Sunday 14 October 2018

আইরিন কুরি - দশম পর্ব (শেষ পর্ব)


রাতে হেলেন আর পিয়ের ঘুমিয়ে পড়লে ফ্রেড আইরিনকে বললেন, “ব্যাকপ্যাকগুলো গুছিয়ে নাও। আমরা কাল সকালেই বেরিয়ে পড়বো।”
“কোথায় যাবো আমরা?”
“সুইজারল্যান্ডে। গোপনে চলে যেতে হবে আমাদের। অবস্থা কিন্তু আরো খারাপ হবে।”
“পালিয়ে যাবো?”
“উপায় নেই। ছেলে-মেয়েদের কথা তো ভাবতে হবে। জার্মানরা পরাজয় আঁচ করতে পারছে। ওরা এখন ফরাসি বিজ্ঞানীদের সবাইকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করছে। ফ্রান্সকে মেধাশূন্য করে দেয়ার পরিকল্পনা করছে তারা। কিন্তু আমাদের তো দায়িত্ব আছে - দেশের জন্য নিজেদের বাঁচিয়ে রাখা। ভেবে দেখো আইরিন। আমাদের কী করা উচিত?”
আইরিন বুঝতে পারলেন। চারজনের দরকারি জিনিসপত্র গুছিয়ে ব্যাকপ্যাক রেডি করে রাখলেন। খুব ভোরে উঠে ছেলে-মেয়ে আর স্বামীর হাত ধরে বেরিয়ে পড়লেন সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে। 
ফ্রান্স আর সুইজারল্যান্ডের সীমান্তে গিয়ে ফ্রেড আইরিনের হাত ধরে বললেন, “এবার আমি তোমাদের কাছ থেকে বিদায় নেবো আইরিন।”
“তুমি যাবে না আমাদের সঙ্গে?”
“না। আমি এখান থেকে ফ্রন্টে চলে যাবো। আমি একজন সৈনিক। আমাদের রেজিস্ট্যান্স ফোর্স সীমান্তে অপেক্ষা করছে। আমেরিকান সৈন্যরা আসতে শুরু করেছে। আমরা তাদের সাথে যোগ দেবো। তোমরা অন্য সবার সাথে নিরাপদেই সুইজারল্যান্ডে চলে যাবে। আশা করি যুদ্ধের পর দেখা হবে আমাদের।”
আইরিন জানেন ফ্রেডকে বাধা দেয়া যাবে না। হেলেন আর পিয়েরকে আদর করে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন ফ্রেড। 
ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আইরিনের সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর খবর কীভাবে যেন প্রচারিত হয়ে গেছে বহির্বিশ্বে। আমেরিকার ‘মেরি কুরি ট্রাস্ট ফান্ড’ তাঁদের জন্য বেশ কিছু ডলার পাঠিয়ে দিয়েছে। ১৯২১ সালে মেরি কুরিকে রেডিয়াম উপহার দেয়ার জন্য ফান্ড গঠন করেছিলেন মেসি মেলোনি। সেখানে যা কিছু অবশিষ্ট ছিল সব আইরিনকে পাঠিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। মায়ের মৃত্যুর পরেও এই দুঃসময়ে মায়ের দান এসে গেছে আইরিনের হাতে। 
১৯৪৪-এর ডিসেম্বরে জার্মান সৈন্যরা ফ্রান্স ছেড়ে চলে গেলো। আইরিনরা সবাই প্যারিসে ফিরে এলেন। ১৯৪৫-এ আমেরিকা পারমাণবিক বোমা বানালো। হিরোশিমা-নাগাসাকি ধ্বংস হয়ে গেলো পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণে। নিউক্লিয়ার ফিশান প্রক্রিয়া কাজে লাগিয়ে এই বোমাগুলো বানানো হয়েছে। আইরিন নিজেও ফিশান প্রক্রিয়া আবিষ্কারের সাথে জড়িত ছিলেন। নিজেকে এ কারণে অপরাধী মনে করতে শুরু করেছেন তিনি। 
যুদ্ধের পর ফ্রেড ফ্রান্সের হিরো হয়ে গেলেন। ‘কমান্ডার অব দি লিজিয়ন অব অনার’ নিযুক্ত হলেন তিনি। ১৯৪৬ সালে পারমাণবিক শক্তির নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন’ গঠিত হলো। ফ্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হলেন, আইরিন কমিশনের সদস্য মনোনীত হলেন। ফ্রেড কমিশনের প্রশাসনিক কাজে তাঁর দক্ষতার ছাপ রাখতে শুরু করেছেন, আইরিন বৈজ্ঞানিক দিক দেখাশোনা করেন। 
পারমাণবিক শক্তি প্রকল্পের কাজ চলছে। ফ্রান্স ইউরোপের প্রথম অ্যাটমিক রিঅ্যাক্টর স্থাপনের কাজ হাতে নিয়েছে। প্রথম প্ল্যান্টের নাম দেয়া হয়েছে জোয়ি (ZOE)। হেভি ওয়াটার আর ইউরেনিয়াম ১৯৩৯ সালেই সংগ্রহ করে রেখেছিলেন ফ্রেড। এখন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে পুরোদমে। 
বিশ্ব-শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জড়িত হচ্ছেন ফ্রেডেরিক ও আইরিন। তেজষ্ক্রিয়তার শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের প্রতি জোর দিচ্ছেন তাঁরা। আমেরিকার ‘অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট রিফিউজি কমিটি’র আমন্ত্রণে স্প্যানিশ রিফিউজিদের সাহায্যের জন্য ১৯৪৮ সালের মার্চে আমেরিকা গেলেন আইরিন। 
আগে মায়ের সাথে যখন গিয়েছিলেন বিপুল সম্বর্ধনা পেয়েছিলেন আমেরিকায়। কিন্তু এবার অন্যরকম অভিজ্ঞতা হলো তাঁর। প্যারিস থেকে বিমানে নিউইয়র্কের লা গোয়ার্ডিয়া এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন অফিসারেরা আইরিনকে আটক করে এলিস আইল্যান্ডের হাজতে নিয়ে গেলেন। আইরিন তাঁর স্বভাব মতই শান্ত। হাজতে রাত কাটাতে গিয়ে আবিষ্কার করলেন সেখানকার ব্যবস্থা খুব একটা ভালো নয়। 
পরদিন ফরাসি দূতাবাসের কর্মকর্তারা ছুটে এলেন। ফরাসি সরকার তীব্র নিন্দা জানালেন এই ঘটনার। নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী, ফ্রান্সের অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের সদস্য, কমিশনের চেয়ারম্যানের স্ত্রী, রেডিয়াম ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর আইরিন কুরিকে আটকে রাখায় আমেরিকান সরকারের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠলো। উপর মহলের আদেশে আইরিনকে ছেড়ে দেয়া হলো। কী কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছিল তা কর্তৃপক্ষ না জানালেও সবাই অনুমান করলেন যে কমিউনিস্ট সন্দেহে আইরিনকে আটক করা হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা কমিউনিস্ট আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছে। 
এলিস আইল্যান্ডের হাজত থেকে বেরিয়ে আইরিন একটা টেক্সি নিয়ে চলে গেলেন রিফিউজি কমিটির অফিসে। তাঁরা তো ভীষণ অবাক। আগের দিন তাঁরা এয়ারপোর্টে গিয়ে ফিরে এসেছেন। 
“মাদাম আপনি নিজেই চলে এসেছেন! আমাদের ফোন করলে তো আমরা গিয়ে নিয়ে আসতাম আপনাকে।”
“নিয়ে আসতে হবে কেন? আমার কাছে তো ঠিকানা আছে আপনাদের।”
আইরিন রিফিউজিদের সমর্থনে বেশ কিছু সমাবেশে বক্তৃতা করলেন। তারপর প্রিন্সটনে আইনস্টাইনের সাথে দেখা করলেন। আইনস্টাইনও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার একজন জোরালো সমর্থক। 

আইরিন জুলিও-কুরি ও আইনস্টাইন


১৯৪৮ সালে আইরিন ও ফ্রেডের মেয়ে হেলেন একুশ বছরের তরুণী। সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি পাস করেছে। রূপে গুণে অদ্বিতীয়া হেলেন ভালোবাসে সহপাঠী মাইকেলকে। মাইকেল পল লাঁজেভির নাতি (ছেলের ছেলে)। মাদাম কুরির নাতনির সাথে মঁসিয়ে লাঁজেভির নাতির বিয়ে - এর চেয়ে ভালো সম্পর্ক আর কী হতে পারে? 

১৯৪৮ সালের ৪ঠা নভেম্বর হেলেন আর মাইকেলের বিয়ে হয়ে গেলো। আইরিন তখন ভীষণ অসুস্থ। ম্যাস্টয়ডাইটিসে ভুগছিলেন। অপারেশন দরকার। কিন্তু মেয়ের বিয়ের জন্য অপারেশন পিছিয়ে দিয়েছিলেন। হেলেনের বিয়ের পরেই অপারেশন হলো আইরিনের। মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়েই বাড়িতে চলে এলেন তিনি। 
ফ্রেড পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছেন। ১৯৪৮ সালের ডিসেম্বরে চালু হলো পাঁচ কিলোওয়াট শক্তি সম্পন্ন ‘জোয়ি’। এই প্রাথমিক প্রকল্পের সাফল্য বড় মাপের প্রকল্প হাতে নিতে সহায়তা করলো। ক্রমে ক্রমে ফ্রান্সের বিদ্যুৎ শক্তির সিংহভাগ পারমাণবিক শক্তি থেকেই উৎপাদিত হয় যার সূচনা করেছিলেন ফ্রেডেরিক জুলিও-কুরি। 
প্রত্যেক গ্রীষ্মকালেই লা’কোয়েস্টে ছুটি কাটাতে যান ফ্রেড ও আইরিন। সেখানে তাঁরা একটা অ্যাপার্টমেন্ট কিনে ‘কুরি হাউজ’ নাম দিয়েছেন। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে, মাছ ধরে আনন্দে কাটে কয়েক দিন। ১৯৪৯ সালের এমনি এক দিনে আড্ডায় আলোচনা হচ্ছিলো প্রেম-ভালোবাসা বিষয়ে। ফ্রেড ভালোবাসা সম্পর্কে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন। তিনি যে আইরিনকে কত ভালোবাসেন তার সরস বর্ণনা দিচ্ছিলেন। আইরিন সাধারণত এসব আলোচনায় শ্রোতা হিসেবেই থাকেন - কখনো কোন মন্তব্য করেন না। কিন্তু সেদিন ফ্রেডের কথা শুনে হঠাৎ আইরিন বললেন, “আচ্ছা, তোমাদেরকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি। বিবাহিত পুরুষ তাদের ওয়ালেটে কার ছবি রাখে?”
“স্ত্রীর”
“ফ্রেড আমাকে এত ভালোবাসে বললো - তার ওয়ালেটে কার ছবি আছে?”
“অবশ্যই তোমার” - বন্ধুদের একবাক্যে উত্তর। 
“ফ্রেড, তোমার ওয়ালেটটা খুলে এদের দেখাও।”
ফ্রেড কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে ওয়ালেট খুলে দেখান - সেখানে আইরিনের বদলে বিশাল একটা মাছের ছবি। অপ্রস্তুতের হাসি হেসে ফ্রেড বললেন, “লা’কোয়েস্টে এত বড় মাছ আর কেউ ধরেনি।”
ফরাসি সরকারের ওপর আমেরিকান সরকারের প্রভাব ও চাপ বাড়তে শুরু করেছে। আমেরিকান সরকার কমিউনিস্ট ফোবিয়ায় ভুগছে। তার ধারাবাহিকতায় ১৯৫০ সালের ২৮শে এপ্রিল ফ্রেঞ্চ অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন থেকে ফ্রেডকে বরখাস্ত করা হলো। ফ্রেডের অপরাধ - তিনি ফ্রান্সের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। মানসিকভাবে খুব হতাশ হয়ে পড়লেন ফ্রেড। তাঁর শরীরেও তেজষ্ক্রিয়তার প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। খুবই অসুস্থ হয়ে পড়লেন ফ্রেড। 
এর কিছুদিন পর ২১শে মে হেলেন ও মাইকেলের প্রথম সন্তান ফ্রাঁসোয়ার জন্ম হয়। নাতনির মুখ দেখে হতাশা কিছুটা কাটিয়ে উঠলেন ফ্রেড। 
অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন থেকে আইরিনকে বরখাস্ত করা না হলেও ১৯৫১ সালের ১০ই জানুয়ারি তাঁর মেয়াদ শেষ হবার পর তাঁকে কমিশন থেকে বাদ দেয়া হয়। সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় এবং রেডিয়াম ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টরের পদ এখনো আছে তাঁর। কিন্তু শরীর তাঁরও খুব খারাপ। এক সময়ের এত ভালো অ্যাথলিট আইরিন নানারকম রোগে ভুগছেন। 
১৯৫১ সালের ২৫শে জুলাই হেলেনের ছেলে ইভিসের জন্ম হয়। আইরিন ও ফ্রেড তাঁদের নাতি-নাতনির সাথে সময় কাটান যতটুকু পারেন। ফ্রাঁসোয়ার বয়স দু’বছর হতে না হতেই তাকে সাঁতার শেখানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন আইরিন। 
১৯৫৫ সালে লিউকেমিয়া ধরা পড়ে আইরিনের। সারাজীবন এক্স-রে আর রেডিয়াম পোলোনিয়ামের তেজষ্ক্রিয়তার সাথে থাকতে থাকতে ব্লাড-ক্যান্সার হয়ে গেছে তাঁর। হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো তাঁকে। ফ্রেড প্রায় সারাক্ষণই আইরিনের বেডের কাছে চুপচাপ বসে থাকেন। আইরিন জানেন তাঁর সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। যতক্ষণ জেগে থাকেন ফ্রেডের দিকে তাকিয়ে থাকেন। ফ্রেড তাঁর হাত ধরে জিজ্ঞেস করেন, “খুব কষ্ট হচ্ছে?”
“আমার নিজের জন্য কোন কষ্ট নেই ফ্রেড। আমি তো জীবনে যা যা চেয়েছি সবই পেয়েছি। কষ্ট হচ্ছে তোমার জন্য।”
“আমার জন্য কেন?”
“আমি মরে গেলে তুমি একা হয়ে যাবে। অবশ্য একা নাও হতে পারো - লা’কোয়েস্টের সাগরে বড় বড় মাছ আছে। সেগুলো ধরবে আর ছবি তুলে ওয়ালেটে রাখবে। দেখি তোমার ওয়ালেটটা।”
ফ্রেড চুপচাপ ওয়ালেট বের করে আইরিনের হাতে দেন। আইরিন কাঁপা কাঁপা হাতে ওয়ালেট খুলে মাছের ছবিটা দেখেন। ফ্রেড বলেন, “তোমার কি ধারণা আমি শুধু মাছই দেখি?”
“না, তুমি এটাও দেখো” - মাছের ছবির নিচ থেকে আরেকটি ছবি বের করেছেন আইরিন। তিরিশ বছর আগের আইরিনের গ্র্যাজুয়েশানের ছবি। সরবোনের কালো গাউন পরে এক হাতে ফুল আর অন্যহাতে সার্টিফিকেট নিয়ে উজ্জ্বল চোখে দাঁড়িয়ে আছে তরুণী আইরিন। 

“ছবিটা যে ওখানে থাকে তুমি জানতে?”
“হ্যাঁ”
“তবে সেদিন সবার সামনে মাছের ছবি নিয়ে ওরকম করলে কেন?”
আইরিন চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করে বলেন, “শুধু গুনগুন করলে হয় না, মাঝে মাঝে গলা ছেড়ে গাইতে হয়।”
১৯৫৬ সালের ১৭ই মার্চ মারা যান আইরিন জুলিও-কুরি। ২১শে মার্চ সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রীয় শোকসভা অনুষ্ঠিত হয় তাঁর স্মরণে। 

আইরিন ও ফ্রেডেরিক জুলিও-কুরি


আইরিনের মৃত্যুর পর ফ্রেড ছেলে পিয়েরের সাথে তাঁদের স্‌সোর বাড়িতেই দিন কাটাতে থাকেন। ফ্রেডের লিভারের তিন চতুর্থাংশই নষ্ট হয়ে গেছে  অত্যধিক তেজষ্ক্রিয়তায়। এ অবস্থাতেও আইরিনের শূন্যপদে যোগ দিলেন তিনি। সরবোনের প্রফেসর পদ এবং রেডিয়াম ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর পদে নিযুক্ত হলেন ফ্রেডেরিক জুলিও-কুরি। রেডিয়াম ইনস্টিটিউটের সম্প্রসারণ ঘটছে। নিউক্লিয়ার ইনস্টিটিউট চালু করলেন ফ্রেড। 
১৯৫৮ সালের গ্রীষ্মকালে পাকস্থলীর সমস্যাও দেখা দেয় ফ্রেডের। হেপাটাইটিসের অপারেশান হয় ১০ই আগস্ট। অস্ত্রোপচারের চারদিন পর ১৪ই আগস্ট মারা যান ফ্রেডেরিক জুলিও-কুরি। 

পরিশিষ্ট

আইরিন ও ফ্রেডের ছেলে-মেয়ে দু’জনই পরবর্তীতে বিখ্যাত বিজ্ঞানী হয়েছেন - হেলেন নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানী এবং পিয়ের জীব-পদার্থবিজ্ঞানী।
১৯৫৭ সালে হেলেন তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে যোগ দেন। ফ্রান্সের পার্লামেন্টে সায়েন্টিফিক এডভাইজরি কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি অনেক বছর।
হেলেনের ছেলে ইভিসও একজন জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। 
আইরিন ও ফ্রেড জুলিও-কুরির ছেলে পিয়ের জুলিও কলেজ দ্য ফ্রান্সের প্রফেসর এবং সেলুলার বায়োলজি ডিপার্টমেন্টের হেড। ফ্রেঞ্চ একাডেমি অব সায়েন্সের সদস্যপদ লাভ করতে কোন অসুবিধাই হয়নি তাঁর। তিনি আমেরিকান একাডেমি অব সায়েন্সেরও সদস্য। 
ইভ কুরি সারাজীবন একা থাকার সিদ্ধান্ত নিলেও বিয়ে করেছিলেন ১৯৫৪ সালে ৫০ বছর বয়সে। তাঁর স্বামী হেনরি ল্যাবোইসি ইউনিসেফের পরিচালক ছিলেন এবং ১৯৬৫ সালে নোবেল শান্তি পুরষ্কার পেয়েছেন। ইভ ১০২ বছর বেঁচেছিলেন। ২০০৭ সালের ২২শে অক্টোবর ইভ কুরি মারা যান তাঁর নিউ ইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টে।
১৯৯৪ সালে রেডিয়াম ইনস্টিটিউটের কুরি মিউজিয়ামের নতুন নাম হয় - ‘দি মিউজিয়াম এন্ড আর্কাইভস ফর দি রেডিয়াম ইনস্টিটিউট, পিয়ের এন্ড মেরি কুরি, এন্ড ফ্রেডেরিক এন্ড আইরিন জুলিও-কুরি’। 

__________
আইরিন কুরির কাহিনি প্রকাশিত হয়েছে রেডিয়াম ভালোবাসা বইতে




No comments:

Post a Comment

Latest Post

Memories of My Father - Part 4

  This is my first photo taken with my father. At that time, I had just moved up to ninth grade, my sister was studying for her honors, and ...

Popular Posts