Saturday 8 January 2022

'সময়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস'-এর ইতিহাস

 



স্টিফেন হকিং তাঁর জন্মদিনের ব্যাপারে সবসময় গ্যালিলিও’র মৃত্যুদিবসের রেফারেন্স দিয়েছেন। গ্যালিলিওর মৃত্যু হয়েছিল ৮ জানুয়ারি ১৬৪২ সালে। তার ঠিক তিন শ বছর পর ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি স্টিফেন হকিং-এর জন্ম। আলবার্ট আইনস্টাইনের পর যে বিজ্ঞানী সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি হলেন স্টিফেন হকিং। বেঁচে থাকলে তিনি ২০২০ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পেতেন ব্ল্যাকহোল বিষয়ে তাঁর গবেষণার জন্য। কাকতালীয়ভাবে আইনস্টাইনের জন্মদিনেই – ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ স্টিফেন হকিং মৃত্যুবরণ করেন; আইনস্টাইনের জন্মের ঠিক ১৩৯ বছর পর। 

স্টিফেন হকিং সম্পর্কে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অসংখ্য বই লেখা হয়েছে। তাঁর নিজের লেখা বইগুলিও – বিশেষ করে তাঁর জনপ্রিয় বিজ্ঞানের বইগুলি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছে। তাঁর বইগুলির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সর্বাধিক বিক্রিত বই ‘এ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম ফ্রম বিগ ব্যাং টু ব্ল্যাক হোল্‌স’। এই বইটি তাঁর জনপ্রিয় বিজ্ঞানের প্রথম বই। এই বইয়ের আগে বিজ্ঞান-বিষয়ক আর কোন বই এতটা জনপ্রিয়তা পায়নি। 

১৯৮০ সালের মধ্যেই স্টিফেন হকিং তাঁর গবেষণার জগতে খ্যাতিলাভ করে ফেলেছেন। বিজ্ঞানের জগতে তিনি অবিশ্বাস্য মেধার সাক্ষর রেখেছেন। পদার্থবিজ্ঞানীরা তাঁর গবেষণার খবর রাখেন। কিন্তু তাঁর প্রতি বিশ্বের সাধারণ মানুষের আরো বেশি আগ্রহের কারণ হয়ে ওঠে তাঁর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। যে মানুষের শরীরের সামান্য কয়েকটি পেশী ছাড়া আর কোনকিছুই সচল নয়, সেই মানুষটি সমস্ত প্রতিবন্ধকতা ঠেলে মহাবিশ্বের গোপন রহস্য সন্ধানে যুগান্তকারী গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন – এটাই বেশিরভাগ মানুষের আগ্রহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা এবং অন্যান্য গবেষণা ফান্ডের মাধ্যমে তাঁর বিপুল পরিমাণ চিকিৎসার খরচ চালিয়ে নিতে তেমন কোন অসুবিধা হচ্ছিল না। কিন্তু যখন তাঁর বড় মেয়ে লুসিকে নামী-দামী প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করাতে চাইলেন, তখন যে টাকার দরকার পড়লো তা তাঁর হাতে ছিল না। সেই টাকা জোগাড় করার জন্য তিনি একটি জনপ্রিয় বিজ্ঞানের বই লেখার পরিকল্পনা করলেন যা সব পাঠকের বোধগম্য হবে। সেই বইতে তিনি কোয়ান্টাম গ্রাভিটি, ব্ল্যাকহোল, স্ট্রিং থিওরিসহ সব আধুনিক তত্ত্বের সমন্বয়ে মহাবিশ্বের অন্তিম পরিণতি সম্পর্কে একটি সঠিক এবং সহজবোধ্য ধারণা দিতে চাইলেন। 

লেখার কাজটা ততদিনে অসম্ভব কঠিন হয়ে পড়েছে তাঁর জন্য। টাইপ করার সাধ্য তাঁর নেই। তাঁর কথাও তখন খুবই দুর্বোধ্য। তাঁকে অনেকদিন ধরে জানেন এবং চেনেন এরকম ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাড়া তার কথা কেউ বুঝতেও পারে না। কিন্তু সেভাবেই প্রায়-অসম্ভব কাজ শুরু হলো। তাঁর গবেষক-ছাত্র ব্রায়ান হুইট (Brian Whitt)  তাঁকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এলেন। স্টিফেন হকিং ব্রায়ান হুইটকে বলেন কী লিখতে হবে। হুইট একেকটা লাইন লেখেন আর হকিং-কে দেখান। হকিং বারবার বদলাতে থাকেন প্রতিটি শব্দ, বাক্য – যতক্ষণ না তিনি নিশ্চিত হন যে যা বলতে চান তা বলা হচ্ছে। হকিং চাচ্ছিলেন বইটিতে প্রয়োজনের বেশি একটি শব্দও থাকবে না। প্রতিটি বাক্য, প্রতিটি শব্দ হতে হবে সাধারণের কাছে বোধগম্য। কিন্তু সহজ করতে গিয়ে বৈজ্ঞানিক সত্যতার সাথে কোন আপোষ করা চলবে না। এভাবে বই লেখা সহজ নয়। হকিং জানেন গাণিতিক সমীকরণ দেখলে সাধারণ পাঠক আঁতকে উঠেন। গাণিতিক সমীকরণ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞানের বই লেখা প্রায়-অসম্ভবের পর্যায়ে পড়ে। হকিং সমীকরণের বদলে সহজ চিত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করলেন। চিত্রের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক কার্যাবলি বুঝিয়ে দেয়া। 

এভাবে প্রায় দু’বছর লেগে থাকার পর ১৯৮৪ সালে প্রথম পান্ডুলিপি তৈরি হলো। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস খুবই বনেদি প্রকাশক। খুব আগ্রহভরে তারা হকিং-এর পান্ডুলিপি দেখে ধারণা করলেন এই বই বছরে বিশ হাজার কপির মতো বিক্রি হতে পারে। তারা হকিং-কে পঁচিশ হাজার পাউন্ড দেয়ার জন্য রাজি হলেন এই পান্ডুলিপি বাবদ। 

কিন্তু হকিং-এর স্বপ্ন বছরে বিশ হাজার কপিতে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি স্বপ্ন হলো এই বই শুধু একাডেমিক লাইব্রেরিতে শোভা পাবে না, এই বই পৃথিবীর সমস্ত বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে। এয়ারপোর্টগুলির বইয়ের দোকানে থ্রিলারের পাশে শোভা পাবে। মানুষ প্লেনে পড়ার জন্য যেমন রোমাঞ্চ কিংবা থ্রিলার কেনে, সেরকম তাঁর বইও কিনবে। 

কিন্তু এরকম বইয়ের মার্কেটিং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেসের মতো গম্ভীর প্রকাশকরা করেন না। তাহলে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস চলবে না। তাছাড়া মাত্র পঁচিশ হাজার পাউন্ডে পান্ডুলিপি দিতে রাজি নন স্টিফেন হকিং। 

বেস্ট সেলার বইয়ের লেখকদের জন্য যেসব এজেন্ট কাজ করেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী এজেন্ট হলেন নিউইয়র্কের আল জুকারম্যান (Al Zuckerman)। জুকারম্যান স্টিফেন হকিং সম্পর্কে পড়েছেন। হকিং-এর শারীরিক-মানসিক অবস্থা এবং জীবন-পদ্ধতি সম্পর্কে জানার পর তিনি বুঝতে পারলেন যে ঠিকমতো মার্কেটিং করতে পারলে হকিং-এর বইয়ের চেয়ে হকিং নিজেই পৃথিবীর মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবেন। তিনি হকিং-এর সাথে যোগাযোগ করলেন। 

হকিং একশ পৃষ্ঠার পান্ডুলিপি পাঠিয়ে দিলেন আল জুকারম্যানের কাছে। জুকারম্যান নিউইয়র্কসহ আমেরিকার অনেক প্রকাশকের সাথে দরকষাকষি শুরু করলেন। হকিং-এর অত্যাশ্চর্য জীবনকে তিনি ব্যবহার করলেন বইয়ের বাণিজ্যিক হাতিয়ার হিসেবে। 

ব্যান্টাম পাবলিশার্স বেস্ট সেলার বই প্রকাশ ও মার্কেটিং-এ দক্ষ। ব্যান্টাম প্রকাশনীর অন্যতম সম্পাদক পিটার গুজারডি (Peter Guzzardi) আমেরিকার একটা ম্যাগাজিনে স্টিফেন হকিং সম্পর্কে পড়েছিলেন। তিনি জেনেছেন প্রায় নিঃসাড় শরীর নিয়ে একজন বিজ্ঞানী মহাবিশ্বের সৃষ্টতত্ত্বের মূল রহস্য আবিষ্কার করার চেষ্টা করছেন। এখন সেই বিজ্ঞানীর বই প্রকাশ করার সুযোগ তারা পেলে পৃথিবীর প্রকাশনা জগতে ঝড় তোলা সম্ভব হতে পারে। অন্যান্য প্রকাশকরা যেখানে এক লক্ষ ডলার দিতে রাজি হয়েছে, সেখানে ব্যান্টাম পাবলিশার্স বই প্রকাশের স্বত্ব লাভ করার জন্য আড়াই লক্ষ ডলার (দুই কোটি টাকার বেশি)  দিতে রাজি হলো শুধু আমেরিকাতে প্রকাশের জন্য। যুক্তরাজ্যে প্রকাশের জন্য ব্যান্টামের সহযোগী সংস্থা ব্যান্টাম ট্রান্সওয়ার্ল্ড আরো তিরিশ হাজার পাউন্ড দিতে রাজি হলো। এর আগে আর কোন বইয়ের প্রকাশনার স্বত্ব লাভ করার জন্য এত টাকা দেয়া হয়নি। এর উপর প্রতিটি বইয়ের জন্য রয়ালটি বাবদ বইয়ের দামের শতকরা ১৫ ভাগ হিসেবে দেয়া হবে প্রচলিত মেধাসত্ত্ব নিয়ম অনুযায়ী – লেখকের মৃত্যুর পরেও আরো সত্তর বছর পর্যন্ত। 

এই প্রস্তাব হকিং এর পছন্দ হলো। হকিং যখন আমেরিকার শিকাগোতে একটি বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে যোগ দিতে গেলেন, ব্যান্টাম প্রকাশনীর পিটার গুজারডি হকিং এর সাথে দেখা করলেন। হকিং ব্রায়ান হুইটের সাহায্যে গুজারডির সাথে কথা বললেন। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। 

গুজারডি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন না। বৈজ্ঞানিক শব্দাবলির সাথে কোন পরিচয়ই ছিল না তাঁর। কিন্তু বইটি যেহেতু সবার জন্য লেখা হচ্ছে, তাই ঠিক করা হলো গুজারডি যদি কোনকিছু বুঝতে না পারেন – তাহলে সেই অংশ বদলাতে হবে, বোধগম্য করে তুলতে হবে। হকিং বোধগম্য করার ব্যাপারে রাজি, কিন্তু সহজ করতে গিয়ে বিজ্ঞানের কোন বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি নন। 

এভাবে দ্বিতীয় পান্ডুলিপি তৈরি করা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না। এর মধ্যে হকিং-এর জীবনে ঘটে গেলো মারাত্মক ঘটনা। ১৯৮৫’র জুলাই মাসে তিনি যখন জেনিভার সার্নের সুপার-প্রোটন-সিনক্রোটনে কাজ করছিলেন তখন মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হকিং-এর প্রাণসংশয় দেখা দিলো। তাঁকে জরুরিভিত্তিতে জেনিভার হাসপাতালে ভর্তি করানো হলো। কৃত্রিমভাবে কোমায় রেখে যান্ত্রিকভাবে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখা হলো। ডাক্তাররা তাঁর বাঁচার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। তাঁকে বাঁচানোর একমাত্র রাস্তা ছিল তাঁর স্বরনালি কেটে ফেলা দেয়া। এতদিন খুবই দুর্বোধ্য হলেও কিছু কথা তিনি বলতে পারতেন। এবার তাও গেলো। কিন্তু তিনি বেঁচে ফিরে এলেন। 

হকিং-এর খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধ কিপ থোর্ন (২০১৭ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন) একটি সাহায্যসংস্থার মাধ্যমে হকিং-এর হাসপাতালের বিশাল খরচ সামলানোর ব্যবস্থা করলেন। 

ক্যালিফোর্নিয়ার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ওয়াল্ট উলটজ (Walt Woltosz) হকিং-এর জন্য একটি কথা-বলা-যন্ত্র উদ্ভাবন করলেন। এই ভয়েস সিন্থেসাইজারের মাধ্যমে হকিং তখন যান্ত্রিকভাবে কথা বলতে শুরু করলেন। 

বইয়ের দ্বিতীয় পান্ডুলিপি তৈরি হলো। অনেক ঘষামাজা করা হলো। বইয়ের শেষ প্যারাগ্রাফে হকিং আশা প্রকাশ করেছেন থিওরি অব এভরিথিং বা একটি সর্বাত্মক তত্ত্ব যদি আবিষ্কৃত হয় – তাহলে মানুষ ‘মাইন্ড অব গড’ বা ঈশ্বরের মন বুঝতে পারবে। এই লাইনটির মাধ্যমে হকিং সাধারণ পাঠকের মন জয় করার চেষ্টা করেছেন। অনেকেই মনে করেন হকিং এখানে তাঁর বইয়ের কাটতি বাড়ানোর জন্য একটি সুবিধাবাদী অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এরপর অনেকেই এই কাজ করেছেন – বিজ্ঞানের বইতে ইচ্ছে করে ‘ঈশ্বর’কে টেনে নিয়ে এসেছেন বাণিজ্যিক স্বার্থে। 

১৯৮৭ সালের জুলাই মাসে বইয়ের চূড়ান্ত পান্ডুলিপি তৈরি হলো। বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞানবক্তা কার্ল সাগানকে দিয়ে বইটির ভূমিকা লেখানো হলো। ১৯৮৮ সালের ১ এপ্রিল আমেরিকায় প্রকাশিত হলো ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম। এর আড়াই মাস পর ১৬ জুন যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত হলো এই বই। বইয়ের প্রচ্ছদে হুইলচেয়ারে বসা হকিং-এর ছবি ব্যবহার করা হলো বাণিজ্যিক স্বার্থে। কোটি টাকা খরচ করা হলো বিজ্ঞাপনে। এর ফল পাওয়া গেল হাতে হাতে। নিউইয়র্ক টাইমসের বেস্ট সেলার লিস্টে এই বই ছিল একটানা ১৪৭ সপ্তাহ (প্রায় তিন বছর), ব্রিটিশ নিউজপেপার সানডে টাইমস এর বেস্ট সেলার লিস্টে এই বই ছিল একটানা পাঁচ বছর (২৪৭ সপ্তাহ)। এ পর্যন্ত এক কোটির চেয়েও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে এই বই। মেধাসত্ত্বের নিয়ম মেনে বিশ্বের চল্লিশটিরও বেশি ভাষায় অনুদিত হয়েছে এই বই। আর মেধাসত্ত্বের তোয়াক্কা না করে যার যা খুশি অনুবাদ হয়েছে আরো অসংখ্য ভাষায় যার হিসেব প্রকাশকের কাছে নেই। 

স্টিফেন হকিং এর ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম এখনো পাঠকপ্রিয়। আবার এটাও সত্য যে – এই বইটি সবচেয়ে বেশি বিক্রিত হলেও, যারা বইটি কিনেছেন সবাই যে প্রথম পৃষ্ঠা থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বইটি পড়েছেন তা নয়। অনুসন্ধানী জরিপ অনুযায়ী এই বইটি যতটা প্রচারিত ততটা পঠিত নয়। এই বইয়ের অধিকাংশ পাঠকই চতুর্থ অধ্যায় পর্যন্ত পড়ার পর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন কিংবা বিষয়বস্তু দুর্বোধ্য বলে আর এগোতে পারেননি। তবুও এই বইয়ের বিক্রি থেমে নেই। কারণ এখন এই বইটা নিজের কাছে রাখাটা অনেকের কাছেই অবশ্যকর্তব্যের মধ্যে পড়ে। 


তথ্যসূত্র

1. Joel Levy, Hawking the man, the genius, and the theory of everything, Andre Deutsch, London, 2018.

2. Stephen W Hawking, A brief history of time from the big bang to black holes, Bantam Books, 1988. 


No comments:

Post a Comment

Latest Post

Memories of My Father - Part 6

  The habit of reading books was instilled in us from a young age, almost unknowingly. There was no specific encouragement or pressure for t...

Popular Posts