Sunday 2 June 2019

পল ডিরাকের কোয়ান্টাম ভালোবাসা - পর্ব-২


১৯৩০ সালে ডিরাকের ‘প্রিন্সিপল্‌স অব কোয়ান্টাম মেকানিক্স’ বইটি প্রকাশিত হয়। একই বছর তিনি রয়েল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। মাত্র আটাশ বছর বয়সে রয়েল সোসাইটির ফেলোশিপ তাঁর আগে আর কেউ পাননি। সংবাদপত্রে ফলাও করে প্রকাশিত হলো এই সংবাদ। তাঁর মা ছেলের এতবড় সাফল্যের সংবাদ পেলেন সংবাদপত্র পড়ে। অথচ তিনি প্রতি সপ্তাহে পলকে চিঠি লেখেন আর পলও প্রতি সপ্তাহে তাঁর চিঠির উত্তর দেন। 
পলের প্রত্যেকটি চিঠিই প্রায় একই রকম। মাত্র কয়েকটি লাইন - সংক্ষেপে আবহাওয়ার বিবরণ, তারপর সবার মঙ্গল কামনায় ইতি। নিজের সাফল্যের কথা মা-বাবাকে জানানোর কোন দরকারই মনে করেন না তিনি। কারণ তিনি গবেষণার আনন্দেই গবেষণা করেন, সাফল্যের জন্য নয়। সাফল্যকে তিনি বরং বিড়ম্বনাই মনে করেন। 
রয়েল সোসাইটির ফেলোশিপ পাবার পর কেমব্রিজ ফিলসফিক্যাল সোসাইটি’র হপকিন্স মেডেল পান ডিরাক। ১৯৩২ সালে কেমব্রিজের লুকাশিয়ান প্রফেসর পদে নিযুক্ত হন তিনি। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের প্রথম কোর্স তিনিই পড়াতে শুরু করেন। রবার্ট ওপেনহাইমার, চন্দ্রশেখর সুব্রাহ্মনিয়াম, আবদুস সালাম, ডেনিস স্কায়ামা - যারা পরবর্তীতে খ্যাতিমান - এমন অনেক পদার্থবিজ্ঞানীই ডিরাকের ছাত্র ছিলেন। তবে ডিরাক তাঁর পিএইচডি স্টুডেন্টদের সাথেও খুব একটা কথা বলতেন না। তাই তাঁর ছাত্রদের হতে হতো অনেকটাই স্ব-নিয়ন্ত্রিত। ডেনিস স্কায়ামা ডিরাকের অধীনে পিএইচডি করে পরে কেমব্রিজে যোগ দেন। স্টিফেন হকিং স্কায়ামার অধীনে পিএইচডি করেন। 
ক্লাসে ডিরাক তাঁর কোয়ান্টাম মেকানিক্স বই থেকে হুবহু লাইনের পর লাইন বলে যেতেন - একটা শব্দও কম বা বেশি বলতেন না। ক্লাসের বাইরে কারো সাথে কথা বলার তো প্রশ্নই ওঠে না। ডিপার্টমেন্টের সহকর্মীদের সাথেও ‘ইয়েস’ ‘নো’ কিংবা ‘আই ডোন্ট নো’র বেশি কথা হয় না তাঁর। কেমব্রিজে ডিরাকের ছাত্ররা ‘ডিরাক’ নামে একটা নতুন একক চালু করে ফেলেছে। কথা বলার একক - ‘এক ডিরাক’ মানে এক ঘন্টায় একটি শব্দ।  
১৯৩৩ সালে ডিরাকের ল্যাগরেঞ্জিয়ান কোয়ান্টাম মেকানিক্স পেপার প্রকাশিত হয়। সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়ে পরবর্তীতে রিচার্ড ফাইনম্যান তাঁর বিখ্যাত পাথ ইনটিগ্র্যাল সমীকরণ প্রতিষ্ঠা করেন। 
১৯৩৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরষ্কার পাবার কথা শুনে ভীষণ অবাক হয়ে যান পল ডিরাক। আরভিন শ্রোডিংগার নোবেল পুরষ্কার পাবেন তা তিনি জানতেন, কিন্তু শ্রোডিংগারের সাথে নিজেও যে নোবেল পুরষ্কার পাবেন তা তিনি কখনো আশা করেননি। নোবেল পুরষ্কার পাবার সাথে সাথে বিজ্ঞানীরা যে পাবলিক সেলিব্রেটি হয়ে যান তা ডিরাক জানেন। ডিরাক জনসমক্ষে আসতে চান না। স্টকহোমে গিয়ে নোবেল পুরষ্কার নিতে হবে, নোবেল বক্তৃতা দিতে হবে, পার্টিতে যোগ দিতে হবে - এসব ভাবতেই ডিরাকের অস্বস্তি লাগতে শুরু করলো। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন নোবেল পুরষ্কার প্রত্যাখ্যান করবেন। 
১৯০৮ সালের রসায়নে নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড ডিরাকের সুপারভাইজার রাল্‌ফ ফাউলারের শ্বশুর। ডিরাককে খুব স্নেহ করেন রাদারফোর্ড। তিনি ডিরাককে অভিনন্দন জানালে ডিরাক বললেন, “আমি নোবেল পুরষ্কার প্রত্যাখ্যান করবো ভাবছি।”
“কেন?”
“হৈ চৈ ভাল লাগে না।”
রাদারফোর্ড বুঝতে পারলেন ডিরাক কী বলতে চাইছেন। বললেন, “প্রত্যাখ্যান করলে তো হৈ চৈ বেড়ে যাবে।”
“কীভাবে?”
“পুরষ্কার নিলে এক বছরের মধ্যেই লোকে তোমাকে ভুলে যাবে। পরের বছর অন্য কেউ নোবেল পুরষ্কার পাবে, তখন তাকে নিয়ে মেতে উঠবে। কিন্তু তুমি পুরষ্কার প্রত্যাখ্যান করলে প্রত্যেক বছরই লোকে তোমাকে নিয়ে হৈ চৈ করবে।”
“ইয়েস।”
ডিসেম্বরে নোবেল পুরষ্কার নিতে স্টকহোমে গেলেন পল ডিরাক। সাথে নিয়ে গেলেন তাঁর মাকে। ফ্লোরেন্স ডিরাক স্টকহোমে গিয়ে ভীষণ উত্তেজিত। সাংবাদিকরা কোন প্রশ্ন করলে আগ বাড়িয়ে উত্তর দেন - যা অনেক সময় হাস্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। সাংবাদিকরা তাঁর কাছ থেকে জানতে চান পলের ব্যক্তিগত জীবনের কথা। ফ্লোরেন্স পলের ছোটবেলার ঘটনা থেকে শুরু করে সবকিছুই বাড়িয়ে বাড়িয়ে বললেন। পরদিন সংবাদপত্রে বক্স আইটেম নিউজ হলো - “৩১ বছর বয়সী যুবক নোবেল লরিয়েট ডিরাক মেয়েদের দিকে তাকিয়েও দেখেন না।” 
পল ডিরাক সাংবাদিকদের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ালেও নাছোড়বান্দা সাংবাদিকদের কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতেই হলো। 
“প্রফেসর ডিরাক, আপনার কোয়ান্টাম মেকানিক্স মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কী কাজে লাগবে?”
“কোন কাজে লাগবে না।”
“ভবিষ্যতে কি কোন কাজে লাগতে পারে?”
“আমি জানি না। আমি আমার তত্ত্ব নিয়ে কাজ করছি। এই তত্ত্বকে কে কীভাবে কাজে লাগাবে তা জানা আমার কাজ নয়।”
“এখন কী নিয়ে কাজ করছেন?”
“পজিটিভ ইলেকট্রনের তত্ত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছি।”
“গবেষণা ছাড়া আপনার আর কী কী বিষয়ে আগ্রহ আছে?”
“মানে?”
“সাহিত্য, নাটক-থিয়েটার, সংগীত?”
“আমি সাহিত্য পছন্দ করি না। আমি থিয়েটার দেখতে যাই না। আমি কোন গান শুনি না। আমি আমার পারমাণবিক তত্ত্ব নিয়েই সুখে আছি।”
“আপনার গবেষণার ফল কি আপনার দৈনন্দিন জীবনে কোন প্রভাব ফেলেছে?”
“না। আমি যখন ঘুমাই, বা হাঁটতে যাই, বা ভ্রমণ করি - তখন আমি কোন কাজ করি না। আমার মস্তিষ্ক তখন পারমাণবিক তত্ত্ব নিয়ে ভাবে না। আমি এক সাথে একাধিক কাজ করতে পারি না।”
অদ্ভুত হলেও সত্যি যে ডিরাক এক সাথে দুটো সাধারণ কাজও করতে পারতেন না। একবার রাশিয়ায় ডিরাককে আমন্ত্রণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রিসার্চ স্টুডেন্টদের সেমিনার শোনার জন্য। ডিরাক চুপচাপ সেমিনার শুনলেন এবং যথারীতি কোন মন্তব্য করলেন না। সেমিনার শেষে প্রফেসর আর স্টুডেন্টরা ডিরাকের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “প্রফেসর ডিরাক, আমাদের প্রেজেন্টেশান কেমন লাগলো আপনার?”
“আমার তো এখন তা বলার সময় নেই। আমি এখন পোস্টাপিসে যাচ্ছি।”
“স্যার, আমরাও আপনার সাথে আসি। আপনি হাঁটতে হাঁটতে  বলবেন।”
“আমি তো একসাথে দুটো কাজ করতে পারি না।”

কেমব্রিজে ডিরাকের কাজের ধরন খুবই নিয়মে বাঁধা। দিনে পাঁচ ঘন্টার বেশি গবেষণায় বিশ্বাসী নন ডিরাক। গরমের দিনে কাজের শেষে তিনি সাইকেল চালিয়ে চলে যান অনেক দূরে। পথে কোন বড় গাছ দেখলে হঠাৎ সাইকেল থেকে নেমে গাছে উঠে যান সুট-কোট-টাই সহ। [শীত-বসন্ত-গ্রীষ্ম-হেমন্ত সব  ঋতুতেই তাঁর একই পোশাক। একটা কোট না ছেঁড়া পর্যন্ত তিনি অন্য কোন কোট কেনেন না।] গাছের ওপর কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে নেমে আসেন। আবার সাইকেল চালিয়ে ফিরে আসার সময় কোন লেকের পাশে থেমে জামা-কাপড় ছেড়ে নেমে যান লেকের পানিতে, কিছুক্ষণ সাঁতার কাটেন। নোবেল পুরষ্কার পাবার পরেও তাঁর রুটিনে তেমন কোন পরিবর্তন নেই। 
গণিত ও তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণার মাঝে মাঝে তিনি পরীক্ষামূলক কাজও করেন। তিনি যে একজন ফার্স্ট ক্লাস ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার তা তিনি ভুলে যাননি। নিউক্লিয়ার আইসোটোপ সেপারেশনের কাজে উৎসাহ পেলেন ডিরাক। এসময় তাঁর পরিচয় হলো রাশিয়ান নিউক্লিয়ার বিজ্ঞানী জর্জ গ্যামো ও তাঁর তরুণী স্ত্রী লিনবভ ভোকমিনজেভা ওরফে  রু’র সাথে। 
জার্মানিতে তখন হিটলারের স্বৈরাচার শুরু হয়ে গেছে। আইনস্টাইনসহ অনেক জার্মান বিজ্ঞানী দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। ১৯৩৩ সালে আইনস্টাইন যোগ দিয়েছেন প্রিন্সটনের ইনস্টিটিউট অব এডভান্সড স্টাডিজে। সেখানে এক বছর ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাটানোর জন্য আমন্ত্রণ এসেছে ডিরাকের কাছেও। ১৯৩৪ সালের অক্টোবরে ডিরাক প্রিন্সটনে যাবেন এরকম ঠিক হয়ে আছে। 
এদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নে স্ট্যালিনের একনায়কত্বে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্বাধীনচেতা সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা। কিন্তু সরকারী অনুমতি ছাড়া কেউই সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরে যেতে পারছেন না কোথাও। সোভিয়েত বিজ্ঞানী জর্জ গ্যামো সোল্‌ভে কনফারেন্সে যোগ দেবার নাম করে অনেক চেষ্টায় রাশিয়া থেকে বেলজিয়ামে এসে আর রাশিয়ায় ফিরে যান নি। ১৯৩৪ সালের জানুয়ারিতে কিছুদিনের জন্য কেমব্রিজে এলেন সস্ত্রীক গ্যামো। জর্জ গ্যামো ডিরাকের চেয়ে বয়সে দু’বছরের ছোট। ডিরাকের প্রতিভা ও সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই মুগ্ধ গ্যামো, তার চেয়েও বেশি মুগ্ধ গ্যামোর তরুণী স্ত্রী রু। 
রু খুবই সুন্দরী। কয়েকদিনের মধ্যেই কেমব্রিজে ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন গ্যামো দম্পতি। সবাই রু’র রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। রু এরকম স্তাবকতায় অভ্যস্ত। গ্যামো ডিরাকের মনযোগ পেতে আগ্রহী। রু’র সৌন্দর্যে ডিরাকের চিত্তচাঞ্চল্য ঘটছে না দেখে রু কিছুটা অবাক হন, আবার মনে মনে বেশ শ্রদ্ধাও করেন ডিরাককে। তিনি ডিরাকের মৌনতা ভাঙার ব্যাপারে সচেষ্ট হন। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজ্ঞানীদের ব্যাপারে সহমর্মিতা আছে ডিরাকের। বিজ্ঞানী কাপিৎজা তাঁর বিশেষ বন্ধু। কেমব্রিজে কাপিৎজা ‘কাপিৎজা ক্লাব’ নামে খুবই উঁচুমানের একটি বৈজ্ঞানিক ক্লাব গড়েছেন। ডিরাক সে ক্লাবের সদস্য। রু ডিরাকের সাথে অন্তরঙ্গ হবার চেষ্টা করলেন। শুরু করলেন স্ট্যালিনের কড়া সমালোচনার মধ্য দিয়ে। স্বভাব-নীরব ডিরাকও রু’র সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে পড়েছেন। লাঞ্চের টেবিলে ডিরাকের পাশে বসে রু যখন একের পর এক সিগারেট টানতে থাকেন - ডিরাক কোন বিরক্তি প্রকাশ করেন না; যদিও তিনি ধূমপান পছন্দ করেন না। রু ডিরাককে রুশ ভাষা শেখানোর প্রস্তাব দিলে ডিরাক সানন্দে রাজি হয়ে যান। কিন্তু বিনিময়ে রু’কে গাড়ি চালানো শেখাতে হবে ডিরাকের। ডিরাক তাতেও রাজি। 
শুরু হলো তাঁদের শিক্ষা-বিনিময়। রুশ ভাষা শেখার ব্যাপারে খুবই সিরিয়াস ডিরাক, কিন্তু গাড়ি চালানো শেখার ব্যাপারে ততটা সিরিয়াস নন রু। তিনি ডিরাকের সাথে কথা বলতেই আগ্রহী বেশি। ডিরাককে নীরব শ্রোতা পেয়ে মনের কথার অর্গল খুলে দেন রু। কয়েক দিনের মধ্যেই রু’র অনেক ব্যক্তিগত কথা জানা হয়ে যায় ডিরাকের। 
তারুণ্যের শুরুতে আলেক্স নামে এক যুবকের প্রেমে পড়েছিলেন রু। কবিতা আর ছবির মিশ্রণে আলেক্সের সাথে একটা ফটো-এলবামও বের করেছিলেন রু। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় মারা যান আলেক্স। রাশিয়ায় ফিজিক্স নিয়ে ইউনিভার্সিটিতে পড়ছিলেন রু।
আলেক্সের মৃত্যুর পর তাঁর বিয়ে হয় তরুণ পদার্থবিজ্ঞানী জর্জ গ্যামোর সাথে। স্বামী হিসেবে গ্যামো খুবই ভালোমানুষ। তবুও রু মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে যান ডিরাকের প্রতি। ডিরাকের মধ্যেও এক ধরনের দুর্বলতা দেখা দেয়। এই প্রথম ডিরাক মেয়েদের প্রতি একটা অন্যরকমের আকর্ষণ বোধ করেন - কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারেন না কিছুতেই। 
গ্যামো একটা স্থায়ী চাকরির সম্ভাবনা খুঁজে দেখছিলেন। কয়েক সপ্তাহ পরেই কোপেনহ্যাগেনে চলে গেলেন গ্যামো দম্পতি। ডিরাক একটা নতুন অনুভূতির সাথে পরিচিত হলেন - যার নাম বিরহ। কোপেনহ্যাগেন থেকে ডিরাককে চিঠি লেখেন রু। ডিরাক রু’র চিঠির উত্তর দেন রুশ ভাষায়। রু সেই চিঠির ভাষাগত ভুলগুলো সংশোধন করে পাঠান ডিরাককে। রু’র চিঠিতে আবেগের কথা থাকে, কিন্তু ডিরাকের চিঠির ভাষা আবেগশূন্য। 
নির্ভুলভাবে রাশিয়ান ভাষায় লিখতে পারছেন না দেখে ডিরাক ভাবলেন তাঁর রাশিয়ান শেখা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। তিনি আরেকজন শিক্ষকের সন্ধান করতে শুরু করলেন, এবং অচিরেই পেয়ে গেলেন লিডিয়া জ্যাকসনকে। 
লিডিয়া সেন্ট জোন্‌স কলেজের ফেলো মেরেডিথ জ্যাকসনের স্ত্রী। লিডিয়া রাশিয়া থেকে চলে এসেছেন ইংল্যান্ডে। রাশিয়ায় থাকতে তাঁর নাম ছিল এলিজাভেটা ফেন। লিডিয়া একজন রোমান্টিক কবি। কিন্তু কেমব্রিজের বৈজ্ঞানিক আবহাওয়ায় নিজেকে খুবই বেমানান মনে করে মনোকষ্ট পাচ্ছিলেন। ডিরাকের মত বিখ্যাত মানুষকে রাশিয়ান শেখাবার সুযোগ পেয়ে খুবই খুশি হলেন লিডিয়া। ডিরাকের ভেতর একজন সরল শিশুকে দেখে অবাক হয়ে গেলেন লিডিয়া। রাশিয়ান ভাষা শেখানোর পাশাপাশি মেয়েদের সম্পর্কে ডিরাকের আগ্রহ বাড়াতেও সচেষ্ট হলেন লিডিয়া। চেষ্টা করলেন ডিরাকের ভেতর কিছুটা হলেও আবেগ তৈরি করতে। বললেন ডিরাকের উচিত একটি ভালো সংসারী মেয়েকে বিয়ে করা। কথায় কথায় জানালেন - স্ত্রী হিসেবে আমেরিকান মেয়েরা নিকৃষ্ট, ইংল্যান্ডের মেয়েরা একঘেঁয়ে, কিন্তু রাশিয়ান মেয়েরা তুলনাহীনা। 

ডিরাক শুধু বললেন, “এ তথ্য আমার মনে থাকবে।”


No comments:

Post a Comment

Latest Post

Memories of My Father - Part 2

  In our childhood and even in our adulthood, there was no tradition of celebrating birthdays. We didn't even remember when anyone's...

Popular Posts