Thursday, 25 December 2025

FLASH Radiotherapy: A New Possibility in Cancer Treatment

 



Cancer is the disease before which humanity feels the most helpless. Every year, the number of cancer patients continues to rise at an alarming rate. It is estimated that one in every five people worldwide will develop cancer at some point in their lifetime.

All countries maintain detailed statistics on cancer patients. Yet, in many parts of the world, a large number of people die from cancer before the disease is even diagnosed. These deaths are not included in

Radioactive Superheroes: Science, Myth, and Misconception

 



We are all familiar with Dr. Robert Bruce Banner, a nuclear physicist. But we are even more familiar with his second persona, the Hulk—who, when enraged, transforms from a human into an immensely powerful “monster” and smashes everything in sight. Both characters are fictional, created from a small dose of science mixed with a large measure of imagination.

Many more such superheroes and supervillains have been created in comic books, short stories, novels,

Macroscopic Quantum Tunnelling: The Science Behind the 2025 Nobel Prize in Physics

 


Even though physicists do not believe in ghosts, they have no way of denying the strange, almost ghost-like behaviour of quantum mechanics. To mark the centenary of quantum mechanics—especially of its working equations—this year (2025) is being celebrated worldwide as the Quantum Year: Year of Quantum Science and Technology.

Quantum science occupies the deepest layer of all theories of science and technology in the modern

Saturday, 6 December 2025

কোয়ান্টাম-সুড়ঙ্গে অতিপরিবাহিতা

 


পদার্থবিজ্ঞানীরা ভূতে বিশ্বাস না করলেও কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অদ্ভুত ভূতুড়ে কাজকর্মকে অস্বীকার করার কোনো উপায় তাঁদের নেই। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের, বিশেষ করে তার কার্যকরী সমীকরণের একশ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবছর (২০২৫) বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে কোয়ান্টাম বর্ষ – ইয়ার অব কোয়ান্টাম সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। আধুনিক জগতের সমস্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির তত্ত্বগুলির গভীরতর স্তর দখল করে আছে কোয়ান্টাম বিজ্ঞান। মৌলিকতম কণা কোয়ার্ক থেকে শুরু করে বিশাল

Thursday, 27 November 2025

Terry Wogan's "The Little Book of Common Sense"

 

What we call common sense in English is not very common at all. If common sense could be learned by reading books, then those who have read many books and passed many exams wouldn’t be so lacking in it. Many years ago, I used to work at an educational institution. One of my colleagues would sit in the teachers’ common room—right in front of everyone—pluck his nose hairs and then blow them away into the air. The “common sense” of the common room!! Had he not read enough books?

Carl Sagan: the great hero of space

 


By presenting science in language easily understandable to ordinary people, Carl Sagan played a leading role in making science popular — he was one of the brightest among such scientists. Time magazine described him as America’s most successful science communicator. Among world-renowned scientists, only a handful have, alongside complex and rigorous scientific research, also written about science in simple language for the public. Carl Sagan was one of those few — in addition to publishing

Monday, 24 November 2025

Tsung-Dao (T.D.) Lee

 


The Nobel Prize in Physics 1957 was awarded jointly to Chen Ning Yang and Tsung-Dao (T.D.) Lee "for their penetrating investigation of the so-called parity laws which has led to important discoveries regarding the elementary particles."

Simon van der Meer

 


The Nobel Prize in Physics 1984 was awarded jointly to Carlo Rubbia and Simon van der Meer "for their decisive contributions to the large project, which led to the discovery of the field particles W and Z, communicators of weak interaction."

Simon van der Meer 
Born: 24 November 1925, the Hague, the Netherlands

Monday, 17 November 2025

Enigmatic quantum theory

 


‘There is actually no such thing as a quantum world. The quantum state exists only inside my head, something I use to do calculations. Quantum states at most describe certain information — they do not correspond very well to the real world.’

Hearing these words, one might think a frustrated university student—annoyed by the incomprehensibility of quantum mechanics—is venting irritation. But to our astonishment, these

প্রহেলিকাময় কোয়ান্টাম তত্ত্ব

 


“কোয়ান্টাম জগত বলে আসলে কিছুই নেই। কোয়ান্টাম দশার অস্তিত্ব আছে শুধু আমার মাথার ভেতর যা দিয়ে আমি অঙ্ক করি। কোয়ান্টাম অবস্থা বড়জোর কিছু তথ্যের বর্ণনা দেয় – বাস্তব জগতের সাথে তাদের খুব একটা মিল নেই।“ – কথাগুলি শুনে মনে হতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কোন শিক্ষার্থী কোয়ান্টাম মেকানিক্সের দুর্বোধ্যতায় বিরক্ত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। কিন্তু আমাদের অবাক করে দিয়ে অতি সম্প্রতি কোয়ান্টাম মেকানিক্স সম্পর্কে এই কথাগুলি বলেছেন ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ান্টাম

Tuesday, 11 November 2025

মহাকাশের মহানায়ক কার্ল স্যাগান

 



সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করে তোলার পেছনে যেসব বিজ্ঞানী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন কার্ল স্যাগান ছিলেন তাঁদের মধ্যে উজ্জ্বলতম। টাইম ম্যাগাজিন কার্ল স্যাগানকে অভিহিত করেছেন আমেরিকার সবচেয়ে সফল বিজ্ঞান-উপস্থাপক হিসেবে। পৃথিবীবিখ্যাত বিজ্ঞানীদের মধ্যে হাতেগোণা কয়েকজন মাত্র বিজ্ঞানী কঠিন জটিল বিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্যও সহজ ভাষায় বিজ্ঞানের কথা লিখেছেন। কার্ল স্যাগান ছিলেন এই

Sunday, 9 November 2025

James Watson – an extraordinary scientist, but an intolerable racist and misogynist man

 


The “Eagle” pub on the Cambridge campus has become as famous as Cambridge University itself, having witnessed hundreds of discoveries, innovations, and achievements. A plaque on the pub’s wall commemorates one such historic moment. Seventy-two years ago, on February 28, 1953, during lunchtime, Francis Crick and James Watson walked into the crowded pub and announced that they had discovered the “structure of DNA,” the secret of life.

Saturday, 8 November 2025

জেমস ওয়াটসন – অসাধারণ বিজ্ঞানী, কিন্তু অসহ্য বর্ণবাদী নারীবিদ্বেষী পুরুষ

 



শত শত আবিষ্কার উদ্ভাবন কৃতিত্বের সাক্ষী হতে হতে ক্যাম্পাসের “ঈগল” পাবটিও কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির মতোই বিখ্যাত হয়ে গেছে। পাবের দেয়ালে লাগানো ফলকটি এমনই একটি ঘটনার সাক্ষ্য দিচ্ছে। ৭২ বছর আগে ১৯৫৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি লাঞ্চটাইমে ভরাপাবে ঢুকে ফ্রানসিস ক্রিক ও জেমস ওয়াটসন ঘোষণা করেছিলেন যে তাঁরা জীবনের রহস্য “ডি এন এ”-র গঠন আবিষ্কার করেছেন। ঈগল পাবের দেয়ালে লাগানো এই ফলকটির ছবি তুলতে গিয়ে আমার বেশ ভালো লেগেছে এটুকু দেখে

Friday, 7 November 2025

টেরি ওয়াগ্যান এর ‘দ্য লিটল বুক অব কমন সেন্স’

 



ইংরেজিতে যেটাকে আমরা কমন সেন্স বলি সেটা আসলে খুব একটা কমন নয়। বই পড়ে যদি কমন সেন্স শেখা যেতো – তাহলে অনেক অনেক বই পড়ে বড় বড় পাস দেয়া মানুষের ভেতরও ওই বস্তুটার এত অভাব দেখা যেতো না। অনেক বছর আগে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতাম। সেখানে আমার এক সহকর্মী শিক্ষকদের কমন রুমে সবার সামনে বসে নাকের লোম ছিঁড়তেন এবং ছিন্নলোম ফুঁ দিয়ে উড়াতেন। কমন রুমের কমন সেন্স!! তিনি কি বই কম পড়েছেন?

Wednesday, 5 November 2025

Henry Cavendish: A Strange Man, an Extraordinary Scientist

 



The ladder of science and technology on which humanity has climbed so high was built upon the foundations laid in great research laboratories. If one were to list the most important of these, the first name would have to be the Cavendish Laboratory at the University of Cambridge. Research conducted in this single laboratory has, to date, earned thirty-one Nobel Prizes.

The Cavendish Laboratory was established in 1874, when Sir William Cavendish, the 7th Duke of

Thursday, 30 October 2025

হেনরি ক্যাভেন্ডিস: অদ্ভুত মানুষ, অসাধারণ বিজ্ঞানী


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির যে সিঁড়ি ধরে পৃথিবীর মানুষ এত উপরে উঠে এসেছে সেই সিঁড়ির ভিত্তি তৈরি হয়েছে যেসব গবেষণাগারে, সেসব গবেষণাগারের নাম লিখতে হলে প্রথমেই লিখতে হবে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাভেন্ডিস ল্যাবের নাম। এই একটি মাত্র গবেষণাগার থেকে উদ্ভূত গবেষণা এপর্যন্ত অর্জন করেছে একত্রিশটি নোবেল পুরষ্কার। এই গবেষণাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৮৭৪ সালে। সেই সময় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ছিলেন ডেভনশায়ারের সপ্তম ডিউক স্যার উইলিয়াম ক্যাভেন্ডিস।

Saturday, 18 October 2025

অভিনন্দন বিজ্ঞানচিন্তা

 



যেকোনো দেশেই বিজ্ঞানীদের চিন্তার জগত স্বাভাবিক সামাজিক মানুষের চিন্তার জগত থেকে কিছুটা ভিন্ন। তাঁদের চিন্তাভাবনা জুড়ে থাকে আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের নেশা, নতুন জ্ঞান অর্জনের প্রতি প্রবল আগ্রহ। অনেক সময়েই দেখা যায় তাঁদের আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের ফলাফল যেসব জার্নালে প্রকাশিত হয়, এবং যে বৈজ্ঞানিক ভাষায় সেসব লেখা হয় – তা থাকে সাধারণ পাঠকের বোধগম্যতার বাইরে। ফলে এসব আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব অনেকসময়ই অজ্ঞাত থেকে যায়। বৈজ্ঞানিক ভাষাকে সাধারণ

Sunday, 28 September 2025

তেজস্ক্রিয় সুপারহিরো: কল্পনা ও বিজ্ঞান

 




নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানী ডক্টর রবার্ট ব্রুস ব্যানারকে আমরা অনেকেই চিনি। তাঁর চেয়েও বেশি চিনি তাঁর দ্বিতীয় সত্ত্বা হাল্ক-কে যিনি রেগে গেলে মানুষ থেকে প্রচন্ড শক্তিশালী ‘দৈত্য’ হয়ে ওঠেন এবং সবকিছু ভেঙে তছনছ করে ফেলেন। দুটো চরিত্রই কাল্পনিক; একটুখানি বিজ্ঞানের সাথে অনেকখানি কল্পনার মিশেলে তৈরি। এরকম আরো অনেক সুপারহিরো-সুপারভিলেনের চরিত্র সৃষ্টি হয়েছে কমিক বইতে, গল্পে, উপন্যাসে, সিনেমায় টেলিভিশনে।

Tuesday, 9 September 2025

ফ্ল্যাশ রেডিওথেরাপি: ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

 



যে রোগের কাছে পৃথিবীর মানুষ সবচেয়ে বেশি অসহায় – তার নাম ক্যান্সার। প্রতি বছর ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা আশংকাজনক হারে বেড়েই চলেছে। ধারণা করা হচ্ছে পৃথিবীর প্রতি পাঁচজন মানুষের মধ্যে একজন মানুষ তাঁর জীবদ্দশায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হবেন।

পৃথিবীর সব দেশে ক্যান্সার রোগীর বিস্তারিত পরিসংখ্যান রাখার ব্যবস্থা আছে। তবুও অনেক দেশে অনেক মানুষ ক্যান্সার রোগে মারা যায় – রোগ শনাক্ত হবার আগেই। তাদের সংখ্যা পরিসংখ্যানে

Wednesday, 20 August 2025

মুহম্মদ নিজাম-এর 'বেগানা পুষ্প'

 




বেগানা পুষ্প পড়তে শুরু করার আগেই চোখে পড়ে “সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ” – যেখানে লেখা আছে “অতীব ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল, মারাত্মকভাবে ১৮+, অনুগ্রহপূর্বক প্রাপ্ত বয়স্ক না-পাঠক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সুপাঠকের স্পর্শ থেকে এই গ্রন্থটি দূরে সরিয়ে রাখুন। অজাগর মন ও মগজের কুপ্রভাব থেকে বেগানা উপাখ্যানের স্বাস্থ্য রক্ষায় যত্নবান হোন। আদেশক্রমে, কর্তৃপক্ষ।“

ব্যাপারটি যে ভীষণ নতুন - তা নয়। শতাব্দী আগে আঠারো পেরিয়েছি। আমার নিজস্ব আঠারোর আগেই

Wednesday, 13 August 2025

ফ্রেডেরিক স্যাঙ্গার – রসায়নের মহানায়ক

 



পৃথিবীতে বর্তমানে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫৯ কোটি। তাঁদের মধ্যে পনেরো কোটির বেশি মানুষকে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রতিদিন ইনসুলিন নিতে হয়। এই ইনসুলিন নেয়া মানুষগুলির মধ্যে কতজন এই ছবির মানুষটিকে চিনেন আমি জানি না। এই মানুষটির নাম ফ্রেডেরিক স্যাঙ্গার। ইনসুলিনে অ্যামিনো অ্যাসিডের নিখুঁত সিকোয়েন্সিং আবিষ্কার করেছিলেন তিনি। তারই ফলশ্রুতিতে গবেষণাগারে ইনসুলিন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে যা বর্তমানে রোগীরা ব্যবহার করছে। তার

Monday, 4 August 2025

মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি: আমাদের মহাজাগতিক ঠিকানা

 



যে পৃথিবীতে আমাদের বসবাস সে পৃথিবীতে আমাদের প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো ঠিকানা আছে। আধুনিক স্যাটেলাইটের কল্যাণে জিপিএস আমাদের অবস্থান (লোকেশান) মুহূর্তেই খুঁজে দেয়। কিন্তু পৃথিবীর বাইরে এই মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান ঠিক কোথায়?

প্ল্যানেট আর্থ – পৃথিবী নামের এই গ্রহটি আমাদের কাছে যতই অনন্য হোক না কেন – মহাবিশ্বে গ্রহের আনুমানিক সংখ্যা এক হাজার কোটি কোটি কোটি (১০২৪)। এদের প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব নক্ষত্রের

Thursday, 17 July 2025

যদি বিজ্ঞানী হতে চাও


[এই লেখায় আমি বাংলাদেশের কিশোর ও তরুণ বিজ্ঞানপ্রেমীদের সাথে বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণার ব্যাপারে কিছু কথা বলতে চাই। এই কথাগুলি হয়তো তাদের ভবিষ্যতের বিজ্ঞানচর্চায় কাজে লাগবে। যে পাঠকদের উদ্দেশ্যে আমি এই কথাগুলি বলছি তারা বয়সে আমার কনিষ্ঠ, তাই তাদের তুমি করে সম্বোধন করছি।]

তুমি যখন এই লেখাটি পড়ছো, আমি ধরে নিচ্ছি তুমি বিজ্ঞান ভালোবাসো, বিজ্ঞান নিয়ে চিন্তা করো।

Sunday, 22 June 2025

মুহম্মদ নিজাম-এর “ঝড় ও জনৈক চিন্তাবিদ”

 



মুহম্মদ নিজাম-এর চিন্তা-চেতনার সাথে আমার প্রথম পরিচয়, বলা যায় ঝটিকা পরিচয়, ঘটে ফেসবুকে তাঁর হ্রস্ব অথচ টাইফুনের শক্তিসম্পন্ন পোস্ট দেখে। ইতোমধ্যে অনেকগুলি গল্প, উপন্যাস লিখে সাড়া ফেলে দিয়েছেন এই তরুণ লেখক। তাঁর বইগুলি পড়ার জন্য এক ধরনের অস্থির তাগিদ অনুভব করছিলাম অনেকদিন থেকে।

 প্রবাসের পাঠকদের এখন আর আগের মতো খরায় কাটাতে হয় না। অনলাইনে এখন হাজার হাজার বই

Tuesday, 10 June 2025

চার প্রজন্মের বেকেরেল: প্রতিপ্রভা ও তেজস্ক্রিয়তা

 


 ১৮৯৫ সালের নভেম্বর থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক বছরে পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে অনেকগুলি যুগান্তকারী মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলহেল্‌ম রন্টজেন যখন এক্স-রে আবিষ্কার করলেন – তার সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে চারদিকে হৈচৈ পড়ে গেলেও তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানীরা বিপদে পড়ে গেলেন। কারণ তাঁরা তখনো জানেন না পদার্থবিজ্ঞানের কোন্‌ তত্ত্বের সাহায্যে এক্স-রে উৎপন্ন হবার কারণ ব্যাখ্যা করা যাবে।

Monday, 12 May 2025

কোয়ান্টাম মেকানিক্সের একশ বছর

 



কোয়ান্টাম মেকানিক্স যে পদার্থবিজ্ঞানের সবচেয়ে দুর্বোধ্য বিষয় সে ব্যাপারে কারোরই কোন সন্দেহ নেই। এই বিষয়টি যে শুধুমাত্র পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষার্থীদেরই আতঙ্ক তা নয়, কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান যাঁরা আবিষ্কার করেছেন সেসব নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানীদের কাছেও কোয়ান্টাম মেকানিক্স – এই একশ বছর পরেও – দুর্বোধ্য রয়ে গেছে। কোয়ান্টাম ইলেকট্রোডায়নামিক্সের অন্যতম স্থপতি সবচেয়ে স্মার্ট পদার্থবিজ্ঞানীদের একজন রিচার্ড ফাইনম্যান সরাসরি মন্তব্য করেছেন, “আমার মনে হয় আমি

Sunday, 6 April 2025

নিউক্লিয়ার ঘড়ি

 




মানব সভ্যতা বিকাশের শুরু থেকেই সময় সম্পর্কে মানুষ সচেতন হতে শুরু করেছে। সময়ের সাথে সাথে মানুষ যতই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক হচ্ছে ততই সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতরভাবে সময় মাপার কলাকৌশল উদ্ভাবিত হচ্ছে। প্রাচীনকালে প্রাকৃতিক ঘটনাগুলি পর্যবেক্ষণ করেই চলতো সময় মাপার কাজ – যেমন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এক দিন, সূর্যাস্ত থেকে পরবর্তী সূর্যোদয় পর্যন্ত এক রাত। চাঁদ পর্যবেক্ষণ করে মাসের হিসেব, ঋতু পরিবর্তন দেখে বছরের হিসেব। তারপর দিনের সময়কে

Monday, 31 March 2025

বাবা - ৭

 


আমি তখন ক্লাস থ্রি। এসএসসি পাস করার পর দিদি কলেজে পড়ার জন্য শহরে চলে গেল। আমার আনন্দ এবং বিপদ একসাথে হাজির হলো। সে বাড়ি থেকে চলে যাওয়া মানে আমার মুক্তির আনন্দ। সারাক্ষণ তার খবরদারি থেকে মুক্তি।  ইচ্ছেমতো পুকুরে দাপাদাপি করার স্বাধীনতা, স্কুল ছুটির পর সোজা বাড়িতে না এসে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্কুলের মাঠে ফুটবল খেলে ধুলোকাদায় মাখামাখি হবার স্বাধীনতা। প্রতিবেশীদের নালিশ শুনে যার দোষই হোক, আমার পিঠেই দমাদম কিল মারতো সে। সেইসব

Monday, 24 March 2025

মহিউদ্দিন মোহাম্মদের ‘টয়োটা করোলা’




 ___________________________

টয়োটা করোলা ।। মহিউদ্দিন মোহাম্মদ ।। জ্ঞানকোষ প্রকাশনী ।। প্রকাশকাল জানুয়ারি ২০২৩ ।। প্রচ্ছদ - সব্যসাচী মিস্ত্রী ।। মূল্য ২৮০ টাকা ।। ১০৪ পৃষ্ঠা।।
____________________________


মহিউদ্দিন মোহাম্মদের মুক্তগদ্যের প্রথম সংকলন ‘আধুনিক গরু-রচনা সমগ্র’ পড়ার সময় তাঁর শক্তিশালী গদ্যে মুগ্ধ হয়েছি। তাই জ্ঞানকোষ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তাঁর দ্বিতীয় বই ‘টয়োটা করোলা’র প্রতি প্রত্যাশা ছিল আরো বেশি। তেরোটি নাতিদীর্ঘ গল্পের সংকলন ‘টয়োটা করোলা’। আমি

Thursday, 20 March 2025

মহিউদ্দিন মোহাম্মদের 'আধুনিক গরু-রচনা সমগ্র'

 




বেশ কয়েকদিন ধরে একটানা পড়ে শেষ করলাম মহিউদ্দিন মোহাম্মদের পাঁচটি বই। কোনো একজন লেখকের প্রকাশিত ছয়টি বইয়ের মধ্যে পাঁচটি পড়ে ফেলা – কম কথা নয় আমার জন্য। বিশেষ করে যেখানে দীর্ঘদিন বাংলা পরিমন্ডলের বাইরে থাকলে – বাৎসরিক বইমেলা থেকে দূরে থাকতে হলে – বই তো দূরের কথা, বইয়ের খবরও যথাসময়ে এসে পৌঁছায় না। 

হিশেব করে দেখা যাচ্ছে এই লেখকের প্রথম বই প্রকাশিত হয়েছে ২০২২ সালে। কম সময়ের মধ্যেই

Friday, 14 March 2025

জামাল নজরুল ইসলাম: মহাবিশ্বের নিয়তির সন্ধানে

 




বিজ্ঞানজগতে বাংলাদেশের গর্ব বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম। তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞান ও কসমোলজিতে তাঁর যুগান্তকারী অবদান রয়েছে। তাঁর মৌলিক গবেষণাগুলিকে প্রধানত পাঁচটি ধাপে ভাগ করা যায়: কণা পদার্থবিজ্ঞানের ম্যান্ডেলস্ট্যাম রিপ্রেজেন্টেশানের গাণিতিক বিশ্লেষণ, জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটির আইনস্টাইন-ম্যাক্সওয়েল সমীকরণের সঠিক সমাধান, মহাজাগতিক ধুলোকণার ক্ষেত্র সমীকরণের সমাধান, মহাবিশ্বের চূড়ান্ত পরিণতি, এবং গাণিতিক অর্থনীতি।

Saturday, 8 March 2025

বিশ্ব নারী দিবস ২০২৫

 




এবছরও ধুমধাম করে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ২০২৫ সালের নারী দিবসের মূল স্লোগান – For All women and girls: Rights, Equality and Empowerment. সকল নারীর জন্য অধিকার, সমতা এবং ক্ষমতায়ন।

যতই পারস্পরিক নির্ভরশীলতা থাকুক না কেন,  নারীর সম্মান এবং নারীর অধিকার দুটো ভিন্ন বিষয়। পৃথিবীর প্রায় সব সংস্কৃতিতেই নারীদের সম্মান দেয়া একটি লোকদেখানো ব্যাপার। উন্নয়নশীল অনেক

Saturday, 1 March 2025

রিফাৎ আরার 'মেলবোর্নে দেশ বিদেশ' - পর্ব ৩৮-৪৪

 



৩৮

 

রনিকে বললাম, রনিবাবা, বোটানিক্যাল গার্ডেনটা আরেকবার ঘুরে দেখতে চাই

          শনিবারের ছুটির দিনে রনি আমাদের নিয়ে গেল বোটানিক্যাল গার্ডেনে। অন্য যে দিন এসেছিলাম সেদিন স্রাইন অব রিমেম্বারেন্স দেখে গার্ডেনে ঢুকতেই বেলা পড়ে এসেছিল। আজ সকাল সকাল আসাতে রৌদ্রস্নাত উজ্জ্বল বাগানে ঢুকেই মন ভাল হয়ে গেল।

          এখানে ঘাস যেন মখমল পাতা। ইচ্ছে করলেই যে কোন জায়গায় শুয়ে পড়া যায়। অনেককেই দেখলাম রৌদ্রস্নান করছে। এক তন্বী তরুণী উর্ধাঙ্গে অন্তর্বাস পরেই উপুড় হয়ে গভীর মনযোগে লেখাপড়া করছে। অনভ্যস্ত চোখ আমার সুন্দরী মেয়েটির দিকে বার বার যায়, আর ভাবি

রিফাৎ আরার 'মেলবোর্নে দেশ বিদেশ' - পর্ব ৩০-৩৭

 


৩০

 

আমাকে কেউ যদি প্রশ্ন করে তুমি কোন্‌ শহরের কোন্‌ দর্শনীয় স্থানটা সবার আগে দেখতে চাও? আমি বলব বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং একবার নয় অসংখ্যবার। কিন্তু দুঃখ হল চিড়িয়াখানার মত আমাদের বাংলাদেশের বোটানিক্যাল গার্ডেনও অযত্নে অবহেলায় এখন একরকম পরিত্যক্ত। গণমাধ্যমে মাঝে মাঝে সংবাদ আসে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই ইত্যাদির অকুস্থল হিসেবে। তাই একসময়ে অনেক বড় এলাকা নিয়ে ঢাকা চিড়িয়াখানার পাশে পরিকল্পিত বিশাল বোটানিক্যাল গার্ডেন নব্বইয়ের দশকেও দ্রষ্টব্য ছিল। এখন আর সেই পরিবেশ নেই। জনজীবনের নিরাপত্তার অভাবে নির্জনতার সুখ উপভোগের সুযোগ হারিয়ে গেছে। প্রচুর টাকাকড়ি থাকলে এখন আছে সাজানো ফুলদানির মত রিসোর্ট। আর

রিফাৎ আরার 'মেলবোর্নে দেশ বিদেশ' - পর্ব ২১-২৯

 



২১

 

আজ আমরা যাবো মেলবোর্ন স্টেট লাইব্রেরি, আর-এম-আই-টির সিটি ক্যাম্পাস, মেলবোর্ন সেন্ট্রাল যেটি একটি শপিং মল আর আন্ডারগ্রাউন্ডে ট্রেন স্টেশন।

          গাড়ি পার্কিং লটে রেখে আমরা প্রথমেই গেলাম স্টেট লাইব্রেরিতে। স্থাপত্যের দিক থেকে নান্দনিক এ ভবনটির উপরে বিশাল ডোম। এই ডোম এমনভাবে তৈরি যে দিনের বেলা ভিতরে আলোর দরকার হয় না। তবে প্রত্যেক পড়ুয়ার টেবিলে ছোট টেবিল ল্যাম্প আছে, যতক্ষণ সে পড়ছে ততক্ষণ জ্বলছে। যাবার সময় নিবিয়ে যাবে। এখানে কেউ আইন অমান্য করে না।

          নিরবতা লাইব্রেরি বা পাঠকক্ষের সবচেয়ে বড় শর্ত। এখানে সেটাই একশ শতাংশ কার্যকর। বিশাল উঁচু ভবনের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত থরে থরে সাজানো বই। বৃত্তাকার লাইব্রেরির এক জায়গায় দাঁড়ালে মোটামুটি পুরোটাই চোখে পড়ে। তরুণ-তরুণীরা নিজ দায়িত্বে পাঠে মগ্ন। কেউ তাদের জোর করে পাঠায়নি অথবা পড়ার নামে ক্লোজ-আপের বিজ্ঞাপনের মত কাটাকুটি খেলছে না।

          শিক্ষা এখানে বাণিজ্য হলেও তার মানদন্ড রক্ষায় এতটুকু নড়চড় নেইটাকা দিয়ে পড়ছ পড়ো, কিন্তু পাশ তোমাকেই করতে হবে। অথচ আমাদের দেশে গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে প্রতিষ্ঠিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ওপর থেকেই নির্দেশ থাকে পড়া-লেখা পরীক্ষা এসব কোন বিষয় নয় শিক্ষার্থী টাকা দিচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় চলছে। সুতরাং তাকে পাশ করাতে হবে। বুয়েট থেকে পাস করার পর আমার মেয়েও কিছুদিন এরকম দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছিল এবং সেখানে কর্তৃপক্ষের লিখিত না হলেও মৌখিক নির্দেশও এমন ছিল।

          অথচ এখানে টাকা দিয়ে পড়লেও শিক্ষার মানদন্ড যথেষ্ট উঁচু এবং শিক্ষার্থী সত্যিকার অর্থেই শিক্ষাগ্রহণ করতে আসে। তাইতো স্টেট লাইব্রেরিতে যেমন দেখলাম নিবিষ্ট মনে প্রত্যেকেই লেখাপড়ায় মগ্ন, তেমনি আর-এম-আই-টির লাইব্রেরিতেও। এখানে পড়তে বসে এরা চোখে চোখে লুকোচুরি খেলে না, কিংবা অন্যের বিঘ্ন ঘটিয়ে চড়াস্বরে আলাপচারিতা করে না। এটা তারা করে লাইব্রেরির বাইরে শহরের পার্কে, বিনোদনের জায়গায়। যেখানে স্বাধীনভাবে তারা পরস্পরকে আলিঙ্গন করে হাঁটে, নিবিড় চুম্বনে ডুবে যায় তখন কাউকেই তারা পরোয়া করে না।

          তবে দেশে থাকতেও প্রদীপের কাছে জেনেছিলাম আর এখানে এসেও জানলাম সত্যিকারের অজিরা সাম্প্রতিককালে লেখাপড়ার প্রতি উদাসীন। ধনী দেশের সন্তান, সরকার ভাতা দেয়, আর শ্রমের বিভাজন নেই বলে প্রয়োজনে যে কোন কাজ (রাস্তায় সুরকি ঢালা থেকে সবরকম শারীরিক পরিশ্রমের কাজ) তারা করে আবার সে টাকা মদে আর বান্ধবীর পিছনে উড়িয়ে দেয়। বান্ধবী শব্দটি কি সর্বাংশে শুদ্ধ? কারণ এখানেতো বন্ধু-বন্ধু আর বান্ধবী-বান্ধবীতে বিবাহ-বহির্ভূত দাম্পত্যেও কোন সমস্যা নেই। আর ছুটির দিনে পার্কে, গাছের ছায়ায় অথবা বিশাল দালানের ছায়ায় তারা মনের সুখে পরস্পর সঙ্গসুধা পান করছে, আবার কাল সকালেই হয়তো তুচ্ছ বিষয়ে সম্পর্ক ভেঙে যাবে।

          স্টেট লাইব্রেরি ঘুরে আমরা গেলাম ডকল্যান্ড ইয়ার্ডে। ইয়ার্ডের জলসীমার দুপাড় ঘিরে উঁচু ভবন। একপাশে ইত্তেহাদ স্টেডিয়াম দেখে মনে হয় আকাশ ছুঁয়েছে। প্রদীপ দেখাল অপর পারে রনির অফিসভবন এরিকসন। জ্বলে ভাসছে সাদা জলপায়রা শঙ্খচিলের মত জলযান।

          আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি সেখানে একপাশে কিছু দোকান, তার মাঝে দু-একটা চায়নিজদের। ক্রেতা আকর্ষণ করার মত আকর্ষণীয় কিছু পণ্য এসব দোকানেই আছে। অন্য দু-একটা যা আছে সেগুলো একেবারেই ম্যান্দা। ইয়ার্ডের ওয়াকওয়ে দিয়ে অনেকদূর পর্যন্ত হাঁটা যায়। মুক্তবায়ু, স্বচ্ছ জল, নীল আকাশ আজ একটু মেঘলা তবু কি মোহনীয়!

          ডকইয়ার্ড প্রাঙ্গনে দুটো নারী স্ট্যাচু আছে। এদের একজনকে দেখিয়ে প্রদীপ আমাকে জিজ্ঞেস করল, বলো তো, এই মেয়েটি দেখতে কেমন? সে কিন্তু একজন অভিনেত্রী। আমি খুঁচিয়ে দেখে বললাম, তেমন আহামরি মনে হচ্ছে না

          হুঁ হুঁ কেমন বোকা বনলে। এই ব্যক্তি পুরুষ, কিন্তু নারী সেজে সারাজীবন এত নিখুঁত অভিনয় করেছেন যে অনেকে বুঝতেই পারে না। তাঁর নাম এডনা। অস্ট্রেলিয়ানরা এই মানুষটিকে খুব ভালবাসে। তাই এর মূর্তি বানিয়ে রেখেছে।

          বেশ খানিকক্ষণ ঘোরাঘুরির পর যথারীতি খিদে চাগিয়ে উঠল। তাই নান্দুসমেলবোর্নের নান্দুস আমাকে জাদু করেছে। সুদূর পর্তুগাল থেকে আসা এই খাবারটি অজিদেরও রসনা জয় করেছে। না হলে সর্বত্র এর এত কদর কেন?

          বিকেল পাঁচটার পর শহর আস্তে আস্তে নির্জন হতে শুরু করে সব পাখি ঘরে ফেরে, সব নদী ... । আমরাও ফিরলাম। দূষণমুক্ত, সহজগম্য মনোরম এ শহরে সারাদিন ঘুরেও ক্লান্তি আসে না। আর আমাদের ঢাকা শহরে? যার ললাটে জুটেছে কখনো এক কখনো দুনম্বর দূষিত শহরের তকমা। সেখানে পথেই নষ্ট হয় জীবনের কর্মঘণ্টা, যানজটে অ্যামবুলেন্সে আটকা পড়ে মৃত্যু ঘটে বহু অমূল্য জীবনের। 

 

*****

২২

 

দেশের খবর না শুনলে ভাল লাগে না। যত কিছুই করি মন পড়ে থাকে জননী জন্মভূমির সংবাদের জন্য। বাংলাদেশি খবরের চ্যানেলে জানা গেল সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে গত একমাসে চারবার আগুন লেগেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুন্দরবন ঢাল হয়ে আমাদের রক্ষা করে আর এই অরণ্যমাতা আমাদের অবহেলায় দিন দিন তার ঐতিহ্য আর প্রাণ হারাচ্ছে। বিশ্বঐতিহ্যের গৌরবময় অংশ হয়েও দিনে দিনে বিরান হতে চলেছে।

          প্রদীপকে বললাম, দেশে এসব শুনে শুনে এত অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে, এ্রর মাঝেই খাই দাই দুঃখ করি আবার ভুলেও যাই। আর দূরে আছি বলে যে কোন কিছুই মস্তিষ্কের কোটরে অনুরণন ঘটায়। নইলে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে হানাহানি, তনু হত্যা, ছাত্রনেতা নাজিম হত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা, রেলগাড়ির লাইনচ্যুতি সবই এত মনোযোগ কাড়ে, এত আগ্রহ নিয়ে দেখি যেন শুধু আমি মেলবোর্নে আসার পরই এসব ঘটছে। শিশুহত্যা, নারী নির্যাতন যা আমাদের জীবনের নৈমিত্তিক ঘটনা বলা যায় তাও আমাকে ভাবায়! আর এখানে মেলবোর্ন শহরে এসেছি দুমাসের মত হতে চলল, শুনিনি রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটেছে, কোন নারী নির্যাতিত হয়েছে অথবা হিংস্রতায় কোন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হায় ঈর্ষা, তুমি আমাকে এত জ্বালিয়ে মারছ কেন? আমি অতিসাধারণ গৃহজীবী, অতিসাধারণ প্রাণী, দেশে থাকতে এসব নিয়ে কখনও ভাবিনি।

          আর আমাদের ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলোও বলিহারি দেশে যেন ভাল কিছু ঘটছে না। শুধু নেতিবাচক খবর আতাল-পাতাল খুঁড়ে বের করে আনে। কার আগে কে কত বেশি দুঃসংবাদ পরিবেশন করতে পারে সেই প্রতিযোগিতা।

          আমার বন্ধু কাজল তার মেয়ের কাছে এখানে এসেছে গতবছর। একদিন এক অজিবুড়ো আলাপচারিতায় তাকে নাকি বলেছিল বাংলাদেশ? ঐ যেখানে ডিজাস্টার আর নানারকম ক্রাইম ঘটে! কাজল জানতে চাইল, কে বলেছে তোমাকে এ কথা?

          তার সোজাসাপ্টা জবাব, কেন তোমাদের মিডিয়াতেই তো আসে।

          সেই থেকে দেশের মিডিয়ার ওপর কাজল খুব খাপ্পা। যেখানে প্রতিবেশী ভারতীয় মিডিয়ার বেশিরভাগ চ্যানেল বিনোদনে মশগুল, সেখানে আমাদের চ্যানেলে চ্যানেলে শুধু সংবাদ আর বিরতিহীন বিজ্ঞাপন। ভারতীয় সিরিয়াল এমন আধিপত্য বিস্তার করেছে আমরা যারা একদা বিটিভির একনিষ্ঠ দর্শক ছিলাম তারাও এখন আর বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের প্রতি কোন আকর্ষণ বোধ করি না। অথচ ভারতীয় চ্যানেলের পারিবারিক কূটনামীর চেয়ে আমাদের নাটক অনেক ভাল ছিল। তবে ইদানীং নাট্যকাররা হুমায়ূন আহমেদকে নকল করে এত বাজে নাটক তৈরি করে তা দেখার আগ্রহই থাকে না। সবাই যে হুমায়ূন  আহমেদ হয় না এটা উপলব্ধি করলে তাদের স্বকীয়তাও থাকত, নাটকও জনপ্রিয় হত।

  

*****

২৩

 

রাতের খাবার শেষে প্রদীপ বলল, গডফাদার দেখেছ? মার্লো ব্রান্ডোর?

          আমি বললাম, সিনেমা পত্রিকার পোকা ছিলাম, তাই অনেক কিছু জানি, কিন্তু দেখিনি। গডফাদার বইয়ের অনুবাদও পড়েছি।

          তাহলে দেখ, ভাল লাগবে

ছবি দেখতে দেখতে প্রদীপ জানাল, এই ছবির জন্য মার্লো ব্রান্ডো শ্রেষ্ঠ অভিনেতার অস্কার পুরষ্কার পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সেটা গ্রহণ করেননি

          কেন? আমার চোখ কপালে উঠল।

          কারণ, তার ভাষ্য ছিল এই নেতিবাচক চরিত্রের জন্য অস্কার দিলে মানুষ তো কুখ্যাত মাফিয়া ডন হতে অনুপ্রাণিত হবে

          আসলে কেউ কেউ পারে এতটা দৃঢ়তা দেখাতে। যেমন জাঁ পল সাঁত্রে নোবেল প্রাইজ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

          ছবি দেখে অনেক আড্ডা দিয়ে ঘুমাতে গেলাম।

 

*****

২৪

 

সকালে উঠে যে খবর পেলাম তাতে মনটা বিষাদে তিক্ত হয়ে গেল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল করিমকে হত্যা করা হয়েছে। শিক্ষক হত্যা বাংলাদেশে খুব সাধারণ বিষয়। রাজনৈতিক কারণে নিজের দলের কর্মী হত্যা সেটাও এখন স্বাভাবিক। অনেক সময় এসব দলাদলি আর হত্যার সংবাদে আমরা এখন আর বিচলিত হই না। শুধু যার বা যাদের সন্তান যায় দুঃখটা তাদেরই আজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। আশি-নব্বইয়ের দশকে রাউফুন বাসুনিয়া অথবা নূর হোসেনের কিংবা ডাক্তার মিলনের মৃত্যু আমাদের যতটা শোককাতর করেছিল এখন আর ততোটা করে না। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই ৬৯এ ডক্টর শামসুজ্জোহা থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আদর্শিক বিরোধে বেশ কয়েকজন শিক্ষককে প্রাণ দিতে হয়েছে। সহকর্মী, ছাত্র-ছাত্রীদের মতে এরা একেবারেই নিজকর্মে নিবেদিত ভাল মানুষ ছিল। আজ কষ্ট হচ্ছে কাল ভুলে যাব। শুধু কষ্টের বোঝা জীবনভর বহন করবে তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আর বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কেঁদেই যাবে।

  

*****

২৫

 

আজ আমরা যাব ক্যাপ্টেন জেমস কুকের কটেজ দেখতে। এই কটেজটির বৈশিষ্ট্য হল এর প্রত্যেকটি ইট পাথর, ব্যবহার্য জিনিস ইংল্যান্ডে ঠিক যেমন ছিল খুলে প্যাকেট করে আবার এখানে এনে ঠিক সেভাবে স্থাপন করা হয়েছে।

          ছোট্ট দোতলা বাড়ি। সরু খাড়া সিঁড়ি, সামনে বাগান, পিছনে কিচেন ও হার্ব-গার্ডেন। বাইরে একপাশে সেই সময়ের পোশাক, বনেটদেয়া টুপি পরে উৎসাহী ট্যুরিস্টরা ছবি তুলছেএকবিংশ শতকে দাঁড়িয়ে অষ্টাদশ শতকে ফিরে যাওয়া। লেখার টেবিল, ঘর গরম রাখার পিতলের মালসা সবই যথাস্থানে রাখা আছে। সম্ভবত এটা তার আদি নিবাস নয়। পড়ার টেবিলে কাগজ কলম পূর্ববৎ রাখা। টানা ইটালিক অক্ষরে সুন্দর হাতের লেখা দেখে মুগ্ধ হতে হয়।

          নিচের তলায় মিউজিয়াম এবং স্যুভেনির শপ। ছোট্ট মিউজিয়ামের দেয়ালে কুকের সমুদ্র যাত্রার জলপথের মানচিত্র আঁকা। কি দুর্ধর্ষ নাবিক ছিল এই মানুষটা! পৃথিবীর সমুদ্রের আর মহাসমুদ্রের কতটুকু সে পাড়ি দিয়েছিল সে ধারণা মনে হয় তারও ছিল না।

 

*****

২৬

 

আজ রোববার, ২৪ এপ্রিল। এদেশে এসেছি পুরো দুমাস হলো। আজকের পরিকল্পনা প্রদীপের আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখব। এই এলাকাটি মেলবোর্নের ইস্ট সাইড, কিছুটা অসমতল। বাড়িগুলোও বনেদি ছাঁদের। কিছু কিছু বাসার সামনে ফুলের বাগান এত বেশি পুষ্পশোভিত যে বিমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে হয়। প্রদীপ বলল, এসব বাড়ির মালিক সাধারণত বুড়োবুড়ি হয়। অবসরের কর্মহীন জীবনে এরা বাগানের পরিচর্যা করে বেঁচে থাকার আনন্দ আহরণ করে। এক বাড়ির সামনে ছোট্ট একটা ডালিম গাছে অসংখ্য ডালিম ধরে আছে দেখে না দাঁড়িয়ে পারলাম না। পারি কীভাবে? ক্ষুদ্রাকৃতির একটি গাছে এত ডালিম এটাতো আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য। কিছুক্ষণ পর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় অনুভব করল আমরা ডালিম দেখছি, আর ঘরের ভিতর থেকে অন্য কেউ আমাদের ওপর লক্ষ্য রাখছে। তাড়াতাড়ি সরে পড়লাম। এদেশে নাগরিকতা কোন কিছুতেই অতিমাত্রায় কৌতূহল পছন্দ করে না।

  

*****

২৭

 

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় দেখেছি। আর-এম-আই-টির বান্ডুরা ক্যাম্পাস এবং শহরের কয়েকটি ক্যাম্পাস এবং লাইব্রেরি দেখেছি। আজ বিকেলে যাব লা-ট্রোব ইউনিভার্সিটিতে। এটা প্রদীপের বাসার কাছে।

          শেষ দুপুরের দিকে যখন বিকেল নামছে তখন আমরা গেলাম লা-ট্রোব ইউনিভার্সিটিতে। অনেক বড় এরিয়া নিয়ে তৈরি এই ক্যাম্পাস। এত প্রচুর জায়গা যে এখনও অনেক নতুন নতুন ভবন তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের জন্য। বিশাল সবুজে ঢাকা চত্বর। আকাশমুখি সরল একহারা গড়নের বৃক্ষ, অসংখ্য হলদে ঝুঁটি কাকাতুয়া। পাহাড়ি ঝিরির ওপর সেতু দিয়ে ক্যাম্পাসের দুপাশকে যুক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ভাবতে যে বিরাটত্ব চোখের সামনে ভেসে ওঠে, মনের মাঝে যে প্রসারতা আসে এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তেমনই। আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এর গুণ-মানের জন্য একসময় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হত। এছাড়া রাজশাহী, জাহাঙ্গীর নগর, চট্টগ্রাম এমনকি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ও আকার আকৃতি, স্থাপত্য আর শিক্ষা-দীক্ষায় অনেক উচ্চস্তরে ছিল। কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি, ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি, সবকিছু নিয়ে আজ এসব বিশ্ববিদ্যালয় ক্রমশ অধোগতির পথে । ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নীতি-নৈতিকতা সকল মূল্যবোধ ধ্বংস করে দিচ্ছেঅন্যদিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ব্যবসার আখড়া। কোন কোনটা তো সাইনবোর্ডসর্বস্ব। অথচ এখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেখে মনে হয় কেউ চাইলে জ্ঞানচর্চায় এখানে একজীবন কাটিয়ে দিতে পারে।

          সন্ধ্যা হয়ে আসছে। কিন্তু লা-ট্রোবের বিশাল আঙিনা ছেড়ে যেতে মন চাইছে না। যেতে নাহি মন চায়, তবু যেতে হয় কারণ সন্ধ্যার পর এখানে থাকা যাবে না। চলে যাচ্ছি তবু মনে হচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর-সুশোভন পরিবেশের স্মৃতি আজীবন আমার চোখে লেগে থাকবে।

          বাসায় ফিরলাম এবার ফিরে যাওয়ার পালা। নাতি-নাতনী আর কন্যা-জামাতা অপেক্ষা করছে। সাউথ মোরাং থেকে টারনিটের দূরত্ব ৫৪ কিলোমিটার। গাড়িতে ৪৫ মিনিটের মত লাগে। অনেক দূরত্ব, কিন্তু রাস্তার মসৃণতা, সরলগতি, চলার শৃঙ্খলা সব মিলিয়ে সময় অতটা টের পাওয়া যায় না।

  

*****

২৮

 

টারনিটে ফেরার পর আবার নতুন করে পরিকল্পনা শুরু হল কোথায় যাওয়া যায়। এখন পূর্বাদের ছুটি চলছে। এসময় সাধারণত মা-বাবারাও ছুটি নিয়ে বাচ্চারাসহ বেড়াতে যায়। আমরা লিস্টে প্রথম রাখলাম ওয়্যারাবি সাফারি। টারনিট থেকে ওয়্যারবি খুব কাছে। রাকারা ওখানে শপিং-এও যায়। এর আগে ওরাও সাফারিতে যায়নি।

          সুতরাং সাব্যস্ত হলো প্রথমে সাফারি। যাওয়ার পথে দুপাশে সবজি ক্ষেত। মাটির নিচে থেকে পাইপ দিয়ে পানি দেয়া হচ্ছে। সজীব সুন্দর বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো ক্ষেত। রনি বলল, এখানে চাষীরা হচ্ছে সবচেয়ে ধনী। আবার সরকারও তাদের পেট্রোনাইজ করে। দুপাশে বিস্তীর্ণ ক্ষেতআবার মাঝে মাঝে রাস্তার দুপাশে বৃক্ষবীথি সবকিছুকে আড়াল করে যেন বলছচে আমায় দ্যাখ। মেঘ-রৌদ্রের মাখামাখি আবহাওয়া। কখনো মেঘে মুখভার কিন্তু পূর্বাভাস বলেছে বৃষ্টির কোন সম্ভাবনা নেই।

          সাফারির অনেক দূর থেকে দুপাশে গাড়ির লম্বা লাইন। রনি অনেক দূরে গিয়ে পার্কিং-এর জায়গা পেল। গাড়ি রেখে কিছুটা পিছনে হেঁটে আমরা সাফারিতে ঢুকলাম। ভিতরে ঢুকেই চক্ষু চড়কগাছ। প্রচুর লোক বাচ্চাদের নিয়ে এসেছে। বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে লোকজনকে আটকে রাখা হয়েছে। এত লোকজন, কিন্তু কেউ শৃঙ্খলা ভাঙছে না, কেউ কাউকে ধাক্কা দিচ্ছে না।

          ট্রেইল বাস একদলকে সাফারি ঘুরিয়ে এনে অন্য জায়গায় নামিয়ে দিচ্ছে। একসঙ্গে দুটো করে বিশাল বাস জোড়া লাগানো। গাইড সঙ্গে আছে। চালকও মাঝে মাঝে বর্ণনা দিচ্ছে। বিশাল এলাকাজুড়ে সাফারিজিরাফ, গন্ডার, উট, জলহস্তী, হরিণ, জেব্রা সবই আছে। কিন্তু নিরাপদ দূরত্বে সহ-অবস্থানে। পাখি, গাছপালা, জলহস্তী, ক্যাঙারু, কুমীর সবাই যে যার মতো নিজের জায়গায় ঘুরছে ফিরছে। ট্যুরিস্টরা ছবি তুলছে।

          এত বড় জায়গা তবু ঘুরতে ঘুরতে আবার আগের জায়গায় এসে নামলাম। এখানেও অনেক কিছু দেখার। আদিবাসীদের নানারকম মুখোশ দিয়ে সাজানো তোরণ, একটা গোল কটেজে একজন আফ্রিকান বাচ্চাদের সিংহের গর্জন এবং তার ডাকের নানারকম কসরৎ দেখাল। পেছনে সেই মহাদেশের আদিম বাজনার দ্রিমি দ্রিমি ধ্বনি এক ধরনের আবেশ তৈরি করছে। ভীষণ দক্ষ কালো মানুষটি স্পষ্ট ইংরেজিতে বাচ্চাদের সাথে মজা করল অনেকক্ষণ। তারপর তার স্লটের সময় শেষ হতে একটুও দেরি না করে গুডবাই জানিয়ে বিদায় নিল।

          আমরা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম হাঁস, পাখি, কাকাতুয়া। এরপর বানর আর সিংহ। বিরাট এলাকায় অনেক দূরে পাঁচ ছয়টি সিংহ-সিংহী বসে আছে। গ্রিলের ভিতর দিয়ে দেখতে হয়। তবে আফ্রিকান সিংহের যে তেজ অ্যানিম্যাল প্ল্যানেটে দেখি তার কণামাত্রও এখানে দেখলাম না। বিধ্বস্ত বুড়োটে হতাশ পশুরাজদের দেখে মনে হল আসলেই বন্যেরা বনে সুন্দর।

          সব প্রাণীর হয়তো সমান অভিযোজন ক্ষমতা থাকে না। কারণ এখানে তো খাবার, যত্ন কোনটারই অভাব নেই। নাহলে আমাদের দেশে যেমন চিড়িয়াখানায় পশুপাখির বরাদ্দ খাদ্য রক্ষকরাই খায়। যে কারণে ঢাকা শহরের একটিমাত্র সরকারি রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিষ্ঠিত চিড়িয়াখানায় অপরিচ্ছন্নতা, দুর্গন্ধ আর আধমরা পশুপাখি একবার দেখলে দ্বিতীয়বার দেখার শখ থাকে না। অথচ দুইকোটির কাছাকাছি মানুষের ঢাকা শহরে এই চিড়িয়াখানাটি বিনোদন ও প্রত্যক্ষ জ্ঞানের ক্ষেত্র হতে পারত শিশুদের জন্য।

          এখানে দেখছি শিশুরা কত মজা করছে, ছুটছে, খেলছে, লাফাচ্ছে। মা-বাবার পরোয়া করছে না। কারণ এখানে নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিদ্র। দুপুরে আমরা একটা গাছের ছায়ায় কাঠের টেবিল আর বেঞ্চে বসে সাথে আনা খাবার খেলাম।

          আমি যেখানেই যাই শিশু, প্রকৃতি, প্রাণিকূল সবই আমাকে মুগ্ধ করেবিশেষত গাছপালার নিবিড় সাহচর্য। এখানেও দেখছি সবুজ সুন্দর ঘাস, ছায়াদেয়া বৃক্ষ। লতানো গুল্ম আবার সর্বত্রই একটা সৌষম্য।

          দুপুর বিকেলের দিকে গড়াতে আমরাও ফেরার প্রস্তুতি নিলাম। 

 

*****

২৯

 

আজ আমরা যাব মেলবোর্ন শহরের সবচেয়ে উঁচু ভবন ইউরেকা টাওয়ারের উপরে স্কাই ডেকে। আটাশি তলার উপরে উঠে মেলবোর্ন দেখা। রনি আগেই টিকেট করে এনেছিল।

          আমরা রওনা দিলাম। বাচ্চাদের ছুটি থাকায় বেশিরভাগ অভিভাবক নিজ নিজ শিশুদের নিয়ে এসেছেন, পাশাপাশি তরুণ-তরুণী, প্রবীণ-প্রবীণাও কম নয়।

          লিফ্‌ট এত দ্রুত চলে আমার জানা ছিল না। লিফ্‌টে উঠার পর ধপ্‌ ধপ্‌ করে কি যে দ্রুতগতিতে সেটি আমাদের স্কাইডেকে তুলে দিল বুঝতে পারলাম না সেকেন্ডের সমষ্টিতে মিনিট পূর্ণ হল কি না।

          এবার দেখার পালা। নিচে শহরের রাস্তাঘাট আর গাড়িগুলোকে মনে হচ্ছে কোন শহরের পরিকল্পিত নকশা। স্কাইডেক আস্তে আস্তে ঘুরছে। মুভিং হওয়ার কারণে শহর এবং শহরের চারপাশ দেখা যাচ্ছে। দূরে সাগর, সেখানে শ্বেতকপোতের মত জাহাজ, নীল জলরাশিতে ভাসমান ইয়ট, অভিযাত্রীরা পাল তুলে যাত্রা করেছে কোন অজানার পানে তারাই কেবল জানে। টেলিস্কোপ দেয়া আছে কিছু কিছু জায়গায় দেখার সুবিধার জন্য। কিন্তু মানবচরিত্রে সর্বত্রই কিছু সাদৃশ্য রয়েছে যা সহজে উপড়ানো যায় না। কারণ দেখলাম যারা একবার টেলিস্কোপ দখল করেছে তারা আর সহজে সেটা ছাড়তে চাইছে না। অন্যদেরও যে দেখার অধিকার আছে সেক্ষেত্রে সেই বোধটা তাদের মগজ থেকে ডিলিট হয়ে গেছে।

          এখান থেকেই দেখতে পাচ্ছি বোটানিক্যাল গার্ডেন, সাইন অব রিমেম্বারেন্স। কিন্তু সব যেন স্যুভেনির। পূর্বা-দিব্য ভীষণ আনন্দিত। আমরাও। রনিবাবাকে থ্যাংকস জানালাম।


পর্ব ৩০-৩৭


Latest Post

Maria Cunitz: Astronomy’s Overlooked Genius

  We all know the role of Johannes Kepler in the revolution of astronomy. The theoretical explanation of the motion of all planets and celes...

Popular Posts