Sunday 12 May 2019

ফাইনম্যানের ইলেকট্রোডায়নামিক ভালোবাসা - ৭ম পর্ব


পথে দু'জন মানুষ হাত দেখালে ফাইনম্যান গাড়িতে তুলে নেয় তাদের। প্রতি সপ্তাহেই তো সে অন্যের গাড়িতে যায়আর পথে গাড়ির কিছু হলে তারা সাহায্যও করতে পারবে। সান্টা ফে-র কাছে যেতেই গাড়ির একটা চাকা পাংকচার হয়ে গেলোসঙ্গী দুজনের সাহায্যে চাকাটা বদলে আবার দ্রুত ছুটল
            
কিছুদূর যেতেই আরেকটা চাকা ফেটে গেলো সশব্দে। কাছেই একটা পেট্রোল স্টেশন ছিলো। মেকানিকরা আগের একটা গাড়ি মেরামত করছিল। ফাইনম্যান চুপচাপ অপেক্ষা করছিল কখন তার গাড়িটা ঠিক করার সময় হবে মেকানিকদের। কিন্তু ফাইনম্যানের গাড়ি-সঙ্গীরা এতক্ষণে জেনে গেছে ফাইনম্যানের স্ত্রীর কথা। তারা ওয়ার্কম্যানকে গিয়ে বললো যে তার কত দ্রুত যাওয়া দরকার। তারা দ্রুত এসে তার গাড়ির চাকা বদলে দিলো। পাংকচার হয়ে যাওয়া চাকাটা রেখেই তারা ছুটলো। ওটার জন্য অপেক্ষা করতে গেলে সময় নষ্ট হবে।
            
ফাইনম্যান এমন হতভম্ব হয়ে গেছে যে মেকানিককে একটা ধন্যবাদ জানাতেও ভুলে গেছেহাসপাতাল থেকে মাত্র ত্রিশ মাইল দূরে এসে গাড়ির আরেকটা চাকার হাওয়া চলে গেল। এখন আর করার কিছু নেই। গাড়িটাকে ওখানেই রেখে তারা অন্য গাড়িকে হাত দেখালটেলিফোন বুথ থেকে একটা ওয়ার্কশপে ফোন করে জানালো অবস্থা। তারা যেন এসে গাড়িটা ওয়ার্কশপে নিয়ে যায়।
            
হাসপাতালে ঢুকতেই আরলিনের বাবার সাথে দেখা হলো। তিনি তিন দিন ধরে আছেন এখানে। আরলিনের শেষ অবস্থা। তিনি আর সহ্য করতে পারছিলেন না। ফাইনম্যানকে কোনরকমে বললেন, "আমি আর সহ্য করতে পারছি না মেয়েটার কষ্ট। আমি চলে যাচ্ছি।"
            
শেষবারের মত আরলিনকে দেখল ফাইনম্যান। ভীষণ দুর্বল, কেমন যেন ফ্যাকাশে সাদা। পৃথিবীর কোন কিছু সম্পর্কে যেন তার কোন অনুভূতি নেই। বিছানায় শুয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ছাদের দিকে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। হা করে শ্বাস নিচ্ছে। বাতাস গিলতে চেষ্টা করছে, কিন্তু পারছে না। গলায় গব্‌ গব্‌ শব্দ হচ্ছে। মাঝে মাঝে চোখ দুটো উল্টে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে। এভাবে ঘন্টা দুয়েক চেষ্টার পর আরলিন আর পারলো না।
            
আরলিনের কেবিন থেকে বেরিয়ে হাসপাতালের লনে কিছুক্ষণ অস্থির ভাবে হাঁটাহাঁটি করল ফাইনম্যান। তার খুব আশ্চর্য লাগছিলো। মৃত্যু সম্পর্কে, আপনজনের মৃত্যু ঘটলে আপনজনের অনুভূতি সম্পর্কে তার যে ধারণা ছিলো তার বেলায় তার কিছুই ঘটলো না। খারাপ লাগছিলো ঠিকই কিন্তু তা ভীষণ মারাত্মক রকমের ছিলো না। হয়তো তারা আগে থেকেই ব্যাপারটা জানত বা মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল বলেই হয়তো
            
ফাইনম্যানের কেমন লাগছিলো বোঝানো মুশকিল। সে ভাবছিল - "আমরা মানুষেরা জানি বাঁচবো বড় জোর সত্তর কি আশি বছর। মরতে তো হবেই। তবুও আমরা হাসি, আনন্দ করি, ভালবাসি। আমরা বেঁচে থাকি। অনেকে হয়তো ভালবেসে একসাথে পঞ্চাশ বছর বেঁচে থাকে। আমি আর আরলিন না হয় মাত্র পাঁচ বছর একসাথে বাঁচলাম। এতে গাণিতিক পার্থক্যটা ছাড়া মানসিকভাবে আর তো কোন পার্থক্য নেই। আমরা পরস্পরকে জড়িয়ে এই ক'টা বছর তো অত্যন্ত ভালো সময় কাটিয়েছি।"
            
আবার আরলিনের কেবিনে এলো ফাইনম্যানআরলিনের শেষ সময়টা আবার মনে করতে চাইল। বুঝতে চাইল তার শেষ শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনটা। আরলিনের ফুসফুস ঠিকমত অক্সিজেন নিতে পারছিল না। রক্তে ঠিকমত অক্সিজেনের জোগান না থাকাতে মস্তিষ্ক কাজ করছিল না। হৃৎপিন্ড দুর্বল হয়ে যাচ্ছিলো - তখন শ্বাস নেয়া আরো কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল। আরলিন খুব আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলো এবং কোন এক সময় তার শেষ নিঃশ্বাসটা বের হয়ে যাবার পর তার ফুসফুস আর কোন বাতাস টেনে নিতে পারেনি ভেতরে।
            
আরলিনের নার্স এসে নিশ্চিত হয়ে গেলো যে আরলিন মারা গেছে। ফাইনম্যানের দিকে তাকিয়ে দেখলো একটু, তারপর রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।
            
ফাইনম্যান কিছুক্ষণ চুপ করে বসেছিল। তারপর উঠে আরলিনের ঠোঁটে একটা চুমু খেল, শেষ চুম্বন।
            
আরলিনের চুলের গন্ধ ঠিক আগের মতই আছে, মিষ্টি। হঠাৎ আশ্চর্য হয়ে গেল ফাইনম্যান। মনে হলো আরলিন মরেনি। কিন্তু পর মুহূর্তেই বুঝতে পারলো মৃত্যুর এত কম সময়ের মধ্যে চুলের গন্ধ পরিবর্তন হওয়া তো সম্ভব নয়। টেবিল ঘড়িটার দিকে চোখ গেলে চমকে উঠলো সে। ঘড়িটা বন্ধ হয়ে আছে নয়টা একুশ মিনিটে। আরলিনের মৃত্যুর পরপরই ঘড়িটা বন্ধ হয়ে গেছে! এটা কি অলৌকিক কোন কিছু?
            
ফাইনম্যান দেখলো এত শোকেও তার যুক্তির মৃত্যু ঘটেনি। ঘড়িটা অনেক দিন থেকেই গোলমাল করছিল। ফাইনম্যান নিজেই বেশ কয়েকবার ওটা ঠিক করেছে। এখন আরলিনের মৃত্যুর পর নার্স যখন কেবিনে এসেছিল মৃত্যুর সময় লেখার জন্য ঘড়িটা হাতে নিয়ে দেখছিল। সে সময় হয়তো বন্ধ হয়ে গেছে পুরনো ঘড়িটা।
            
পরদিন আরলিনের  শেষকৃত্য। মৃতদেহ সৎকার করে যে কোম্পানি তাদের লোকজন এসে আরলিনের কয়েকটি আংটি দিয়ে গেল ফাইনম্যানকেএকজন জিজ্ঞেস করলো সে আরলিনকে আবার দেখতে চায় কিনা।
       
ফাইনম্যান বললো, "না, আমি দেখেছি তাকে গতকাল।"
            
গাড়ির ওয়ার্কশপে ফোন করল ফাইনম্যানআগের দিন তারা গাড়িটি রাস্তা থেকে তুলে এনে মেরামত করে রেখেছে। গাড়িটি ওয়ার্কশপ থেকে নিয়ে এসে আরলিনের জিনিসপত্র যা ছিল গাড়ির বুটে চাপিয়ে রওনা দিল লস আলামোসের দিকে। এবারো একজন মানুষকে তুলে নিল রাস্তা থেকে।
            
হাসপাতাল থেকে পাঁচ মাইলও যায়নি - ফটাস্‌স্‌সসসস্‌। গাড়ির অবশিষ্ট চাকা যেটা গতকাল রক্ষা পেয়েছিল সেটা পাংকচার। ফাইনম্যান এমন জোরে চিৎকার করে উঠল যে তার সহযাত্রী তার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছিলো যেন সে মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ।
            "এটা তো সামান্য একটা টায়ার, ম্যান"
            "হ্যাঁ এখন একটা, একটু পরে আরেকটা, তারপরে আরেকটা" - গলায় প্রচন্ড ক্ষোভ ফাইনম্যানের।
            
কোনরকমে চাকাটা বদলে খুব আস্তে আস্তে গাড়ি চালিয়ে লস আলামোসে ফিরলো ফাইনম্যান।
           
সে চাচ্ছিল না তাকে কেউ আরলিনের কথা জিজ্ঞেস করুক বা সান্ত্বনা বাক্য শোনাক।  কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলেই সে খুব সহজভাবে বলছে, "আরলিন মারা গেছে। তা তোমার প্রজেক্টের কাজ কতদূর? ফর্মুলাটা দেখেছিলে?"
            
সবাই বুঝতে পারলো তার আঘাতটা কত গুরুতর। ফাইনম্যান যন্ত্রের মত তার নোটবই বের করলো যেখানে আরলিনের মেডিকেল কন্ডিশান লিখে রাখতো। লিখলো - ১৬ জুন, ১৯৪৫, আরলিনের মৃত্যু হয়েছে।
            
১৯৪২ সালের ২৯ জুন বিয়ে হয়েছিল তাদের। আরলিনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাদের তিন বছরের অনন্য বিবাহিত জীবন।
            
লস আলামোসে খুব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছে ফাইনম্যান। কিন্তু অস্বাভাবিকভাবে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টাটা না বোঝার মত যান্ত্রিক নন ম্যানহাটান প্রজেক্টের বিজ্ঞানীরা। হ্যান্স বেথে জোর করে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন ফাইনম্যানকে।      
            
আরলিনকে বিয়ের পর একদিনের জন্যও বাড়ি যায়নি ফাইনম্যান। মা-বাবা আরলিনের সাথে তার বিয়েটা সহজভাবে মেনে নেননি বলে ফাইনম্যানের অভিমান ছিল ভীষণ। এবার আরলিনের মৃত্যুর পর বাড়িতে যেতে হলেও বেশির ভাগ সময় সে দূরে দূরে থাকলো বাড়ির সবার কাছ থেকে। বন্ধুদের সাথে জোর করে হৈ চৈ করে সময় কাটালো।
            
ক'দিন পরেই ফাইনম্যানকে ফিরতে হলো লস আলামোসে। প্রথম পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর তারিখ ঠিক হয়ে গেছে। ১৬ জুলাই ১৯৪৫ ইতিহাস সৃষ্টি হলো পৃথিবীতে। সর্বপ্রথম পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হলো - যার নাম দেয়া হলো প্রথম ট্রিনিটি টেস্ট।
            
আরিজোনার মরুভূমির গ্রাউন্ড জিরো থেকে বিশ মাইল দূরে একটা ট্রাকের ভেতর বসে ফাইনম্যান দেখলো গত কয়েক বছরের মেধা, গবেষণা ও প্রচন্ড পরিশ্রমে যে পারমাণবিক দানব তারা তৈরি করেছে কী প্রচন্ড শক্তি তার।
            
কয়েক সপ্তাহ পরেই আগস্টের ছয় ও নয় তারিখে জাপানের হিরোশিমা ও নাকাসাকি শহর সমস্ত নাগরিক সহ ধ্বংস করে দেয়া হলো পারমাণবিক বোমা ফেলে
            
বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলো। কিন্তু সারা বিশ্বের উপর রেখে গেল একটি বিরাট পারমাণবিক কলঙ্কের ছাপ। সেই কলঙ্ক তৈরির দায় এড়াতে পারে না ফাইনম্যান।
            
আরলিনের মৃত্যু এবং তার পরপর এতগুলো ঘটনা ফাইনম্যানকে উদাসীন করে তোলে। তার কেবলই মনে হচ্ছে কী দরকার এসব নগর সভ্যতার। এক মুহূর্তের মধ্যে সব ধ্বংস করে দেবার ক্ষমতা মানুষ একবার যখন অর্জন করে ফেলেছে, সেই দানবীয় ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটাবে সে সুযোগ পেলেই। 
            
এক রাতে আরলিনকে স্বপ্ন দেখলো ফাইনম্যান। দেখলো আরলিন এসেছে তার কাছে। ফাইনম্যান স্বপ্নে তাকে বললো, "তুমি মরে গেছো আরলিন। স্বপ্নেও তোমার আসা ঠিক নয়।"
            
পরের রাতে আবার স্বপ্ন। এবার সে বললো - "আমি আসলে তোমার উপর বিরক্ত হয়েছিলাম। এখন আবার তোমাকে পছন্দ করতে শুরু করেছি। আমি ফিরে এসেছি।"
            
মাথা কাজ করছিলো না ফাইনম্যানেরএই স্বপ্ন দেখার কারণ কী? মাথার ভেতর আরলিন থাকবে কেন? কেন সে স্বপ্নে আসা যাওয়া করবে? নিশ্চয়ই সে অবচেতন মনে কিছু একটা করেছে। ভাবতে থাকে ফাইনম্যান।
            
আরলিনের মৃত্যুর পর এক মাস কেটে গেছে, কান্না আসেনি একবারও। কিন্তু সেদিন ওক রিজের রাস্তায় একটা ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পাশ দিয়ে যাবার সময় ফাইনম্যানের চোখে পড়লো চমৎকার একটি ড্রেস, শো- কেসে সাজানো। হঠাৎ মনে হলো আরলিন খুব পছন্দ করতো এটাখুব আটপৌরে ভাবনা। কিন্তু ফাইনম্যানের চোখ দিয়ে পানি গড়াতে লাগলো। আরলিনের মৃত্যুতে ফাইনম্যান কাঁদলো, প্রথম এবং শেষবার।
            
কাজে ডুবে থাকতে চাইলেন ফাইনম্যান। লস আলামোসের ল্যাবে কাজ করার সময়েই ফাইনম্যানের বৈজ্ঞানিক ক্ষমতায় মুগ্ধ সবাই। তত্ত্বীয় বিভাগের প্রধান হ্যান্স বেথে ফাইনম্যানকে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে চাকরি দিয়েছেন। ১৯৪৪ সালের অক্টোবর থেকেই রিচার্ড ফাইনম্যান অফিসিয়ালি জয়েন করেছেন কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে। ম্যানহাটান প্রজেক্টের কাজ চালিয়ে যাবার জন্য যোগদানের পর থেকেই ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে তাঁর। ফাইনম্যান এবার কাজে যোগ দিলেন ১৯৪৫ সালের ৩১ অক্টোবর।
            
বিশ্বযুদ্ধের পরে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসছেন তাঁদের অসমাপ্ত পড়াশোনা শেষ করার জন্য। তাই ক্যাম্পাসে বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীর সমাবেশ। ছাব্বিশ বছর বয়সী অধ্যাপক ফাইনম্যানকে দেখতে আরো কমবয়সী মনে হয়। ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র বলে চালিয়ে দেয়া যায় সহজেই।
            
ফাইনম্যান উপভোগ করতে চাইলেন তাঁর নতুন চাকরি। ফ্যাকাল্টি ক্লাবে লাঞ্চ করতে না গিয়ে লাঞ্চ করেন ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মিশে। স্টুডেন্ট সেন্টারে গিয়ে মেয়েদের সাথে বিশেষ করে সুন্দরী মেয়েদের সাথে আড্ডা মারতে বেশ ভালোই লাগছে ফাইনম্যানের। মেয়েরাও সহজে আকৃষ্ট হচ্ছে ফাইনম্যানের ক্যারিশমার কাছে।
            
ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে ছাত্রী নেই বললেই চলে। ফাইনম্যান যেসব ছাত্রীর সাথে মেশেন তারা সবাই নন-সায়েন্স স্টুডেন্ট। কেউই তাঁকে সেভাবে চেনে না। ফাইনম্যান খেয়াল করলেন তিনি যখন সত্যি কথা বলেন মেয়েদের কেউ তা বিশ্বাস করে না বা করতে চায় না। তারা জানতে চায় -
            "রিচার্ড, তুমি আসলে কী করো?"
            "আমি ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের প্রফেসর"
            "এটম বোমা সম্পর্কে কিছু জানো?"
            "জানবো না কেন? আমরাই তো বানালাম।"
            "মানে?"
            "মানে আমি তো ম্যানহাটান প্রজেক্টে কাজ করেছি। আমি ছিলাম কম্পিউটিং ডিপার্টমেন্টের হেড।"
            "তুমি কি ট্রিনিটি টেস্টের সময় ছিলে সেখানে?"
            "অবশ্যই। আমি ছিলাম গ্রাউন্ড জিরো থেকে ২০ মাইল দূরে।"
            "বিস্ফোরণ দেখেছো?"
            "আমার মত করে আর কেউ দেখেনি। যারা দেখেছে তারা সবাই চোখে কালো চশমা পরে দেখেছে। মনে হয় একমাত্র আমিই দেখেছি খালি চোখে। একটা ট্রাকের ভেতর বসে ট্রাকের জানালার কাচের ভেতর দিয়ে। কারণ আমি জানতাম যে বিস্ফোরণের পর ২০ মাইল পর্যন্ত যা আসতে পারে তা আলট্রাভায়োলেট - যার বেশির ভাগ শক্তি সাধারণ কাচেই আটকে যাবে।"
            "রিচার্ড, তোমার মত এত বড় মিথ্যুক আমি জীবনে দেখিনি।"
            
ফাইনম্যান ভেবে পান না কেন কেউ তাঁর সত্যি কথা বিশ্বাস করতে চায় না। ক'দিন পরপরই তাঁর মেয়েসঙ্গী বদলে যাচ্ছে। শান্তি পাচ্ছেন না তিনি কোথাও।
            
এক বছর পরেই ১৯৪৬ সালের ৭ অক্টোবর ফাইনম্যানের বাবা মারা যান। ফাইনম্যান আরো বিষন্ন হয়ে পড়েন। মনের মেঘ কাটানোর জন্য তাঁর সঙ্গী হয়ে পড়ে আরো বেশি পদার্থবিজ্ঞান। আর আরলিনের অভাব ঘোচাতে আরো বেশি নারীসঙ্গ।
            
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সাফল্য আসতে শুরু করলেও আরলিনের অভাব-জনিত বিষন্নতা কাটছে না কিছুতেই। এসময় কর্নেল ইউনিভার্সিটির অনেক সুন্দরী মেয়ের সাথেই ঘনিষ্ঠভাবে মিশেছেন ফাইনম্যান কিন্তু কারো সাথে দু'দিন মেশার পরেই মনে হয় আরলিনের মত তো নয় মেয়েটি। জোর করে আরো কিছুদূর এগোনোর পরে মনে হয় আরলিন এসে দাঁড়িয়েছে পথজুড়ে।          



No comments:

Post a Comment

Latest Post

Memories of My Father - Part 2

  In our childhood and even in our adulthood, there was no tradition of celebrating birthdays. We didn't even remember when anyone's...

Popular Posts