Friday 10 July 2020

ছিন্ন পাতার সাজাই তরণী - পর্ব ৩৮

38

ট্রাই নট টু বিকাম এ ম্যান অব সাকসেস। রাদার বিকাম এ ম্যান অব ভ্যালু - আলবার্ট আইনস্টাইন এই কথাগুলো কখন কাকে কী কারণে বলেছিলেন জানি না। এটুকু জানি যে তিনি এই কথাগুলি বলেছিলেন। এই কথাগুলির প্রথম লাইনটি আমার খুবই পছন্দ। কারণ সাফল্যের ব্যাপারে আমার অবস্থা আঙুর ফল টক জাতীয়। আইনস্টাইনকে যে আমি কতভাবে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছি তার কোন হিসেব নেই। মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় ডাব্বা মারার পর কিছুদিন বেশ ফলাও করে প্রচার করেছিলাম যে আইনস্টাইনও পলিটেকনিক্যালের ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন। কত বড় নির্লজ্জ হলে যে কেউ ফেল করার পর নিজেকে আইনস্টাইনের সাথে তুলনা করতে পারে তা বোঝার মত বুদ্ধিও আমার ছিল না। হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে কত কত বিষয়ে ফেল করে। তাদের উদাহরণ কি কেউ কখনো দেয়? আইনস্টাইন পরবর্তীতে বিশ্ববিখ্যাত না হলে আইনস্টাইনের উদাহরণও কেউ দিত না। শুধুমাত্র সফল মানুষের ব্যর্থতাকেই মানুষ অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে গণ্য করে। আর মানুষ সফল হবার পরেই দাম পায়। তখন তার ব্যর্থতার গল্পও মানুষ আগ্রহ নিয়ে শোনে, নানারকম রঙ মিশিয়ে প্রচারও করে। ম্যান অব সাকসেস না হয়ে ম্যান অব ভ্যালু হওয়া যায় না। আইনস্টাইনের কথাগুলি এখন মাথার মধ্যে আসার কারণ হলো বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সাকসেসফুলি চ্যাম্পিয়ন হবার পর কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের ভ্যালু কিছুটা বেড়েছে। তার জোরে আমরা আজ ঘাঁটি অধিনায়কের অফিসে চায়ের নিমন্ত্রণ পেয়েছি। এয়ারফোর্সের একটা ছোট্ট গাড়ি গিয়ে আমরা চারজনকে কলেজ থেকে নিয়ে এসেছে। আমি, রিফাৎ আরা ম্যাডাম, নাসরীন বানু ম্যাডাম, আর শামসুন্নাহার ম্যাডাম। ঘাঁটি অধিনায়কের পিএস আমাদের অনেক সম্মান দেখিয়ে অভ্যর্থনা করেছেন। তাঁর রুমে যত্ন করে বসিয়েছেন। এরপর ড্রাইভারকে গাড়ি নিয়ে আবার পাঠিয়েছেন প্রিন্সিপাল স্যারকে নিয়ে আসার জন্য। আমরা এখন প্রিন্সিপাল স্যারের জন্য অপেক্ষা করছি।

সকালে কলেজে আসার একটু পরেই নাসির স্যার এসে বলেছেন, আজ সকাল দশটায় এ-ও-সি স্যার তোমাদের বিতর্ক কমিটিকে চায়ের নিমন্ত্রণ করেছেন তাঁর অফিসে।

আমার তো সেই সময় ক্লাস আছে স্যার।

ক্লাস অ্যাডজাস্ট করা হবে।

মনে হচ্ছে বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হবার পর আমাদের গুরুত্ব বেড়ে গেছে হঠাৎ করে। ৯টা চল্লিশ থেকে আমার যে ক্লাসটা ছিল তা বিমল স্যারকে অ্যাডজাস্টমেন্টে দেয়া হয়েছে। বিমল স্যার অ্যাডজাস্টমেন্টের খাতায় সাইন করতে করতে বললেন, “যন্ত্রণা এখনো শেষ হলো না। এক সপ্তাহ ধরে আপনার সব ক্লাস আমাকে করতে হচ্ছে।“

“স্যরি স্যার।“  - আমার কিছুটা লজ্জাও লাগছে। কিন্তু করার কিছু নেই। এ-ও-সি’র অফিসের ডাক অস্বীকার করার সাধ্য কারো নেই।

পৌনে দশটায় গাড়ি এলে রিফাৎ আরা ম্যাডামের নেতৃত্বে গাড়িতে করে এখানে এসে পৌঁছেছি। এই দপ্তরে এর আগে এসেছিলাম নিয়োগ পরীক্ষার ভাইভা দিতে। সেই সময় মনে এক ধরনের টেনশান কাজ করছিলো বলে ঠিকমতো দেখতে পাইনি কোথায় কী আছে। এখন বুঝতে পারছি বিশাল অফিস এটা। এত বড় একটা ঘাঁটির অধিনায়কের দপ্তর – বিশাল তো হবেই।

“এই গরমের মধ্যে অ্যাপ্রন পরে আছেন কীভাবে?” – রিফাৎ আরা ম্যাডাম প্রশ্ন করলেন।

তাই তো। ম্যাডামরা কেউই অ্যাপ্রন পরে আসেননি। আমি অ্যাপ্রন নিয়ে এসেছি। অ্যাপ্রন থাকাতে ভালোই হয়েছে। কারণ আমার শার্টের হাতের একটা বোতাম ছিঁড়ে পড়ে গেছে কোথায়। সকালে বাস থেকে নামার পর খেয়াল করেছি। শার্টের হাতা গুটিয়ে কি এ-ও-সির সামনে যাওয়া যাবে? এখন ওটা অ্যাপ্রনের নিচে চাপা পড়ে আছে, বোঝা যাচ্ছে না। ম্যাডামের কথায় সামান্য দাঁত বের করে একটু হাসলাম। আর কিছু বললাম না। এমন স্তব্ধ পরিবেশে কথা বলতে সংকোচ হচ্ছে।

“এসি কি একটু বাড়িয়ে দেবো ম্যাডাম?” – পিএস সাহেব জানতে চাইলেন। রিফাৎ আরা ম্যাডামের ‘এই গরমের মধ্যে’ শুনে তিনি ভেবেছেন আমাদের গরম লাগছে। এত খাতির সবই আমাদের রীমা-অন্তরা-নাজমুলের জন্য। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তো তারা। শিক্ষকরা যতই পড়ান, পাশ-ফেল তো শিক্ষার্থীরাই করে। তবে সাফল্যের অংশীদার হতে কার না ভালো লাগে? এখন আমরা সবাই সাফল্যের দাবিদার হিসেবে এক ধরনের আনন্দ পাচ্ছি। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলে কি আজকের এই চায়ের দাওয়াত আমরা পেতাম?

একটু পরেই রুমে ঢুকলেন প্রিন্সিপাল স্যার। তাঁর সাথে ও-সি-এডমিন স্যার। তাঁদের দেখে আমরা সবাই দাঁড়িয়ে গেলাম। তাঁদের পেছনে দেখলাম নাসির স্যারও এসেছেন। নাসির স্যার বিতর্কের রেজাল্ট হবার পর সেদিন রাতের ট্রেনেই চলে এসেছিলেন সবাইকে খবর দেয়ার জন্য। ও-সি-এডমিন স্যারকে আজ একটু অন্যরকম লাগছে। সাধারণত তিনি একটু গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ। আজ দেখলাম তাঁর সোহেল-রানা স্টাইলের গোঁফের ফাঁকে মৃদু হাসির রেখা। বোর্ডে স্ট্যান্ড করা ছেলে-মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময় গর্বিত বাবার মুখে যেধরনের হাসি থাকে – অনেকটা সেরকম।

ঠিক দশটায় এওসির রুমে আমাদের ডাক পড়লো। ও-সি-এডমিন স্যার সবার আগে ঢুকলেন। তারপর প্রিন্সিপাল স্যার ও ম্যাডামরা। আমি সবার পেছনে ঢুকতে চাইলাম, কিন্তু নাসির স্যার আমাকে ঠেলে দিলেন তাঁর আগে। এ-ও-সি স্যারকে আমি দেখেছিলাম আরেকদিন – কলেজের টেলিভিশন উদ্বোধনের দিন। বিশাল ঝকঝকে অফিসে তাঁকে আরাধনা সিনেমার এয়ারফোর্স অফিসার নায়ক রাজেশ খান্নার মতো লাগছে।

তাঁর কথাবার্তা এতটাই অমায়িক আর ভদ্র যে মনে হয় শিক্ষকদের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে তিনি সবসময় প্রস্তুত। সব অফিসার যদি উনার মতো হতেন – তাহলে কোন শিক্ষকের মনেই কোনদিন কোন ক্ষোভ জন্মাতো না।

ও-সি-এডমিন স্যার বিতর্কের শেষে ফলাফলের জন্য তিনি যে কত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছেন, এবং সেজন্য তাঁর ট্রেন পর্যন্ত ফেল করেছেন তা বর্ণনা করলেন। তারপর আমাদের উদ্দেশ্যে বললেন, “চার্চিলের একটা কথা আছে জানেন তো, সাকসেস ইজ নট ফাইনাল, ফেইলিওর ইজ নট ফ্যাটাল। ইট ইজ দি কারেজ টু কন্টিনিউ দ্যাট কাউন্টস। সো উই নিড টু কন্টিনিউ উইনিং।“

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আলবার্ট আইনস্টাইন, কার্ল মার্ক্স, কনফুশিয়াস – এবং এরকম আরো অনেক বিখ্যাত মনিষী আমাদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেন। বিশেষ করে একাডেমিক জগতে। তাঁরা জীবন, দর্শন, বিজ্ঞান, সমাজ, রাষ্ট্র এসব বিষয়ে এত্তো এত্তো কথা বলে গেছেন যে – যে কোনো দার্শনিক কথাবার্তাই তাঁদের নামে চালিয়ে দেয়া যায়। বিতর্কের স্ক্রিপ্টে আমরা তাঁদের অনেক উক্তি উল্লেখ করেছি। যেগুলি নিশ্চিত জানি সেগুলি তো বটেই – যেগুলির ব্যাপারে আমরা শতভাগ নিশ্চিত নই – সেগুলিও মনিষীরা বলেছেন বলে চালিয়ে দিয়েছি। এখন দেখছি চার্চিলের কথাও চলে আসছে। ও-সি-এডমিন স্যারের কথাগুলি হয়তো চার্চিল বলেছিলেন। কিন্তু কন্টিনিউ উইনিং-এর কথা কি তিনি বলেছিলেন? সবসময় জেতা কি সম্ভব? সবসময় জিততেই হবে এরকম মানসিকতা তো মানুষকে অসুখি করে তুলবে।

এ-ওসি স্যার প্রিন্সিপাল স্যারকে বললেন কলেজের সবার জন্য একটা বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে। কলেজের সব ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের জন্য। নাসির স্যার তাঁর নোটবইতে দ্রুত টুকে নিলেন সবকিছু। তার মানে আনুষ্ঠানিকতা এখনো শেষ হয়নি।

 

চায়ের সাথে উন্নত মানের কেক-পেস্ট্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এত খাঁটি খাবার এখন পেটে সইলে হয়।

আমাদের ফেরার জন্য একটা বড় গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবাই উঠে গেলাম সেখানে। সামনের সিটে প্রিন্সিপাল স্যার বসে রিফাৎ আরা ম্যাডামকে বললেন, “ম্যাডাম, একটা প্রোগ্রামের প্ল্যান করে ফেলতে হবে। লেট্‌স হ্যাভ এ মিটিং টু-ডে।“

রিফাৎ আরা ম্যাডাম বললেন, “ঠিক আছে স্যার।“

কলেজে এসে ম্যাডামরা চলে গেলেন প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে মিটিং করতে। আমি টিচার্স রুমে ঢুকলাম।

সবাই ক্লাসে। শুধু কৃষিবিজ্ঞানের মোরশেদ স্যার বসে আছেন তাঁর সিটে। আমাকে দেখে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলেন, অ-নরারে কি ট্যাঁয়া-পইসা দিবনে বদ্দা?

প্রশ্নটা শুনে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। আমাদেরকে টাকা-পয়সা দেয়া হবে কি না জানতে চাচ্ছেন তিনি। এই প্রশ্নের মাথামুন্ডু বুঝতে পারছি না। জিজ্ঞেস করলাম, কিসের টাকা-পয়সা?

এই যে, আপনারা বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসলেন?

বিতর্কে আমাদের স্কুল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, আমাদের শিক্ষার্থীরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তার জন্য টাকা-পয়সা কেন দেবে? চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাতো গৌরবের, টাকা-পয়সার না।

এটা কোন কথা হইল? টাকা-পয়সা ছাড়া গৌরব করা যায়?”  - মোরশেদ স্যারের গলার স্বরে অসন্তুষ্টি। কোন কিছুতে অসন্তুষ্ট হলেই তিনি তাঁর আগের স্কুলের গুণ-কীর্তন করেন। এখনো বলতে শুরু করলেন - তিনি আগে যে স্কুলে চাকরি করতেন – সেই স্কুলের একজন ছাত্র জুনিয়র বৃত্তি পেয়েছিল। স্কুলের কর্তৃপক্ষ সব টিচারকে এক হাজার টাকা করে বোনাস দিয়েছিল। দুইজন পেলে দুই হাজার করে দেয়া হতো, কিন্তু দুইজন পায়নি।

অত সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে এখানে কেন এসেছেন এই প্রশ্ন এর আগে অনেকবার করা হয়ে গেছে – তাই আর করলাম না। বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাঁর দর্শন যতই বাস্তব হোক – আদর্শগত দিক থেকে আমার সঙ্গে মেলে না।

“অ্যাই প্রদীপ, তোমাকে আমি খুঁজছি কতক্ষণ থেকে। তুমি তো ভি-আই-পি হয়ে গেছ।“ – রুমে ঢুকেই হড়বড় করে বললো ইভা। তার গলায় কিশোরীর চাঞ্চল্য।

“আমি ভি-আই-পি কীভাবে হলাম?”

“এ-ও-সির অফিসে চায়ের দাওয়াত পাও – ভি-আই-পি না তো কী?”

“লেডিস ক্লাবের দাওয়াতও তো পেয়েছি।“

মনে হলো ইভার মুখে হাজার ওয়াটের বাল্ব জ্বলে উঠলো।

“না গেলে কিন্তু খবর আছে।“

“তুমি তো বলেছিলে ২৫শে ডিসেম্বর বিয়ে করবে। এখন দেখছি চার মাস আগেই করে ফেলছো। তর সইছে না?”

“আরে তা না। ২৫ শে ডিসেম্বর করতে চেয়েছিলাম – কারণ ঐ দিন সব বছরই ছুটি থাকে। ম্যারেজ ডে-তে আর আলাদা করে ছুটি নিতে হবে না। কিন্তু ফারুক …”

“এখন থেকেই সবকিছু ফারুকের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। বাহ্‌- বাহ্‌- বেচারা ফারুক।“

“বেচারা কেন হবে? বলো লাকি ফারুক।“ – হাসতে হাসতে চলে গেল ইভা।

>>>>>>>>>>> 

 

বিয়ে-সাদি ইত্যাদি সামাজিক অনুষ্ঠান আমি সযত্নে এড়িয়ে চলি। নিতান্ত বাধ্য হয়ে কোথাও যেতে হলে আমার খুবই অস্বস্তি লাগে। লেডিজ ক্লাবে এসেও আমার সেরকম অবস্থা হলো। দলে দলে সাজগোজ করা সুবেশ মানুষ। কিন্তু আমি কাউকেই চিনি না। আমার মতো গর্তজীবী মানুষের এটাই সমস্যা - নিজস্ব গর্তের বাইরে এলে ভীষণ অসুবিধা হয়। শাহীন কলেজের স্যার-ম্যাডামদের সবার আসার কথা। কিন্তু কাউকে তো দেখছি না। আমি কি তবে বেশি আগে চলে এসেছি? কিন্তু প্রচুর লোকজন এসেছেন। আমাদের স্যার-ম্যাডামদের কাউকে দেখছি না। বের হয়ে স্টেডিয়ামের দিকে ঘুরে আসবো নাকি? যাবার জন্য পা বাড়িয়েই সুচরিত স্যারকে দেখতে পেলাম। বেশ খুশি হলাম তাঁকে দেখে। আস্তে আস্তে সবাই এসে পড়লেন। ম্যাডামদের মধ্যেও অনেকে এসেছেন। পুরুষ এবং মহিলাদের আলাদা বসার ব্যবস্থা। কাইয়ুম স্যার এসেছেন। তিনি জানেন কনে এখন সেজেগুজে কোথায় বসে আছে। তাঁকে অনুসরণ করে গেলাম কনে দেখতে। মেক আপ মানুষের চেহারার সাথে সাথে ব্যক্তিত্বও বদলে দেয় বলে মনে হলো কনের সাজে ইভাকে দেখে। এমন চঞ্চল একটা প্রাণি ভারী ভারী গয়নার আড়ালে চুপ হয়ে বসে আছে। তার চারপাশে নানা বয়সের নানা বেশের মেয়েরা অকারণে হাসছে। অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকার পরেও মনে হচ্ছে দৃশ্যকল্পের কোন পরিবর্তন নেই।

তারপর কনের রুম থেকে ডাইনিং হল। প্রচুর খাওয়া-দাওয়া হলো। এবার? চুপচাপ বের হয়ে বাসায় চলে যাবো এরকম প্ল্যান করে কয়েক পা গিয়েই রিফাৎ আরা ম্যাডামের সামনে পড়ে গেলাম। কাইয়ুম স্যারের সাথে কথা বলছেন। চুপচাপ সরে পড়া গেল না। একটু পরে অঞ্জন স্যার, কাইয়ুম স্যার, সুচরিত স্যার, রিফাৎ আরা ম্যাডাম – সবাই মিলে হাঁটতে হাঁটতে আউটার স্টেডিয়ামের  ছোট্ট একটা আউটলেটে বসে পড়লাম।  কাইয়ুম স্যার কোলাকোলা খাওয়ালেন। রিফাৎ আরা ম্যাডামকে কলেজে যতটা রাগী গম্ভীর মনে হয় – এখানে তাঁকে খুবই হাসিখুশি দেখাচ্ছে। অনেকদিন পর সুচরিত স্যার আর কাইয়ুম স্যারের দেখা পেয়েছেন বলেই হয়তো। কাইয়ুম স্যারের সাথে এখন সাহিত্য আলোচনা চলছে। কাইয়ুম স্যার এখন চিটাগং কলেজের ইংরেজির জনপ্রিয় টিচার। শত শত স্টুডেন্ট তাঁর কাছে প্রাইভেট পড়ে। এত ব্যস্ততার মাঝেও শুধুমাত্র ইভার বিয়েতে এটেন্ড করার জন্য আজ সব অ্যাপয়ন্টমেন্ট ক্যানসেল করে দিয়েছেন। শেক্সপিয়ার তাঁর প্রিয় কবি। এপর্যন্ত বেশ কয়েকবার উদ্ধৃতি দিয়েছেন শেক্‌সপিয়ার থেকে। এত কঠিন কঠিন ইংরেজি শব্দ কীভাবে মনে রাখেন কে জানে। এখন বলছেন, “ডাউট দাউ দ্য স্টার আর ফায়ার; ডাউট দ্যাট দ্য সান ডুথ মুভ; ডাউট ট্রুথ টু বি এ লায়ার; বাট নেভার ডাউট আই লাভ।“

“সুচরিত, মনে থাকে যেন, সেপ্টেম্বরের চার তারিখ। সকাল এগারোটায়। আর টি এস অডিটরিয়ামে প্রোগ্রাম। প্রিন্সিপাল স্যার বিশেষ করে বলে দিয়েছেন, আপনাকে আসতেই হবে।“ – রিফাৎ আরা ম্যাডাম সুচরিত স্যারকে বললেন।

“প্রিন্সিপাল স্যারও আমাকে বলেছেন আজ। আমি অবশ্যই যাবো আপা।“ – সুচরিত স্যার বললেন।

>>>>>>>>>>>> 

এগারোটার আগেই আর-টি-এস অডিটোরিয়ামে সুশৃঙ্খলভাবে বসে পড়েছে আমাদের কলেজের সব শিক্ষার্থী। এই মিলনায়তনের স্টেজে আমি আগে কখনো উঠিনি। আজ আমাকে বলা হয়েছে ব্যাক-স্টেজে থাকতে। সুচরিত স্যারও আছেন আমার সাথে। নাসরীন বানু ম্যাডাম আর শামসুন্নাহার ম্যাডামও আছেন। রিফাৎ আরা ম্যাডাম তদারকি করছেন সবকিছু। আমাদের চ্যাম্পিয়ন বিতার্কিক তিনজনও উপস্থিত আছে ব্যাকস্টেজে। রীমা এসএসসি পাস করে ফেলেছে। সে আর স্কুল-বিতর্ক করতে পারবে না। নাজমুল এখন ক্লাস টেনে। তার আরো চান্স আছে।

 

অতিথিরা সবাই যথাসময়ে চলে এসেছেন। এওসি স্যার অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। ঘাঁটির অন্যান্য সিনিয়র অফিসাররাও উপস্থিত আছেন। রিফাৎ আরা ম্যাডাম বক্তৃতা দিলেন। বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রথম পর্ব থেকে চূড়ান্ত পর্ব পর্যন্ত প্রত্যেকটি ধাপ পার হতে কী ধরনের কষ্ট, পরিশ্রম, অনুশীলন আমাদের ছেলে-মেয়েরা করেছে, আমাদের শিক্ষকরা করেছেন, এবং সর্বোপরি প্রিন্সিপাল স্যার যে নিরলসভাবে আমাদের সহযোগিতা এবং উৎসাহ যুগিয়েছেন তা বললেন। কোন ধরনের নোট ছাড়াই তিনি এত চমৎকার করে কীভাবে বলেন আমি জানি না। আমি তো দিনরাত মুখস্থ করেও এরকম বক্তৃতার একটা প্যারাগ্রাফও বলতে পারবো না।

 

প্রিন্সিপাল স্যার তাঁর বক্তৃতায় সবার প্রশংসা করলেন এবং যথাযথ ধন্যবাদ দিলেন। ঢাকায় গিয়ে আমরা ঢাকা শাহীন এবং অফিসার্স মেস থেকে যেসব সুবিধা পেয়েছি তারজন্যও কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ দিলেন। তারপর বললেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন, রসায়নের মানুষ হয়েও চমৎকার সাহিত্য রচনা করেছেন, আমাদের সুচরিত দত্তও রসায়নের মানুষ হয়ে হুমায়ূন আহমেদের মত সাহিত্য রচনায় পারদর্শী।“

 

সারা অডিটরিয়াম হাততালিতে মুখরিত হয়ে উঠল। সুচরিত স্যারকে যে আমাদের শিক্ষার্থীরা কত ভালোবাসে – তা ব্যাকস্টেজে বসে সুচরিত স্যার নিজেই দেখতে পাচ্ছেন। এত জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে সেখান থেকে চলে যাওয়ার মত মানসিক শক্তি সবার থাকে না। সুচরিত স্যারের আছে। তাই তো তিনি এত বড়।

 

প্রধান অতিথি এওসি স্যার আমাদের সবার হাতে বইয়ের প্যাকেট তুলে দিলেন। তাঁর বক্তৃতায় তিনি ঘোষণা দিলেন আমাদের সকল শিক্ষকের জন্য অফিসার্স মেসে পার্টি দেয়া হবে। অবশেষে এখানকার অফিসার্স মেসে ঢোকার সুযোগ পাওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছে।

 

বারোটার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেল। কলেজ ছুটি। সুচরিত স্যার তাঁর অফিস থেকে গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন। তিনি দ্রুত চলে গেলেন। রিফাৎ আরা ম্যাডাম আর রেহনুমার সাথে ট্যাক্সি করে চলে এলাম শহরে। কথা ছিল আমাকে চকবাজার নামিয়ে দিয়ে তাঁরা বাসায় চলে যাবেন। কিন্তু চিটাগং কলেজের সামনে আসার পর রিফাৎ আরা ম্যাডাম মত বদলালেন। তাঁর অনেক দিনের ইচ্ছা হলো চিটাগং কলেজে যাবেন। কোনদিন সময় পান না। আজ যখন সময় পেয়েছেন – একবার ঘুরে যাবেন। তাঁর বড় মেয়ে এই কলেজে ভর্তি হয়েছে।

 

রেহনুমা আর আমার হাতে সুন্দর র‍্যাপিং কাগজে মোড়ানো বড় বড় দুটো বইয়ের প্যাকেট। প্যাকেটের ভেতরে কী কী বই দিয়েছে আমি এখনো জানি না। রিফাৎ আরা ম্যাডাম সম্ভবত জানেন কী কী বই আছে সেখানে। কারণ কমিটিতে তিনি ছিলেন। কলেজ রোডের গেট দিকে ঢুকে মেইন বিল্ডিং এর তিন তলায় বাংলা ডিপার্টমেন্ট। রিফাৎ আরা ম্যাডাম চললেন সেদিকে। তাঁকে অনুসরণ করলাম। এই কলেজ থেকেই আমি উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছি। এই কলেজের অলিগলি আমি চিনি। এখানে এলে আমারও স্মৃতিকাতরতা ভর করে।

 

বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আ ফ ম সিরাজদৌল্লা চৌধুরির অফিসে ঢুকলেন রিফাৎ আরা ম্যাডাম। আমি আর রেহনুমাও ঢুকলাম। সিরাজ স্যার আমার সরাসরি শিক্ষক। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকের শত শত শিক্ষার্থীর ভেতর থেকে আমাকে আলাদা করে মনে রাখার মতো কোন ঘটনা আমি ঘটাইনি।  স্বাভাবিকভাবেই তিনি আমাকে চিনতে পারলেন না। কিন্তু তিনি রিফাৎ আরা ম্যাডামকে চিনতে পারলেন। বসতে বললেন, চা খাবো কি না জিজ্ঞেস করলেন। নাসরীন ম্যাডাম কেমন আছে জিজ্ঞেস করলেন। এবং অত্যন্ত খুশি হয়ে আমার আর রেহনুমার হাতের বইয়ের প্যাকেটের দিকে হাত বাড়িয়ে বললেন, “এত কিছু কী জন্য এনেছ? বই এনেছ বুঝি আমার জন্য?”

আমি এই বিপদের জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। রেহনুমাও অপ্রস্তুত। রিফাৎ আরা ম্যাডাম একটা শব্দও করছেন না। চুপচাপ তাকিয়ে আছেন কোন এক অদৃশ্য চিত্রকল্পের দিকে। যেন এই দুটো বইয়ের প্যাকেট সিরাজ স্যারের হাতে চলে গেলে তাঁর কিচ্ছু যায় আসে না। কিন্তু আমার প্যাকেট আমি সিরাজ স্যারকে দিতে রাজি নই। তিনি আমাকে চেনেন না। তাই কিছু বলতেও পারবেন না।

আমি খুবই স্বাভাবিকভাবে বললাম, “এগুলি স্যার আপনার জন্য আনা হয়নি। আমাদেরকে দেয়া হয়েছে কলেজ থেকে। ভেতরে কী আছে এখনো দেখিনি। ম্যাডাম আপনার সাথে এমনি দেখা করতে এসেছেন। কিছু নিয়ে আসেননি।“

রিফাৎ আরা ম্যাডাম চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে। সিরাজ স্যার পুরো ব্যাপারটা খুব সহজভাবে নিলেন। তিনি সাহিত্য বিষয়ক কিছু কথাবার্তা শুরু করলেন রিফাৎ আরা ম্যাডামের সাথে। সাহিত্য আলোচনা শেষ হবার পর তাঁর রুম থেকে বের হলাম। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে রিফাৎ আরা ম্যাডাম বললেন, “আপনাকে আমি আর কোথাও নিয়ে যাবো না।“

>>>>>>>>>>>>>>>> 

অনেক দিন আগে ছোলাইমান স্যার যখন বলেছিলেন যে শাহীন কলেজের শিক্ষকরা অফিসার্স মেসে ঢোকার জন্য পারমিটেড, আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। হয়তো কাগুজে নিয়ম একটা আছে যে আমরা ঢুকতে পারবো। কিন্তু কেউ কখনো ঢুকেছেন বলে শুনিনি। কিন্তু আজ আমরা সবাই স্বয়ং এ-ও-সি’র অতিথি। তিনি আমাদের জন্য অফিসার্স মেসে পার্টি দিয়েছেন। অফিসার্স মেসের উর্দি-পরা লোকজন আমাদের দেখে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন দেখে খুব মজা পাচ্ছি। অফিসারদের অনেকেই এসেছেন। মহিলা অফিসার একজনও নেই। আমাদের ম্যাডামরাই শুধু আছেন। অনেক অফিসার এসে ম্যাডামদের সালাম দিয়ে দাঁড়াচ্ছে। মনে হচ্ছে ওরা এক সময় শাহীন কলেজের ছাত্র ছিলেন, এই স্যার-ম্যাডামদের কাছেই পড়েছেন। শিক্ষক-জীবন সার্থক হয় এখানেই। শিক্ষার্থীরা যখন প্রতিষ্ঠার সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় শিক্ষকদের দেখে চিনতে পারে, কাছে এসে পরিচয় দেয় – তখন শিক্ষকদের কী যে ভালো লাগে। নিজের রোপন করা চারা গাছ যখন পত্রপুষ্পে পল্লবিত হয় যেমন লাগে – ঠিক সেরকমই নিস্বার্থ আনন্দ হয় শিক্ষকদের।

“অ্যাই প্রদীপ”

কাঁধে একটা লম্বা হাতের স্পর্শ এবং ডাক একই সাথে এলো। পেছন ফিরে তাকাতেই চিনতে পারলাম।

“রেজা ভাই, কেমন আছেন আপনি? আপনি এখানে পোস্টেড?”

“হ্যাঁ, গত সপ্তাহ থেকে। তুমি যে এই কলেজে আছো, তা তো আমি জানি না।“

রেজা ভাই চিটাগং কলেজে আমার সিনিয়র ছিলেন। ইন্টারমিডিয়েট পাস করে কিছুদিন ফিজিক্স অনার্স পড়েছিলেন। তারপর জিডিপি হয়ে এখন ফ্লাইট ল্যাফট্যানেন্ট। এত বছর পরেও আমাকে যে চিনতে পেরেছেন সেটাই আশ্চর্যের।

প্রচুর খাওয়ার ব্যবস্থা। বিরাট এক কেক আনা হয়েছে। সেই কেক কাটা হলো। এধরনের পার্টিতে যা হয়। ছোট ছোট গ্রুপে কথাবার্তা হচ্ছে। রেজাভাই একটু পরে এসে হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলেন একদিকে।

“শোন, একটা কথা তোমার সাথে।“

“বলেন ভাইয়া।“

“লুক অ্যাট ইওর থ্রি ও’ক্লক।“

আমি আমার কাঁধ বরাবর ডানদিকে তাকালাম। দেখলাম আলি হায়দার স্যার দাঁড়িয়ে কথা বলছেন একজন ইয়ং অফিসারের সাথে।

“হু ইজ হি?”

“আমার কলিগ। কথা বলবেন?”

“তোমার কলিগ? টিচার? আমরা তো ভেবেছি ফিল্ড ইউনিটের কোন অফিসার – যাকে আমরা কেউ চিনি না।“

মনে হচ্ছে রেজা ভাই খুশি হয়ে গেছেন আলি হায়দার স্যার অফিসার না হওয়াতে। আলি হায়দার স্যারের উচ্চতা এবং ফিটনেস দেখে অফিসার মনে করাটা খুবই স্বাভাবিক। অফিসাররাই তাঁকে অফিসার বলে মনে করেছেন।

অফিসার্স মেসে আমাদের সব শিক্ষককে অফিসাররা যে সম্মান দেখিয়েছেন – সেটাও আমরা পেয়েছিলাম আমাদের শিক্ষার্থীদের বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হবার কল্যাণে এবং এ-ও-সি স্যারের উদারতায়।

>>>>>>>>>>>>>>>>> 

পরবর্তী এক মাসের মধ্যে কলেজে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কলেজের নতুন ভবন রেডি হয়ে গেছে। পুরাতন ভবন থেকে আস্তে আস্তে নতুন ভবনে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। শুরুতে কলেজ সেকশান নতুন ভবনে নিয়ে আসা হলো। স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার পর নতুন বছরের ক্লাস শুরু হবে নতুন ভবনে এরকম সিদ্ধান্ত হলো।

এর মধ্যে একদিন সুপাল স্যার পদত্যাগ করে চলে গেলেন আশালতা কলেজে। পূর্ণিমা ম্যাডাম লেকচারার পদে যোগ দিলেন। রসায়নের ডেমোনেস্ট্রেটর হিসেবে যোগ দিলেন আজিজুর রহমান স্যার। একই সাথে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে যোগ দিলেন হাফিজ স্যার এবং সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেন পরিসংখ্যানের সিরাজ স্যার।

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>> 

ষোড়শ বিসিএস পরীক্ষা ছিল শিক্ষা ক্যাডারের বিশেষ বিসিএস। এই বিশেষ বিসিএস-এ কোন লিখিত পরীক্ষা ছিল না। এম-সি-কিউ পরীক্ষায় পাসের পর মৌখিক পরীক্ষা। অনার্স এবং মাস্টার্সের রেজাল্ট থেকে আনুপাতিক হারে নম্বর যোগ করে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। মৌখিক পরীক্ষা দেয়ার পর আমার ধারণা ছিল মৌখিক পরীক্ষায় শুধুমাত্র পাস নম্বরও যদি আমি পাই – তাহলে আমি চূড়ান্তভাবে পাস করবো। কিন্তু আমার ধারণা ভুল ছিল। আমি বিসিএস ফেল করলাম। মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেল।

রেজাল্ট যেদিন বের হলো পরদিন ছিল হরতাল। দিনের পর দিন হরতাল হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে এরকম দাবিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আন্দোলন চলছে। এর মধ্যে আমাদের কলেজে আসতে হচ্ছে। সদরঘাট থেকে নদীপথে নৌকা করে আমরা কলেজে আসি। ছটা থেকে হরতাল। ছ’টা বাজার আগেই আমরা যারা শহর থেকে আসি – কলেজে চলে আসি। সংযুক্তা ম্যাডাম জানতে চাইলেন আমার রেজাল্ট কী?

“ফেল করেছি ম্যাডাম।“

ম্যাডাম বুঝতে পারলেন আমার মনের অবস্থা। আর কিছুই বললেন না সে প্রসঙ্গে।

নতুন বিল্ডিং-এর নিচের তলায় শিক্ষকদের কমনরুম করা হয়েছে। আর দোতলায় ম্যাডামদের কমনরুম। প্রিন্সিপাল স্যার, ভাইস-প্রিন্সিপাল স্যার-ম্যাডামদের অফিসও দোতলায়। দশটার দিকে প্রিন্সিপাল স্যারের কাছ থেকে ডাক এলো।

পুরনো বিল্ডিং-এ প্রিন্সিপাল স্যারের যে অফিস ছিল এই অফিসটি তার চেয়ে ছোট। দরজায় যে পর্দা লাগানো হয়েছে তাও আগেরটার তুলনায় হালকা। দরজায় লাল-সবুজ কোন বাতিই নেই।

স্যার আমাকে দেখতে পেয়েই বললেন, “প্লিজ কাম ইন মিস্টার প্রদীপ।“

“প্লিজ বি সিটেড।“

প্রিন্সিপাল স্যারকে একটু গম্ভীর এবং নরম বলে মনে হচ্ছে।

“মিস্টার প্রদীপ, আমি শুনেছি আপনার খবর। প্লিজ মন খারাপ করবেন না। আমি জানি টু-ডে অর টুমরো – আপনি এর চেয়ে ভালো কোন জায়গায় চলে যাবেন। কিন্তু ইট উইল সাউন্ড এ বিট সেলফিস- আমি কিন্তু দু;খ পেলেও খুশি হয়েছি। আপনি অন্তত আরো কিছুদিন আমার কলেজে থাকবেন। আই নিড ইউ হিয়ার ইন দিস কলেজ।“

আমার মনটা হঠাৎ ভালো হয়ে গেল।

“থ্যাংক ইউ স্যার। থ্যাংক ইউ ফর ইওর সাপোর্ট।“

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>> 


No comments:

Post a Comment

Latest Post

Memories of My Father - Part 2

  In our childhood and even in our adulthood, there was no tradition of celebrating birthdays. We didn't even remember when anyone's...

Popular Posts