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্থাপিত হয়েছে ১১৬৭ সালে। কিন্তু পরবর্তী সাড়ে সাতশ বছর তারা কোন নারী শিক্ষার্থীকে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে দেয়নি। অক্সফোর্ডে নারী শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি দেয়া হয় ১৯২০ সালে। বর্তমানে অক্সফোর্ডের মোট শিক্ষার্থীর শতকরা ৫২ ভাগ নারী।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরুষ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শুরু করেছে সেই ১২০৯ সালে। পরের সাতশ চল্লিশ বছর  তারা কোনো নারীকে সেখানে পড়াশোনা করার সুযোগ দেয়নি। কেমব্রিজে নারী শিক্ষার্থীর ভর্তি শুরু হয়েছে ১৯৪৮ সালে। বর্তমানে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর অর্ধেক নারী শিক্ষার্থী।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি স্থাপিত হয়েছে ১৬৩৬ সালে। অথচ সেখানে নারীরা শিক্ষার অনুমতি পেয়েছে মাত্র সেদিন – ১৯৭৭ সালে। বর্তমানে হার্ভার্ডের মোট শিক্ষার্থীর শতকরা ৫৩ ভাগ নারী।

আমাদের উপমহাদেশের মেডিক্যাল কলেজগুলিতেও শুরুতে মেয়েদের পড়তে দেয়া হতো না। মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বাঙালি নারী শিক্ষার্থী ছিলেন অবলা দাস  (যাঁকে আমরা সবাই চিনি জগদীশচন্দ্র বসুর স্ত্রী অবলা বসু হিসেবে)। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে মেয়েদের ভর্তির সুযোগ ছিল না। তাঁকে যেতে হয়েছিল মাদ্রাজ মেডিক্যাল কলেজে ১৮৮২ সালে। যদিও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারেননি – অবলা বসুই ছিলেন প্রথম বাঙালি নারী যিনি এলএমএস (লাইন্সেসিয়েট অব মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি) ডিগ্রি লাভ করেছিলেন ১৮৮৫ সালে। আমাদের মেডিক্যাল কলেজ গুলিতে এখন নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা পুরুষ শিক্ষার্থীর চেয়ে অনেক বেশি।   

শত শত বছর ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নারীদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল। শুধুমাত্র লেখাপড়ার অধিকার পাবার জন্য কত সংগ্রাম করতে হয়েছে নারীদের। কর্মক্ষেত্রে নিজেদের ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়তে হচ্ছে এখনও। এরপরও কতটা নীচ হলে নারীকে অপমান করার স্পর্ধা দেখায় কিছু নির্লজ্জ লিঙ্গবাদী পুরুষ!  

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বিশ্বের সকল নারীকে জানাই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।


No comments:

Post a Comment

Latest Post

Happy Birthday Steve Jobs

  On 24 February 1955, when the baby boy was born in a hospital in San Francisco, he was given the name Abdul Latif Jandali. His biological ...

Popular Posts