১৯৫৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সান ফ্রানসিসকোর এক হাসপাতালে যখন ছেলেটির জন্ম হয় – তখন তার নাম রাখা হয়েছিল আবদুল লতিফ জানদালি। ছেলেটির জন্মদাতা পিতা আবদুল ফাত্তাহ জানদালি ছিলেন সিরিয়ার এক ধনী মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনে এসেছিলেন পলিটিক্যাল সায়েন্সে পিএইচডি করার জন্য। সেখানেই তিনি প্রেমে পড়েছিলেন জোয়ান শিয়েবল-এর। জোয়ানের পরিবার ছিল কট্টর ক্যাথলিক। জোয়ানের বাবা-মা
কিছুতেই মেনে নেননি মুসলমান ছেলের সাথে তাঁদের মেয়ের সস্পর্ক। আবদুল ফাত্তাহ জানদালিকে বিয়ে করতে হলে জোয়ানকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে হবে, এটিও মেনে নিতে চাননি জোয়ান। কিন্তু ততদিনে তিনি গর্ভবতী হয়ে গেছেন। কট্টর ক্যাথলিক হবার কারণে গর্ভপাত করাতেও চাননি। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জন্মের পরপরই ছেলেকে দত্তক দিয়ে দেয়ার। তবে শর্ত ছিল তাঁর ছেলেকে যারা দত্তক নেবেন, তাঁদের অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষিত হতে হবে। পরিবারের যেন কোনো বদনাম না হয় সেজন্য দত্তক দেবার ব্যাপারটিকে ‘ক্লোজড’ রাখা হয় – অর্থাৎ জন্মদাতা মা-বাবার নাম গোপন রাখা হয়।শুরুতে এক উকিল
দম্পতি আগ্রহ দেখালেও ছেলেটিকে দেখে পিছিয়ে যান, কারণ তাঁদের আগ্রহ মেয়ে-সন্তান দত্তক
নেবার। পরে ছেলেটিকে দত্তক নেন পল এবং ক্লারা জবস। তাঁরা ছেলেটির নাম রাখেন স্টিভেন
পল জবস। পল জবস ছিলেন একজন মেকানিক। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগই তিনি পাননি। জোয়ান
তাঁর ছেলেকে জবস দম্পতিকে দত্তক দিতে রাজি হননি শুরুতে। কিন্তু পল ও ক্লারা যখন কথা
দিলেন শত কষ্ট হলেও ছেলেকে তাঁরা উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলবেন, তখন জোয়ান আর
আপত্তি করেননি।
পল আর জোয়ানকেই
বাবা-মা জেনেছেন স্টিভ জবস কৈশোর বয়স পর্যন্ত। আঠারো হবার পর পল স্টিভকে জানিয়ে দিয়েছেন
যে তাঁরা তাকে হাসপাতাল থেকেই দত্তক নিয়ে এসেছেন। কিন্তু স্টিভের জন্মদাতা মা-বাবার
পরিচয় তাঁরাও জানতেন না। বায়োলজিক্যাল প্যারেন্টস নিয়ে কোনো মাথাব্যথা ছিল না স্টিভের
২৭-২৮ বছর বয়স পর্যন্ত।
তিনি ব্যস্ত
ছিলেন পার্সোনাল কম্পিউটার প্রযুক্তি উদ্ভাবনে। পুরো পৃথিবীর প্রযুক্তির ধারা বদলে
দেয়ার কাজে। অ্যাপল কম্পিউটারের সফল উদ্ভাবনের পর আশির দশকের শুরুতে স্টিভ জবস তাঁকে
দত্তক নেয়ার কাগজপত্র থেকে তাঁর জন্মদাতা মায়ের পরিচয় খুঁজে বের করেন। জন্মদাতা মায়ের
কাছ থেকে জেনে নেন জন্মদাতা পিতার পরিচয়। কিন্তু তিনি কোনোদিনই তাঁর জন্মদাতা পিতার
সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ স্থাপন করার ব্যাপারে আগ্রহী হননি। পল এবং ক্লারাকেই তিনি তাঁর
সত্যিকারের বাবা-মা হিসেবে মেনে এসেছেন।
আই-পড, আই-প্যাড,
আই-ম্যাক, আই-ফোন – বদলে দিয়েছে পুরো পৃথিবী। এই বদলে দেয়ার নায়ক স্টিভ জবস-এর কাছে
আমরা যে কতভাবে ঋণী তা বলে শেষ করা যাবে না।
আজ এই মানুষটির
জন্মদিন – যিনি প্রায়ই বলতেন – Stay hungry, stay foolish!
শুভ জন্মদিন
বস্।
.jpg)


No comments:
Post a Comment