Tuesday 4 August 2020

সত্যেন্দ্রনাথ বসু - পর্ব ১৫


সত্যেন্দ্রনাথ বসু: বোসন কণার জনক

পঞ্চদশ অধ্যায়

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা

  

আজ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রায় সব শিক্ষার্থীই বাংলা মাধ্যমে বিজ্ঞান পড়তে পারেন, বুঝতে পারেন এবং পরীক্ষাও দিতে পারেন। মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা এদেশে খুব সহজে ঘটেনি। মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন সত্যেন বসু। বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতে গিয়ে তিনি দেখেছিলেন শুধুমাত্র ভাষার কারণে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান না বুঝেই মুখস্থ করতে শুরু করে। বিজ্ঞান ছাড়া যে কোন জাতি উন্নতি করতে পারে না সে ব্যাপারে কারো মনেই কোন সন্দেহ থাকা উচিত নয়। এটা তখনই সম্ভব হবে যখন মানুষ বিজ্ঞানকে নিজের ভাষায় বুঝতে পারবে। সত্যেন বসু দেখেছিলেন যে আমাদের প্রচলিত বিজ্ঞান শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের সে সুযোগ দিচ্ছে না। তার জন্য যে শিক্ষকসহ সব নীতিনির্ধারকরা দায়ী তা তিনি সরাসরি বলেছেন তাঁর বিভিন্ন লেখায়।  তিনি লিখেছেন:[1]

 

"আমাদের দেশে বিজ্ঞানের যা শেখানো হচ্ছে - এই যেমন ছোট ছেলেমেয়েদের শ্রেণীতে ভারী ভারী বই পড়ানো, তাতে তাদের কতটুকু লাভ হয়? বই-এর ভেতরের কথাগুলোর মানে করতেই তাদের সময় চলে যায় এবং বোধ হয় সেই মানেগুলো শেখা ছাড়া আর বেশি কিছু তারা গ্রহণ করতে পারে না।"

 

"আমি দেখি বিজ্ঞান সম্পর্কে অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়েদের এমন সব বড় বড় কথা বলা হয়, যা শুনলে আমাদেরই প্রাণে আতঙ্ক আসে। সেদিন একটা ছোটদের পাঠ্য বিজ্ঞান বইতে দেখছিলুম - থার্মোমিটার কেমন করে তৈরী করা হয়, সে সম্পর্কে বোঝাতে গিয়ে লেখক ছোটদের কাছে এমন সব কথা বলেছেন যা হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষার বিষয়বস্তু। কিন্তু সাধারণ তথ্যগুলোর সঙ্গে যাতে সোজাসুজি ছাত্রদের পরিচয় হয়, তারই চেষ্টা করা উচিত।"

 

"আসল কথা, বিজ্ঞান কেন আমাদের শিক্ষা দেওয়া হয়? বাস্তব সম্পর্কে আমাদের ধারণাটা খাঁটি হতে হবে। তা বলে এ কথা আমি বলছি না যে আমাদের জীবন থেকে কল্পনাকে একেবারে ছেঁটে ফেলতে হবে। কল্পনা থাকা ভালো। কিন্তু বস্তু এবং সংসার সম্পর্কে যদি উদ্ভট অলৌকিক ধারণা থাকে, তবে পদে পদে আমাদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।"

 

"গাছপালা, জন্তুজানোয়ার সবের মধ্যেই শিক্ষণীয় জিনিস রয়েছে। প্রত্যেকেই আমাদের সত্যস্বরূপে পৌঁছে দিতে চায়। আমাদের মধ্যে যদি শ্রদ্ধার উদ্রেক হয়, অজানাকে জানবার আকাঙ্খা যদি জাগ্রত হয়, তবে আর সব কিছুই সহজ হয়ে আসবে। তখন শিক্ষা দেবার পদ্ধতি নিয়ে আর গোলে পড়তে হবে না।

           সমস্যা হল এই যে, আমাদের ইস্কুলে পন্ডিতদের এ বিষয়ে কোন দৃষ্টি নেই। কোন রকমে কাজ চালিয়ে নাম বজায় রেখে তাঁরা কর্তব্য সমাপন করেন। বেশী বয়সের ছেলেমেয়েরা কেন শিক্ষার প্রতি বিতৃষ্ণা পোষণ করে? তারা নোট মুখস্থ করে, প্রশ্নপত্র চুরি করে কোন রকমে দায়িত্ব মিটিয়ে দিতে চায়। কেন তাদের এ মনোভাব? এর জন্যে দায়ী কে?

            দায়ী আমরা শিক্ষকরা, আমরা তাদের সামনে বস্তুর পাহাড় তুলে ধরেছি আর চেয়েছি সেই পাহাড়ই তারা উদ্‌গিরণ করুক। বস্তুর মর্মে যে সত্য নিহিত আছে, সেই সত্যের দ্বারে তো আমরা ছাত্রদের পৌঁছে দিতে পারিনি। তাই তাদের মনও আমরা পাইনি। ফলে ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ক দাঁড়িয়েছে শ্রমিক ও কারখানার কর্তাদের সম্পর্কের মত। পদে পদেই তাই ছাত্ররা আজ বিদ্রোহ করে।

            ছেলেমেয়েদের আমি বলি নিজে মনটাকে তোমরা তৈরী কর। কারুর বলা কারুর শেখানো কথায় তোমরা নির্ভর করো না, নিজেই জান।

            কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের ছেলেমেয়েরা তা করে না। শিক্ষার বন্দোবস্তই আমাদের সেরকম নয়। আমাদের দেশের বর্তমান শিক্ষা হাসির খোরাক জোগায় মাত্র।"

 

তিনি বাংলাভাষায় বিজ্ঞান পড়ানো শুরু করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর সহকর্মী ড. কাজী মোতাহার হোসেন এ সম্পর্কে লিখেছেন,

 

"১৯৩৬/৩৭ সাল থেকেই তিনি বাংলাভাষায় পদার্থবিদ্যা পড়াতেন। আমিও তাঁর পন্থা অনুসরণ করেছিলাম। এতে কোনও দিন অসুবিধা বোধ করিনি। বাংলাও অবশ্যই শিক্ষার বিষয়, ভেবেচিন্তে যথাযোগ্য পরিভাষা সৃষ্টি করতে হয়। কিন্তু যে শব্দটা বাঙালী জনগণের মধ্যে প্রচলিত হয়ে গেছে, সেটা ত বাংলাভাষার অন্তর্গতই হয়ে গেছে। তার জন্য অনর্থক মাথা ঘামিয়ে হয়রান হওয়ার আবশ্যক নাই। যেমন, - আদালত, স্কুল, কলেজ, ভোট, কন্ট্রাক্টর, বাস, মোটরগাড়ী, পোস্টকার্ড ইত্যাদি। সত্যেনবাবু একবার আমাকে বলেছিলেন, "বাংলায় একখানা পদার্থবিদ্যার ব্যবহারিক বই লেখ, তা দেখে ছাত্ররা পরীক্ষণের উদ্দেশ্য প্রক্রিয়া প্রভৃতি ভাল করে বুঝতে পারবে। এখন ওরা ইংরেজী বই দেখে পরীক্ষণ বুঝতে চায়, কিন্তু সম্পূর্ণ বুঝে উঠতে পারে না বলে ভুল করে।" আমি তেমন একখানা বই লিখেওছিলাম; সত্যেন বাবু তা দেখে খুশী হয়েছিলেন। কিন্তু একবার পূজার ছুটির আগে একটি ছাত্র বইখানা নিয়ে গেল ছুটির শেষে ফেরত দেবে বলে। কিন্তু সে ছেলেটি আর ফিরল না। কী যে হলো বুঝতে পারলাম না"[2]

বাঙালিদের মধ্যে শিক্ষার মাধ্যম বাংলা হবে কি ইংরেজি হবে সেটা নিয়ে তর্ক চলছে একশ বছর আগে থেকে। সেই তর্কের এখনো কোন মীমাংসা হয়নি। এখন বাংলাদেশে যে পরিমাণ ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল এবং দুধের বাচ্চাদেরও যেভাবে ইংরেজিতে কথা বলার জন্য চাপ দেয়া হয় - দেখলে সত্যেন বসুর কী অবস্থা হতো জানি না। ১৯০৫ সালে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশন গঠন করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে একটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে যেখানে শিক্ষার মাধ্যম হবে বাংলা। ১৯০৬ সালের ১৫ আগস্ট একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। শ্রী অরবিন্দ তার অধ্যক্ষ ছিলেন। পরে সেই কলেজটাই বর্তমানের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়। ময়মনসিংহের মহারাজা, রাজা সুবোধ মল্লিক, গৌরিপুরের ব্রজেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরি - এঁদের সবার অর্থসাহায্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিল। এর আগেও ১৮৯১ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রস্তাব করেছিলেন বাংলা মাধ্যমে শিক্ষাদানের। কিন্তু কেউ শোনেনি তাঁর কথা। ১৮৭৬ সালে ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার যখন অ্যাসোসিয়েশান ফর দি কালটিভেশান অব সায়েন্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন - মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানচেতনা বাড়ানো।

          ১৯৩১ সালে তাঁর বন্ধু কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত যখন ত্রৈমাসিক পত্রিকা 'পরিচয়' প্রকাশ করতে শুরু করেন সেখানে প্রথম সংখ্যায় বিজ্ঞান বিষয়ে প্রবন্ধ লিখেছিলেন সত্যেন বসু। এরপর সেখানে তিনি নিয়মিত লিখেছেন। লেখা সংগ্রহ করেছেন রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকেও। মেঘনাদ সাহা রবীন্দ্রনাথকে খোঁচা দিয়েছিলেন বিজ্ঞান বিষয়ে কিছুই লেখেননি বলে। পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'বিশ্বপরিচয়' লিখে তা উৎসর্গ করেছিলেন সত্যেন বসুকে। এর সবই বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার ধারাবাহিক চেষ্টা।

          এই চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বেগবান করার জন্য ১৯৪৮ সালে সত্যেন বসু ও তাঁর সমমনাদের নিয়ে গঠিত হয় বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ। এই পরিষদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রসার ও জনপ্রিয়করণ। সত্যেন বসুর নেতৃত্বে বিজ্ঞান পরিষদের পাঁচটি প্রধান লক্ষ্য স্থির করা হয়: (১) সাধারণ মানুষকে  বিজ্ঞানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া, (২) স্কুল ও কলেজের জন্য বাংলা ভাষায় পাঠ্যবই প্রকাশ করা, (৩) বিজ্ঞানের যেসব দরকারি বই পাওয়া যায় তাদের বাংলা অনুবাদ করা, (৪) জনপ্রিয় সাহিত্য ও শিশুসাহিত্যে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বাড়ানো, (৫) বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের লক্ষ্যে সভা, সেমিনার, বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনী, জনপ্রিয় বিজ্ঞান বক্তৃতার আয়োজন করা।

          সত্যেন বসুর প্রতিষ্ঠা করা বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ থেকে নিয়মিত মাসিক বিজ্ঞানপত্রিকা 'জ্ঞান ও বিজ্ঞান' প্রকাশিত হতে শুরু করে। উদার ধনবান জ্ঞানপিপাসু মানুষের দেয়া চাঁদা ও রাজ্যসরকারের আর্থিক অনুদানে চলেছে বিজ্ঞান পরিষদের কাজ। যখনই সময় পেয়েছেন তিনি বাংলায় বিজ্ঞান রচনা করেছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন তিনি বাংলায় পদার্থবিজ্ঞান পড়াতে চেষ্টা করেছেন অনেকেই তাঁর সমালোচনা করেছেন। তিনি তাঁর সমালোচকদের যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। 

          জাতি হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানে আমাদের উন্নতির এত ধীরগতির কারণ যে মাতৃভাষায় বিজ্ঞান না শেখার ফল তা সত্যেন বসু বিভিন্নভাবে বুঝাতে চেয়েছেন সবাইকে। ১৯৬২ সালের অক্টোবরে হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত 'অ্যাংরেজি হটাও' সম্মেলনের বক্তৃতায় মাতৃভাষায় শিক্ষার সপক্ষে তিনি বলেন,

 

"অন্য দেশে গেলে একটা জিনিস চোখে পড়ে। সব দেশেই চেষ্টা চলছে মাতৃভাষার মাধ্যমে, যে ভাষা সবাই বোঝে তার উপর বুনিয়াদ করে, শিক্ষার ব্যবস্থা করবার। সব জায়গায় এই রীতি চালু রয়েছে। মধ্যযুগে অবশ্য অন্য ভাষা অবলম্বন করে শিক্ষাদীক্ষার ব্যবস্থা ছিল; জ্ঞানী-গুণী লোকরাই তার সুযোগ পেতেন। এর অসুবিধা ছিল এই যে, সাধারণ লোকে বুঝতে পারতো না। তার জন্য অন্য লোকের দরকার হত। তারা যেমন বুঝত সেই রকম সাধারণ লোককে বুঝিয়ে দিত। এইভাবে কিন্তু দেশের মধ্যে জ্ঞানের বিস্তার বড় আস্তে আস্তে হত।"

 

তার কয়েক মাস আগে তিনি জাপানের টোকিও সফরে গিয়েছিলেন 'সায়েন্স অ্যান্ড ফিলোসফি' সেমিনারে বক্তৃতা দিতে। তখন তিনি জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা দেখে এসেছেন খুব ভালো করে। জাপানে মাতৃভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষাদানের বিষয়ে সত্যেন বসু বিস্তারিত লিখেছেন তাঁর বেশ কয়েকটি লেখায়, বলেছেন বিভিন্ন বক্তৃতায়। জাপানে মাতৃভাষায় শিক্ষাদান এবং বিজ্ঞানের গবেষণা চলে বলেই জাপান এত দ্রুত এত উন্নতি করতে পেরেছে। জাপানে চিকিৎসাবিজ্ঞান কিংবা প্রকৌশলবিজ্ঞান সবই পড়ানো হয় জাপানী ভাষায়।

          অনেকেই বলেন বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের পরিভাষা যথেষ্ট পরিমাণে নেই, কিংবা যা আছে তাতে সঠিক ভাবটা প্রকাশ করা যায় না। এখনো এই ২০১৯ সালেও অনেকে এই যুক্তিটা দিয়ে থাকেন, কিংবা অনেকে খুব বিশুদ্ধবাদী হয়ে প্রতিটি টেকনিক্যাল শব্দের বাংলা প্রতিশব্দের দাবি করেন। সেক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য থেকে আমরা দূরে চলে যাই। যেমন অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড শব্দগুলো আমরা যেভাবে আছে সেভাবেই ভালো বুঝি। কিন্তু এখন যদি বাংলায় এগুলোকে অম্লজান, উদ্‌জান, অঙ্গার-দ্বি-অম্লজান ইত্যাদি প্রতিশব্দে রূপান্তরিত করি - বিশুদ্ধ অনুবাদ হয়তো আমরা পাবো, কিন্তু বুঝতে কষ্ট হবে অনেক বেশি।

          এই সমস্যার সমাধান সত্যেন বসু দিয়ে গেছেন সেই ১৯৬৩ সালে। রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন,

 

"অনেক সময় বলা হয় যে, ভারতীয় ভাষাগুলিতে উপযুক্ত পরিভাষার অভাব বাধা সৃষ্টি করতে পারে বিজ্ঞানচর্চার। আমি বিশুদ্ধবাদী নই; তাই ইংরেজী টেকনিক্যাল ও বৈজ্ঞানিক শব্দের ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবকে অভিনন্দন জানাই। আমাদের ছেলেরা যদি ওই শব্দ সহজেই বোঝে তবে ধার-করা শব্দ হিসাবেই তা টিঁকে থাকবে ও সমৃদ্ধ করবে আমদের জাতীয় শব্দভান্ডার। গোড়ায় বিদেশী উৎস হতে উদ্ভূত এমন বহু শব্দ এখন সমস্ত ভারতীয় ভাষাতেই চালু রয়েছে এবং সেগুলি সহজেই বোধগম্য আমাদের সাধারণ মানুষের কাছেও। আশা করি বিজ্ঞানশিক্ষার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বহু শব্দ এমনিভাবে কাজে লাগানো হবে এবং আমাদের দেশবাসীর বৈশিষ্ট্য অনুসারেই তাদের রূপান্তর ঘটবে শেষ পর্যন্ত।

            অনেক সময়েই বৈজ্ঞানিক শব্দের তর্জমা পন্ডশ্রমমাত্র হয়ে দাঁড়াবে- রেলওয়ে, রেস্তোঁরা, কিলোগ্রাম, সেন্টিমিটার, হুইল, লেদ, থার্মোমিটার, বয়লার, কাটার, ইলেকট্রন, অ্যাটম, ব্যাক্‌টেরিয়া্‌ ফাঙ্গাস, ডিফারেন্সিয়াল কোইফিসিয়ান্ট, ইন্টিগ্রেশন, - এ প্রায় সকলেই বোঝেন। পেপার, চেয়ার, টেবিল তো এখন প্রাত্যহিক ব্যবহার্য জিনিস। দৃষ্টান্ত বাড়ানোর দরকার নেই। আশা করি শিক্ষক ছাত্ররা কোন বিষয় আলোচনার সময় এ ব্যাপারে অনায়াসেই একটা বোঝাপড়া করে নেবেন আর শিক্ষকের দায়িত্ব হবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারের কাজে ভাষা প্রয়োগের এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে হালের অবস্থান্তর সম্পর্কে নিজেকে ওয়াকিবহাল রাখা। [3]

 

সত্যেন বসু সেই ১৯৫০-এর দশকে দক্ষ বাঙালি শিক্ষকদের দিয়ে বাংলায় বিজ্ঞানের টেক্সট বই লিখিয়ে নিয়েছিলেন। ১৯৫৯ সালে জাতীয় অধ্যাপক হবার পর তাঁর কাজের অনেক স্বাধীনতা আসে। সেই সময়টাতে তিনি বাংলায় অনেকগুলো প্রবন্ধ লিখেছেন বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে।



[1] 'শিশু ও বিজ্ঞান', রবীন্দ্রভারতী পত্রিকা, বর্ষ ৯, সংখ্যা ৪। রচনা সংকলন, বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, ১৯৯৮।

[2] ড. কাজী মোতাহার হোসেন, বিজ্ঞানাচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বোসকে যেমন দেখেছি, ত্রৈমাসিক লোকসাহিত্য পত্রিকা, ১৯৮৫। সত্যেন্দ্রনাথ বসু স্মারকগ্রন্থে পুনপ্রকাশিত। পৃষ্ঠা ৪৩।

[3] সত্যেন্দ্রনাথ বসু, শিক্ষা ও বিজ্ঞান, কালান্তর, ১১ মে, ১৯৬৩। রচনা  সংকলন, বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, ১৯৯৮। পৃষ্ঠা ১১১।

No comments:

Post a Comment

Latest Post

ডাইনোসরের কাহিনি

  বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণি কী? এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা বলবো নীল তিমি – যারা দৈর্ঘ্যে প্রায় তিরিশ মিটার, আর ওজনে প্রায় ১৯০ টন পর্যন্ত...

Popular Posts