Wednesday, 15 July 2026

অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল ফিজিক্স অলিম্পিয়াড ২০২৬

 


কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত ৫৬তম  ইন্টারন্যাশনাল ফিজিক্স অলিম্পিয়াড ২০২৬-এ বাংলাদেশ থেকে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা দারুণ ফল করেছে। নটরডেম কলেজের ফাহিম ফারবিন সিলভার মেডেল অর্জন করেছে। রংপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের নাফিস সাদিক ও সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আদিত্য রহমান অর্জন করেছে ব্রোঞ্জ মেডেল, আর ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের সামিউল ইসলাম অর্জন করেছে সম্মানজনক স্বীকৃতি। এদের সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এ ধরনের অর্জন কী পরিমাণ মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এবছর চীন, ভারত, কাজাকাস্থান, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের প্রতিযোগীদের প্রত্যেকেই গোল্ড মেডেল পেয়েছে এবং এই ছয়টি দেশ আন্তর্জাতিকভাবে শীর্ষস্থান দখল করেছে।

অর্জনের স্বীকৃত গাণিতিক সংজ্ঞা হলো আউটপুট/ইনপুট। অর্থাৎ অর্জন হিসেব করা হয় কী পরিমাণ ইনপুট থেকে কী পরিমাণ আউটপুট পাওয়া গেল তার ভিত্তিতে। ইনপুট পুরোটাই নির্ভর করে সামর্থ্যের উপর। সামগ্রিকভাবে একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায় আমাদের সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশে আমাদের সামর্থ্য কতটুকু। আমাদের শিক্ষার্থীরা অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের তুলনায় কতটুকু সুযোগ পায়।

এ প্রসঙ্গে এখানে অস্ট্রেলিয়ার কথা উল্লেখ করা যায়। অস্ট্রেলিয়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সারা দেশ থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থীকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দিয়েছিল এবারের ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে যাওয়ার জন্য। সিডনি টেকনিক্যাল হাইস্কুলের আদিত্য চৌহান, ম্যারিস্ট কলেজ ক্যানবেরার লুক হ্যাকেট, সিডনির জেমস রুজ এগ্রিকালচারাল হাই স্কুলের ইভান লিয়াও, জন মনাশ সায়েন্স স্কুলের মাইকেল তিকানভ, এবং ব্রিসবেন স্টেট হাইস্কুলের ওয়েন ঝাই। 


অস্ট্রেলিয়ান ফিজিক্স অলিম্পিয়াড দল


কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাউকেই অলিম্পিয়াডে পাঠায়নি অস্ট্রেলিয়া। কেন এবার অস্ট্রেলিয়া কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়নি – তার কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাও দেয়নি অস্ট্রেলিয়ান সায়েন্স ইনোভেশান্স – যারা সায়েন্স অলিম্পিয়াডের সবকিছু দেখাশোনা করে। আমি ভেবেছিলাম সম্ভবত কলম্বিয়া ভ্রমণে অস্ট্রেলিয়া সরকারের কোন নিষেধাজ্ঞা আছে। অথচ স্মার্টট্রাভেলার ওয়েবসাইটে কলম্বিয়া ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে কেন যেতে দেয়নি সারাদেশ থেকে বেছে নেয়া মেধাবীতম পাঁচজন ক্ষুদে পদার্থবিজ্ঞানীকে? কোনো উত্তর নেই। এ নিয়ে অবশ্য ফিজিক্স সোসাইটির মুষ্টিমেয় কিছু সদস্য ছাড়া আর কেউ সামান্যতম মাথাও ঘামায়নি। অস্ট্রেলিয়ার কি টাকার অভাব? ফেডারেল সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব ইন্ডাস্ট্রি, সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্সেস অলিম্পিয়াড স্পনসর করে।

তুলনামূলক ইনপুট আর আউটপুটের বিচারে আমি মনে করি বাংলাদেশের অর্জন এক্ষেত্রে অনেক বেশি। বাংলাদেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রচন্ড বন্যার কাদাপানিতে ভিজতে ভিজতে পরীক্ষার হলে গিয়ে পরীক্ষা দেয়। আর অস্ট্রেলিয়ায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থী স্কুলে কোন ধরনের ফিজিক্স না পড়েই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে ভর্তি হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে।


No comments:

Post a Comment

Latest Post

Beyond the Rankings: What Makes a City Truly Liveable

  Before my day had even begun, I received a message from a friend. Attached to it was a Prothom Alo photo card proclaiming: “Three of the ...

Popular Posts