Saturday, 21 March 2026

সৃজিত মুখার্জির 'লহ গৌরাঙ্গের নাম রে'

 


বাংলা সিনেমা তৈরির কারখানায় সম্ভবত সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হারের রেকর্ড পরিচালক সৃজিত মুখার্জির। ২০১০ সালে অটোগ্রাফ থেকে শুরু করে পরের পনের বছরে ২৯টি কাহিনীচিত্র, এক ডজন ওয়েব সিরিজসহ আরো কত কাজ যে তিনি করে ফেলেছেন। তাঁর সিনেমাগুলি দেখতে বসলে দেখা হয়ে যায়। আধুনিক চলচ্চিত্র পরিচালকের যা যা দক্ষতা থাকা দরকার – তার সবগুলিই সৃজিতের আছে। তাই তাঁর কাজ দেখতে বসার আগে একটি বিশেষ প্রত্যাশা থাকে দর্শকের।

লহ গৌরাঙ্গের নাম রে – দেখতে বসেছিলাম সৃজিতের নাম নিয়ে। এই সিনেমা মুক্তি পাবার আগেই এর গান দিয়ে বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল। কত হাজার রিল যে তৈরি হয়েছে “দ্যাখো দ্যাখো কানাইয়ে” ইত্যাদি দিয়ে। কিন্তু সিনেমাটি দেখতে গিয়ে মনে হলো – গৌরাঙ্গের নাম নিতে গেলে যতটা ভক্তিরস থাকতে হয় – তা আমার নেই। কারণ ভক্তিরস ছাড়া এই বস্তু হজম হবার নয়।

পঞ্চদশ শতাব্দীতে চৈতন্য মহাপ্রভু পুরীর জগন্নাথ মন্দির থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন। সেই রহস্য সিনেমাতে আছে। উনিশ শতকের বিনোদিনী দাসী, গিরিশ ঘোষ, রামকৃষ্ণ পরমহংস – উনারাও আছেন সিনেমাতে। একেবারে বর্তমানের সিনেমা পরিচালকও আছেন যিনি পূর্ববর্তী দুই ভিন্ন ভিন্ন সময়ের কাহিনি নিয়ে সিনেমা তৈরি করছেন। সেই পরিচালকের ব্যক্তিগত জীবন আছে প্রচন্ডভাবে – যিনি তাঁর নায়কের সাথে প্রেম করছেন। নায়কের স্ত্রী আছেন, স্ত্রীর সাথে নায়কের ছাড়াছাড়ি হয়নি – নায়কের স্ত্রী আবার গর্ভবতী হয়ে পড়েন বলে ডিভোর্সের ব্যাপারে নায়ক দ্বিতীয় চিন্তা করছেন – তাই “যুক্তিবাদী” পরিচালক বাথটাবে নিজের হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা করেন। বড্ড জটিল – ভক্তিরসের সাথে প্রেমরসের মিশ্রণ।

 

 

সৃজিতের সিনেমার গানের কথা, সুর সবসময়েই বেশ ভালো হয়। নতুনত্ব থাকে। এই সিনেমার গানে পুরনোর ধাঁচে নতুন বেশ ভালোভাবেই ফিরেছে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের সুরে।

এই সিনেমা দেখতে গিয়ে আমার কেবলি মনে হয়েছে জগাখিচুড়ি একটু বেশি হয়ে গেছে। অভিনয়ে কাউকেই খুব একটা সাবলিল মনে হয়নি। সিনেমার চেয়েও পাড়ার বারোয়ারি মঞ্চ নাটকের মতো মনে হয়েছে সবার অভিনয়। সিনেমার ভেতর গিরিশ ঘোষের মঞ্চ ছিল ঠিকই – কিন্তু সেখানকার বাস্তব চরিত্রগুলি মোটেও বাস্তবতা পায়নি।

সৃজিত মুখার্জির সিনেমা বলেই হয়তো এতটা হতাশ হয়েছি, হজম করতে কষ্ট হয়েছে। নইলে “রসের বাইদানি” টাইপের সিনেমাও আমার সুরুৎ করে হজম হয়ে যায়।


No comments:

Post a Comment

Latest Post

Beyond the Rankings: What Makes a City Truly Liveable

  Before my day had even begun, I received a message from a friend. Attached to it was a Prothom Alo photo card proclaiming: “Three of the ...

Popular Posts